শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন যেমনটি মাজমূ’উল ফাত্বওয়া (৬/২১৫) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:
وأحمد إنما اشتهر أنه إمام أهل السنة ، والصابر على المحنة ، لما ظهرت محنة [ الجهمية ] الذين ينفون صفات الله تعالى ، ويقولون إن الله لا يرى في الآخرة ، وأن القرآن ليس هو كلام الله تعالى ، بل هو مخلوق من المخلوقات .... وأضلوا بعض ولاة الأمر ، فامتحنوا الناس بالرغبة والرهبة ، فمن الناس من أجابهم رغبة ومن الناس من أجابهم رهبة ،ومنهم من اختفى فلم يظهر لهم ، وصارمن لم يجبهم قطعوا رزقه وعزلوه عن ولايته ، والمحنة مشهورة معروفة ، كانت في إمارة المأمون ، والمعتصم ، والواثق ، ثم رفعها المتوكل ، فثبت الإمام أحمد ، فلم يوافقهم على تعطيل صفات الله تعالى ، وناظرهم في العلم فقطعهـم ، وعذبـوه فصبر على عذابهم ، فجعله الله من الأئمة الذين يهـدون بأمـره ، كما قال تعالى (وجعلنا منهم أئمة يهـدون بأمرنا لما صبروا وكانوا بآياتنا يوقنون) ، فمـن أعطي الصبر واليقين : جعـله الله إماماً في الدين
নিশ্চয়ই এই বিষয়টি তখন সুপ্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল যে আহমাদ আহলুস সুন্নাহর ইমাম এবং আল-মিহনাহর (কঠিন বিপর্যয়ের) মুখে ধৈর্যশীল ও অবিচল ব্যক্তি যখন [জাহমিয়্যাহদের] ফিতনা প্রকাশ পেয়েছিল, যারা মহান আল্লাহর গুণাবলি তা‘তীল[১] করেছিল এবং বলেছিল, “আল্লাহকে (আখিরাতে) দেখা যাবে না”, এবং “নিশ্চয়ই কুরআন মহান আল্লাহর কালাম নয়, বরং এটি তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির ন্যায় একটি সৃষ্টি”…এবং তারা কিছু ক্ষমতাসীন উচ্চপদস্থ লোককে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং মানুষকে প্রত্যাশা ও ভয় দিয়ে পরীক্ষা করেছিল। ফলে, কিছু লোক প্রত্যাশা নিয়ে তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল এবং কিছু লোক ভয় নিয়ে তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল এবং কিছু লোক আত্মগোপন করেছিল যারা তাদের সামনে নিজেদেরকে প্রকাশ করেনি। আর যেসব লোক তাদের ডাকে সাড়া দিতনা, তারা [জাহমিয়্যাহরা] তাদের জীবিকার পথ অবরুদ্ধ করে দিত এবং তাদের পদ থেকে তাদেরকে অপসারণ করে দিত। এবং এই মিহনা ছিল সুপ্রসিদ্ধ এবং সুপরিচিত যা আল-মামূন, আল-মু’তাসিম এবং আল-ওয়াসিকের শাসনামলে সংঘটিত হয়েছিল, পরে আল-মুতাওয়াক্কিলের শাসনামলে তার অবসান হয়। ইমাম আহমাদ এসময় অবিচল ছিলেন এবং তিনি মহান আল্লাহর গুণাবলি তা‘তীল করার ব্যাপারে তাদের সাথে একমত হননি। তিনি তাদের সাথে ইলম ভিত্তিক বিতর্ক করেছিলেন এবং তাদের যুক্তিকে খণ্ডন করেছিলেন। একারণে তারা তাকে শাস্তি দিয়েছিল কিন্তু তিনি তাদের শাস্তির উপর ধৈর্যধারণ করেছিলেন অতঃপর আল্লাহ তাকে সেই ইমামদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন যারা তাঁর নির্দেশনায় মানুষকে পথপ্রদর্শন করে, যেমনটি…মহান আল্লাহ বলেছেন, “এবং আমরা তাদের মধ্যে থেকে ইমাম তৈরি করেছিলাম, যারা আমাদের নির্দেশনায় পথপ্রদর্শন করত যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল এবং আমাদের নিদর্শনগুলোর উপর দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল।” (৩২:২৪) সুতরাং যাকে ধৈর্য (আস-সবর) ও দৃঢ় বিশ্বাস (আল-ইয়াক্বীন) দেওয়া হবে: আল্লাহ তাকে দীনের ইমাম হিসেবে মনোনীত করবেন।
শাইখ আবূ ইয়াদ্বের মন্তব্য:
যখন জাহমিয়্যারা সাহাবীদের সাথে এই উম্মতের সংযুক্তি বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছিল তখন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ছিলেন তাদের (সাহাবীদের) আক্বীদাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ। আর ৫০০ থেকে ৭০০ হিজরির মাঝামাঝি সময়ে যখন আশআরীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল এবং এই উম্মতকে সালাফদের পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল তখন ইমাম আহমাদ ইবনু তাইমিয়্যাহ ছিলেন সালাফদের আক্বীদাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ। এই দু’জনকেই দীনে ইমামত (নেতৃত্ব) দেওয়া হয়েছিল।
