Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

ইসলামে মৃত্যু থেকে দাফন পর্যন্ত জানাযার বিধান সম্পর্কিত একটি সহজ নির্দেশিকা

সূচীপত্র

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। আল্লাহ যেন ফেরেশতাদের সর্বোচ্চ মজলিসে তাঁর রাসূলের প্রশংসা করেন এবং তার উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং একইভাবে, তার পরিবার, তার সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সত্যিকার অর্থে তার অনুসরণ করে তাদের সকলের উপর রহমত বর্ষণ করেন।

মৃত্যু অনিবার্য

প্রত্যেক মানুষকে যে বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হবে তা হলো মৃত্যু। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:

كُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَ اِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ اُجُوۡرَكُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنۡ زُحۡزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدۡخِلَ الۡجَنَّۃَ فَقَدۡ فَازَ ؕ وَ مَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ

“প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে, আর কেবল কিয়ামতের দিনই তোমাদের পারিশ্রমিক পূর্ণ করে দেওয়া হবে। আর যে কেউ জাহান্নাম থেকে দূরে থাকবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে অবশ্যই সফলকাম হবে। পার্থিব জীবন তো শুধু প্রতারণা এবং ভোগ-বিলাসের উপকরণ ব্যতীত কিছুই নয়।”[১]

তিনি আরও বলেছেন:

قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ ۖ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

তিনি আরও বলেছেন:

“তাদেরকে বলুন, তোমরা যেই মৃত্যু থেকে পলায়ন করছ, তা নিশ্চয়ই তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তারপর তোমরা আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তীত হবে। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত, এবং তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন।”[২]

যখন একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন সে কবরের জীবনে চলে যায় এবং বিচার দিবসে পুনরুত্থিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করে। এই জীবন থেকে পরকালীন জীবনের দিকে রূপান্তর সকলের জন্য একটি অভূতপূর্ব মুহূর্ত, আর তাই আমাদের মহান রব ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী জানাযার নির্দেশ দিয়েছেন।

মানুষের যাত্রার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহর  কিতাব এবং নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সুন্নাতের অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক।

কেউ যদি ইসলামী শরীয়াত অনুযায়ী জানাযা সম্পন্ন না করে, তাহলে সে ইসলামের নির্দেশনার বিরোধিতা করে। মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তার সাহাবীদের মানহাজ এবং আমলের বিরোধিতা করার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন:

وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَسَاءَتْ مَصِيرًا

“হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পরও যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের (অর্থাৎ সাহাবীগণের) পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমরা তাকে সেই পথেই ছেড়ে দিব যে পথ সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল।”[৩] সুতরাং, হে মুসলিমগণ, না জেনে কথা বলা এবং আমল করা থেকে সাবধান। একজন মুসলিমের জানাযা সংস্কৃতি, পূর্বপুরুষদের রীতি বা অমুসলিমদের অনুকরণের ভিত্তিতে নয় বরং নবী (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

মৃত্যুর সময় যা করণীয়

মৃত্যুর সময়, মৃত্যু পথযাত্রী মুসলিমকে আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা পোষণ করার পাশাপাশি তার (রহমতের) আশা রাখার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

“তোমাদের কেউ যেন সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ না করে।”[৪]

একজন মুসলিমের ধৈর্যধারণ করা উচিত এবং জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আল্লাহর নিকট সাওয়াব আশা করা উচিত। মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তিকে তার শেষ বাক্য হিসেবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু [আল্লাহ ব্যতীত ইবাদাতের উপযুক্ত সত্য কোনো মা’বূদ নেই]’ বলতে উৎসাহিত করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে উৎসাহিত [তালক্বীন] করো।”[৫] এটি ঘনঘন বলবে না, বরং তাদেরকে এমনভাবে উৎসাহিত [তালক্বীন] করতে হবে যেন এটিই তাদের শেষ বাক্য হয়।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[৬]

সুতরাং, একজন মুসলিমকে অবশ্যই আল্লাহর তাওহীদ (খাঁটি এবং একনিষ্ঠ ইবাদাত)-এর উপর মৃত্যুবরণ করতে হবে। তার জন্য নবী (ﷺ) বা কবরস্থদের নিকট সাহায্য, মুক্তি বা ক্ষমা প্রার্থনা করা হারাম।

আমরা মুসলিম হিসেবে শুধু আল্লাহর  ইবাদাত করি এবং শুধু তাঁকে ডাকি এবং আমরা কবরস্থ ওলি, জিন বা ফেরেশতাদের মাধ্যমে সুপারিশ চাই না।

মৃত্যু পথযাত্রী অমুসলিম যেমন ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু ইত্যাদির নিকট ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। এটি পরিত্রাণের দিকে একটি প্রশংসনীয় দাওয়াত এবং এটি নবীর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত । রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুস্থ, অসুস্থ এবং মুমূর্ষু অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতেন যেমনটি তিনি তাঁর নিজের চাচা আবূ তালিবের ক্ষেত্রে করেছিলেন, কারণ এটি তাদের মহান রব ও স্রষ্টা আল্লাহর ইবাদাতের প্রতি দাওয়াত দেওয়ার সর্বশেষ সুযোগ।

কোনো মুসলিম যখন মৃত্যুবরণ করে তার চোখ বন্ধ করে দিতে হয়[৭] এবং পুরো শরীর ঢেকে দিতে হয়।[৮] গোসল, কাফন এবং দাফন তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করা ওয়াজিব, যেমনটি নবী (ﷺ) বলেছেন, “তোমরা দ্রুত জানাযা সম্পন্ন করো।”[৯]

মৃত্যুর সময় যেসব নিষিদ্ধ কাজ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত হয়নি, সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে, যেমন:

১. মৃতপ্রায় বা মৃত ব্যক্তির উপর সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করা, কারণ এই কাজটি একটি দুর্বল হাদীসের ভিত্তিতে করা হয়।

২. বিছানা বা দেহ কিবলার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া।

৩. বুকে কুরআনের একটি কপি রাখা।

৪. মৃত ব্যক্তির উপস্থিতিতে আল্লাহর  যিকির করা।

৫. মৃত ব্যক্তিকে যেন লোকেরা দেখতে পারে তাই দাফন বিলম্বিত করা।

৬. মৃত ব্যক্তিকে অন্য দেশে স্থানান্তরিত করা উচিত নয় কারণ এর দ্বারা দাফন বিলম্বিত হয় এবং এটি সাহাবা ও সালাফদের মানহাজের বিপরীত কাজ।[১০]

৭. ভিডিও করা এবং ছবি তোলা।

দুঃখ করা ও শোক পালন করা

ঐসকল আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠজন যারা মৃত্যুর বিপর্যয় দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে তাদের ক্ষয়-ক্ষতির জন্য ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং এমন কিছু বলা থেকে বিরত থাকতে হবে যা তাদের রবকে রাগান্বিত করে এবং তাদেরকে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করে। তাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, আল্লাহ ন্যায়বিচারক এবং তিনি কারও উপর বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না। তিনি যা নিয়েছেন সেটি তাঁর এবং তিনি যা দিয়েছেন সেটিও তাঁর।

ঘনিষ্ঠ নারী আত্মীয়দের[১১] জন্য মৃত ব্যক্তিকে চুম্বন করা বৈধ, অথবা কোনো ব্যক্তির জন্য তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর মাথায় চুম্বন করা বৈধ—যেমন আবু বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) নবী (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর তাঁর কপালে চুম্বন করেছিলেন।

নবী (ﷺ) বলেছেন: “সে ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে গাল চাপড়ায়, জামাকাপড় ছিড়ে ফেলে অথবা জাহিলী যুগের ন্যায় বিলাপ করে।”[১২] বিলাপ করা, শোকাহত অবস্থায় চিৎকার করা এবং জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি আল্লাহর হুকুমের প্রতি অসন্তুষ্টির লক্ষণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুমিন নারীদের নিকট হতে এই অঙ্গিকার গ্রহণ করতেন যে তারা মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করবে না এবং তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তির জন্য মানুষ বিলাপ করে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়।”[১৩]

এটি একটি লক্ষ্যণীয় গুরুতর বিষয়। নিশ্চয়ই, দুঃখ এবং বেদনা এমন বিষয় যা আল্লাহ মৃত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠজনদের অন্তরে তাদের ভালোবাসার কারণে সৃষ্টি করেন, কিন্তু ইসলামী নির্দেশনার সীমালঙ্ঘন করে সেই শোক প্রকাশ করা কারো জন্য জায়েয নয়।

