আমাদের সময়ে আলেমদের মৃত্যু সম্পর্কে অনুধাবন করা: পৃথিবীর বুকে আলেমদের দৃষ্টান্ত আকাশের নক্ষত্রসমূহের মতো, পথভ্রষ্ট এবং বিভ্রান্ত লোকেরা গভীর অন্ধকারে তাদের মাধ্যমে পথ খুঁজে পায়।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি ও তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দিয়েছেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না । আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত ইবাদাতের উপযুক্ত সত্য কোনো মা’বূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা এবং রাসূল।

নিশ্চয়ই, সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর হিদায়াত। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো নতুন উদ্ভাবিত বিষয়, কারণ প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয় হলো বিদআত। প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহী এবং প্রতিটি গোমরাহী জাহান্নামে যাওয়ার কারণ।

অতঃপর :

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আল-আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের অন্তর থেকে ইলম ছিনিয়ে নিবেন না, বরং তিনি আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নিবেন, এমনকি যখন তাদের মাঝে কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদের নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে (কোনো মাসআলা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তারা না জেনে ফাতওয়া দিবে, ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

যখন আলেমগণ মৃত্যুবরণ করেন তখন বাস্তবে এমনটিই ঘটে, ওয়াল্লাহুল মুস্তাআন, কারণ আলেমগণ মানুষকে পথ প্রদর্শন করেন।

ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম “ই’লামুল মুওয়াক্বীঈন” গ্রন্থে ইসলামের উলামা এবং তাদের মর্যাদা সম্পর্কিত একটি অধ্যায়ে বলেছেন: “পৃথিবীর বুকে আলেমদের দৃষ্টান্ত আকাশের নক্ষত্রসমূহের মতো; পথভ্রষ্ট ব্যক্তিরা গভীর অন্ধকারে তাদের মাধ্যমে পথ খুঁজে পায়। মানুষের জন্য তাদের প্রয়োজনীয়তা খাদ্য ও পানীয়ের চাহিদার চেয়েও বেশি এবং তাদের আনুগত্য করা নিজ পিতা-মাতাকে আনুগত্য করার উপর প্রাধান্য পায়, আল্লাহর কিতাবের আয়াত অনুযায়ী, যেখানে তিনি, সর্বশক্তিমান, বলেছেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তাদের [অনুগত্য করো] যাদেরকে তোমাদের উপর কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। আর যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়, তাহলে তা আল্লাহ এবং তার রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি সত্যিই তোমরা আল্লাহ এবং শেষ দিবসে বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটিই উত্তম (পন্থা) এবং পরিণতির দিক দিয়ে এটিই সর্বোত্তম।” (সূরা আন-নিসা ৪:৫৯)।

ইবনুল ক্বাইয়্যিম আরও বলেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস, জাবির ইবন আব্দিল্লাহ, আল-হাসান আল-বাসরী, আবুল আলিয়া, আতা ইবন আবী রাবীআহ, আদ-দাহহাক, মুজাহিদ এবং ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুমুল্লাহ) সকলেই বলেছেন, “যখন মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘এবং তাদের [অনুগত্য করো] যাদেরকে তোমাদের উপর কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে,’ তখন আলেমদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে।” আবূ হুরাইরা এবং ইবন আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), যাইদ ইবন আসলাম, আস-সুদ্দী এবং আল-মুকাতিল বলেছেন: “আলেমগণ তোমাদের উপর কর্তৃত্বশীল।”

ইমাম আহমাদের একটি বর্ণনায় তিনি বলেছেন: “শাসকদের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি আলেমদের আনুগত্যের অনুগামী ও তার উপর নির্ভরশীল।” এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, শাসকরা যদি ইলমের ভিত্তিতে সঠিক ও সৎকাজের আদেশ দেন তাহলে তাদের আনুগত্য করতে হবে। একইভাবে, আলেমদের আনুগত্য করার বিষয়টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর আনুগত্যের অনুগামী ও তার উপর নির্ভরশীল। সুতরাং, এই দুই শ্রেণির মাধ্যমে দীন প্রতিষ্ঠিত হয়: আলেমগণ এবং শাসকগণ, এবং সর্বসাধারণ তাদের নেতৃত্বের অনুসরণ করে।

