الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وبعد
আল-হাসান আল-বাসরী (মৃ. ১১০হি) (রাহিমাহুল্লাহ) একজন তাবি‘ঈন (সাহাবায়ে কেরামের ছাত্র) ছিলেন, এবং সালাফদের মধ্যকার একজন প্রখ্যাত ইমাম ছিলেন। ইবনু সা‘দ তাঁর ত্ববাক্বাতুল কুবরায় বর্ণনা করেন:[১]
একদল মুসলিম আল-হাজ্জাজের [যে একজন অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী শাসক ছিল] বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার উদ্দেশ্যে আল-হাসান আল-বাসরীর নিকট ফাতওয়া চাইতে এলো। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল: “হে আবা সা‘ঈদ! আপনি এই অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কী বলেন যে অন্যায়ভাবে রক্তপাত ঘটিয়েছে ও অন্যায়ভাবে সম্পদ কেড়ে নিয়েছে এবং এমন এমন করেছে?”
অতঃপর আল-হাসান বললেন: “আমার অবস্থান হলো যে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না। কেননা এটি যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি হয়ে থাকে, তাহলে তোমাদের তলোয়ার দিয়ে তোমরা তা প্রতিহত করতে পারবে না। আর যদি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহর হুকুম না আসা পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করো, কেননা তিনিই শ্রেষ্ঠ বিচারক” অতঃপর তারা আল-হাসানের কাছ থেকে বিদায় নিলো, তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করল এবং আল-হাজ্জাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল, আর আল-হাজ্জাজ তাদের সবাইকে হত্যা করল।”
আল-হাসান বলতেন: “অত্যাচারী শাসকের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার সময় যদি জনগণ ধৈর্যধারণ করত, অচিরেই আল্লাহ তাদের জন্য পরিত্রাণের পথ বের করে দিতেন। কিন্তু, প্রত্যেকবার তারা তাদের তলোয়ারের আশ্রয় নেয়, তাই তাদেরকে তলোয়ারের ভরসায় ছেড়ে দেওয়া হয়। আল্লাহর শপথ! একদিনের জন্যও তারা কোনো কল্যাণ নিয়ে আসেনি।
আল-হাসান আল-বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন:[২]
নিশ্চয়ই, আল-হাজ্জাজ হলো আল্লাহর আযাব। তাই আল্লাহর আযাবকে নিজ হাতে প্রতিহত করতে যেও না। বরঞ্চ তোমরা (আল্লাহর কাছে) নত হও ও বিনয় প্রদর্শন করো, কেননা মহান আল্লাহ বলেন: “আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট নত হলো না, আর তারা বিনীত হয়ে প্রার্থনাও করল না।” (২৩:৭৬)
আল-হাসান আল-বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন:[৩]
“জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, শাসকের অত্যাচার মহান আল্লাহর প্রতিশোধগুলো থেকে একটি প্রতিশোধ। তাই তলোয়ার দিয়ে আল্লাহর প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হয় না, বরং [তাক্বওয়ার মাধ্যমে] এত্থেকে রক্ষা পেতে হয়, এবং প্রার্থনা (দু’আ), পুনরায় পাপ না করার অভিপ্রায় (তাওবাহ), অনুশোচনাভরে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া (ইনাবাহ), এবং পাপ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করতে হয়। নিশ্চয়ই, যখন আল্লাহর আযাব তলোয়ার দিয়ে মোকাবেলা করা হয়, তখন তা আরো কঠোর হয়ে যায়।”
আর মালিক বিন দীনার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল-হাজ্জাজ [ইবনু ইঊসুফ] বলত: “জেনে রাখুন! আপনি যখনই কোনো পাপ করবেন, তখনই আল্লাহ আপনার শাসক (অর্থাৎ সুলত্বানের) মাধ্যমে একটি আযাব প্রেরণ করবেন।”
এবং আমাকে আরও বলা হয়েছে যে, এক ব্যক্তি আল-হাজ্জাজকে জিজ্ঞেস করেছিল, “আপনি কি মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মতের সাথে এমন এমন করেন?” অতঃপর সে বলল, “এটা এই কারণে যে, আমি হলাম ইরাক্ববাসীর উপর আল্লাহর আযাব, কারণ তারা দীনের ভিতর যা ইচ্ছা তাই উদ্ভাবন করেছে, এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আদেশ-নিষেধ থেকে যা পরিত্যাগ করার তাই পরিত্যাগ করেছে।”
শাসকের অত্যাচার — তা ইচ্ছাকৃত হোক বা না হোক[৪] — একটি মাধ্যম, যার দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে তাদের পাপ, অবাধ্যতা ও তাঁর দীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছু উদ্ভাবন (বিদ‘আত) করার দরুন শাস্তি দিয়ে থাকেন।
তাই এই জুলুম থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হলো এর মূল কারণকে বর্জন করা, আর তাই প্রয়োজন হলো পাপাচার থেকে অনুতাপ ও অনুশোচনা এবং আক্বীদাহ, কথা ও কাজে সুন্নাতের দিকে প্রত্যাবর্তন করা।
আর শাসকের অত্যাচারের বিষয়টি স্থানকাল ভেদে সীমাবদ্ধ একটি বিষয় এবং এর মূল কারণ ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যাইহোক, যখন লোকেরা শাসকের বিরুদ্ধে উসকানি দেয় এবং গৃহযুদ্ধ, হানাহানি আর রক্তপাত ঘটায়, তখন ক্ষয়ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলা প্রসারিত হয় এবং তা সামগ্রিকভাবে একটি সমাজকে গ্রাস করতে শুরু করে, যেহেতু শাসক তার স্বভাবগত কারণে, আতঙ্কিত হয়ে, আরও কঠোর হয়ে উঠবে, এবং বিদ্রোহ দমন করার চেষ্টা করবে। এটি সামগ্রিকভাবে একটি সমাজের জন্য অতিরিক্ত দুর্দশা বয়ে আনে।
এই কারণে, শাসকের বিরুদ্ধে জনগণকে উসকে দেওয়া এবং অভ্যুত্থান ও বিদ্রোহের ডাক দেওয়া সুন্নাহ বিরোধী কাজ যা পার্থিব বিষয়াদি ছাড়াও দীনি বিষয়গুলোর ভিতর ধ্বংস ডেকে আনে।
শাইখ আবূ ইয়াদ্ব আমজাদ রফীকের প্রবন্ধ থেকে অনূদিত
১. আত্ব-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৭/১৬৩-১৬৫)।
২. শাইখুল ইসলাম (ইবনু তাইমিয়্যাহ) কর্তৃক মিনহাজুস সুন্নাহ (৪/৫২৮)।
৩. ইবনুল জাওযী কর্তৃক আদাবুল হাসানিল বাসরী (পৃ.১১৯-১২০)।
৪. শাসক জুলুম করার ইচ্ছা পোষণ করতে পারে বা নাও করতে পারে, কিন্তু অসম্পূর্ণ জ্ঞান বা ত্রুটিযুক্ত বুঝ ইত্যাদির ভিত্তিতে সে যেই ইজতিহাদগুলো (অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ) করে সেগুলো তার অধীনে থাকা জনগণের উপর দুঃখ দুর্দশা বয়ে আনে।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr

