নবী (ﷺ) তাঁর ছোট ছেলে সন্তানের মৃত্যুতে অশ্রুপাত করেছিলেন এবং বলেছিলেন, “অশ্রু একটি রহমত! চোখ অশ্রু ঝরায়, অন্তর শোকাহত হয়, কিন্তু আমরা শুধু তাই কিছু বলি যা আমাদের রবকে সন্তুষ্ট করে। হে ইবরাহীম, তোমার চলে যাওয়ায় আমরা সত্যিই শোকাহত।”[১৪] শোক বা দুঃখ প্রকাশ করার কোনো সময়সীমা নেই, কারণ মৃত্যুর পর কেউ কয়েক সপ্তাহ দুঃখ-কষ্ট অনুভব করতে পারে। তবে কারও মৃত্যুতে চরমভাবে হতাশাগ্রস্থ হওয়া একজন মুসলিমের জন্য সমীচীন নয় কারণ সেটি তার ঈমানের ঘাটতি এবং [আল্লাহর] পূর্বনির্ধারণের প্রতি অসন্তুষ্টি জ্ঞাপনের লক্ষন। তবে শোক প্রকাশ করা ভিন্ন বিষয়।

নারীদের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শোক পালন করা বৈধ, যেখানে তারা সৌন্দর্যবর্ধন, সুগন্ধি ব্যবহার এবং বাহ্যিকভাবে আনন্দ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবে। নবী (ﷺ) বলেছেন, “যে নারী আল্লাহ এবং শেষ দিবসে ঈমান রাখে, তার জন্য তার আত্মীয়ের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা জায়েয নয়, তবে তার স্বামীর কথা স্বতন্ত্র যার জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।”[১৫]

পুরুষদের জন্য শোক পালন করার কোনো সময়সীমা নেই।

এই সময়ে স্ত্রী (বিধবা) নিজেকে তার স্বামীর বাড়িতে আবদ্ধ রাখবে এবং প্রয়োজন ব্যতীত বাইরে যাবে না। তার খাদ্য, রসদ এবং পোশাক ইত্যাদির ন্যায় প্রয়োজন পূরণের প্রতি তার পুত্র এবং নিকটাত্মীয়দের বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। নিজের পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের উপর একজন বিধবার অধিকার রয়েছে অর্থাৎ তার ইদ্দতের সময় তারা তার যত্ন নিবে, যেন তাকে বাধ্য হয়ে ঘর থেকে বের হতে না হয়।

সমবেদনা জানানো

ইসলামে সমবেদনা জানানো সহ-মুসলিমদের প্রতি সমর্থন প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, তাকে সান্ত্বনা দেওয়া এবং আল্লাহর স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই কাজটি মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে দেখা হলেই করা যেতে পারে এবং এটি শুধু তিন দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে, সমবেদনা প্রকাশ করা অবশ্যই রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে, যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট না হন এবং কেউ যেন তাঁর ক্রোধের পাত্র না হয়। যখন কেউ কোনও বিপদে পতিত হয় তখন [এই বাক্য বলা] নবীর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত:

إِنَّا لِلَّهِ وإِنَّا إِلَْيهِ رَاجِعونَ

উচ্চারণ: “ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”[১৬]

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

মুসলিমরা জানে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ  সবকিছুরই জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছেন, সেজন্য তারা বলে:

إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَله ما أَعْطَى وَكُـلُّ شَيءٍ عِنْـدَهُ بِأَجَلٍ مُسَـمَّى

উচ্চারণ: “ইন্না-লিল্লাহি মা আখাযা, ওয়া-লাহু মা আ’ত্বা, ওয়া কুল্লু শাইয়িন ‘ইনদাহু বি আজালিন মুসাম্মা।”[১৭]

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ যা নিয়েছেন সেটি তাঁর এবং যা দিয়েছেন সেটিও তাঁর। তাঁর নিকট প্রতিটি জিনিসের একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে।

মানুষ যখন তার প্রিয়জনকে হারায় তখন নম্র বাক্য বলা খুবই জরুরি, যেমন:

إِنَّمَا أَخَذَ وَلَهُ ما أَعْـطَـى وَكُـلُّ شَيْءٍ عِنْـدَهُ بِأَجَلٍ مُسَـمَّى فَلْتَصْبِرْ ولْتَحْتَسِب

উচ্চারণ: “ইন্নামা আখাযা, ওয়ালাহু মা আ’ত্বা, ওয়া কুল্লু শাই-ইন ইনদাহু বি আজালিম-মুসাম্মা, ফাল-তাসবির ওয়াল-তাহতাসিব।”[১৮]

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ যা নিয়েছেন সেটি তাঁর এবং যা দিয়েছেন সেটিও তাঁর। তাঁর নিকট প্রতিটি জিনিসের একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে। সুতরাং তুমি ধৈর্যধারণ করো এবং সাওয়াব আশা করো।

প্রথম যুগের কোনো কোনো আলেম সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য নিম্নলিখিত অতিরিক্ত শব্দ যোগ করতে উৎসাহিত করেছেন:

أَعْظَمَ اللَّهُ أَجْرَكَ وأَحْسَنَ عَزَاءَكَ وَغَفَرَ لِمَـيِّتِكَ

উচ্চারণ: “আ’যামাল্লাহু আজরাক, ওয়া আহসানা ‘আযা-আকা ওয়া গাফারা লি-মায়্যিতিক।”[১৯]

অর্থ: “আল্লাহ আপনার সাওয়াব বৃদ্ধি করুন, আপনাকে উত্তমভাবে ধৈর্যধারণ করার তাওফীক্ব দিন এবং আপনার মৃতকে ক্ষমা করুন।” যেহেতু সান্ত্বনা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য তাই সমবেদনার শব্দগুলো আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় বলা যেতে পারে ।

সমবেদনা জানানোর উদ্দেশ্যে অতিথিদের জন্য স্থান নির্ধারণ করা

অল্প দিনের জন্য মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো বা অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত করার জন্য একটি ঘর বা ভবন নির্মাণ করা জায়েয নয়। এটি ইসলামী দিকনির্দেশনার পরিপন্থী কাজ এবং এটি মৃত ব্যক্তির পরিবারের উপর বোঝা স্বরূপ এবং এটি তাদের উপর চাপ বৃদ্ধি করে।

মৃত ব্যক্তির পরিবার যখন গোসল, কাফন এবং দাফনের কাজে ব্যস্ত থাকে তখন তাদের জন্য খাবার সরবরাহ করা সুন্নাহ। নবী (ﷺ) বলেছেন:

اصْنَعُوا لِآلِ جَعْفَرٍ طَعَامًا فَإِنَّهُ قَدْ أَتَاهُمْ أَمْرٌ شَغَلَهُمْ

“তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করো কারণ তাদের নিকট এমন কিছু পৌঁছেছে যা তাদেরকে ব্যস্ত করে তুলেছে।”[২০]

অনেক পরিবার আছে যারা সমবেদনা জানানোর জন্য এবং মৃত ব্যক্তির জন্য সম্মিলিতভাবে দুআ করার উদ্দেশ্যে একটি স্থান নির্ধারণ করে – তারা সকলে এক সঙ্গে হাত তুলে, একজন ব্যক্তি দুআ করে এবং অন্যরা তা শুনে। এটি বিদআতী আমল, যা নবী (ﷺ)-এর সাহাবীগণ কখনও করেননি।

জারির ইবন আব্দিল্লাহ আল-বাজালি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “আমরা মৃত ব্যক্তির বাড়িতে জড়ো হওয়াকে এবং দাফনের পর খাবার প্রস্তুত করাকে তাদের জন্য বিলাপ করার সমতুল্য মনে করতাম।[২১] অর্থাৎ, এটি বিলাপ সমতূল্য কাজ আর তাই নিষিদ্ধ।

ইমাম আশ-শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “আমি মৃত ব্যক্তির জন্য শোক ও বিলাপ (মাতম) করার জন্য জমায়েত হওয়াকে নিষিদ্ধ মনে করি, যদি তারা ক্রন্দন নাও করে তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ এটি শোক পুনরুজ্জীবিত হওয়ার কারণ এবং রিযিকের উপর বোঝা, আর এটি হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”[২২]

ইবনুল হুমাম (রাহিমাহুল্লাহ) দাফনের পর মৃত ব্যক্তির বাড়িতে লোকদের আতিথেয়তা এবং খাবার পরিবেশন করাকে একটি ঘৃণিত প্রথা হিসেবে গণ্য করতেন এবং তিনি বলতেন, “এটি একটি জঘন্য বিদআত।”[২৩]