তাছাড়া, এই দুই শ্রেণির সংশোধনের মাধ্যমেই পৃথিবী সংশোধিত হয় এবং এই দুই শ্রেণি কলুষিত হওয়ার মাধ্যমে পৃথিবী কলুষিত হয়, ঠিক যেমনটি আব্দুল্লাহ ইবন আল-মুবারাক এবং অন্যান্য আলেমগণ বলেছেন: “মানুষের মধ্যে দু’টি শ্রেণি আছে, যদি তারা সংশোধিত হয়, তাহলে সর্বসাধারণ সংশোধিত হবে আর যদি তারা কলুষিত হয়, তাহলে সর্বসাধারণ কলুষিত হবে।” জিজ্ঞাসা করা হলো, “তারা কারা?” তিনি বললেন, “শাসকগণ এবং আলেমগণ।”

ইসলামের প্রখ্যাত আলেম হলেন নববী হাদীসের সংরক্ষণকারী এবং মুখস্থকারীগণ; তারা আক্বীদাহ, মানহাজ (নববী পদ্ধতি), রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাতের প্রতিরক্ষাকারী এবং হিফাযতকারী। পূর্বেও এই আলেমগণই বিদআতীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন এবং বর্তমানে তারাই বিদআতীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করছেন; তারা তাদেরকে খণ্ডন করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন, তারা হলেন এই উম্মতের সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তিত্ব এবং পথপ্রদর্শক।

আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রখ্যাত ইমাম, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল তাঁর বিখ্যাত “আর-রাদ্দ আলা আয-যানাদিক্বাহ ওয়াল জাহমিয়্যাহ” গ্রন্থে বলেছেন:

“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি প্রত্যেক প্রজন্মে, রাসূল প্রেরণের অন্তরবর্তী সময়ে, জ্ঞানী ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে কিছু বিশিষ্টজনদের উত্থিত করেন। তাঁরা পথভ্রষ্টদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন, তাঁরা তাদের নিকট হতে যে কষ্টের সম্মুখীন হন তার উপর ধৈর্যধারণ করেন, তাঁরা মহান আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদেরকে জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদেরকে দৃষ্টিশক্তি দান করেন। কত মানুষকে তারা জীবিত করেছেন যারা ইবলীসের দ্বারা নিহত হয়েছে। কত পথভ্রষ্টকে তারা সঠিক পথ দেখিয়েছেন। দেখুন তাদের প্রভাব মানুষের উপর কতই না উত্তম আর দেখুন তাদের সঙ্গে মানুষের আচরণ কতই না নিকৃষ্ট ।

এই আলেমগণ আল্লাহর কিতাবকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থিদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে মুক্ত রাখেন – যারা বিদআতের পতাকা বহন করে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দেয়। তারা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে মতবিরোধ করে এবং এর বিরোধিতা করে, এবং তারা কিতাবের বিরোধিতায় ঐক্যবদ্ধ থাকে – তারা ইলম ব্যতীত আল্লাহ এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে কথা বলে। তারা সন্দেহজনক, ঘোলাটে এবং অস্পষ্ট কথা বলে এবং অজ্ঞ লোকদেরকে সন্দেহে পতিত করার মাধ্যমে তাদেরকে প্রতারিত করে, এবং আমরা পথভ্রষ্টদের ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।” (শেষ)

সুতরাং, যখন এই আলেমরা মৃত্যুবরণ করেন, এবং ফিরে যাওয়ার জন্য মানুষের নিকট (আলেমদের মধ্য থেকে) কেউ অবশিষ্ট থাকে না, তখন তারা পথভ্রষ্ট হয় এবং ধ্বংস হয়। একারণেই, মহান আল্লাহ ইলম এবং আলেমগণের প্রশংসা করেছেন। যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকে না, মানুষ তখন মূর্খদের উপর নির্ভর করে, ফাতওয়া এবং নির্দেশনার জন্য তারা তাদের উপর নির্ভর করে, শয়তান তখন জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এবং প্রশ্নকারী উভয়কে বিভ্রান্ত করে। 

আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আল-আস থেকে যেই হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন সেখানে বলা হয়েছে: “মূর্খ লোকেরা ব্যতীত কেউ অবশিষ্ট থাকবে না, যাদের নিকট ফাতওয়া চাওয়া হলে তারা তাদের নিজস্ব বুঝ অনুযায়ী ফাতওয়া দিবে, ফলে তারা অন্যদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে।”