তাওহীদ সংক্রান্ত একটি মাসআলা তথা আল্লাহর কালাম (কুরআন) সৃষ্ট (এই কুফর ও শিরক মিশ্রিত বক্তব্যকে) কেন্দ্র করে ইমাম আহমাদকে (রাহিমাহুল্লাহ) কারারুদ্ধ করা হয়েছিল এবং শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়ে শাসকদের দ্বারা অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হওয়ার পরও তিনি ধৈর্যধারণ করেছিলেন এবং অন্যদেরকে ধৈর্যধারণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা যুদ্ধ করার অনুমতি দেননি। সমাজের বৃহত্তর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহকেও তার সময়কার আশআরীরা কারারুদ্ধ করে বিচারের মুখোমুখি করেছিল, যারা একইভাবে শাসকদেরকে প্রভাবিত করেছিল। তাওহীদ ও তার সংরক্ষণ সম্পর্কিত কিছু ফাত্বওয়ার কারণে তাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। আর এই বিষয়টি প্রসিদ্ধ এবং সুবিদিত যে, এই উভয় আহমাদ (আহমাদ বিন হাম্বাল এবং আহমাদ বিন আব্দুল হালীম অর্থাৎ ইবনু তাইমিয়্যাহ), দীন ইসলাম এবং রাসূলদের তাওহীদের প্রতি তাদের সহায়তার কারণে আহলুস সুন্নাহর ইমাম হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
এই দুই মহান ইমাম এবং বর্তমানের ইখওয়ানীদের (Ikhwanis.Com) মাঝে আমরা উদ্দেশ্য, সম্মান এবং মর্যাদাজনিত মাহাত্ম্যের বিরাট পার্থক্য দেখতে পাই, যেই (বিদআতীদের) দেশগুলোতে সৎকর্মশীল আওলিয়াদের কবরগুলোকে উপাসনা করার মাধ্যমে মূর্তি পূজা করা হয় এবং তাদের মাঝে এই বিশ্বাস ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে কুরআন সৃষ্ট, এরপরও তারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবিচারের কারণে (যার প্রকৃত ও বাস্তব কারণগুলো কুরআন ও সুন্নাহতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তারা উপেক্ষা করে) জনগণকে শাসকদের বিরুদ্ধে উসকে দেয়, এবং তারা কবর পূজারি, রাফিদ্বী শিয়া, জাহমিয়্যাহ এবং অন্যান্যদের সাথে মিলিত হয়। তারপর তারা “হাকিমিয়্যাহ” প্রতিষ্ঠার তকমা দিয়ে এই তৎপরতাগুলোকে আড়াল করে, যা সত্যিই একটি বড় ধরনের প্রতারণা ও ধোঁকা। কিন্তু (আহলুস সুন্নাহর জন্য) এর চেয়েও ক্ষতিকর বিষয় হলো তারা যারা সালাফিয়্যাহ (এবং ইমাম আহমাদ ও ইবনু তাইমিয়্যাহর) সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে কিন্তু দাওয়াহ ও মানহাজের ক্ষেত্রে সেই বিদআতীদেরকে স্থান দেয় ও তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে এবং সুন্নাহ ও জামাআতের অনুসারীদের চাইতে তাদের প্রতি বেশি ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও আনুগত্য পোষণ করে। এটি সুস্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা যা প্রমাণ করে যে সালাফদের আক্বীদাহর প্রতি তাদের সেই ভালোবাসা ও আনুগত্য নেই যা তাদের অন্তরে, মুখে এবং লেখায় বিদ্যমান বলে তারা দাবি করে অথচ তাদের কার্যকলাপ এর সম্পূর্ণ বিপরীতটিই প্রমাণ করে।
কুরআনকে সৃষ্ট বলার এই ফিতনার মাঝে মানহাজ ও দাওয়াহ সম্পর্কিত বড় বড় শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে যার কারণে সুন্নাহ ও সালাফিয়্যাহর আলেমগণ এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যেন আহলুস সুন্নাহর দাওয়াহ ও সংস্কারের মানহাজের সাথে বিংশ শতাব্দীর দাওয়াহ ও সংস্কারের বিভিন্ন নব উদ্ভাবিত মানহাজের বিরাট পার্থক্যটি সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
১. তা‘তীলের ব্যাখ্যায় শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের জন্য যেসব নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন তা আংশিক বা পরিপূর্ণভাবে অস্বীকার করা বা তার অপব্যাখ্যা করাকে তা’তীল বলে। [৩নং ক্যাসেট: শারহুল আক্বীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ]
শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেছেন: “তা‘তীল দুই প্রকার:
১) মিথ্যা প্রতিপন্নকরণ ও অস্বীকার করার মাধ্যমে তা‘তীল করা। এটি কুফরী। এর উদাহরণ হলো: যেই লোক বলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আরশের উপর উঠেননি। এটি অস্বীকার করা ও মিথ্যা প্রতিপন্নকরণ। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, الرَّحْمَٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَىٰ অর্থ: পরম দয়াময় (আল্লাহ) আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা ত্বহা: ৫]
২) অপব্যাখ্যা করার মাধ্যমে তা‘তীল করা। এই প্রকারের তা‘তীলের ব্যাপারে আলেমরা মতানৈক্য করেছেন যে, কেউ যদি এই অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তা‘তীল করে তাকে কি কাফির বলা হবে নাকি হবে না।
এর উদাহরণ হলো: কেউ যদি বলে, আল্লাহ তাআলা আরশের উপর উঠেছেন (ইসতিওয়া করেছেন)। কিন্তু সে (অপব্যাখ্যা করে) বলে, এটির অর্থ হলো ইসতাওলা (অর্থাৎ আরশ দখল করেছেন)। যে লোক এটি বলে সে কাফির নাও হতে পারে। আমরা তাকে কাফির বলি না যে আরশের উপর উঠেছেন (ইসতিওয়া)-কে আরশ দখল করেছেন (ইসতীলা) দিয়ে অপব্যাখ্যা করে।।”’ [মাজমূ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইলিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমীন, ১ম খণ্ড; আসমা ওয়া আস-সিফাত অধ্যায়] (অনুবাদক)
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr

















