ইবনুল ক্বায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লেখা আল-ফাওয়াইদ গ্রন্থ থেকে কিছু ফায়দা

এক: সেই ব্যক্তিকে কীভাবে বুদ্ধিমান বলা যেতে পারে যে এক মুহূর্তের প্রবৃত্তির জন্য জান্নাত এবং তার নিয়ামতগুলোকে বিসর্জন দিতে পারে?

দুই: আপনি যখন তাকে (সৃষ্টিকে) ভয় করেন, আপনি একাকিত্ব অনুভব করেন এবং তার নিকট হতে পলায়ন করেন, কিন্তু আপনি যখন সুমহান রবকে ভয় করেন আপনি প্রশান্তি লাভ করেন এবং তাঁর নিকটবর্তী হন। 

তিন: যদি আমল বিহীন ইলম ফায়দা দিত তিনি ইহুদি-খৃষ্টানদের যাজকদেরকে তিরস্কার করতেন না। আর যদি ইখলাস বিহীন আমল ফায়দা দিত তিনি মুনাফিক্বদেরকে তিরস্কার করতেন না।

চার: চিন্তাকে দমন করুন, কারণ যদি তা না করেন, সেটি একটি ধারণায় পরিণত হবে। অতঃপর ধারণাকে দমন করুন, কারণ যদি তা না করেন, সেটি একটি ইচ্ছায় পরিণত হবে। অতঃপর ইচ্ছাকে দমন করুন, কারণ যদি তা না করেন, সেটি একটি সংকল্প এবং আবেগে পরিণত হবে। আর যদি তা দমন করতে না পারেন, তবে সেটি কর্মে পরিণত হবে, আর আপনি যদি তার বিপরীতটি দিয়ে সেটি প্রতিস্থাপন না করেন, তবে তা অভ্যাসে পরিণত হবে। ঠিক তখনই সেটি পরিত্যাগ করা আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। 

পাঁচ: যদি বান্দার সাথে এমন কিছু ঘটে যেটি সে অপছন্দ করে, তখন তাতে ছয়টি দৃষ্টিকোণ থাকে।

প্রথম: তাওহীদের দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ আল্লাহই সেই সত্তা যিনি তা নির্ধারণ করেছেন, তা চেয়েছেন এবং তা সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহ যা চান তা ঘটে, আর তিনি যা চান না তা ঘটে না।

দ্বিতীয়: ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ (নির্ধারিত) বিষয়টি অবশ্যই ঘটবে। এর মধ্যে তাঁর হুকুম, তাঁর ন্যায়বিচার এবং তাঁর পূর্বনির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তৃতীয়: রহমতের দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ কোনো নির্ধারিত বিষয়ের প্রতি তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধ এবং প্রতিশোধের উপর প্রাধান্য পায় এবং এর অভ্যন্তরে থাকে রহমত।  

চতুর্থ: প্রজ্ঞার দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ এটি তাঁর প্রজ্ঞার দাবি। তিনি কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য ব্যতীত তা নির্ধারণ করেননি। 

পঞ্চম: প্রশংসার দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ সকল দিক থেকে পরিপূর্ণ এবং একচ্ছত্র প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি সুমহান।

ষষ্ঠ: আল্লাহর প্রতি উবূদিয়্যাতের দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ সে সকল দিক থেকে আল্লাহর খাঁটি বান্দা। আল্লাহর অধীন ও তার দাস হওয়ার কারণে তার উপর তার মালিকের বিধান এবং সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হয়। সুতরাং আল্লাহ তাঁর জাগতিক বিধানের অধীনে তাকে পরিচালনা করেন যেমনিভাবে তিনি তাঁর শারঈ বিধানের অধীনে তাকে পরিচালনা করেন। সুতরাং এটি (অর্থাৎ পূর্বনির্ধারিত ঘটনাটি) তার উপর এই বিধিবিধান কার্যকর হওয়ার একটি স্থানে পরিণত হয়।

ছয়: অল্প সাফল্য, চিন্তাভাবনার পঙ্কিলতা, সত্যকে গোপন করা, অন্তরের কলুষতা, যিকিরে আলস্য, সময় অপচয় করা, মানুষের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা, বান্দা এবং তার রবের মাঝে দূরত্ব, দুআ কবুল না হওয়া, অন্তরের কাঠিন্য, রিযিক ও আয়ুষ্কাল থেকে বরকতের বিলুপ্তি, ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া, অপমানে আচ্ছাদিত হওয়া, শত্রুর দ্বারা অপদস্ত হওয়া, বক্ষের সংকীর্ণতা, অন্তর বিনষ্টকারী মন্দ সাথীদের সঙ্গে উঠাবসা করা এবং সময় অপচয় করা, দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ এবং দুঃখ, জীবনের করুণ অবস্থা এবং হতাশা – এসবই আল্লাহর অবাধ্যতা এবং তাঁর স্মরণে গাফিলতি থেকে উৎপন্ন হয় যেভাবে পানি থেকে ফসল এবং আগুন থেকে জ্বালানি উৎপন্ন হয় । আর আল্লাহর আনুগত্য থেকে এর বিপরীত বিষয়গুলো উৎপন্ন হয়।

সাত: যদি আপনার মন আপনার প্রবৃত্তির শাসন থেকে মুক্ত হতে পারে, তাহলে কর্তৃত্ব তার নিকট ফিরে যাবে।

আট: আপনি প্রবৃত্তির আবাসে প্রবেশ করেছেন, তাই আপনি নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছেন।

নয়: আল্লাহর কিছু ইবাদতগুজার বান্দাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: “আপনার নফসকে আর কতদিন কষ্ট দিবেন?” তিনি বললেন: “আমি এর দ্বারা তার প্রশান্তি চাই। হে চক্রান্তকারী! কোনো বাধা নেই।”’

দশ: এই দুনিয়ার নারীদেরকে তাদের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে যারা চক্ষুষ্মান যেন তাদের মধ্যে কারা পরকালের নারীদের উপর (এই দুনিয়ার নারীদেরকে) অগ্রাধিকার দেয় তা পরীক্ষিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি পার্থক্যের মাত্রা সম্পর্কে জানে, সে তাই বেছে নিবে যা বেছে নেওয়ার যোগ্য।

Support The Da'wah In Bangladesh

The Messenger (ﷺ) said: “And save yourselves from the hell fire even if it be with the piece of a date.”

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz Al-Imam At-Tahawee Foundation

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

দাওয়াহর কাজে সহযোগিতা করুন (Support The Dawah)

জীবনী এবং ইতিহাস প্রবন্ধ (Articles) কার্ড (Cards) অডিও (Audios)
আমাদের ভিজিট করুন (Visit Us) মারকাযের ঠিকানা (Markaz Location) আমাদের সম্পর্কে (About Us) আমাদের দাওয়াহ (Our Dawah) যোগাযোগ করুন (Contact Us)