তাওহীদ এবং আল-ক্বদরের উপর দৃঢ় বিশ্বাসের অন্যতম ফল হলো মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করা যা দীন ও দুনিয়াবি বিভিন্ন কল্যাণের পথ খুলে দেয়। নিশ্চয়তা বা দৃঢ় বিশ্বাস এবং প্রমাণিত কারণসমূহের উপর আমল করা মানুষের মন, অন্তর ও আত্মাকে প্রশান্তি, স্বস্তি ও স্থিরতার দিকে নিয়ে যায়। পক্ষান্তরে, কল্পনা, ভ্রান্ত ধারণা ও ওয়াসওয়াসাকে প্রশ্রয় দেওয়া, সেগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এবং সে অনুযায়ী কাজ করা মানসিক ও শারীরিক রোগের পথ খুলে দেয়। এ ধরনের বিষয় মানুষকে হাসপাতালে এমনকি কবরেও পৌঁছে দেয়।
ইমাম আস-সা’দী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:[১]
অনিষ্টকর চিন্তাভাবনা থেকে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি এবং অবাস্তব কল্পনার প্রভাব থেকে অন্তরের শক্তি বা অন্তরকে বিচলিত বা অস্থির হতে না দেওয়া স্নায়বিক হৃদরোগ এমনকি শারীরিক অসুস্থতার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।
কারণ, যখন মানুষ কল্পনার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে, এবং রোগভীতি ও অনুরূপ বিষয়, কষ্টদায়ক কারণসমূহ থেকে সৃষ্ট রাগ ও অস্থিরতা, বিপদাপদের আশঙ্কা, অথবা প্রিয়জন হারানোর ভয় ইত্যাদির দ্বারা তার অন্তর প্রভাবিত হয়, তখন এগুলো তার মাঝে দুশ্চিন্তা, দুঃখ, অন্তর ও দেহের রোগ, এবং স্নায়বিক ভাঙ্গনের পথ খুলে দেয়। আর এসবের ক্ষতিকর প্রভাব মানুষ বহুবার প্রত্যক্ষ করেছে।
যখন অন্তর আল্লাহর উপর নির্ভর করে, তাঁর উপর ভরসা করে, কল্পনা ও ভ্রান্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে না, এবং মন্দ ধারণার দ্বারা প্রভাবিত হয় না; বরং আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখে ও তাঁর অনুগ্রহের আশা করে—তখন তার নিকট হতে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর হয়ে যায়, অন্তর ও দেহের বহু রোগ সেরে যায়, আর অন্তর এমন শক্তি, প্রশান্তি ও আনন্দ লাভ করে যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
কত হাসপাতাল এমন রোগী দ্বারা ভরে গিয়েছে যারা ভ্রান্ত ধারণা ও বিকৃত কল্পনার শিকার হয়েছে! দুর্বলদের কথা বাদই দিলাম, কত শক্তিশালী মানুষের অন্তর এসবের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে! আর এসব কত মানুষকে নির্বুদ্ধিতা ও উন্মাদনার দিকে ঠেলে দিয়েছে!
যে ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করে, সে তো সেই ব্যক্তি—যাকে আল্লাহ আরোগ্য দান করেছেন এবং নিজের নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার মধ্য দিয়ে এমন উপকারী উপায় অর্জনের তাওফীক দিয়েছেন, যা অন্তরকে শক্তিশালী করে এবং তার উদ্বেগ দূর করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করবে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।” (৬৫:৩), অর্থাৎ তার দীন ও দুনিয়াবি সকল বিষয়ের জন্য তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।
অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার অন্তর হয় দৃঢ় ও শক্তিশালী। ভ্রান্ত ধারণা তাকে প্রভাবিত করতে পারে না, আর চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলিও তাকে বিচলিত করে না। কারণ সে জানে, এসব কেবল নফসের দুর্বলতা এবং এমন ভয় ও আশঙ্কার ফল যার কোনো অস্তিত্ব নেই। আর সে জানে যে, যে ব্যক্তি তাঁর উপর ভরসা করবে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অতএব, সে আল্লাহর উপর ভরসা করে এবং তাঁর প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করে। ফলে তার দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ দূর হয়ে যায়, তার কষ্ট সহজতায় পরিবর্তিত হয়, তার দুঃখ আনন্দে রূপ নেয়, এবং তার ভয় নিরাপত্তায় পরিণত হয়। সুতরাং আমরা মহান আল্লাহর নিকট কল্যাণ ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি, এবং আরও প্রার্থনা করি যে তিনি যেন আমাদেরকে দৃঢ় অন্তর ও পূর্ণ তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে দৃঢ়তা দান করেন। কারণ, যারা তাঁর উপর পূর্ণ নির্ভর করে, আল্লাহ তাদের জন্য সকল কল্যাণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন এবং সব অনিষ্ট ও ক্ষতি দূর করার অঙ্গীকার করেছেন।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr















