সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের নাফস ও আমাদের কর্মের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দিয়েছেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা এবং রাসূল। অতঃপর…
১. দু হাতের তালু একত্রিত করে ফুঁক দেওয়া এবং তিলাওয়াত করা:
আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন:
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا فَقَرَأَ فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ
“যখন প্রতি রাতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিছানায় (ঘুমাতে) যেতেন, তিনি দু’হাতের তালুকে একত্রিত করতেন, তাতে ফুঁক দিতেন এবং ক্বুল হু-ওয়াল্লাহু আহাদ, ক্বুল আ‘ঊযু বি-রব্বিল ফালাক্ব, ক্বুল আ‘ঊযু বি-রব্বিন নাস তিলাওয়াত করতেন এবং তাঁর শরীরের উপর যতটুকু পারতেন মাসাহ করতেন। তিনি প্রথমে তাঁর মাথার উপরিভাগ, মুখমন্ডল, এবং শরীরের সামনের দিক থেকে শুরু করতেন। তিনি তিনবার এরূপ করতেন।” [১] ফুঁক দেয়ার সময় থুথু নিক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই, আর যদি করতেই হয় তাহলে ঠোঁট দিয়ে বাতাস বের করার মতো সামান্য পরিমাণই যথেষ্ট হবে।
২. যেখানে ব্যথা অনুভূত হয় সেখানে ফুঁক দেওয়া বা থুথু নিক্ষেপ করা:
আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবারের কেউ অসুস্থ হতো তিনি তাদের শরীরে ফুঁক দিতেন এবং সূরাহ আল-ফালাক্ব ও সূরাহ আন-নাস পাঠ করতেন। “আর যখন তিনি সেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন যার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তখন আমি তাঁর উপর ফুঁক দিতাম এবং তাঁর হাত দিয়ে তাঁর শরীরের উপর মাসাহ করতাম কারণ আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে তাঁর হাত আমার হাতের চেয়ে অধিক বরকতময় ছিল।” [২] একটি বর্ণনায় এসেছে, “যখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থ হতেন তিনি সূরাহ আল-ফালাক্ব এবং সূরাহ আন-নাস পাঠ করতেন এবং তাঁর শরীরে ফুঁক দিতেন তারপর হাত দিয়ে তাঁর শরীরে মাসাহ করতেন।” [৩]
কুরআনে বর্ণিত যেকোনো সূরাহ থেকে তিলাওয়াত করা যেতে পারে কারণ পুরো কুরআনই রুকইয়াহ যা শাইখ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন এবং এর সম্পূর্ণটি শিফা। মহান আল্লাহ (তাবারাকা ওয়া তা’আলা) বলেছেন, “বলুন, যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের জন্য হিদায়াত ও শিফা।” (ফুসসিলাত: ৪৪) এবং তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেছেন: “আর আমি কুরআন থেকে তা নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা এবং রহমত…” (আল-ইসরা: ৮২)
৩. কিছু পানি নিন, তাতে কুরআন তিলাওয়াত করুন এবং ফুঁক দিন, তা পান করুন এবং সেটি দিয়ে গোসল করুন:
যদি কোনো ব্যক্তি চায় তবে সে সামান্য পরিমাণ পানিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে – অসুস্থ ব্যক্তি সেটি পান করবে এবং গোসল করার সময় বাকি পানিটুকু গায়ে ঢেলে দিবে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাবিত ইবনু ক্বাইস ইবনু শাম্মাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে করেছিলেন। [৪] যদি কোনো ব্যক্তি যমযমের পানিতে তিলাওয়াত করতে পারে তবে তা উত্তম। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয়ই এই পানি বরকতময় এবং তা খাদ্যযোগ্য এবং রোগের নিরাময়।” [৫] তিনি (ﷺ) বলেছেন, “যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় সেটি তা পূরণ করে।” [৬] অন্য একটি বর্ণনায় তিনি বলেছেন, “যদি তুমি তা পান করো, এর দ্বারা তুমি আরোগ্য লাভ করবে, আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন।” [৭] নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, “তিনি একটি পাত্রে যমযমের পানি রাখতেন এবং রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের উপর তা ঢেলে দিতেন এবং তাদেরকে সেটি পান করতে দিতেন।” [৮] তিনি আরো বলেছেন: “এই জমিনের বুকে শ্রেষ্ঠ পানি হলো যমযমের পানি; এটি এক প্রকার খাদ্য এবং এটি রোগ নিরাময়কারী।” [৯]
ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “আমি এবং অন্যান্যরা যমযমের পানি দিয়ে বিরল এবং অদ্ভুত সব রোগ নিরাময় করার চেষ্টা করেছি — এবং এর মাধ্যমে আমি বহু রোগ নিরাময় করেছি, এবং আল্লাহর অনুমতিতে তাদেরকে স্বস্তি দিয়েছি।” [১০] এরপর কারো প্রয়োজন হলে সে বাথরুমে প্রবেশ করতে পারে, এতে কোনো ক্ষতি নেই। [১১]
৪. যাইতূনের তেল নিন, এর উপর কুরআন তিলাওয়াত করুন, সামান্য ফুঁক দিন এবং মালিশ করুন:
যাইতূনের তেলে কুরআন তিলাওয়াত করুন, তাতে ফুঁক দিন তারপর সেটি দিয়ে মালিশ করুন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা যাইতূন খাও এবং এর তেল ব্যবহার করো, কারণ নিশ্চয়ই এটি বরকতময় গাছ।” [১২]
৫. ব্যথার স্থানে হাত রাখুন এবং দুআ করুন:
ইসলাম গ্রহণের পর থেকে উসমান ইবনু আবিল আস-সাক্বাফী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তার শরীরে ব্যথা অনুভব করছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “তোমার শরীরের যে স্থানে ব্যথা অনুভব করবে সেখানে হাত রাখবে এবং ৩ বার বলবে:
بِاسْمِ اللَّهِ
বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে)।
তারপর ৭ বার বলো:
أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
আঊযু বিল্লাহি ওয়া ক্বুদরতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযিরু।
{আমি আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের (অসীলায় আল্লাহর নিকট) সকল অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা আমি অনুভব করি এবং ভয় করি}।” [১৩] আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তুমি যেখানে ব্যথা অনুভব করবে, সেখানে তোমার হাত রাখবে, তারপর বলবে:
بِسْمِ اللَّهِ أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ مِنْ وَجَعِي هَذَا
বিসমিল্লাহি, আ’ঊযু বি-ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া ক্বুদরতিহি মিন শাররি মা আজিদু মিন ওয়াজা’ঈ হাযা।
{আল্লাহর নামে, আমি আমার এই ব্যথার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর ইজ্জত ও তাঁর ক্বুদরতের (মহিমা ও শক্তির অসীলায় আল্লাহর নিকট) আশ্রয় প্রার্থনা করছি}। তারপর তোমার হাত সেখান থেকে সরিয়ে নিবে এবং এটি বেজোড় সংখ্যক বার করবে।” [১৪]
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন, “তুমি যে স্থানে ব্যথা অনুভব করবে সেখানে তোমার ডান হাত রাখবে এবং ৭ বার মাসাহ করবে। প্রতিটি মাসাহর সঙ্গে বলবে:
أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ
আ’ঊযু বি-ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া ক্বুদরতিহি মিন শাররি মা আজিদু। [১৫]
{আমি যা অনুভব করছি তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর ইজ্জত ও ক্বুদরতের অসীলায় (আল্লাহর নিকট) আশ্রয় প্রার্থনা করছি}।”
আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, “যখন আমাদের মাঝে কেউ অসুস্থ হতো তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাত দিয়ে তাকে মাসাহ করতেন এবং বলতেন:
أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
৬. নিজের উপর রুকইয়াহ করার সময় দুআ করা:
নিজের উপর রুকইয়াহ করার সময়ে নিম্নোক্ত দুআ পাঠ করুন:
بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِي نَفْسِي مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيِنِي وَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِينِي
বিসমিল্লাহি আরক্বী নাফসী মিন কুল্লি শাই-ইন ইউ’যিনী ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও ‘আইনি হা-সিদিন আল্লাহু ইয়াশফীনী।
(আল্লাহর নামে, আমি নিজের উপর রুকইয়াহ করছি ঐসবের জন্য যা আমাকে ক্ষতি করে এবং প্রতিটি নাফসের অনিষ্ট থেকে অথবা প্রতিটি বদনজর থেকে, আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ করেন।) [১৭]
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَنِي
আসআলুল্লাহাল আযীম রব্বাল আরশিল-আযীম আই-ইয়াশফিয়ানী।
(আমি মহান আল্লাহর নিকট, মহান আরশের প্রতিপালকের নিকট আমার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি)। [১৮]
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ مُذْهِبَ الْبَاْسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شَافِيَ إِلاَّ أَنْتَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
আল্লাহুম্মা রব্বান-নাস মুযহিবাল-বা’সি আশফি আনতাশ-শাফী লা শাফিয়া ইল্লা আন্তা, শিফাআন লা ইউগ্বদিরু সাক্বামা।
{হে আল্লাহ! মানুষের রব, কষ্ট দূরকারী। (আমাকে) সুস্থ করুন! কারণ আপনিই নিরাময়কারী। আপনি ব্যতীত কোনও নিরাময়কারী নেই; এমন নিরাময় যা কোনও রোগ-ব্যাধি অবশিষ্ট রাখবে না}। [১৯]
৭. লালার সাথে কিছু মাটি মেশানো এবং রোগাক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে তা মেখে দেওয়া:
একজন ব্যক্তি তার লালা আঙ্গুলে নিবে, তার আঙ্গুল মাটিতে (মাটি, বালি ইত্যাদি) রাখবে এবং রুকইয়াহ করার সময় তা অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে মেখে দিবে। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকইয়া করার সময়ে বলতেন:
بِاسْمِ اللَّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا، وَرِيقَةُ بَعْضِنَا، يُشْفَى سَقِيمُنَا، بِإِذْنِ رَبِّنَا
“আল্লাহর নামে, আমাদের জমিনের মাটি, এবং আমাদের কারও কারও লালা, আমাদের রবের নির্দেশে আমাদের অসুস্থদের সুস্থ করে।” [২০]
তিনি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) আরও বর্ণনা করেছেন, “যখন কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হতো বা আঘাত পেত, তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর তর্জনী (আঙ্গুল) মাটিতে রাখতেন তারপর তা তুলে নিয়ে বলতেন:
بِاسْمِ اللَّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا، وَرِيقَةُ بَعْضِنَا، يُشْفَى سَقِيمُنَا، بِإِذْنِ رَبِّنَا
“আল্লাহর নামে, আমাদের জমিনের মাটি, এবং আমাদের কারও কারও লালা, আমাদের রবের নির্দেশে আমাদের অসুস্থদের সুস্থ করে।” [২১]
আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এই হাদীসের অর্থ হলো, তিনি তাঁর লালা ব্যবহার করতেন এবং তা আঙ্গুলের উপরে রাখতেন, তারপর তাঁর আঙ্গুল জমীনের উপর রাখতেন আর এভাবে কিছু মাটি তাঁর আঙ্গুলের সঙ্গে লেগে যেত। তারপর তিনি ব্যথার জায়গায় বা আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে তা মেখে দিতেন এবং তা মাখার সময় উক্ত হাদীছে বর্ণিত শব্দগুলো বলতেন। এবং আল্লাহই ভালো জানেন।” [২২]
৮. রুকইয়াহ করার আগে, পরে অথবা রুকইয়াহ করার সময় ফুঁক দেওয়া জায়েয:
১. পাঠ করার আগে ফুঁক দেওয়া (সামান্য লালা নিক্ষেপ করা): আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: “যখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিছানায় (ঘুমাতে) যেতেন, তিনি তাঁর দু’হাতের তালুকে একত্রিত করতেন, তাতে ফুঁক দিতেন এবং পাঠ করতেন…” [২৩]
২. পাঠ করার সময় হালকা ফুঁক দেওয়া: “প্রতি রাতে যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিছানায় (ঘুমাতে) যেতেন, তিনি তাঁর দুই হাত (হাতের তালু) একত্রিত করতেন, তারপর আল-ইখলাছ, আল-ফালাক্ব এবং আন-নাস পড়ে ফুঁক দিতেন…” [২৪]
ইবন হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “অর্থাৎ তিনি এই আয়াতগুলো পাঠ করতেন এবং তিলাওয়াত করার সময় (তার হাতের তালুতে) ফুঁক দিতেন।” [২৫]
