এক: সেই ব্যক্তিকে কীভাবে বুদ্ধিমান বলা যেতে পারে যে এক মুহূর্তের প্রবৃত্তির জন্য জান্নাত এবং তার নিয়ামতগুলোকে বিসর্জন দিতে পারে?
দুই: আপনি যখন তাকে (সৃষ্টিকে) ভয় করেন, আপনি একাকিত্ব অনুভব করেন এবং তার নিকট হতে পলায়ন করেন, কিন্তু আপনি যখন সুমহান রবকে ভয় করেন আপনি প্রশান্তি লাভ করেন এবং তাঁর নিকটবর্তী হন।
তিন: যদি আমল বিহীন ইলম ফায়দা দিত তিনি ইহুদি-খৃষ্টানদের যাজকদেরকে তিরস্কার করতেন না। আর যদি ইখলাস বিহীন আমল ফায়দা দিত তিনি মুনাফিক্বদেরকে তিরস্কার করতেন না।
চার: চিন্তাকে দমন করুন, কারণ যদি তা না করেন, সেটি একটি ধারণায় পরিণত হবে। অতঃপর ধারণাকে দমন করুন, কারণ যদি তা না করেন, সেটি একটি ইচ্ছায় পরিণত হবে। অতঃপর ইচ্ছাকে দমন করুন, কারণ যদি তা না করেন, সেটি একটি সংকল্প এবং আবেগে পরিণত হবে। আর যদি তা দমন করতে না পারেন, তবে সেটি কর্মে পরিণত হবে, আর আপনি যদি তার বিপরীতটি দিয়ে সেটি প্রতিস্থাপন না করেন, তবে তা অভ্যাসে পরিণত হবে। ঠিক তখনই সেটি পরিত্যাগ করা আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।
পাঁচ: যদি বান্দার সাথে এমন কিছু ঘটে যেটি সে অপছন্দ করে, তখন তাতে ছয়টি দৃষ্টিকোণ থাকে।
প্রথম: তাওহীদের দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ আল্লাহই সেই সত্তা যিনি তা নির্ধারণ করেছেন, তা চেয়েছেন এবং তা সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহ যা চান তা ঘটে, আর তিনি যা চান না তা ঘটে না।
দ্বিতীয়: ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ (নির্ধারিত) বিষয়টি অবশ্যই ঘটবে। এর মধ্যে তাঁর হুকুম, তাঁর ন্যায়বিচার এবং তাঁর পূর্বনির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তৃতীয়: রহমতের দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ কোনো নির্ধারিত বিষয়ের প্রতি তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধ এবং প্রতিশোধের উপর প্রাধান্য পায় এবং এর অভ্যন্তরে থাকে রহমত।
চতুর্থ: প্রজ্ঞার দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ এটি তাঁর প্রজ্ঞার দাবি। তিনি কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য ব্যতীত তা নির্ধারণ করেননি।
পঞ্চম: প্রশংসার দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ সকল দিক থেকে পরিপূর্ণ এবং একচ্ছত্র প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি সুমহান।
ষষ্ঠ: আল্লাহর প্রতি উবূদিয়্যাতের দৃষ্টিকোণ: অর্থাৎ সে সকল দিক থেকে আল্লাহর খাঁটি বান্দা। আল্লাহর অধীন ও তার দাস হওয়ার কারণে তার উপর তার মালিকের বিধান এবং সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হয়। সুতরাং আল্লাহ তাঁর জাগতিক বিধানের অধীনে তাকে পরিচালনা করেন যেমনিভাবে তিনি তাঁর শারঈ বিধানের অধীনে তাকে পরিচালনা করেন। সুতরাং এটি (অর্থাৎ পূর্বনির্ধারিত ঘটনাটি) তার উপর এই বিধিবিধান কার্যকর হওয়ার একটি স্থানে পরিণত হয়।
ছয়: অল্প সাফল্য, চিন্তাভাবনার পঙ্কিলতা, সত্যকে গোপন করা, অন্তরের কলুষতা, যিকিরে আলস্য, সময় অপচয় করা, মানুষের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা, বান্দা এবং তার রবের মাঝে দূরত্ব, দুআ কবুল না হওয়া, অন্তরের কাঠিন্য, রিযিক ও আয়ুষ্কাল থেকে বরকতের বিলুপ্তি, ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া, অপমানে আচ্ছাদিত হওয়া, শত্রুর দ্বারা অপদস্ত হওয়া, বক্ষের সংকীর্ণতা, অন্তর বিনষ্টকারী মন্দ সাথীদের সঙ্গে উঠাবসা করা এবং সময় অপচয় করা, দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ এবং দুঃখ, জীবনের করুণ অবস্থা এবং হতাশা – এসবই আল্লাহর অবাধ্যতা এবং তাঁর স্মরণে গাফিলতি থেকে উৎপন্ন হয় যেভাবে পানি থেকে ফসল এবং আগুন থেকে জ্বালানি উৎপন্ন হয় । আর আল্লাহর আনুগত্য থেকে এর বিপরীত বিষয়গুলো উৎপন্ন হয়।
সাত: যদি আপনার মন আপনার প্রবৃত্তির শাসন থেকে মুক্ত হতে পারে, তাহলে কর্তৃত্ব তার নিকট ফিরে যাবে।
আট: আপনি প্রবৃত্তির আবাসে প্রবেশ করেছেন, তাই আপনি নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছেন।
নয়: আল্লাহর কিছু ইবাদতগুজার বান্দাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: “আপনার নফসকে আর কতদিন কষ্ট দিবেন?” তিনি বললেন: “আমি এর দ্বারা তার প্রশান্তি চাই। হে চক্রান্তকারী! কোনো বাধা নেই।”’
দশ: এই দুনিয়ার নারীদেরকে তাদের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে যারা চক্ষুষ্মান যেন তাদের মধ্যে কারা পরকালের নারীদের উপর (এই দুনিয়ার নারীদেরকে) অগ্রাধিকার দেয় তা পরীক্ষিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি পার্থক্যের মাত্রা সম্পর্কে জানে, সে তাই বেছে নিবে যা বেছে নেওয়ার যোগ্য।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr















