আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআতের বিশ্বাস হলো, শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম

আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আহলুল হাদীস তথা সালাফীদের প্রারম্ভিক যুগের আক্বীদাহ ও মানহাজ বিষয়ক বইগুলোতে ‘মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও অভ্যুত্থান উভয়ই হারাম’ এই ব্যাপারে ইজমা (মুসলিম আলেমদের ঐকমত্য) লিপিবদ্ধ আছে। দুই ইমাম, আবূ হাতিম আর-রাযী (মৃ. ২৭৭ হি) এবং আবূ যুর‘আহ আর-রাযী (মৃ. ২৬৪ হি) তাদের বিখ্যাত ‘আক্বীদাতুর রাযীয়াইন’ গ্রন্থে এই ইজমা লিপিবদ্ধ করেছেন, এবং তাদের পাশাপাশি অসংখ্য আলেম এই ইজমা লিপিবদ্ধ করেছেন:

“আমরা বিশ্বাস করি শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম…”

যখন এই বিষয়টি কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং কিবার (প্রবীণ, জ্ঞানী ও নেতৃস্থানীয়) সাহাবায়ে কেরামদের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়ে গেল তখন (তৎকালীন) ইমামগণ, ও তাদের পূর্বে যারা আগমন করেছিলেন (যেমন বুখারী, আহমাদ, সুফিয়ান, ফুদ্বাইল ইত্যাদি) তারা এই ইজমা লিপিবদ্ধ করলেন। আর ঐ সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই আক্বীদাহগত অবস্থানের বিরোধিতা অজ্ঞ ব্যক্তি বা পথভ্রষ্ট বিদ‘আতী ছাড়া আর অন্য কেউ করেনি।

বিদ্রোহ (খুরূজ) করার অর্থ হলো শাসকের কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা করা, প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করা, তার পদ থেকে তাকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো, তার বিরুদ্ধে জনগণকে (বিক্ষোভ, সমাবেশ, প্রতিবাদ, ধর্মঘট ইত্যাদির মাধ্যমে) উসকে দেওয়া, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা এবং লেখা, বক্তৃতা বা তলোয়ার দিয়ে তার মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নেওয়া।

এসবই হলো খুরূজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত ভাবে তা নিষেধ করেছেন। আর এমন সব হাদীসের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে যেগুলোর বিরোধিতা করা প্রবৃত্তি, নিজস্ব মতামত, বিবেক-বুদ্ধি বা লোকেদের ভুল সিদ্ধান্তের দ্বারাও সম্ভব নয়, মানুষের দৃষ্টিতে সেগুলোর অবস্থান যতই মর্যাদাপূর্ণ হোক না কেন। কারণ রাসূল (ﷺ) ওয়াহী থেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাঁর পরবর্তীরা তা করেনি। এই কারণে, যখন এই বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত খাওয়ারিজ, শিয়া, মু‘তাযিলা ও তাদের উপদল ব্যতীত আর কেউ এর প্রতি দ্বিমত পোষণ করেনি।

ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ মুসলিম’ গ্রন্থে (হাদীস নং ১৮৪৭) ওয়াইল ইবনু হুজর থেকে বর্ণনা করেছেন: সালামাহ ইবনু ইয়াযীদ আল-জু’ফী আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: “হে আল্লাহর নবী, আমাদের উপর এমন শাসক নিযুক্ত হলে আমরা কী করব যারা শুধু তাদের অধিকারগুলোকে দাবি করবে অথচ তারা আমাদের অধিকারগুলোকে আদায় করবে না? তিনি বললেন: “তোমরা [নির্বিশেষে] তাদের কথা শুনবে ও তাদের আনুগত্য করবে। তাদের বোঝা তাদের উপর (বর্তাবে) আর তোমাদের বোঝা তোমাদের উপর (বর্তাবে)।”

বুখারী (হাদীস নং ৭০৫৪) এবং মুসলিম (হাদীস নং ১৮৪৯) ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

“যদি কোনও ব্যক্তি তার আমীরের মধ্যে এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তাহলে সে যেন ধৈর্যধারণ করে, কারণ যে ব্যক্তি জামাআত (অর্থাৎ কোনো মুসলিম দেশের জামাআত) থেকে এক বিঘত ব্যবধানেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, অতঃপর সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুর উপর মৃত্যুবরণ করবে।”

আল-হাফিজ ইবনু হাজার এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, ইবনু আবী জামরাহ আল-আন্দালুসী (মৃ. ৫৯৯ হি) বলেছেন:

“এখানে ‘বিচ্ছিন্ন’ হওয়ার অর্থ হলো শাসকের জন্য অর্জিত আনুগত্যের চুক্তিকে ভঙ্গ করার অপচেষ্টা চালানো – সে বিচ্ছিন্নতা সামান্যতম পর্যায়ের হোক না কেন। সুতরাং, তিনি এক বিঘতের উপমা দিয়েছেন কেননা শুধু অতটুকুর জন্য অনর্থক রক্তপাত ঘটতে পারে।” (আল-ফাতহ ১৩/৭)

এ কারণেই আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআতের ইমাম, আহমাদ ইবনু হাম্বাল (মৃ. ২৪১ হি) তাঁর লেখা উসূলুস-সুন্নাহ গ্রন্থে বলেছেন, যেমনটি আল-লালাকায়ীর শারহু উসূলিল-ই‘তিক্বাদ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে (১/১৬১):

“শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করা বা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জনগণের কারও জন্য জায়েয নয়। আর যে ব্যক্তি এমন করবে সে বিদ‘আতী এবং সুন্নাহ ও সরল পথ ব্যতীত অন্য কিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত।”

শাসকের আনুগত্য করা ওয়াজিব; হোক সে সৎকর্মশীল, ধার্মিক, পাপী বা অত্যাচারী। সহীহ মুসলিমে (হাদীস নং ১৮৩৬) বর্ণিত, আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেছেন যে নবী (ﷺ) বলেছেন:

“তুমি অবশ্যই আমীরের কথা শুনবে ও মানবে (অর্থাৎ পূর্ণ আনুগত্য করবে) তোমার সংকটের সময় ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময়, অনুরাগ ও বিরাগে এবং তখনও যখন তোমার উপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে ইমাম মুসলিম আরও বর্ণনা করেছেন (হাদীস নং ১০৫৯) যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন:

“আমার পর তোমরা (তোমাদের চেয়ে যোগ্যতায় কম এমন ব্যক্তিদের প্রতি) মারাত্মক অগ্রাধিকারমূলক আচরণ দেখতে পাবে, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত এবং তাঁর রাসূলের সাথে হাওযে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করবে।” অতঃপর তাঁরা বললেন, “আমরা ধৈর্যধারণ করব।”

বুখারীর (২৩৭৭ নং হাদীসে) বর্ণিত হাদীসের সাথে আনাস যোগ করেছেন: “কিন্তু আমরা (কতিপয় মুসলিম) ধৈর্যধারণ করিনি।” সুতরাং এটিই প্রমাণ করে যে, যারা ধৈর্যধারণ করতে পারেনি, তারা নিজ নিজ বিচার-বিবেচনায় ভুল করেছেন কারণ আল্লাহর রাসূল যা আদেশ করেছেন তা সত্য।

গুনাহের কাজ ব্যতীত শাসকের আনুগত্য করা ওয়াজিব, এবং তার পাপ বা অত্যাচারের কারণে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ইজমা দ্বারা নিষিদ্ধ যেভাবে প্রাথমিক যুগের সালাফদের আক্বীদাহ ও সহীহ সুন্নাহ সম্বলিত গ্রন্থগুলোতে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

আল-ইখওয়ানুল মুসলিমূন, হাসান আল-বান্না, সাইয়্যিদ কুত্বব ও মাওদূদীর অনুসারীসহ বর্তমান যুগে তাদের শাখাপ্রশাখা থেকে উদ্ভূত অন্যান্য রাজনৈতিক দল, পার্টি, উসকানিদাতা যারা “সামাজিক ন্যায়বিচার” ও “অন্যায় অপসারণের” নামে মিছিল করে ও শাসকদের বিরুদ্ধে জনগণকে উসকে দেয়, তাদের মতো সুন্নাহ বিরোধী ও বিদ‘আতীদের আবেগ-আপ্লুত চিৎকার শুনে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করার মোটেও কোনো কারণ নেই। এসব কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত নিরপরাধ মানুষের রক্তপাত, একটি সমাজের পতন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, একটি প্রজন্ম বা তার চেয়েও দীর্ঘ সময়ের জন্য দীন ও দীনি শিক্ষার বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়! আর আমরা সে সমস্ত রাজনৈতিক আন্দোলনকারী, নিরাপত্তা ও দীন বিনষ্টকারীদের থেকে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থী। এরাই হলো তারা যাদের ব্যাপারে ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি এমন করবে সে বিদ‘আতী, সুন্নাহ ও সরল পথ ব্যতীত অন্য কিছুর (পথের) উপর প্রতিষ্ঠিত।”