৩. পাঠ করার পর ফুঁক দেওয়া: এর প্রমাণ হলো আলক্বামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনা। তিনি একটি লোকালয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে এক লোক পাগল হয়ে গিয়েছিল এবং তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। লোকেরা আলক্বামাকে জিজ্ঞেস করল, “আপনার নিকট কি এমন কিছু আছে যার মাধ্যমে আপনি তাকে আরোগ্য দিতে পারেন?” অতঃপর তিনি সূরাহ আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করলেন এবং সে (অসুস্থ ব্যক্তি) সুস্থ হয়ে গেল। অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তিনি একাধারে তিন দিন সকালে এবং সন্ধ্যায় তার উপর সূরাহ আল-ফাতিহা পাঠ করেছেন। তিনি যখনই পাঠ করা শেষ করতেন, তিনি কিছু লালা জমিয়ে নিক্ষেপ করতেন এবং সে একটি করে গিট হতে মুক্তি পেয়ে যেত। এর পারিশ্রমিক হিসেবে তাঁকে একশত ভেড়া দেওয়া হয়েছিল। [২৬]
৯. ফুঁক দেওয়া বা লালা নিক্ষেপ করা ব্যতীত রুকইয়াহ করা যেতে পারে:
এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো সম্প্রদায়ের নিকট যেতেন, তিনি তাদের জন্য দুআ করতেন কিন্তু তাদের শরীরে ফুঁক দিতেন না। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, “যখন আমাদের মাঝে কেউ অসুস্থ হতো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করতেন:
أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
আযহিবিল-বা’স, রব্বান-নাস, ওয়াশফি আন্তাশ-শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউগ্বদিরু সাক্বামা।
{কষ্ট দূর করুন, হে মানুষের রব! এবং আরোগ্য দিন! আপনিই আরোগ্যদানকারী। আপনার আরোগ্য ব্যতীত কোনো আরোগ্য নেই; এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ-ব্যাধি অবশিষ্ট রাখবে না}।” [২৭]
এছাড়াও, আবূ সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, ফেরেশতা জিবরীল (আলাইহিস-সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, “হে মুহাম্মাদ, আপনি কি অসুস্থ?” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “হ্যাঁ।” তখন জিবরীল (আলাইহিস-সালাম) বললেন:
بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
“আল্লাহর নামে, আমি আপনার উপর রুকইয়াহ করছি ঐসব থেকে যা আপনার ক্ষতি করে, এবং প্রতিটি নাফসের অনিষ্ট থেকে ও বদনজর থেকে। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করুন। আল্লাহর নামে, আমি আপনার উপর রুকইয়াহ করছি।” [২৮]
সুতরাং এ দুটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রুকইয়াহ করার সময় থুথু নিক্ষেপ করা বা ফুঁক দেওয়া জরুরী নয়।
১০. দান সাদাক্বাহ করা এবং অভাবী ও দরিদ্র মুসলিমদের সাহায্য করা:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “গোপন সাদাক্বাহ রবের ক্রোধকে মিটিয়ে দেয়।” [২৯] তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: “মানুষের কল্যাণ সাধন একটি মর্মান্তিক মৃত্যু, বালা-মুসিবত এবং ধ্বংস থেকে ব্যক্তিকে রক্ষা করে।” [৩০] এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদাক্বাহ করাকে এক প্রকার আরোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন: “সাদাক্বাহ করার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের অসুস্থদেরকে চিকিৎসা করো।” [৩১]
১১. নববী পদ্ধতি এবং প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে আরোগ্য লাভ করা
১. মধু
আল্লাহ (তাবারাকা ওয়া তা’আলা) বলেছেন:
وَ اَوۡحٰی رَبُّکَ اِلَی النَّحۡلِ اَنِ اتَّخِذِیۡ مِنَ الۡجِبَالِ بُیُوۡتًا وَّ مِنَ الشَّجَرِ وَ مِمَّا یَعۡرِشُوۡنَ ﴿ۙ۶۸﴾ ثُمَّ کُلِیۡ مِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسۡلُکِیۡ سُبُلَ رَبِّکِ ذُلُلًا ؕ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِهَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُهٗ فِیۡهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ﴿۶۹﴾