ইমাম আল-বুখারী থেকে ইলমের অপসারণ সম্পর্কিত যে দুটি বর্ণনা আমরা উল্লেখ করেছি তিনি সেটি “অধ্যায়: যেভাবে ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে” শিরোনাম দিয়ে উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি উমর ইবন আব্দুল আযীযের বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা তিনি আবূ বকর ইবন হাযমকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন: “রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস অনুসন্ধান করো এবং সেগুলো লিখে রাখো, কারণ আমার ভয় হচ্ছে যে ইলম বিলুপ্ত হবে এবং আলেমগণ মৃত্যুবরণ করবেন । আর নবী (ﷺ)-এর হাদীস ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করো না এবং ইলম প্রচার করো; বসো এবং যে জানে না তাকে শিক্ষা দাও, কারণ ইলম গোপন না করা হলে তা বিলুপ্ত হয় না।”

আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি আছে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা স্পষ্ট করেছেন, এবং সত্য প্রচারের জিহাদে আলেমগণ পরীক্ষিত হন। এই কারণে নবী (ﷺ) বলেছেন, “মানুষের মাঝে বিপদের দ্বারা সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত হন নবীগণ, তারপর যারা তাদের সদৃশ, তারপর যারা তাদের সদৃশ।”

সুতরাং, আমাদের কর্তব্য হলো ইলম উঠিয়ে নেওয়ার আগেই তা অন্বেষণ করা। প্রখ্যাত ইমাম আব্দুল্লাহ বিন আব্দির রহমান আদ-দারীমী আস-সামারকান্দি (মৃ. ২৫৫হি) তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, যা সুনান নামে সুপরিচিত, আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ বলেছেন: “ইলম উঠিয়ে নেওয়ার আগেই তা শিক্ষা করো, আর সেটি তার লোকদের (আলেমদের) মৃত্যুর মাধ্যমে উঠিয়ে নেওয়া হবে, আর সীমালঙ্ঘন করা থেকে সাবধান থাকো, কোনো বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করা থেকে সাবধান থাকো এবং বিদআত থেকে সাবধান থাকো। তোমাদের উপর পুরাতন পদ্ধতি (অর্থাৎ দীন শুরুতে যেমন ছিল) আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব।”

(অতএব) শুরুতে বিষয়টি (দীন) যেমন ছিল সেদিকে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে আমরা অবিচল থাকতে পারব; যা আলেমগণ আমাদেরকে যুগ যুগ ধরে শিখিয়েছেন, সেই আলেমগণ যাদেরকে মহান আল্লাহ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, যেমনটি তাঁর কিতাবে তিনি বলেছেন:

“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম দেওয়া হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উচ্চ করবেন।” (সূরা আল-মুজাদিলা ৫৮:১১)।

আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে আলেমগণের সম্মান করার আদেশ দিয়েছেন, যেমনটি আহমাদ এবং আল-হাকিমের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যেটিকে শাইখ আল-আলবানী হাসান বলেছেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “সে ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলেমদের অধিকার চেনে না।”

ইমাম আস-সা’দী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আক্বীদাহ হলো, তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত আলেমদের সম্মান করে, তাদের প্রশংসা করে এবং তাদেরকে সম্মান করার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করে।”

সুতরাং, যখন আলেমরা মৃত্যুবরণ করেন এবং ইলম উঠিয়ে নেওয়া হয়, তখন পৃথিবীতে ফাসাদ তৈরি হয় যেমনটি নবী (ﷺ) বলেছেন: “কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে, মদপান করা হবে এবং ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে।”