ইবনু আবী আসিম কর্তৃক রচিত ‘আস-সুন্নাহ’ (নং ১০২৬) এবং ইবনু হিব্বান কর্তৃক রচিত ‘সহীহ’ (নং ৪০৬২) – এই উভয় গ্রন্থে ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন:

“তুমি অবশ্যই আমীরের কথা শুনবে ও তার আনুগত্য করবে তোমার সংকটকালে ও স্বাভাবিক সময়ে, অনুরাগ ও বিরাগে আর যখন তোমার উপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তখনও, আর যদিও তারা তোমার সম্পদ কেড়ে নেয় ও তোমার পিঠে প্রহার করে।” (আলবানী এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন; দেখুন যিলালুল জান্নাহ এবং আত-তা’লীক্বাতুল হিছান)।

আল্লাহর নবী (ﷺ) তাঁর সাহাবাদের এই নির্দেশনাই দিয়েছিলেন যে – তারা বিদ্রোহ করবে না বা শাসকদের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে না যদিও তাদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, অন্যায়ভাবে তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাদের পিঠে প্রহার করা হয়! সুতরাং এই কথা বলার অধিকার কি কারও আছে যে তারা রাসূল (ﷺ)-এর আদেশের ঊর্ধ্বে?! নাকি সামাজিক অবিচার ও নির্যাতনকে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তারা সাহাবায়ে কেরামদের চেয়েও বেশি উপযুক্ত?! শাসকদের অত্যাচার, অবিচার ও প্রকাশ্য পাপাচারকে সহ্য করার জন্য সাহাবায়ে কেরামদেরকে ধৈর্যধারণ করতে হয়েছিল, কিন্তু আজ ১৪০০ বছর পর, এই সকল রাজনৈতিক কর্মী, বিক্ষোভকারী, বিদ্রোহী এবং ইখওয়ানীরা কি নবীর আনুগত্য করতে পারছে না?!

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “শাসকদের অত্যাচারের উপর ধৈর্যধারণ করা আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআতের মূলনীতিগুলো হতে অন্যতম একটি মূলনীতি।” (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ২৮/১৭৯) আর ইবনু তাইমিয়্যাহর এই বক্তব্যটি রাসূল (ﷺ)-এর হাদীসগুলোর সাথে মানানসই এবং সামঞ্জস্যশীল।

ইবনু আবী আসিম ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে (২/৫০৮) ‘আদী ইবনু হাতিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি বলেছেন: “আমরা বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনাকে আল্লাহভীরু শাসকের আনুগত্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি না (যিনি তাক্বওয়া অবলম্বন করেন এবং আল্লাহকে ভয় করেন), যিনি সৎ এবং সংশোধন করেন। বরং আমরা ঐ শাসক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি যে এমন-এমন এবং এমন-এমন করেন? তিনি তাদের মন্দ বৈশিষ্ট্যগুলোকে উল্লেখ করলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেন: “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো! তোমরা শাসকের কথা শুনবে ও তার আনুগত্য করবে।”’ (আত্ব-ত্বাবারানী বর্ণনা করেছেন, দেখুন আল-কাবীর (১৭/১০১) এবং আলবানী এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন, দেখুন যিলালুল জান্নাহ)।

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৭২৮ হি) বলেছেন:

“প্রত্যেক জাতি যারা তাদের শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, তাদের বিদ্রোহের পরবর্তীকালীন অবস্থা বিদ্রোহের পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়ে আরও শোচনীয় হয়েছে।” (মিনহাজুস সুন্নাহ ৩/২৩১) এটিই কি বাস্তবতা নয় যা আজ আমাদের বর্তমান যুগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলে এসেছে? ২০০৮ থেকে ২০১৯ (এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত) মুসলিম বিশ্বে যে সকল বিদ্রোহ ও বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে তার প্রতি লক্ষ্য করুন। সেসব অভ্যুত্থানের পর জনগণের অবস্থা কী হয়েছিল? মৃত্যু, সন্ত্রাস, বিপর্যয় ও ধ্বংস ছাড়া আর কি! এরপরও ঐ সমস্ত রাজনৈতিক কর্মীরা ও তাদের তথাকথিত “উদারপন্থি” মিত্ররা আরও বেশি বেশি বিক্ষোভ, সমাবেশ ও বিপ্লবের দিকে ডাকে! তাই মুসলিমদের জেগে উঠতে হবে এবং তাদের নবী (ﷺ)-এর সুন্নাতের দিকে ফিরে যেতে হবে! প্রাথমিক যুগের সালাফদের প্রখ্যাত ইমাম, ইঊনুস ইবনু ‘উবাইদ বলেছেন: “আমাদের যুগে কোনো ব্যক্তিকে সুন্নাতের দিকে আহ্বান করতে দেখলে আশ্চর্যবোধ হয়। আরও বেশি আশ্চর্য লাগে ঐ ব্যক্তিকে দেখলে যে সুন্নাতের আহ্বানে সাড়া দেয়।” (আবূ নু‘আইম কর্তৃক হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৩/২১, ইবনু বাত্তাহ কর্তৃক আল-ইবানাহ, পৃষ্ঠা নং ২০ এবং আল-লালাকায়ী, নং ২১-২৩)