গর্হিত বিদআতের অন্যতম হলো — শোকপালন ও সমবেদনা জানানোর উদ্দেশ্যে লোকদের একত্রিত করার জন্য মৃতব্যক্তির পরিবারের ঘর থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলা, এবং তিন বা সাত দিন সেই অবস্থায় রাখা, তারপর পুনরায় আসবাবপত্র ফিরিয়ে আনা।[২৪]

প্রখ্যাত আলেম শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালিহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “কোন আত্মীয়ের মৃত্যুতে লোকজন একত্রিত হওয়ার বিষয়টি – এবং তাদের দ্বারা মোমবাতি জ্বালানো, চেয়ার প্রস্তুত করা, তারপর ক্বারী (কুরআন তিলাওয়াতকারী) নিয়ে আসা ইত্যাদি শরীয়াতসম্মত নয়। বর্তমান সময়ের পূর্বে মুসলিমরা এসব কাজ থেকে মুক্ত ছিল।

বরং, কেউ যখন মৃত্যুবরণ করত এবং লোকেরা দাফন সম্পন্ন করত, তারপর যখন শোকাহত ব্যক্তির সঙ্গে তাদের দেখা হতো তখন তারা তাকে সান্ত্বনা দিত তারপর তারা তাদের পরিবারের নিকট ফিরে যেত। আর যদি বাজারে বা মসজিদে কারো সঙ্গে দেখা হতো, তাহলে তারা সমবেদনা জানাত। কিন্তু এই উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার বিষয়টি অবশ্যই একটি বিদআত, একটি নিষিদ্ধ কাজ। বিশেষ করে যখন এর সাথে বিলাপ ও মাতম যোগ করা হয় যেখানে মহিলারা একত্রিত হয় আর বলে, ‘আল্লাহর  কসম, তিনি এমন ছিলেন তেমন ছিলেন, তিনি এই সন্তানদের পিতা ছিলেন। তিনি এই পরিবারের প্রধান ছিলেন, এখন এই পরিবার কার এবং এই ঘরটি কার?’ ইত্যাদি। এটি নিষিদ্ধ বিলাপ। ত্বলিবুল ইলমদের উচিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পূর্বে সাধারণ মানু্‌ষদেরকে সচেতন করা!”[২৫]

বৈধ এবং নিষিদ্ধ কাজ

ইমাম ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল[২৬]: “মৃত ব্যক্তির দাফনের পর, লোকেরা তিন দিনের সমাবেশে যোগ দেয় যেখানে একজন ক্বারী কুরআন তিলাওয়াত করে এবং তারপর পনেরো দিন পর, মৃত ব্যক্তির পরিবার রুটি নিয়ে কবরস্থানে যায় যা তারা সাদাক্বা হিসেবে বিতরণ করে। এই রীতি কি সঠিক এবং শরীয়াতে কি এর বৈধতা আছে? ​​আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।”

এছাড়াও, তাকে সুন্নাতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং মৃত মুসলিম এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর বিষয় সঠিক দিকনির্দেশনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। নিচে শাইখের উত্তর (কিছুটা সংক্ষিপ্ত আকারে) দেওয়া হলো:

উত্তর: এটি এমন কাজ যা শরীয়াত অনুমোদন দেয়নি। মৃত ব্যক্তির জন্য এক সপ্তাহ, এমনকি একদিন বা তার চেয়ে বেশি সময় কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত নয়। এই সবই বিদআত। বরং, মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও রহমতের দুআ করা উচিত। এছাড়াও, তার পক্ষ থেকে দান করা উচিত যা সহজে যে-কোনো সময় এমনকি মৃত্যুর কয়েক বছর পরেও দেওয়া যায়। সাদাক্বাহ (দান) মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে, দুআ মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে, একইভাবে তার পক্ষ থেকে হজ্জ-উমরা এবং ঋণ পরিশোধ করা – এসবই মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে।

আর যদি একজন ক্বারী এক সপ্তাহ, অথবা এর চেয়ে কম বা বেশি সময়ের জন্য তার কবরে অথবা তার ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করে, তাহলে এর পুরোটাই বিদআত এবং ভিত্তিহীন কাজ।

সুতরাং, এটি এড়িয়ে চলা বাধ্যতামূলক কারণ আল্লাহ এটিকে বৈধতা দেননি। যদি আল্লাহ এটিকে বৈধ করতেন, তাহলে অবশ্যই রাসূল (ﷺ) তা স্পষ্ট করতেন এবং নবী (ﷺ)-এর সাহাবীরাও তা স্পষ্ট করতেন।

ইসলামের অনুসারীদের উপর [সুন্নাহ] অনুসরণ করা ফরয এবং বিদআত বর্জন করাও ফরয।

অনুরূপভাবে, কবরস্থানে গিয়ে দান করার উদ্দেশ্যে খাবার বা রুটি বিতরণ করা ভিত্তিহীন কাজ – এসবই বিদআত।

কবর যিয়ারত করার উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করা এবং আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা। রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “তোমরা কবর যিয়ারত করো কারণ নিশ্চয়ই সেটি তোমাদেরকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে।” 

তিনি (ﷺ) সাহাবীদেরকে কবর যিয়ারতের দুআ শিক্ষা দিয়েছেন:

السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ، مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ للاَحِقُونَ، نَسْأَلَ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ العافية

উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম আহলাদ-দ্দিয়ারি মিনাল মু‘মিনীনা ওয়াল মুসলিমীন, ওয়া ইন্না ইনশা-আল্লাহু বিকুম লা-লাহিক্বূন, নাস-আলুল্লাহা লানা ওয়ালাকুমুল ‘আফিয়াহ। 

অর্থ: “হে ঈমানদার ও মুসলিম কবরবাসীগণ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা শীঘ্রই, তোমাদের সঙ্গে মিলিত হবো। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের এবং তোমাদের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করছি।” (সহীহ মুসলিম)

রাসূল (ﷺ) আরও বলতেন:

السَّلاَمُ عَلَى أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَيَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ للاَحِقُونَ.

উচ্চারণ: আসসালামু ‘আলা আহলিদ-দ্দিয়ারি মিনাল মু‘মিনীনা ওয়াল মুসলিমীন, ওয়া ইয়ারহামুল্লাহুল মুস্‌তাক্বদিমীনা মিন্না ওয়াল মুসতা‘খিরীন, ওয়া ইন্না ইনশা-আল্লাহু বিকুম লা-লাহিক্বূন।

অর্থ: “হে ঈমানদার ও মুসলিম কবরবাসীগণ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ তাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন যারা আমাদের মধ্যে থেকে মৃত্যুবরণ করেছে এবং যারা আগামীতে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয়ই, আমরা আল্লাহর ইচ্ছায়, তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব।” (মুসলিম)

সুতরাং, এটিই সুন্নাহ। আর কবরে গিয়ে রুটি বা মাংস (ইত্যাদি) বিতরণ করা শরীয়াত বিরোধী কাজ ।

সমবেদনা এবং পরিদর্শন

যদি কোনো ব্যক্তি তার ভাইয়ের সঙ্গে তার বাড়িতে, রাস্তায়, মসজিদে, দোকানে, অথবা খামারে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য সাক্ষাৎ করে তাহলে সেই সান্ত্বনা শরীয়াত কর্তৃক অনুমোদিত – সুতরাং তার বাবা, ভাই বা মা (ইত্যাদি) হারানোর পর তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তার ভাইয়েরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে এতে কোনও ক্ষতি নেই।

অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত করা, অথবা মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআনখানী করা অথবা তার মৃত্যুর দিন, অথবা সপ্তাহের শুরুতে, অথবা চল্লিশ দিন বা এক বছর পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনের মতো ভিত্তিহীন কাজের অনুমোদন ইসলাম দেয়নি।

মৃত্যুর পরপরই যেসব নিষিদ্ধ কাজ এবং বিদআত সংঘটিত হয় সেগুলোর তালিকা:

১. মৃত ব্যক্তির উপর একাধারে কুরআন তিলাওয়াত করা।

২. আল্লাহর যিকির করা এবং তসবীহ, পাথর ইত্যাদি ব্যবহার করে তা গণনা করা।

৩. ভাড়াটে লোক দিয়ে বা মিনার থেকে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া।

৪. একটি স্থানে সমবেত হয়ে সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করা যাকে মা‘তাম বলা হয়।

