প্রশ্ন:
সুদভিত্তিক ব্যাংক থেকে ঋণ (বন্ধক) নিয়ে বাড়ি ক্রয় করা কি আমার জন্য জায়েয? আমাদেরকে উপকৃত করুন, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
শাইখ রাবী বিন হাদী আল-মাদখালী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উত্তর:
“যদি প্রাণ রক্ষা করার জন্য এক টুকরো রুটির তীব্র প্রয়োজন হয় তারপরও ব্যাংক থেকে ঋণ নিবেন না, বাড়ি বা গাড়ি কেনার তো প্রশ্নই আসে না। মানুষ যখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে বাধ্য হয়, তখন আল্লাহ আপনার জন্য আল-মাইতা (মৃত প্রাণী), শূকরের মাংস, আঘাতপ্রাপ্ত বা উঁচু স্থান থেকে পতিত মৃত প্রাণী হালাল করেছেন; তারপরও আপনার জন্য আর-রিবা (সুদ) হালাল করেননি, সুদ অত্যন্ত বিপজ্জনক, অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই সুদভিত্তিক লেনদেন থেকে বিরত থাকুন এবং ধৈর্যধারণ করুন; কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তার নিস্কৃতির পথ বের করে দিবেন – এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দিবেন যা সে ধারণাও করতে পারে না; যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।”
[সূরা আত্ব-ত্বলাক্ব ৬৫:২-৩]
সুতরাং সুদভিত্তিক লেনদেন একটি বড় পাপ, একটি বিপজ্জনক কাজ আর যে ব্যক্তি এটিকে হালাল বানিয়ে নিবে সে কুফরী করেছে। সুতরাং, যদি আপনার বাড়ির প্রয়োজন হয় তাহলে ধৈর্যধারণ করুন যতক্ষণ না আল্লাহ আপনার জন্য তা ব্যবস্থা করে দেন, আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করুন এবং প্রয়োজনীয় সকল উপায় অবলম্বন করুন যতক্ষণ না আল্লাহ আপনার জন্য বাড়ি ক্রয় করার পথ সহজ করে দেন। আর না হয় আপনি আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করুন। কেননা মুরাবি (সূদ লেনদেনকারী) আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে — আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি — যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
“আর যদি তোমরা তা না করো, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো, কিন্তু যদি তোমরা তাওবাহ করো, তাহলে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। জুলুম করো না এবং তোমাদের উপরও জুলুম করা হবে না।”
[সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৯]
তিনি (আল্লাহ) সুদ লেনদেনকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন আর “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুদখোর, সুদ প্রদানকারী, সুদ লিপিবদ্ধকারী এবং এর দুই সাক্ষীদাতাকে অভিশাপ দিয়েছেন।”[১]
এই অভিশাপের পর আপনি আর কী চান?!
আপনি যখন জাহান্নামের সামনে দাঁড়াবেন তখন সেই বাড়ি কি আপনার কোনো উপকারে আসবে?! সুতরাং একজন মুমিনের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং তার অভাব-অনটন এবং প্রয়োজনের সময়ে ধৈর্যধারণ করা; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন:
“এবং আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরিক্ষা করব। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।”
[সূরা বাক্বারাহ ২:১৫৫]
ধৈর্যধারণ করুন তবেই তাঁর অভিশাপ, ক্রোধ, অসন্তুষ্টি ও শাস্তির সম্মুখীন করার পরিবর্তে আল্লাহ আপনাকে এই বিরাট প্রতিদান দিবেন। দুনিয়ায় এই কষ্ট সহ্য করুন কারণ আল্লাহর ক্রোধ এবং শাস্তির তুলনায় তা কিছুই নয়।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদেরকে এমন সবকিছু থেকে রক্ষা করেন যা তাঁর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কারণ হয়। নিশ্চয়ই আমাদের রব সর্বদা আমাদের প্রার্থনা শ্রবণকারী। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের উপর।”
উৎস: আদ-দুরার আন-নাদ্বীদ মিন মুহাদ্বারাতিল-আক্বীদাহ ওয়াত-তাওহীদ: তাফসীর কালিমাতি-তাওহীদ, প্রশ্ন এবং উত্তর, শাইখ রাবী বিন হাদী আল-মাদখালী, (পৃ. ১১৮-১১৯)।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
