“তোমার রব মৌমাছিকে ইলহাম (অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ) দিয়েছেন: তুমি গৃহ নির্মাণ করো পাহাড়, বৃক্ষ এবং মানুষের গৃহে। এরপর প্রত্যেক ফল থেকে কিছু কিছু আহার করো, অতঃপর তোমার রবের সহজ পথ অনুসরণ করো। এর পেট থেকে বের হয় বিভিন্ন রঙের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিষেধক। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।” [সূরাহ আন-নাহাল, ১৬:৬৮-৬৯]
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করো তার কোনোটিতে যদি কল্যাণ থাকে, তবে তা রয়েছে হিজামাকারীর হিজামায় অথবা মধু পানে অথবা আগুন দিয়ে ঝলসানোর মাঝে (cauterization), যেই রোগের জন্য যা উপযোগী। কিন্তু আমি আগুন দিয়ে দাগ দেওয়াকে পছন্দ করি না।” আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঠান্ডা পানিতে মধু মিশিয়ে পান করাকে পছন্দ করতেন। [৩২]
২. কালোজিরা
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের নিরাময়।” [৩৩]
এর বীজ বা তেল ব্যবহারযোগ্য, তাই তা খাওয়া বা ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. সকালে মদীনার সাতটি খেজুর
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন বিষ বা জাদু দ্বারা সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।” [৩৪] ইমাম ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মত অনুযায়ী, এই বর্ণনাটি মদীনার সমস্ত খেজুরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে এই দুই লাভা ভূমির মধ্যবর্তী সমতল এলাকার (মদীনা) সাতটি খেজুর খাবে, তবে সন্ধ্যা নাগাদ কোনো বিষ তার ক্ষতি করতে পারবে না।” [৩৫]
৪. হিজামাহ
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা যেসব (চিকিৎসা) দ্বারা আরোগ্য লাভ করো তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো হিজামাহ।” [৩৬] রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মাথার সামনের দিকে এবং কাঁধের মাঝখানে হিজামাহ করাতেন। [৩৭] এবং তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি (আরবি) মাসের ১৭, ১৯ এবং ২১ তারিখে হিজামাহ করাবে, (তার জন্য) সেটি প্রতিটি রোগের প্রতিকার হবে।” [৩৮] তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: “খালি পেটে হিজামাহ করানো উত্তম এবং এতে রয়েছে নিরাময় ও বারাকাহ, এবং তা বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। সুতরাং, তোমরা আল্লাহর রহমত লাভের নিয়তে বৃহস্পতিবার হিজামাহ করাও।” তবে বুধবার, শুক্রবার, শনিবার এবং রবিবার হিজামাহ করানো হতে বিরত থাকুন। সোমবার এবং মঙ্গলবারে হিজামাহ করুন কেননা মঙ্গলবার হলো সেই দিন যেদিন আল্লাহ আইয়ূব (আলাইহিস সালাম)-কে কঠিন রোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং বুধবারে একটি কঠিন মুসিবত দিয়ে তাকে পরীক্ষা করেছিলেন – এবং কুষ্ঠরোগ শুধুমাত্র বুধবার বা বুধবার দিবাগত রাতে দেখা যায়।” [৩৯]
আমরা আল্লাহর নিকট দুআ করি তিনি যেন তাঁর ইবাদত করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে সফলতা দান করেন, এবং তাঁর আনুগত্য করার তৌফীক দান করেন যা তাঁর প্রাপ্য অধিকার- আমরা নিকট দুআ করি তিনি যেন আমাদেরকে ক্ষমা করেন, আমাদের উপর দয়া করেন এবং আমাদেরকে সুস্থ করেন কেননা তিনিই প্রকৃত নিরাময়কারী। এবং তিনি যেন আমাদেরকে জান্নাতের চিরন্তন উদ্যানসমূহে প্রবেশ করান এবং তাঁর শাস্তি থেকে রক্ষা করেন। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য । আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলের উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবা ও তাঁর অনুসারীদের উপর।
ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।
সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।
সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।
সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
লিখেছেন শাইখ আবূ খাদীজাহ আব্দুল ওয়াহিদ ‘আলাম (আল্লাহ যেন তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করেন)।
New: Eleven Ways to Perform Ruqyah on Yourself for Sickness, Evil-Eye, Possession, Madness and Magic
“কাইফা তারক্বী নাফসাক” (দারুল কাবস প্রকাশনা, রিয়াদ, ১৪৩৪হি) বই থেকে এই ফায়দাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।
[১] বুখারী, ৫০১৭
[২] মুসলিম, ২১৯২
[৩] ibid
[৪] আবূ দাঊদ, ৩৮৮৫ এবং শাইখ ইবন বায হাসান বলেছেন। দেখুন: মাজমূউল ফাতাওয়া, ৯/৪০৮, ৪০৯।
[৫] মুসলিম, ২৪৭৩। আলবানী কর্তৃক সহীহুত তারগীব ওয়াত-তারহীব, ১১৬১।
[৬] ইবন মাজাহ, ৩০৬২।
[৭] আল-হাকিম সহীহ বলেছেন, ১/৪৭৩।
[৮] আস-সহীহাহ, ৮৮৩।
[৯] সহীহুল জামি, ৩৩০২।
[১০] যাদুল-মা’আদ, ৪/১৭৮, ৩৯৩।
[১১] ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ, ১/১০৩।
[১২] আত-তিরমিযী, ১৮৫১, আলবানী সহীহ বলেছেন।
[১৩] মুসলিম, ২২০২।
[১৪] আত-তিরমিযী, ৩৫৮৮, আস-সহীহাহ ১২৫৮।
[১৫] আস-সহীহাহ ১৪১৫, সহীহুল জামি ৩৮৯৪।
[১৬] মুসলিম ২১৯১।
[১৭] দেখুন মুসলিম, ২১৮৬, যেখানে জিবরীল (আলাইহিস-সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর রুকইয়াহ করেছিলেন। যার উপর রুকইয়াহ করা হবে তা স্পষ্ট করার জন্য সর্বনামটি পরিবর্তন করা যেতে পারে: যেমন “আমার” উপর রুকইয়াহ করা হবে।
“তোমার উপর রুকইয়াহ (একবচন পুরুষ)” এর ক্ষেত্রে বলতে হবে: বিসমিল্লাহি আরক্বীকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউযীকা ওয়া মিন কুল্লি শাররি নাফসিন আও আইনিন হাসাদিন আল্লাহু ইয়াশফীকা।
“তোমার উপর রুকইয়া (একবচন স্ত্রী)” এর ক্ষেত্রে বলতে হবে: বিসমিল্লাহি আরক্বীকি মিন কুল্লি শাইয়িন ইউযীকি ওয়া মিন কুল্লি শাররি নাফসিন আও আইনিন হাসাদিন আল্লাহু ইয়াশফীকি।
“তোমাদের সকলের (বহুবচন)” এর উপর রুকইয়াহর ক্ষেত্রে বলতে হবে: বিসমিল্লাহি আরক্বীকুম মিন কুল্লি শাইয়িন ইউযীকুম ওয়া মিন কুল্লি শাররি নাফসিন আও আইনিন হাসাদিন আল্লাহু ইয়াশফীকুম।
[১৮] আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায় যার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসেনি এবং তার সামনে ৭ বার বলে: “আসআলুল্লাহাল-আযীম রব্বাল-আরশিল-আযীম আন ইয়াশফিয়াক” (“আমি সুমহান আল্লাহর নিকট, মহান আরশের অধিপতির নিকট আপনার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি”) আল্লাহ তাকে অবশ্যই সেই রোগ থেকে মুক্তি দিবেন।” (আবূ দাঊদ, নং ৩১০৬)।
[১৯] বুখারী, ৫৭৪২।
[২০] বুখারী, ৫৭৪৬।
[২১] মুসলিম, ২১৯৪।
[২২] শারহুন-নববী, ১৪/১৮৩-১৮৪।
[২৩] বুখারী, ৫০১৭।
[২৪] বুখারী, ৫৭৪৮।
[২৫] ফাতহুল-বারী ১০/২১০।
[২৬] আবূ দাঊদ, ৩৮৯৬, ৩৮৯৭, সহীহ।
[২৭] মুসলিম, ২১৯১।
[২৮] মুসলিম, ২১৮৬।
[২৯] ত্বাবারানী আল-মু‘জামুস সাগীর পৃ.২১৪, এবং আল-আওসাত্ব ১/৯৩/১, দেখুন সহীহুল জামি ৩৭৬০।
[৩০] আল-হাকিম, ৩/৫৬৮, দেখুন সহীহুল জামি ৩৭৯৫।
[৩১] ত্বাবারানী ও বায়হাক্বী, দেখুন সহীহুল তারগীব ওয়াত-তারহীব নং ৭৪৪ এবং সহীহুল জামি নং ৩৩৫৮।
[৩২] বুখারী নং ৫৬৮৩, মুসলিম নং ২২০৫।
[৩৩] বুখারী নং ৫৬৮৮, মুসলিম নং ২২১৫।
[৩৪] বুখারী নং ৫৪৪৫, ৫৭৬৯।
[৩৫] মুসলিম নং ২০৪৭, দেখুন শাইখ ইবন বায এর মাজমূউল ফাতাওয়া ৩/২৮৮।
[৩৬] আবূ দাঊদ নং ৩৮৫৭, সহীহ।
[৩৭] আবূ দাঊদ নং ৩৮৫৯, সহীহ।
[৩৮] আবূ দাঊদ নং ৩৮৬১, সহীহ।
[৩৯] ইবনু মাজাহ নং ৩৪৮৭, দেখুন আস-সহীহাহ নং ৭৬৬।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr

