আল-হাসান বর্ণনা করেন: “আল্লাহর রাসূল (ﷺ) শাসক ও দুষ্ট শাসক, নেতা ও দুষ্ট নেতা উভয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তাদের কারো কারো ভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পূর্ণ করবে! তাই যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: “হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি তাদেরকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করব না??” তিনি উত্তর দিলেন: “না। (ততক্ষণ না) যতক্ষণ তারা সালাত আদায় করছে।”’ (আল-ইমাম নু‘আইম ইবনু হাম্মাদ (মৃ. ২৩৯ হি) কর্তৃক কিতাবুল ফিতান এ বর্ণিত, (১/১৮৫), নং ৪৯১)

সুতরাং যারা এ সকল অকাট্য দলিল-প্রমাণ, আসার, মানহাজ ও আক্বীদার বিরোধিতায় আগ বাড়াতে ইচ্ছুক তারা জেনে নিক যে, তারা আহলুল বিদ‘আহর (বিদ‘আতীদের) অন্তর্ভুক্ত এবং সুন্নাহ, হাদীস ও সালাফদের বিরুদ্ধবাদী।

পথভ্রষ্ট দাঈ ইয়াসির ক্বাদ্বী, যে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, হাদীস এবং আহলুস সুন্নাহর আলেমদের ফাতাওয়ার বিরোধিতা করে বলেছে: “আমি স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি: আল্লাহকে আমার সাক্ষী রেখে বলছি, আমার অন্তর আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিল যখন আমি এই বিক্ষোভের খবর শুনতে পেয়েছিলাম, এবং আমি দেখেছিলাম যে মিশরের জনসাধারণেরা রাস্তায় নেমে এসেছিল, তারা ইতিবাচক পরিবর্তন চাচ্ছিল, তিন দশক ধরে তাদের উপর শাসনকারী পুতুল-শাসনব্যবস্থায় তারা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল, তারা নিজ শরীর দিয়ে ট্যাংকের মোকাবিলা করছিল, জল কামান দ্বারা জলসিক্ত অবস্থায় তারা সৈন্যদের সামনে আল্লাহকে সেজদা করছিল। একটা অত্যাচারী শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করার জন্য সাধারণ মুসলিমের সাহসিকতা দেখে কোনো মুমিনের অন্তর কি আনন্দে আত্মহারা না হয়ে পারে?” [১]

পাদটীকা:


[১] Published January 31, 2011, by http://www.muslimmatters.org/2011/01/31/yasir-qadhi-a-brief-statement-regarding-the-situation-in-egypt/

অনুবাদকের দ্রষ্টব্য: প্রাথমিক যুগের সালাফদের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার আলোকে কি শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জায়েজ?

দেখুন: 

https://youtu.be/zmSZARgUKj4?feature=shared
https://abukhadeejah.com/revolt-of-the-early-scholars-against-the-tyranny-of-rulers-in-light-of-the-sunnah-and-salaf/
https://dusunnah.com/article/they-claim-the-companions-al-%E1%B8%A5usayn-and-abdullah-ibn-az-zubayr-rebelled/

Support The Da'wah In Bangladesh

The Messenger (ﷺ) said: “And save yourselves from the hell fire even if it be with the piece of a date.”

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz Al-Imam At-Tahawee Foundation

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

দাওয়াহর কাজে সহযোগিতা করুন (Support The Dawah)

জীবনী এবং ইতিহাস প্রবন্ধ (Articles) কার্ড (Cards) অডিও (Audios)
আমাদের ভিজিট করুন (Visit Us) মারকাযের ঠিকানা (Markaz Location) আমাদের সম্পর্কে (About Us) আমাদের দাওয়াহ (Our Dawah) যোগাযোগ করুন (Contact Us)