দুআ কুনূতের ফিক্বহ

অধিকাংশ আলেমের মতে বিতরের কুনূত নির্দিষ্ট করে বিতরের সর্বশেষ রাকাতেই পড়তে হয়। আল-হাসান ইবন আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কিছু বাক্য শিখিয়েছেন। আমি বিতর সালাতের কুনূতে সেগুলো পাঠ করি:

اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন তাদের সাথে আমাকেও হিদায়াত দিন, যাদেরকে নিরাপত্তা দিয়েছেন তাদের সাথে আমাকেও নিরাপত্তা দিন, যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের সাথে আমার অভিভাবকত্বও গ্রহণ করুন। আমাকে যা দিয়েছেন তাতে বরকত দান করুন। আপনি যা নির্ধারণ করেছেন তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ফয়সালা করেন। আপনার উপর কারও ফয়সালা চলে না। নিশ্চয়ই আপনি যাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন সে লাঞ্ছিত হয় না এবং যাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করেন সে সম্মানিত হয় না। আমাদের রব! আপনি বরকতময়, সুমহান।” [আবূ দাঊদ, নং ১৪২৫, সহীহ] অপর একটি বর্ণনায় একটি অতিরিক্ত বাক্য এসেছে: وَلاَ مَنْجًا مِنْكَ إلا إليك “আপনার আযাব থেকে আপনি ব্যতীত আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই।” [দেখুন: সিফাতু সালাতিন নাবী, পৃ.১৮১, আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন]

রামাদান মাসের কুনূত

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিতর সালাতে রুকুর আগে কুনূত পাঠ করতেন।” (আবূ দাঊদ, নং ১৪২৭, ইমাম আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)

ইবন আবী শাইবাহ (নং ৬৯৩৩) আইয়ূব থেকে, তিনি নাফি থেকে তিনি ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রামাদানের শেষার্ধ ব্যতীত অন্য কোনো সময় কুনূত পড়তেন না।

আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ক্বিয়াম রামাদান (পৃ. ৩১) গ্রন্থে বলেছেন: “কেউ যদি রামাদানের দ্বিতীয়ার্ধে রুকুর পরে কাফেরদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত করে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর সালাত ও সালাম প্রেরণ করে, তার প্রশংসা করে এবং মুসলিমদের জন্য দুআ করার মতো বিষয়াদি সংযোজন করে তাতে কোনো ক্ষতি নেই, যেমনটি উমর বিন আল-খাত্তাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) যুগে যারা রাতের সালাতে ইমামতী করতেন তাদের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে শাইখ আল-আলবানী সহীহ ইবন খুযাইমা (২/১৫৫)-এর বরাত দিয়েছেন।

কুনূতে হাত তোলার বিষয়ে শাইখ আল-আলবানী বলেছেন: “এটি উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) ও অন্যান্যদের থেকে বিতরের কুনূতে প্রমাণিত হয়েছে।” (আল-ইরওয়া, ২/১৮১) যদি ইমাম তারাবীর সালাতে বিতরে হাত তোলেন, তাহলে মুক্তাদিদেরও হাত তোলা উচিত।

Support The Da'wah In Bangladesh

The Messenger (ﷺ) said: “And save yourselves from the hell fire even if it be with the piece of a date.”

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz Al-Imam At-Tahawee Foundation

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

দাওয়াহর কাজে সহযোগিতা করুন (Support The Dawah)