ইমাম আল-আজুররি বলেছেন, “আপনি ভাবুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, একটি বিপজ্জনক পথ আছে যা মানুষকে রাতের গভীরতম অন্ধকারে পাড়ি দিতে হবে – যদি তাদের নিকট আলো বা প্রদীপ না থাকে, তাহলে তারা উদ্দেশ্যহীন এবং বিভ্রান্ত হয়ে চলবে। তারপর, আল্লাহ তাদের নিকট আলো এবং প্রদীপ প্রেরণ করেন যা তাদের পথ আলোকিত করে, যেন তারা নিরাপদে এবং কল্যাণের সহিত সেই পথে হাঁটতে পারে। তারপর একই পথের পথিক হিসেবে আরেকটি দল যুক্ত হয়, তারাও একই কাজ করে, কিন্তু যখন তারা পথ চলতে থাকে, তাদের প্রদীপগুলো নিভে যায়। তাদেরকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করা হয়, সুতরাং তাদের অবস্থা সম্পর্কে ভাবুন?? মানুষের মাঝে আলেমগণের অনুরূপ গুরুত্ব রয়েছে – অনেক মানুষ জানে না দীনের ফরয-ওয়াজিব কিভাবে পালন করতে হয় এবং হারাম কাজ কিভাবে এড়িয়ে চলতে হয়। আল্লাহর ইবাদাত করার পদ্ধতি সম্পর্কে তারা তখনই জানতে পারে যখন তাদের মাঝে আলেমগণ বিদ্যমান থাকেন। অতএব, যখন আলেমগণ মৃত্যুবরণ করেন, তখন সর্বসাধারণরা হিদায়াত ছাড়া চলে এবং বিভ্রান্তিতে নিক্ষিপ্ত হয়। তাদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইলম বিদায় নেয় এবং মূর্খতা ছড়িয়ে পড়ে।” (আখলাক্ব আল-উলামা, আল-আজুররি, পৃ. ৯৬)।

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: “এই উম্মতের এক হাজার আবিদের মৃত্যু এমন আলেমের মৃত্যুর চেয়ে সহজ – যিনি আল্লাহর নির্ধারিত হালাল ও হারাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন।” (দেখুন: জামিউ বায়ানিল-ইলম ওয়া ফাদ্বলিহী, ইবন আব্দিল বার)।

ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) উপরিউক্ত বক্তব্যটি ব্যাখ্যা করেছেন, “উমারের উক্তির অর্থ হলো, ইবলীস যা কিছু প্রতিষ্ঠা করে সেই আলেম তার ইলম এবং হিদায়াত দিয়ে তা ধ্বংস করে দেন । কিন্তু সাধারণ ইবাদতকারীর ক্ষেত্রে, তার কল্যাণ শুধু তার নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।”

এই কারণে, সুন্নাহ ও সালাফিয়্যার আলেমগণ, হাদীসের আলেমগণ, দীন ও আক্বীদাহর প্রতিরক্ষাকারী হলেন পৃথিবীর বুকে দীনের প্রহরী যারা মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, এবং তাদের সম্পর্কে উত্তম কথা ব্যতীত অন্য কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

আবু জাফর আত-তাহাওয়ী (মৃ. ৩২১হি, রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “সালাফী আলেমদের মধ্যে যারা অগ্রগণ্য, এবং তাদের পরবর্তীতে তাবেয়ীনগণ, সৎকর্মশীলগণ, আহলুল-হাদীস (আহলুল-আসার), বুদ্ধিমান ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, তাদের সম্পর্কে প্রশংসামূলক বাক্য ব্যতীত অন্য কিছু বলা সমীচীন নয়, এবং যে ব্যক্তি তাদের সম্পর্কে মন্দ কথা বলবে সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে।”

শাইখ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর “আত-তাহাওয়িয়্যাহ”-এর ব্যাখ্যায় এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, তিনি বলেছেন: “সাহাবীগণের প্রশংসা করার পর লেখক তাদের ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন যারা মর্যাদায় তাদের পরেই অবস্থান করেন এবং তারা হলেন আলেমগণ, সুতরাং মর্যাদার দিক দিয়ে সাহাবীগণের পরেই তাদের অবস্থান কারণ তারা নবীগণের উত্তরসূরী, যেমন নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘আলেমগণ হলেন নবীগণের উত্তরসূরী।’ আর এখানে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআতের আলেমদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে; তারা হলেন জ্ঞানী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ, তারা আহলুস-আসার এবং তারা আহলুস-হাদীস।”