৫. হাত তুলে সম্মিলিভাবে দুআ করা।

৬. শোক বা শোকের চিহ্ন সম্বলিত কালো রঙ বিশিষ্ট পোশাক পরিধান করা।

মৃত ব্যক্তিকে ধৌত করা

মৃত ব্যক্তির জানাযা এবং দাফন ত্বরান্বিত করা অত্যন্ত জরুরি।[২৭] এটি [মৃত ব্যক্তিকে] ধৌত করার মাধ্যমে শুরু করতে হয়। সাধারণত, পুরুষরা পুরুষদের এবং মহিলারা মহিলাদের ধৌত করে। তবে স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম-এক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীর মৃতদেহ ধৌত করতে পারে আর একইভাবে স্ত্রী তার স্বামীর মৃতদেহ ধৌত করতে পারে।[২৮] একজন বাবা তার কন্যা সন্তানকে ধৌত করতে পারে যদি শিশুর বয়স সাত বছরের কম হয়, এবং একজন মা তার ছেলে সন্তানকে ধৌত করতে পারে যদি শিশুটির বয়স সাত বছরের কম হয়। কারণ সাত বছরের কম বয়সীদের ‘আওরাহ’ (শরীরের যেসব স্থান ঢেকে রাখা ফরয) নির্ধারিত হয়নি।[২৯]

একটি বড়ই পাতা পিষে সেটি পানিতে মিশিয়ে (অথবা পানিতে সাবান মিশিয়ে) মৃতদেহ তিন বা তার চেয়ে অধিক সংখ্যায় ধৌত করা উচিৎ, তবে সেটি বিজোড় সংখ্যা হওয়া বাঞ্চনীয়। শেষবারের মতো ধৌত করার সময় পানিতে কর্পূর মিশিয়ে (অথবা পানিতে সুগন্ধি মিশিয়ে) দিতে হবে।[৩০] ধৌত করার সময়, একটি চাদর বা তোয়ালে দিয়ে শরীরের গোপনাঙ্গ তথা ‘আওরাহ’[৩১] ঢেকে রাখতে হবে, এবং এটি শরীরের উপর রাখতে সমস্যা নেই এবং সাবধানতার সহিত, প্রয়োজনে কাঁচি ব্যবহার করে, নীচের কাপড়গুলি সরিয়ে ফেলতে হবে। মৃত ব্যক্তির মাথা এবং কাঁধ সাবধানতার সহিত উঁচু করে পেটে হালকা চাপ দিতে হবে যাতে পেটের ভিতরে কিছু অবশিষ্ট থাকলে তা বেরিয়ে যায়। (তবে) যে নারী গর্ভবতী এবং এখনো যার গর্ভে ভ্রূণ আছে, তার ক্ষেত্রে এমনটি করা যাবে না।

প্রথমে হাতে গ্লাভস পরিধান করুন তারপর স্পঞ্জ বা কাপড় ব্যাবহার করে মৃত ব্যক্তির গোপনাঙ্গ চাদরের নীচ দিয়ে ধৌত করুন ।

চুল বাঁধা থাকলে তা খুলে ফেলতে হবে এবং মৃত ব্যক্তিকে ওযু করাতে হবে:

১. বিসমিল্লাহ বলুন।

২. মুখে এবং নাকে সরাসরি পানি না ঢেলে ধুয়ে ফেলুন। একটি ভেজা কাপড় দিয়ে নাক, মুখ এবং দাঁত পরিষ্কার করা যেতে পারে।[৩২]

৩. পুরো মুখমণ্ডল ধৌত করুন।

৪. ডান হাত দিয়ে শুরু করে কনুই পর্যন্ত ধৌত করুন, তারপর বাম হাত ধৌত করুন।

৫. মাথা এবং কান মাসেহ করুন।

৬. ডান পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করুন, তারপর বাম পা ধৌত করুন।

এখন ওযু সম্পন্ন হলো। এখন নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির গোসল সম্পন্ন করুন:

১. পানি ও সাবান দিয়ে তিনবার মাথা ধৌত করুন।

২. তারপর ডান দিক দিয়ে শুরু করুন এবং শরীরের বাকি অংশ ধৌত করুন, তারপর বাম দিক ধৌত করুন। এটি বাম দিকে কাত করিয়ে ডান দিক উন্মুক্ত করার মাধ্যমে করা যেতে পারে; তারপর ডান দিকে কাত করে বাম দিক ধৌত করুন।

৩. এটি তিনবার করতে হবে। তবে, প্রয়োজনে পাঁচ বা সাত বার গোসল করানো যাবে, বিজোড় সংখ্যা দিয়ে শেষ করতে হবে।

৪. শেষবারের (অর্থাৎ তৃতীয়, পঞ্চম ইত্যাদি) মতো ধৌত করার সময় পানিতে কর্পূর (অথবা সুগন্ধি) মিশিয়ে দিন যাতে একটি সুন্দর ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে।

৫. তোয়ালে দিয়ে শরীর শুকিয়ে নিন।

৬. যদি চুল লম্বা হয় তাহলে তা আঁচড়িয়ে ফেলুন এবং তিনটি বেনি করে মাথার পিছনে রাখুন।[৩৩]

এই পুরো সময় ‘আওরাহ’ ঢেকে রাখতে ভুলবেন না।

মৃত ব্যক্তিকে কাফনের কাপড় পরিধান করানো

এবার মৃত ব্যক্তিকে তিনটি বড় সাদা চাদর দিয়ে কাফন দিন, প্রতিটি চাদর যেন পুরো শরীরকে ঢেকে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়।[৩৪] প্রতিটি চাদর পৃথকভাবে পুরো শরীরের উপর এমনকি মুখমণ্ডল এবং মাথা উপর মুড়িয়ে দিতে হবে।[৩৫] কাপড়ের ফিতা দিয়ে মৃত ব্যক্তির মাথার উপরে, পায়ের নীচে এবং মধ্যভাগের চারপাশে কাফনের কাপড় বেঁধে দিন। এটি মৃত ব্যক্তিকে বহন করা এবং দাফনের সময় কাফনের কাপড় সুরক্ষিত রাখার জন্য করা হয়। মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর, এই গিটগুলো খুলে সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। দেশের আইন অনুযায়ী যদি কফিনে দাফন করার প্রয়োজন হয় আর কাফনের কাপড় খুলে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে সেক্ষেত্রে কাপড়ে গিট না দিলেও চলবে। মৃত ব্যক্তিকে কাফন পরিধান করানোর আগে কাফনের কাপড়ে বাখূরের ধোঁয়া বা অন্য কোনও সুগন্ধি দিয়ে সুগন্ধিযুক্ত করতে হবে।[৩৬] পুরো শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করার ব্যাপারে কোনো কোনো সাহাবী থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়।[৩৭]

নারীদের কাফনের সংখ্যা পুরুষদের মতোই হবে, কারণ হাদীসগুলো উভয় লিঙ্গের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো কোনো আলেম বলেছেন যে, নারীদের একটি হিজাব, একটি জামা এবং কোমরের নিচ দিয়ে চাদর (ইজার) পড়িয়ে দিতে হবে, তারপর দু’টি বড় সাদা চাদর দিয়ে মুড়িয়ে তার পুরো শরীর আবৃত করতে হবে, তারপর কাপড়ের ফিতা দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। কিন্তু যেসব বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, একজন নারীকে পাঁচ বা সাত পিস কাপড় দিয়ে কাফন দিতে হবে, তবে সেগুলো দুর্বল এবং সেগুলো সহীহ সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত হয়নি এবং আল্লাহই ভালো জানেন।[৩৮] সুতরাং, নারী এবং পুরুষের কাফনের কাপড় সমান।

এই পর্যায়ে মানুষ যেসব নিষিদ্ধ কাজ এবং বিদআতে পতিত হয়, তন্মধ্যে রয়েছে:

১. সশব্দে যিকির করা!

