মুহাররমের রোযা ও আশুরার দিন: শাইখ আব্দুল-আযীয ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ)

প্রশ্ন:

মুহাররমের রোযা বা আশুরার রোযা কখন থেকে শুরু হয়? এই রোযা কি মুহাররমের প্রথম দিন থেকে শুরু হয় নাকি মাসের মাঝামাঝি নাকি শেষের দিকে শুরু হয়? আর এই রোযা কত দিন রাখতে হয়? আমি শুনেছি মুহাররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত রোযা রাখতে হয়। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

শাইখ ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

“নবী (ﷺ) বলেছেন: ‘রামাদানের পর সর্বোত্তম রোযা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা।’ আর তা হলো আশুরার রোযা। এবং এর অর্থ হলো, তিনি মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত রোযা রেখেছেন। এটিই হাদীসের অর্থ। তবে যে ব্যক্তি পুরো মাস রোযা রাখতে অক্ষম তার জন্য তিনি এই মাসের ৯ম ও ১০ম দিন অথবা ১০ম ও ১১তম দিনকে নির্দিষ্ট করেছেন।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাহিলিয়াতের যুগেও আশুরার দিন রোযা রাখতেন এবং কুরাইশরাও এ দিনের রোযা রাখত। পরবর্তীতে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আগমন করলেন, তিনি ইয়াহূদীদেরকে এ দিনের রোযা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং তারা বলল: ‘এটি সেই দিন, যেদিন আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছিলেন। তাই মূসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশস্বরূপ এ দিন রোযা রেখেছিলেন। তাই আমরাও এ দিন রোযা রাখি।’

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: ‘মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে তোমাদের তুলনায় আমাদের অধিকার ও দাবিই অধিক।’ অতঃপর তিনি (ﷺ) রোযা রাখলেন এবং এই (রোযা) পালনের নির্দেশ দিলেন।

সুতরাং আশুরার দিন (১০ই মুহাররম) রোযা রাখা সুন্নাহ এবং এর এক দিন আগে (৯ই মুহাররম) অথবা এক দিন পরে (১১ই মুহাররম) রোযা রাখা সুন্নাহ। কারণ নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত হয়েছে: ‘তোমরা এর এক দিন আগে এবং এক দিন পরে রোযা রাখো।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে: ‘এর এক দিন আগে অথবা এক দিন পরে।’ অন্য এক হাদীসে তিনি (ﷺ) বলেছেন: ‘যদি আমি আগামী বছর পর্যন্ত জীবিত থাকি, আমি অবশ্যই ৯ম দিনে রোযা রাখব।’ অর্থাৎ, ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখও রোযা রাখব। এটিই উত্তম; অর্থাৎ একজন ব্যক্তি ৯ই ও ১০ই মুহাররম রোযা রাখবে। কারণ ১০ই মুহাররম একটি মহান দিন, যেদিন মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর অনুসারী মুমিনদের জন্য কল্যাণ অর্জিত হয়েছিল, আর আমাদের নবী (ﷺ) এ দিন রোযা রেখেছেন। তাই আমরা আমাদের নবী (ﷺ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ম দিনেও রোযা রাখব।

আর ইহূদীদের সঙ্গে বিরোধিতা করার নিয়তে আমরা ১০ম দিনের সঙ্গে তার আগের দিন অথবা পরের দিন রোযা রাখতে পারি। তবে হাদীসের আলোকে ৯ই ও ১০ই মুহাররম রোযা রাখা সর্বোত্তম পদ্ধতি: ‘আমি যদি আগামী বছর পর্যন্ত জীবিত থাকি, আমি অবশ্যই ৯ম দিনেও রোযা রাখব।’

সুতরাং, কেউ যদি ১০ এবং ১১ তারিখ রোযা রাখে অথবা ৯, ১০ এবং ১১ তারিখ অর্থাৎ তিন দিনই রোযা রাখে তাহলে সেটি ভালো । এর দ্বারাও ইহূদীদের বিরোধিতা করা হবে। আর কেউ যদি পুরো মুহাররম মাস রোযা রাখে, তবে সেটি তার জন্য অধিক ফযীলতপূর্ণ হবে।” 

Support The Da'wah In Bangladesh

The Messenger (ﷺ) said: “And save yourselves from the hell fire even if it be with the piece of a date.”

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz Al-Imam At-Tahawee Foundation

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

দাওয়াহর কাজে সহযোগিতা করুন (Support The Dawah)

জীবনী এবং ইতিহাস প্রবন্ধ (Articles) কার্ড (Cards) অডিও (Audios)
আমাদের ভিজিট করুন (Visit Us) মারকাযের ঠিকানা (Markaz Location) আমাদের সম্পর্কে (About Us) আমাদের দাওয়াহ (Our Dawah) যোগাযোগ করুন (Contact Us)