প্রখ্যাত আলিম শাইখ সালিহ আলুশ-শাইখ তাঁর আত-তাহাওয়িয়্যাহর ব্যাখ্যায় মন্তব্য করেছেন, “কেননা তারা শরীয়াতের ধারক-বাহক; তারা শরীয়াতের বিষয়ে ফাতওয়া প্রদান করেন এবং আল্লাহর কিতাবে লেখা বাণী এবং রাসূল (ﷺ)-এর হাদীসের অর্থ মানুষের নিকট ব্যাখ্যা করেন। তারা সঠিক আক্বীদাহ এবং রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই বিষয়ক মিথ্যাচারগুলো খণ্ডন করেন, এবং নবী (ﷺ)-এর সাথে সংযুক্ত সকল বানোয়াট ভিত্তিহীন বর্ণনাসমূহ খণ্ডন করার মাধ্যমে তারা দীনের বিরুদ্ধে সকল আগ্রাসন প্রতিহত করেন ।”

এটিই হলো আলেমগণের ভূমিকা, যেমনটি নবী (ﷺ) একটি হাদীসে বলেছেন: “এই ইলম প্রত্যেক প্রজন্মের বিশ্বস্ত লোকেরা বহন করবে, এত্থেকে তারা চরমপন্থীদের বিকৃতি, মিথ্যাবাদীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা অপসারণ করবে।” (সহীহ, ইবন কুতায়বা, আল-বায়হাক্বী, আল-আজুররি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন)।

এই সময়ে আমরা অনেক আলেমের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছি – যেমন মুহাম্মাদ আমান আল-জামী, আব্দুল-আযীয বিন বায, হাম্মাদ আল-আনসারী, মুহাম্মাদ নাসির উদ্দিন আল-আলবানী, ইবন উসাইমীন, মুক্ববিল বিন হাদী, যাইদ আল-মাদখালী, আহমাদ আন-নাজমী, আব্দুল্লাহ আল-গুদায়ান, সালিহ আল-লুহাইদান, উবাইদ আল-জাবিরীসহ অন্যান্য আলেম – এবং তাদের অনুপস্থিতি এই উম্মতের জন্য বিপর্যয়ের কারণ।

আব্দুল্লাহ ইবন আল-মুবারাক বলেছেন: “যে ব্যক্তি আলেমদের তুচ্ছজ্ঞান করল সে তার আখিরাত হারালো, যে ব্যক্তি শাসকদের তুচ্ছজ্ঞান করল সে তার দুনিয়া হারালো এবং যে ব্যক্তি তার ভাইদের তুচ্ছজ্ঞান করলো সে তার সম্মান হারালো।” (ইমাম আয-যাহাবী, সিয়ারু আলামিন-নুবালা)

আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ তার সাথীদের বললেন: “তোমরা কি জানো মানুষের মধ্যে থেকে ইসলাম কিভাবে হ্রাস পাবে?” তারা বলল, ‘হ্যাঁ, ঠিক যেভাবে বোঝাইকৃত পশুর চর্বি গলে যায়, পোশাক থেকে রঞ্জক রঙ ফুরিয়ে যায় এবং পকেটে দীর্ঘ সময় রূপার মুদ্রা রেখে দিলে তা নরম হতে থাকে।’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ, এগুলো সবই এর অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তার চেয়েও কঠিন হলো আলেমদের মৃত্যু, যেমন কোনো শহরে যদি দু’জন আলেম থাকেন এবং তাদের কোনো একজন মৃত্যুবরণ করেন, তখন সেখানকার অর্ধেক ইলম ফুরিয়ে যায়। এমনও স্থান থাকবে যেখানে শুধু একজন আলেম থাকবে, আর যখন তিনি মৃত্যুবরণ করবেন, তখন তার সঙ্গে ঐ শহরের সমস্ত ইলম ফুরিয়ে যাবে। সুতরাং, আলেমদের মৃত্যুর সাথে সাথে ইলমও ফুরিয়ে যাবে।” (আল-বায়হাকী, মাদখাল ইলা সুনান আল-কুবরা)।