২. মৃত ব্যক্তির উপর কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা।

৩. কাফনের কাপড়ে লেখালেখি করা।

৪. ব্যয়বহুল এবং জাঁকজমকপূর্ণ কাফনের কাপড় ব্যবহার করা।

৫. অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে গোপনাঙ্গ মুড়িয়ে রাখা।

৬. কাফনের কাপড়ে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ঢুকিয়ে দেওয়া।[৩৯]

জানাযার সালাত

মৃত ব্যক্তিকে গোসল ও কাফন দেওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার জানাযা আদায় করতে হবে এবং তার দাফন সম্পন্ন করতে হবে।

গোসল ও কাফন দেওয়ার স্থান থেকে সালাতের স্থান পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির সাথে শুধু পুরুষরা যাবে – এবং মহিলাদের জন্য এটি নিষিদ্ধ।[৪০] তবে, মহিলাদের জন্য জানাযার সালাত পড়ার অনুমতি রয়েছে এবং তারা পুরুষদের মতোই সাওয়াব পাবে। মহিলারা পুরুষদের মতোই মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে।[৪১] তবে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার জন্য তাদের কবরস্থানে যাওয়া উচিৎ নয় ।
মৃত ব্যক্তিকে দেখার জন্য তাকে স্থানান্তর করা উচিত নয় কারণ এটি নবী (ﷺ) বা তাঁর সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) সুন্নাহ ছিল না – এবং এটি রাসূল (ﷺ)-এর আদেশ “তোমরা তাড়াতাড়ি দাফন সম্পন্ন করো” এর বিরোধি।[৪২] জানাযার (সালাত) মসজিদ অথবা মসজিদের বাইরে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে আদায় করুন – পরেরটিই উত্তম।[৪৩]

নবী (ﷺ) বলেছেন:
“এমন কোনো মুসলিম নেই যে মৃত্যুবরণ করে আর ৪০ জন ব্যক্তি – যারা আল্লাহর ইবাদাতে অন্য কাউকে শরীক করে না – তার জানাযা আদায় করে তবে আল্লাহ তার জন্য তাদের দুআ কবুল করেন।”[৪৪] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি জানাযার সালাত পড়লো তার জন্য এক কীরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি দাফনকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলো, তার জন্য দুই কীরাত সওয়াব। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, দুই কীরাত কি? তিনি বললেন: দু’টি পাহাড়ের সমান।”[৪৫]

জানাযার সালাতে রুকূ-সিজদা নেই। সূর্যোদয়ের শুরু থেকে সূর্য (সম্পূর্ণভাব) উদিত না হওয়া পর্যন্ত, দুপুর বেলায় সূর্য মাঝ আকাশ থেকে পশ্চিম দিকে হেলে না যাওয়া পর্যন্ত এবং সূর্যাস্তের শুরু থেকে সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির জানাযা পড়া বা তাকে দাফন করা হারাম।[৪৬]

জানাযার সালাতের পদ্ধতি

১. যদি মসজিদে সালাত আদায় করা হয় তাহলে [মসজিদের] ইমাম ইমামতি করবেন, তাকবীর[৪৭] এবং শেষে তাসলীম[৪৮] ব্যতীত পুরো সময় নীরবে পাঠ করবেন। ইমাম মৃত ব্যক্তির দেহ সামনে রেখে কিবলামুখী হবেন। তিনি পুরুষের মাথা বরাবর[৪৯] এবং মহিলার মাঝ বরাবর[৫০] দাঁড়াবেন, তাদের বয়স এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। মৃত ব্যক্তির মাথা বা দেহ ইমামের ডান দিকে থাকুক না বাম দিকে, তাতে কোনো সমস্যা নেই।[৫১]

২. লোকেরা তাঁর পিছনে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়াবে এবং অন্যান্য সালাতের মতো তাঁর অনুসরণ করবে। সালাতের জন্য মুসলিমদের কমপক্ষে হলেও তিনটি কাতার থাকা বাঞ্ছনীয়। আবু উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, “রাসূলুল্লাহ () জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে মাত্র সাতজন ব্যক্তি ছিল। অতঃপর তিনি এক কাতারে তিনজন, অন্য কাতারে দু’জন এবং অন্য কাতারে দু’জনকে কাতারবন্দি করিয়েছিলেন।”[৫২] এবং তিনি (ﷺ) বলেছেন, “এমন কোনো মুসলিম নেই যে মৃত্যুবরণ করে এবং তিন সারি মুসলিম তার জানাযার সালাত আদায় করে তবে আল্লাহ সে ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেন।”[৫৩] কাতার অবশ্যই সোজা এবং কাছাকাছি থাকবে। মহিলাদের কাতার পুরুষদের কাতার থেকে দূরত্ব বজায় রাখবে।[৫৪]

৩. ইমাম “আল্লাহ আকবার” বলে শুরু করবেন[৫৫], কাঁধ বরাবর (অথবা কান স্পর্শ না করে কানের লতি বরাবর)[৫৬] হাত তুলবেন, তারপর অন্যান্য সালাতের মতোই ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবেন এবং সেটি বুকের উপর বাধবেন। মুসল্লিগণ ইমামের অনুসরণ করবে।

৪. তারপর তিনি নিম্নলিখিত শব্দে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবেন:

أَعُوذُ بالله مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيم

উচ্চারণ: “আউযু বিল্লাহি মিনাশ-শাইত্বনির-রজীম।”

অর্থ: “আমি আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি ।”

তারপর বলবে:

بِسْمِ الله الرَّحَْٰمنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ: “বিসমিল্লাহির-রহমানির-রহীম।”

অর্থ: আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতীব দয়ালু।

৫. তারপর তিনি কুরআনের প্রথম সূরা, সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করবেন এবং চাইলে সাথে আরেকটি ছোট সূরা পাঠ করতে পারেন:

الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العالمين الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ المَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: “আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন। আর-রহমানির-রহীম। মালিকি ইয়াওমিদ-দীন। ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন। ইহদিনাস-সিরাত আল-মুসতাক্বীম। সিরাত-আল্লাযীনা আন‘আমতা আলাইহিম, গইরিল মাগদ্বূবি আলাইহিম, ওয়া লাদ-দ্বল্লীন। (আমীন)।”

অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। যিনি পরম করুণাময়, অতীব দয়ালু। যিনি বিচার দিবসের মালিক। আমরা আপনারই ইবাদাত করি এবং আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ, যাঁদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। তাদের পথ নয়, যাদের উপর আপনি রাগান্বিত হয়েছেন ও যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। আমীন! (হে আল্লাহ! আপনি কবুল করুন)।

৬. তারপর ইমাম দ্বিতীয় তাকবীর দিবেন এবং লোকেরা দুই নবী মুহাম্মাদ ও ইবরাহীম (আলাইহিমুস-সালাম)-এর উপর সালাত ও সালাম প্রেরণ করবেন যেমনটি নিয়মিত সালাতের শেষে করা হয়:

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীম ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম-মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদ ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারকতা ‘আলা ইবরাহীম, ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামিদুম-মাজীদ।”

অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের উপর রহমত নাযিল করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহীম এবং ইবরাহীমের পরিবারের উপর রহমত নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত এবং মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের উপর বরকত নাযিল করুন যেভাবে আপনি ইবরাহীম এবং ইবরাহীমের পরিবারের উপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত এবং মহিমান্বিত।”

৭. এরপর ইমাম তৃতীয় তাকবীর বলবেন এবং লোকেরা মৃত ব্যক্তির জন্য আন্তরিকভাবে দুআ করবে। সহীহ সুন্নাতে অনেক দুআ বর্ণিত হয়েছে। সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত একটি সহীহ দুআ হলো:

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا.اَللّٰهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الأسْلاَمِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الإِيمَانِ، اَللّٰهُمَّ لاَ تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلاَ تُضِلَّنَا بَعْدَهُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি-হায়্যিনা ওয়া মায়্যিতিনা ওয়া শা-হিদিনা ওয়া গা-ইবিনা ওয়া সগীরিনা ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফা আহয়িহি ‘আলাল-ইসলাম ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফা-তাওয়াফফাহু ‘আলাল-ইমান। আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়ালা তুদ্বিল্লানা বা‘দাহু।”[৫৭]

অর্থ: “হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং নর ও নারীদের ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আমাদের মধ্যে যাদেরকে আপনি জীবিত রাখবেন তাদেরকে ইসলামের উপর জীবিত রাখুন এবং যাদেরকে মৃত্যু দিবেন তাদেরকে ঈমানের সহিত মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদেরকে তার (মৃত্যুতে ধৈর্যধারণের) সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং তার (মৃত্যুর) পর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।” 

অথবা কেউ চাইলে এই দুআও করতে পারে:

اللََّهُمَّ عَبْدُكَ وَابْنُ أَمَتِكَ احْتَاجَ إلى رَحْمَتِكَ وَأَنْتَ غَنِيٌّ عَنْ عَذَابِهِ إِنْ كَانَ مُحْسِناً فَزِد فِي حَسَنَاتِهِ وَإِنْ كَانَ مُسِيئاً فَتَجَاوَزْعَنْهُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আব্দুকা ওয়াবনু আমাতিকা‌ ইহতাজা ইলা রহমাতিকা, ওয়া আনতা গনিয়্যুন আন ‘আযাবিহি, ইন কানা মুহসিনান, ফাযিদ ফি হাসানাতিহি, ওয়া ইন কানা মুসীআন ফাতাজাওয়ায আনহু।”[৫৮]

অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনার দাস এবং আপনার দাসীর পুত্র, আপনার রহমতের. মুখাপেক্ষী, আপনি তাকে শাস্তি দেওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী। যদি সে সৎকর্মশীল  বান্দা হয়, তবে তার সাওয়াব আরও বৃদ্ধি করুন, আর সে যদি গুনাহগার বান্দা হয়, তবে তার গুনাহসমূহ উপেক্ষা করুন।”

যদি এই দুআগুলো কারো মুখস্থ না থাকে, তাহলে তিনি মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা ও রহমত কামনা করে সাধারণভাবে দুআ করতে পারেন।

৮. মৃত ব্যক্তির জন্য উপরিউক্ত দুআ পাঠ করার পরপরই চতুর্থ তাকবীর দিতে হবে।

৯. নিয়মিত সালাতের মতো তাসলীম দিবে অর্থাৎ “আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ” বলার মাধ্যমে সালাত শেষ হবে। আর ডান দিকে মুখ ফিরিয়ে শুধু একটি তাসলীম (সালাম)-এরও অনুমতি রয়েছে।[৫৯]

এই পর্যায়ে কিছু লোকেরা জানাযার সালাত সংক্রান্ত যেসব নিষিদ্ধ কাজ ও বিদআত পালন করে তা হলো:

১. মসজিদে লাশ বহন করার সময় এবং সালাতের পর উচ্চস্বরে আল্লাহর যিকির করা।[৬০]

২. মৃত ব্যক্তির মুখমণ্ডল দেখানোর জন্য মৃতদেহটি কবরস্থান ব্যতীত লাশ অন্যত্র নিয়ে যাওয়া এবং এই কারণে দাফন বিলম্বিত করা।

৩. বিলাপ, শোক এবং দুঃখের কারণে চিৎকার করা সবই নিষিদ্ধ, যেমন মহান আল্লাহকে ডাকা এবং তাকে জিজ্ঞেস করা যে তিনি কেন এই ব্যক্তিকে মৃত্যু দিয়েছেন!

দাফন

মৃত ব্যক্তি যে শহরে মৃত্যুবরণ করেছে সে শহরের কবরস্থানে দাফন করা এবং লাশ অন্য কোনো শহরে স্থানান্তর না করাই ছিল নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) সুন্নাহ।[৬১] মুসলিমদেরকে অবশ্যই মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করতে হবে[৬২] এবং অমুসলিম কাফেরদেরকে তাদের কবরস্থানে দাফন করতে হবে।  সূর্যোদয়ের শুরু থেকে সূর্য পূর্ণরূপে উদিত না হওয়া পর্যন্ত, দুপুর বেলা সূর্য পশ্চিমে হেলে না যাওয়া পর্যন্ত এবং সূর্যাস্তের সময় থেকে সূর্য সম্পূর্ণরূপে অস্ত না হওয়া পর্যন্ত দাফন করা হারাম।[৬৩] এছাড়াও, মৃত ব্যক্তিকে রাতে দাফন করা উচিত নয়[৬৪] কারণ তাতে অল্প সংখ্যক লোক জানাযার সালাতের জন্য জড়ো হতে পারবে। তবে, যদি লোকেরা ইতোমধ্যেই দিনের বেলায় মৃত ব্যক্তির জন্য সালাত পড়ে থাকে, তাহলে রাতে দাফন করা যেতে পারে।[৬৫]

কবরটি অন্যান্য মুসলিমদের কবরের  মাঝে থাকবে  – এটিকে গভীর এবং প্রশস্ততভাবে খনন করতে হবে। এটি একটি গভীর আয়তাকার গর্ত হিসেবে খনন করা যেতে পারে যার লম্বা দিকটি মক্কার দিকে মুখ করে থাকবে, যেন এর মধ্যে দেহ প্রবেশ করানোর পর সেটি কিবলামুখী হয়ে থাকে।[৬৬]

কবরের অভ্যন্তরে আরেকটি প্রশস্ত গর্ত খনন করা যেতে পারে যা কিবলার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে[৬৭], যেন মৃতদেহটি তার ভিতর রাখা হলে তা কিবলামুখী হয়ে থাকে। নবুওয়াতের সময় এই দুই ধরণের কবরের প্রচলন ছিল।

নিকটতম পুরুষ[৬৮] আত্মীয় যারা গত রাতে সহবাস করেনি তারা মৃত ব্যক্তিকে কবরে নামাবে।[৬৯]

মৃতদেহটি লম্বালম্বিভাবে ডান কাত করে তার পায়ের দিক থেকে কবরে প্রবেশ করাতে হবে যাতে প্রথমে মাথার দিকটি কবরের ভিতরে প্রবেশ করে এবং সেটি কিবলামুখী থাকে।[৭০] মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় বলবে:

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ ওয়া ‘আলা মিল্লাতি রসূলিল্লাহ।”[৭১]

অর্থ: আল্লাহর নামে এবং রাসূলুল্লাহর দীনের উপর।”

তারপর মৃতদেহ মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। একবার নবী (ﷺ) একজন মুসলিমকে দাফন করেছিলেন এবং কবরে তিন মুঠ মাটি ঢেলে দিয়েছিলেন।[৭২] কবরটি ভরাট করার পর সেটি মাটির স্তর থেকে প্রায় এক বিঘত উঁচু করে দিতে হবে যেন সেটি কবর হিসেবে চিহ্নিত করা যায় – নবী (ﷺ)-এর কবরের ক্ষেত্রে এটিই করা হয়েছিল।[৭৩] কবর দেওয়ার সময় কবরের পাশে বসা বা দাঁড়িয়ে থাকা এবং কোনো জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য মানুষদেরকে মৃত্যু পরবর্তী ঘটনাবলি সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া জায়েয। এটি আল-বারা ইবন আল-আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।[৭৪]

মৃত্যুর আগে কোনো ব্যক্তি যেন নিজের কবর খনন না করে কারণ নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) তা কখনও করেননি – নিশ্চয়ই কে কখন (বা কোথায়) মৃত্যুবরণ করবে তা কেউই জানে না।[৭৫]

মৃত মুসলিমকে (মায়্যিত) দাফন করার পর ক্ষমা প্রার্থনা করা শরীয়াতসম্মত কাজ। নবী (ﷺ) দাফন সম্পন্ন করার পর তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন, “তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো – তার দৃঢ়তার জন্য দুআ করো কারণ নিশ্চয়ই তাকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”[৭৬] কবরের উপর একটি সাধারণ পাথর দিয়ে চিহ্নিত করা জায়েয যেন পরবর্তীতে যেসব পরিবারের সদস্যদেরকে সেখানে দাফন করা হবে তারা সেটি চিনতে পারে।[৭৭]

কবরে পুষ্পস্তবক, ফুল, ডালপালা[৭৮] ইত্যাদি স্থাপন করা সবই গুনাহের কাজ যা কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়নি – এবং নবী (ﷺ)-এর সাহাবীগণ তা পালন করেননি।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে নবী (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জানাযা সম্পন্ন করার জন্য মুসলিমদের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। মুসলিমদের জন্য তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অমুসলিমদের অনুকরণ করা ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। এই প্রসঙ্গে নবী (ﷺ) থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রচুর বর্ণনা পাওয়া যায়: “আহলুল কিতাবদের থেকে ভিন্নতা অবলম্বন করো…”, “কাফিরদের থেকে ভিন্নতা অবলম্বন করো…”, “যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।”[৭৯]

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কবর প্লাস্টার করা, তার উপর গম্বুজ, মসজিদ এবং মাজারের মতো কাঠামো নির্মাণ করা, সেগুলো উঁচু করা এবং সেগুলোর উপর লেখালিখি করতে নিষেধ করেছেন।[৮০] নবী (ﷺ) তাঁর জামাতা আলীকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) নির্দেশ দিয়েছিলেন, “যে বাড়িতেই মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে এবং যেখানেই কোনো কবর পাবে তা সমতল করে দিবে ।”[৮১]

আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আবুল-হাইয়াজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলেছিলেন, “তুমি সমস্ত ছবি মুছে ফেলবে এবং প্রতিটি কবর সমতল করে দিবে।”[৮২]

“জাঁকজমকপূর্ণ কবরের ফলক, মার্বেল টাইলস এবং খোদাই করা সবই নিষিদ্ধ বিদআত।

যেসব নিষিদ্ধ কাজ এবং বিদআত এড়িয়ে চলা অত্যাবশ্যক তা হলো:

১. কবরস্থানে সূরা আল-ফাতিহা বা কুরআন তিলাওয়াত করা। মানুষ যতই অজুহাত দেখাক না কেন, সুন্নাতে এই প্রথার কোনও ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

২. দাফনের আগে বা পরে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে জড়ো হওয়া।[৮৩]

