রামাদানের শুরু ও শেষ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিদ্যা ভিত্তিক গণনার উপর নির্ভর করা

রামাদানের শুরু ও শেষ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিদ্যা ভিত্তিক গণনার উপর নির্ভর করা সালাফদের ইজমার সাথে সাংঘর্ষিক রাফিদ্বী শিয়াদের একটি বিদআত – শাইখ আবূ ত্বালহা দাঊদ ইবন রোনাল্ড বারব্যাঙ্ক (রাহিমাহুল্লাহ)

সহীহ আল-বুখারীতে বর্ণিত: কিতাব আস-সিয়াম: অধ্যায়: নবী ﷺ-এর বাণী: আমরা লিখিনা, আমরা হিসাবও করিনা:-

আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: শু‘বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আল-আসওয়াদ ইবনু ক্বায়স আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: সাঈদ ইবনু আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: তিনি ইবনু উমারকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী ﷺ-এর হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: “আমরা উম্মী (নিরক্ষর) জাতি। আমরা লিখিনা এবং হিসাবও করিনা। মাস কখনো এরূপ কখনো এরূপ হয় অর্থাৎ কখনো উনত্রিশ আবার কখনো ত্রিশ দিনের হয়।

আল-হাফিজ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) ‘ফাতহুল-বারী’ (৪/১৩৭) গ্রন্থে বলেছেন: “…তাদের মধ্যে এমন লোক ছিল যারা লিখতে এবং হিসাব করতে জানত কিন্তু তাই বলে এই (চাঁদ দেখে রোযা রাখা না রাখার) বিধান বাতিল সাব্যস্ত হয়না – কারণ তাদের মধ্যে খুব কম লোকই ছিল যারা লিখতে জানত, আর এখানে হিসাব বলতে নক্ষত্রসমূহ এবং সেগুলোর গতিবিধি হিসাব করাকে বোঝানো হয়েছে যা তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক লোকেরা জানত। এই কারণে রোযা রাখা (বা না রাখা) ও অন্যান্য বিষয়কে চাঁদ দেখার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে লোকেরা এই অসুবিধা (অর্থাৎ জ্যোতির্বিদ্যা ভিত্তিক গণনা) থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারে, এবং পরবর্তীতে তাদের মাঝে এই জ্ঞান (জ্যোতির্বিদ্যা ভিত্তিক গণনা) চর্চাকারী লোকদের আবির্ভাব হলেও রোযার এই বিধানটি চলমান থাকে। আর নিশ্চয়ই হাদীসের বাহ্যিক অর্থ গণনার উপর নির্ভর করাকে নাকচ করে। এই বিষয়টি পূর্বোক্ত হাদীস থেকে আরও স্পষ্ট হয়ে যায়: “আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তোমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ করো” এবং এখানে তিনি ﷺ বলেননি: “জ্যোতির্বিদদেরকে জিজ্ঞেস করো।” এই বিধানের পিছনে হিকমত হলো, আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে দিনের সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে সকলেই একমত থাকবে ফলস্বরূপ তাদের মাঝে বিবাদ ও মতভেদ সৃষ্টি হবে না।

রাফিদ্বীরা মনে করে এই বিষয়ে জ্যোতির্বিদদের শরণাপন্ন হতে হবে। ফিক্বহ শাস্ত্রের কিছু আলেম তাদের সাথে একমত হয়েছেন বলেও জানা যায়। আল-বাজী বলেছেন: “তবে সালাফ আস-সালিহ এর (সৎকর্মশীল পূর্বসূরিদের) ইজমা তাদের বিরুদ্ধে দলীল।”

আর ইবনু বাযীযা বলেছেন: “এটি একটি বাতিল ও ভিত্তিহীন মতামত, কারণ শরীয়ত আমাদেরকে নক্ষত্রবিদ্যার সাথে জড়িত হতে নিষেধ করেছে, কারণ তা অকাট্য বা নিখুঁত জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল নয় বরং ধারণা এবং অনুমানের উপর নির্ভরশীল, আর তাছাড়া বিষয়টি (রামাদানের রোযা রাখা বা না রাখা) যদি তার (জ্যোতির্বিদ্যা ভিত্তিক গণনার) সাথে সম্পর্কিত হতো, তবে তা অসুবিধার কারণ হতো যেহেতু খুব অল্প সংখ্যক লোকই এই ব্যাপারে জানে….”

Support The Da'wah In Bangladesh

The Messenger (ﷺ) said: “And save yourselves from the hell fire even if it be with the piece of a date.”

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz Al-Imam At-Tahawee Foundation

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

দাওয়াহর কাজে সহযোগিতা করুন (Support The Dawah)

জীবনী এবং ইতিহাস প্রবন্ধ (Articles) কার্ড (Cards) অডিও (Audios)
আমাদের ভিজিট করুন (Visit Us) মারকাযের ঠিকানা (Markaz Location) আমাদের সম্পর্কে (About Us) আমাদের দাওয়াহ (Our Dawah) যোগাযোগ করুন (Contact Us)