আলেমদের মৃত্যু সম্পর্কিত বিপর্যয় এবং তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করার গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে। প্রায় ২৬ বছর আগে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একদল আলেম মৃত্যুবরণ করেছেন: শাইখ বিন বায, শাইখ আল-আলবানী, শাইখ উসাইমীন এবং শাইখ মুক্ববিল (রাহিমাহুমুল্লাহ)। আমাদের জানা মতে তারা ছিলেন ঐ সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম, তাই ঐ সময় শাইখ রাবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট প্রশ্ন করা হয়েছিল, “এই আলেমদের মৃত্যুর পর আর কোন কোন আলেম অবশিষ্ট আছেন?” তিনি বলেছেন, “অনেকেই জীবিত আছেন, আলহামদুলিল্লাহ। রাসূলুল্লাহ () মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সম্মানিত সাহাবীগণ জীবিত ছিলেন, আহমাদ বিন হাম্বাল মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাঁর সাথীগণ জীবিত ছিলেন, ইবন তাইমিয়্যাহ মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাঁর ছাত্ররা জীবিত ছিলেন, মুহাম্মাদ ইবন আব্দিল-ওয়াহহাব মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাঁর সাথীগণ জীবিত ছিলেন। আর যদিও এই আলেমগণ মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের ছাত্ররা এখনও জীবিত আছেন ইনশাআল্লাহ, আর যাই হোক না কেন, সত্য কখনোই বিলুপ্ত হবে না।”

যখন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে আক্রমণ করা হয়েছিল এবং ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল, তখন তাকে বলা হয়েছিল, ‘কাউকে নিযুক্ত করুন।’ তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহ তাঁর দীন ধ্বংস হতে দিবেন না।’ অতএব, আপনার দায়িত্ব হলো সুন্নাহর পতাকা এবং সত্যের পতাকা উত্তোলনের কাজে পূর্ণ আন্তরিকতা এবং গুরুত্ব সহকারে সাহায্য করা। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “আমার উম্মতের মাঝে এমন একটি দল থাকবে যারা সত্যের উপর অবিচল থাকবে। তাদের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, এমতাবস্থায় আল্লাহর আদেশ এসে পড়বে এবং তারা তখনো ঐ অবস্থায় (অর্থাৎ বিজয়ী) থাকবে।”

সুতরাং, এই উম্মতের মধ্যে এমন একটি দল থাকবে যারা সত্যের উপর অবিচল থাকবে এবং তারা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে—এবং আলেমগণ হলেন সেই সাহায্যপ্রাপ্ত দল, সেই বিজয়ী দল; কে তাদের সাহায্য করল বা কে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল সেটি তারা পরোয়া করেন না কারণ তারা সত্যের উপর দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত এবং অবিচল।

শাইখ রাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “আল্লাহর কসম, ইলমের মৃত্যু হয়নি এবং আলেমগণ মৃত্যুবরণ করেননি (পৃথিবীতে এখনও আলেম বিদ্যমান)। এখনও কিবারুল উলামাদের (প্রবীণ, বিচক্ষণ এবং নেতৃস্থানীয় আলেমগণ) কমিটি আছে, এবং তাদের মাঝে কল্যাণ আছে। শাম, ইয়েমেন, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিশর, সুদানসহ অন্যান্য জায়গায় আমাদের ভাইয়েরা আছেন। ত্বালিবুল ইলমদের দ্বারা পৃথিবী পূর্ণ হয়ে আছে যারা এই ঘাটতি পূরণ করবে, ওয়ালহামদুলিল্লাহ। সুতরাং, বাতিলপন্থীদের জন্য কোনো সুসংবাদ নেই বা তাদের আনন্দিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

সুতরাং, আলেমদের মৃত্যুর অর্থ এই নয় যে সুন্নাহ মৃত্যুবরণ করেছে। সুন্নাহ মৃত্যুবরণ করবে না এবং ইসলাম ধ্বংস হবে না। মহান আল্লাহ, মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের উত্থান ঘটাবেন যারা তাঁর দীনের প্রতিরক্ষা করবে এবং এর হিফাযত করবে, হতে পারে তারা ত্বালিবুল ইলম, কোনো শাইখ বা প্রবীণ কোনো আলেম।

Support The Da'wah In Bangladesh

The Messenger (ﷺ) said: “And save yourselves from the hell fire even if it be with the piece of a date.”

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz Al-Imam At-Tahawee Foundation

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

দাওয়াহর কাজে সহযোগিতা করুন (Support The Dawah)

জীবনী এবং ইতিহাস প্রবন্ধ (Articles) কার্ড (Cards) অডিও (Audios)
আমাদের ভিজিট করুন (Visit Us) মারকাযের ঠিকানা (Markaz Location) আমাদের সম্পর্কে (About Us) আমাদের দাওয়াহ (Our Dawah) যোগাযোগ করুন (Contact Us)