৩. কবরস্থানে বিলাপ করা। মৃদুভাবে ক্রন্দন করা নিষিদ্ধ নয় কারণ এটিই সেই ভালোবাসা যা আল্লাহ (মানুষের) অন্তরে সৃষ্টি করেছেন।

৪. কবরস্থানে ছবি তোলা বা ছবি ঝুলানো।

৫. কবরস্থানে পুষ্প রোপন করা।

৬. কবরস্থানে আলো এবং মোমবাতি জালানো।

৭. জানাযার পরে সমাবেশ, স্মরণসভা এবং বার্ষিকী আয়োজন করা।

৮. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “তোমরা কবরের উপর বসো না এবং সেগুলোর দিকে মুখ ফিরিয়ে সালাত আদায় করো না।”[৮৪]

দাফনের পর করণীয়

মৃত্যু ও পরকালের স্মরণ এবং মৃত মুসলিমদের জন্য দুআ করার উদ্দেশ্যে কবরস্থানে যাওয়া শরীয়াতসম্মত কাজ – তবে অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক কথাবার্তা এড়িয়ে চলতে হবে।[৮৫] কবরবাসীদের সঙ্গে কথোপথন করা বৈধ নয় কারণ তারা এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে এবং তারা সাড়া দিতে অক্ষম। তাছাড়া, এটি শিরকের দরজা খুলে দেয় – এবং শয়তান মৃত ব্যক্তির নামে ওয়াসওয়াসা দিয়ে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার সুযোগ পায়।

যদি শোক প্রকাশ করা এবং বিলাপ করা পরিহার করা হয় তবে কবরস্থান যিয়ারত করা জায়েয। নারীদের যিয়ারত করার অনুমতি আছে[৮৬] তবে তারা ঘন ঘন যিয়ারত করবে না[৮৭] যেমনটি নবী (ﷺ) সহীহ বর্ণনায় নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ যেন মুসলিমদের উপর রহমত বর্ষণ করেন, এবং তিনি যেন তাদেরকে ইসলাম ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করার ও মৃত্যুবরণ করার তাওফীক্ব দান করেন।

এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। আল্লাহ যেন ফেরেশতাদের সর্বোচ্চ মজলিসে রাসূলের প্রশংসা করেন এবং তার উপর ও একইভাবে, তার পরিবার, তার সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সত্যিকার অর্থে তার অনুসরণ করবে তাদের সকলের উপর রহমত বর্ষণ করেন।[৮৮]

উৎস:

লেখক: আবু খাদীজাহ আব্দুল ওয়াহিদ আলাম

The Islamic Funeral: Comprehensive Step-by-Step Guide According to the Quran and Sunnah (PDF Book)

পাদটীকা:


১. আল-ইমরান ৩:১৪৫

২. সূরা আল-জুমুআহ ৬২:৮

৩. সূরা আন-নিসা ৪:১১৫

৪. সহীহ মুসলিম।

৫. সহীহ মুসলিম।

৬. সহীহ মুসলিম।

৭. মুসলিম, আহমাদ (৬/২৯৭), আল-বায়হাক্বী (৩/৩৩৪), দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয, আল-আলবানী, (পৃ. ২২)।

৮. আল-বুখারী এবং মুসলিম।

৯. আল-বুখারী।

১০. সালাফ বলতে সৎকর্মশীল পূর্বসূরীদের বুঝায়, মুসলিমদের প্রথম তিন প্রজন্ম, নির্দিষ্ট করে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআতের আলেমদের প্রতি নির্দেশ করে।

১১. যেমন তার মেয়ে, বোন, মা, স্ত্রী, দাদী, নানী, ইত্যাদি। এটি না-মাহরামদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।.

১২. সহীহ আল-বুখারী। 

১৩. সহীহ আল-বুখারী। অর্থাৎ, যদি তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় বিলাপ প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিয়ে থাকেন।

১৪. সহীহ আল-বুখারী।

১৫. সহীহ আল-বুখারী।

১৬. মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

১৭. আল-বুখারী বর্ণনা করেছেন।

১৮. আল-বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

১৯. আন-নববী, কিতাব আল-আযকার।

২০. ইবন মাজাহ (নং ১৬১০), সহীহ।

২১. আল-মুসনাদ আল-আহমাদ (৬৯০৫), ইবন মাজাহ (১/৪৯০) সংগ্রহ করেছেন। উমার ইবন আল-খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি উক্তি হিসেবেও উদ্ধৃত হয়েছে। দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয (পৃ. ২১০)।

২২. দেখুন: আল-উম (১/২৪৮)।

২৩. শারহুল হিদায়াহ (২/৫৬৫)।

২৪. আরো দেখুন: আল-মাদখাল (৩/২৭৯-২৮০) এবং আহকাম আল-জানায়িয, আল-আলবানী (পৃ. ২১০, ২১১, ৩২০)।

২৫. ফাতাওয়া ফী আহকাম আল-জায়ায়িয (পৃ. ২৭৮-২৭৯)।

২৬. দেখুন: https://binbaz.org.sa/fatwas/8182

২৭. আল-বুখারী, মুসলিম এবং সুনানের চার কিতাব।

২৮. মুসনাদ আল-ইমাম আহমাদ (৬/২২৮), আদ-দারিমী (১/৩৭-৩৮), ইবন মাজাহ (১/৪৪৭), আবূ দাঊদ (২/৬০)।

২৯. ফাতাওয়া ফী আহকামিল-জানায়িয, ইবন উসাইমীন, (পৃ. ৮৬) ।

৩০. আল-বুখারী, মুসলিম, ইবন মাজাহ এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থ। দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয, আল-আলবানী, (পৃ. ৬৪-৬৫)।

৩১. পুরুষের আওরাহ নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত। দেখুন: ফাতাওয়া ফী আহকামিল জানায়িয, ইবন উসাইমীন, (পৃ. ৮৭) । একজন নারী তার বুক থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢেকে রাখবে।

৩২. যদি মৃত ব্যক্তির স্বার্ণের দাঁত থাকে, তবে তা অপসারণ করা যেতে পারে, যদি এর দ্বারা অঙ্গহানি না ঘটে। দেখুন: ফাতাওয়া ফী আহকামিল-জানায়িয, ইবন উসাইমীন, (পৃ. ৮৬, ৮৮)।

৩৩. আল-বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, নাসাঈ এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয, আল-আলবানী, (পৃ. ৬৫)।

৩৪. আহমাদ (৩/৩৩১), ইবন আবী শায়বাহ (৪/৯২), ইবন হিব্বান, আল-হাকিম (১/৩৫৫) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এই সংখ্যা অতিক্রম করা বাড়াবাড়ি এবং অতিরঞ্জন কারণ তা নবী (ﷺ)-কে যেভাবে দাফন করার হয়েছিল তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয, আল-আলবানী, (পৃ. ৮৪)।

৩৫. মুসআব ইবন উমাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাফন সম্পর্কিত হাদীস দেখুন আল-বুখারী (৩/১১০) এবং মুসলিম (৩/৪৮)। এর ব্যতিক্রম হলো সেই পুরুষ যিনি হজ্জ বা উমরায় ইহরামরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং তার মাথা খোলা রাখা হয় – তার শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করা হয় না এবং তাকে তার দু’টি ইহরামের কাপড়ে দাফন করা হয় যেমনটি বুখারী ও মুসলিমের একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। 

৩৬. ফাতাওয়া ফী আহকামিল-জানায়িয, ইবন উসাইমীন, (পৃ. ৯৫)।

৩৭. দেখুন: আবদুর-রাজ্জাক আস-সান‘আনীর আল-মুসান্নাফ (৩/৪১৪) যেটি ফাতাওয়া ফী আহকামিল-জানায়িয (পৃ. ৯৭) গ্রন্থে ইবন উসাইমীন উদ্ধৃত করেছেন।

৩৮. দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয (পৃ. ৮৫) এবং আদ্ব-দ্বাঈফাহ (নং ৫৮৪৪), আল-আলবানী।

৩৯. দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয, আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)। 

৪০. উম্মু আতিয়্যা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে জানাযার পিছনে যেতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু তিনি আমাদের প্রতি কঠোর হননি।” আল-বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

৪১. দেখুন: ফাতাওয়া ফী আহকামিল-জানায়িয, ইবন উসাইমীন, (পৃ. ১১৪)।

৪২. সহীহ আল-বুখারী।

৪৩. দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয (পৃ. ১৩৫), আল-আলবানী।

৪৪. মুসলিম (নং ৯৪৮)।

৪৫. আল-বুখারী (১৩২৫) এবং মুসলিম (৯৪৫)।

৪৬. সহীহ মুসলিম (২/২০৮), আবূ দাঊদ (২/৬৬) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৪৭. আল্লাহু আকবার বলা।

৪৮. অর্থাৎ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রমাতুল্লাহ বলা।

৪৯. আবূ দাঊদ (২/৬৬-৬৭), আত-তিরমিযী (২/১৪৬)।

৫০. আল-বুখারী এবং মুসলিম।

৫১. দেখুন: ফাতাওয়া ফী আহকামিল-জানায়িয, ইবন উসাইমীন, (পৃ. ১০১-১০২)।

৫২. আত্ব-ত্বাবারানী আল-কাবীর (৭৭৮৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আল-আলবানী আহকাম আল-জানায়িয (পৃ. ১২৭) গ্রন্থে অন্যান্য সমর্থক বর্ণনার ভিত্তিতে এটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন।

৫৩. আবূ দাঊদ (২/৬৩), আত-তিরমিযী (২/১৪৩) এবং অন্যান্য হাসীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয, আল-আলবানী, (পৃ. ১২৭, ১২৮)। 

৫৪. মুসলিম (নং ৪৪০)।

৫৫. অনুবাদ: “আল্লাহ সবচেয়ে মহান।”

৫৬.  ইবন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আমলের ভিত্তিতে অনেক আলেম মনে করেন যে, জানাযার প্রতিটি তাকবীরের সঙ্গে হাত উত্তোলন করা উত্তম যেমনটি সহীহ আল-বুখারী এবং তাঁর জুয’উ রাফয়িল-ইয়াদাইন (পৃ. ১০৫) গ্রন্থে একটি ধারাবাহিক সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।

৫৭. ইবন মাজাহ (১/৪৫৬) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৫৮. আত্ব-ত্বাবারানী আল-মু’জাম আল-কাবীর (২২/২৪৯/৬৪৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আল-হাকিম (১/৩৫৯) এটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয (পৃ. ১৫৯)।

৫৯. আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস যা আদ-দারুকুত্বনী (১৯১), আল-হাকিম (১/৩৬০) বর্ণনা করেছেন এবং আহকাম আল-জানায়িয (পৃ. ১৬৩) গ্রন্থে আল-আলবানী হাসান বলেছেন।

৬০. এগুলো বিদআত যার উপর রাসূল (ﷺ) বা তাঁর সাহাবীগণ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) আমল করেননি। সুতরাং, এগুলো সম্পুর্নরূপে এড়িয়ে চলুন!

৬১. মৃত মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়কেই দাফন করতে হবে। সাহাবী আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পিতা আবূ ত্বালিবকে দাফন করেছিলেন এবং সে কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিল। দেখুন: আহমাদ (নং ৮০৭), তাঁর পুত্রও বর্ণনা করেছেন, দেখুন: যাওয়াইদ আল-মুসনাদ (নং ১০৭৪)। আল-আলবানী সনদটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন। আরও দেখুন আবূ দাঊদ (২/৭০) এবং আন-নাসাঈ (১/২৮২-৩)।

৬২. আবূ দাঊদ (২/৭২), আন-নাসাঈ (১/২৮৮)। এর ব্যতিক্রম হলো যুদ্ধক্ষেত্রের শহীদগণ যাদেরকে তাদের মৃত্যুর স্থানে দাফন করা হয় যেমনটি ইমাম আহমদের (৩/৩৯৭) সংগৃহীত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে এবং আল-আলবানী (পৃ. ১৭৫) সহীহ বলেছেন।

৬৩. সহীহ মুসলিম (২/২০৮), আবূ দাঊদ (২/৬৬) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৬৪. মুসলিমের বর্ণিত একটি হাদীস। দেখুন: আহকাম আল- জানায়িয, আল-আলবানী, (পৃ. ১৭৭)।

৬৫. কবরে আলো নিয়ে প্রবেশ করা জায়েয। ইবন মাজাহ (১/৪৬৪) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থ দেখুন।

৬৬. আবূ দাঊদ (২/৮৩) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থ। 

৬৭. এটিকে লাহাদ বলা হয়, এবং নবী (ﷺ)-কে যেই কবরে দাফন করা হয়েছিল তাতেও লাহাদ ছিল। ইবন মাজাহ (১/৪৭২) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৬৮. মৃত ব্যক্তি যদি কোনো নারী হয়  তাকে কবরে নামানো পুরুষদের দায়িত্ব। এটিই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে এবং পরবর্তী প্রজন্মের আমল ছিল। দেখুন: আহকাম আল-জানায়িয, আল-আলবানী, (পৃ. ১৮৬-১৮৭)। একজন নারীর মৃতদেহ কবরে নামানোর দায়িত্ব তাঁর পুরুষ আত্মীয়দের মাধ্যমে সম্পন্ন করা উত্তম।

৬৯. বুখারী (৩/১২২,১৬২)।

৭০. আবূ দাঊদ (২৮৭৫)।

৭১. আবূ দাঊদ (২/৭০), আত-তিরমিযী (২/১৫২,১৫৩), ইবন মাজাহ (১/৪৭০) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৭২. ইবন মাজাহ (১/৪৭৪)।

৭৩. ইবন হিব্বান (২১৬০), বায়হাক্বী (৩/৪১০), হাসান।

৭৪. আবূ দাঊদ (২/২৮১) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৭৫. তবে কোনো ব্যক্তি যদি তার মৃত্যুর প্রস্তুতির জন্য এটি করে, তবে এটি ভালো কাজ বলে গণ্য হবে যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন। দেখুন: শাইখুল-ইসলামের আল-ইখতিয়ারাত আল-ইলমিয়্যাহ)।

৭৬. আবূ দাঊদ।

৭৭. আবূ দাঊদ।

৭৮. একদা নবী (ﷺ) দু’টি কবরে একটি ডাল স্থাপন করলেন। তবে, নিম্নলিখিত কারণে তাঁর পরবর্তীতে অন্য কারো জন্য এটি দলীল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না: ক) এই ব্যাপারে নবী (ﷺ)-কে অদৃশ্যের জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল অর্থাৎ তিনি জানতেন যে তাদের দুজনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। খ) তাঁর পরবর্তীতে অন্যান্য কবরে কার সঙ্গে কি ঘটছে তা কেউ জানে না। গ) এই কাজটি নবী (ﷺ)-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল এবং তাঁর পরবর্তীতে কোনও সাহাবী এই কাজ করেননি। ঘ) বর্তমান যুগের পুষ্পস্তবক এবং ফুলের মতো, ডালটি সাজসজ্জা বা কারো স্মরণার্থে স্থাপন করা হয়নি!

৭৯. আত-তিরমিযী, ইবন হিব্বান এবং আবূ দাঊদ।

৮০. মুসলিম (৯৭০), আবূ দাঊদ এবং ইবন মাজাহ।

৮১. মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

৮২. মুসলিম (৯৬৯)।

৮৩. এটি খ্রিস্টানদের রীতিনীতি থেকে উদ্ভূত যাকে “Wake” বলা হয় যেখানে মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধব (মৃত ব্যক্তির) বাড়িতে জড়ো হয়, Wake প্রার্থনায় সাধারণত মৃতদেহ সামনে রাখা হয়। মৃত ব্যক্তির পরিবার তাদের অতিথিদের জন্য খাবার পরিবেষণ করে। এই বিজাতীয় প্রথা আমাদের সম্প্রদায়ের অজ্ঞ লোকেরা চালু করেছে যারা দাবি করে যে, তারা মৃত ব্যক্তির জন্য শোক পালন করছে এবং তার জন্য দুআ করছে!

৮৪. মুসলিম (৯৭২)।

৮৫. মুসলিম (৩/৬৫), আবূ দাঊদ (২/৭২) এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৮৬. আল-হাকিম (১/৩৭৬), আল-বায়হাক্বী (৪/৭৮), আত-তামহীদ, ইবন আব্দিল বার (৩/২৩৩), ইবন মাজাহ (১/৪৭৫)।

৮৭. ইবন মাজাহ (১/৪৭৮)।

৮৮. এই পুস্তিকায় উল্লিখিত তথ্য কুরআন, বিশুদ্ধ সুন্নাহ, সাহাবীদের বক্তব্য এবং তাদের অনুসারীদের বক্তব্য দ্বারা সমর্থিত। প্রথম সংস্করণটি আমার পিতা নায়েক (সালিহ) ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাসান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সর্বশেষ অসুস্থতার সময় সম্পন্ন করা হয়েছিল।

Support The Da'wah In Bangladesh

The Messenger (ﷺ) said: “And save yourselves from the hell fire even if it be with the piece of a date.”

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading