দুটি জৈবিক লিঙ্গ এবং জেন্ডার আইডেন্টিটির উদ্ভাবন

পরিবার, পুরুষত্ব এবং নারীত্বের বিলুপ্তিকরণ এবং biological sex (মানুষ স্বাভাবিকভাবে যে লিঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে) সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং সমকামিতা ও ট্রান্সজেন্ডার মতবাদের প্রচারণা কোনোটিই মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, বরং এসবের অভ্যন্তরে (বৃহত্তর) আর্থ-সামাজিক স্বার্থ নিহিত আছে এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি (private property) বাজেয়াপ্তকরণই এর চূড়ান্ত লক্ষ্যবস্তু। এটি কালেক্টিভিস্ট, কমিউনিস্ট এজেন্ডার অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আজ ‘গ্লোবালিজম’ নামে পরিচিত।

মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَمَا خَلَقَ ٱلذَّكَرَ وَٱلْأُنثَىٰٓ

“তাঁর শপথ যিনি নর এবং নারী সৃষ্টি করেছেন।”[১]

এই (আয়াতের) তাফসীরে ইমাম আস-সা‘দী (رحمه الله) বলেছেন:

আল্লাহ প্রতিটি প্রাণী সৃষ্টি করেছেন এবং যেগুলোর অস্তিত্ব তিনি অব্যাহত রাখতে চেয়েছেন সেগুলোর নর এবং নারী সৃষ্টি করেছেন যাতে [ঐ প্রজাতির] প্রাণীগুলোর অস্তিত্ব টিকে থাকে এবং বিলুপ্ত না হয়। তিনিই তাদের ভিতরে যৌন আকর্ষণ (সৃষ্টি করেছেন) এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে একে অন্যের প্রতি ধাবিত করেছেন এবং তাদের প্রত্যেককে একে অন্যের উপযোগী করে তৈরি করেছেন, অতএব তিনিই আল্লাহ, তিনি বরকতময়, সর্বোত্তম স্রষ্টা।

মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَٰجًا لِّتَسْكُنُوٓا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ

“এবং তাঁর নিদর্শনসমূহের মাঝে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্যে থেকে সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের মাঝে প্রশান্তি পেতে পারো। আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এর মাঝে বহু নিদর্শন রয়েছে।”[]

ইমাম আস-সা‘দী (رحمه الله) এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন:

{এবং তাঁর নিদর্শনসমূহের মাঝে রয়েছে} তাঁর করুণা, তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর দয়া, তাঁর কর্তৃত্ব ও প্রজ্ঞা এবং তাঁর সর্বব্যাপী জ্ঞানের প্রতি এখানে ইঙ্গিত রয়েছে, {তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্যে থেকে সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন} যারা তোমাদের উপযোগী এবং তোমরা তাদের উপযোগী, তোমরা তাদের [আকৃতি, চেহারায়] অনুরূপ, এবং তারা তোমাদের অনুরূপ, {যেন তোমরা তাদের মধ্যে প্রশান্তি পেতে পারো; আর তিনি তোমাদের অন্তরে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ফলস্বরূপ যে ভালোবাসা ও করুণার মাধ্যমগুলো তিনি সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের দ্বারা সুখ, শান্তি এবং বহুবিধ কল্যাণ অর্জিত হয় যা সন্তান লাভ, তাদের প্রতিপালন এবং তার (অর্থাৎ স্ত্রীর) কাছে প্রশান্তি লাভের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যে গভীর স্নেহ এবং ভালোবাসা বিদ্যমান তা আপনি অন্য কোথাও খুঁজে পাবেন না।

এই বিষয়টিই মানবজাতি হাজার হাজার বছর ধরে জেনে এসেছে যে, পুরুষ এবং নারীর মাঝে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য রয়েছে এবং তা ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম এবং বিচিত্র মানব সভ্যতা নির্বিশেষে এবং জৈবিক বাস্তবতার (biological realities) ভিত্তিতে সঙ্গায়িত হয়েছে। এই পার্থক্যগুলোই তাদের ভিতরে এমন কিছু গুণাবলি তৈরি করে যা তাদেরকে একে অপরের পরিপূরক করে তোলে এবং তাদেরকে একে অপরের প্রতি আকর্ষিত করে, তা এমন একটি বন্ধন তৈরি করে, যা তালা-চাবির ন্যায় অটুট। তাদের নিজেদের ভিতর পুরুষালি এবং নারীসুলভ গুণাগুণ যত স্পষ্ট, তাদের মধ্যকার বন্ধনও তত শক্তিশালী। এই বন্ধনের মাধ্যমেই গর্ভে সন্তান জন্ম নেয় অতঃপর তারা ভূমিষ্ঠ হয়, বেড়ে উঠে, পরিপক্ব হয় এবং একটি পারিবারিক কাঠামোর মাঝে স্থিতিশীল হতে শেখে। এখান থেকেই রক্তের সম্পর্ক, জ্ঞাতি বন্ধন এবং সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের উদ্ভব ঘটে।

এটি কালেক্টিভিস্ট, মার্কসবাদী, কমিউনিস্টদের দ্বারা ঘৃণিত, যেহেতু পুরুষ, নারী, বিবাহ এবং রক্তের সম্পর্ক সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধিকারগুলোকে জন্ম দেয় এবং তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সম্পদ (inter-generational wealth) সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে, যা দখলদারিত্ব, পরাধীনতা এবং দাসত্বকে রুখে দেয়। এই কারণে, লিঙ্গভিত্তিক বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি, পুরুষত্ব (masculinity) এবং নারীত্বের (femininity) বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ চলমান রয়েছে এবং এই যুদ্ধটি বিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন রূপ ও আকার ধারণ করেছে এবং তা একবিংশ শতাব্দীতেও অব্যাহত রয়েছে।[৩]

উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭০ দশকের গে লিবারেশন (gay liberation) ইশতেহারে বর্ণিত নীলনকশাটি দেখুন।​

এবার বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি উদ্ভাবনকৃত ‘জেন্ডার আইডেন্টিটি’ (এবং ‘জেন্ডার পলিটিক্স’ বা ‘লিঙ্গ ভিত্তিক রাজনীতি’)-তে আসা যাক, যে ধারণাটি (সম্পূর্ণভাবে না হলেও) অনেকাংশে ডক্টর জন মানির (Dr. John Money যাকে ‘যৌন বিকারগ্রস্ত’, ‘শিশু-নিপীড়ক’, শিশুকামী এবং শিশুকামিতার সমর্থকহিসেবে আখ্যায়িত করা হয়) ধারণা এবং লেখা থেকে উদ্ভূত হয়েছে যিনি পুরুষ এবং নারীর মাঝে পার্থক্য নিরূপণকারী জৈবিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে (biological properties) আচরণগত বৈশিষ্ট্য (behavioral traits) থেকে পৃথক বলে দাবি করেছেন। তিনি পরবর্তীটিকে (অর্থাৎ আচরণগত বৈশিষ্ট্যকে) জেন্ডার আইডেন্টিটি (gender identity) হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এটি, ভঙ্গুর এবং পরিবর্তনশীল বলে দাবি করেছেন। তিনি ‘জেন্ডার আইডেন্টিটি’, ‘সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন’ (sexual orientation) এবং ‘জেন্ডার রোল’ (gender role)-এর ধারণাগুলোকে জনপ্রিয় করেছেন বলে জানা যায়।

দেখুন: ‘লিঙ্গ’ শব্দের উৎপত্তি এবং অর্থ সম্পর্কে জানতে দেখুন লিঙ্গ ব্যুৎপত্তি (Gender Etymology).

ডেভিড রেইমার নামের দুই যমজ শিশুর একজনের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তিনি তার ধারণাগুলো (hypothesis) প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। যদিও সে একটি সুস্থ ছেলে শিশু হিসেবেই জন্মগ্রহণ করেছিল, কিন্তু ফিমোসিস (phimosis) চিকিৎসায় ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে তার যৌনাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরের পর বছর ধরে সন্তানের সুচিকিৎসার খোঁজে থাকা রেইমারের বাবা-মা’র সাথে অবশেষে ডক্টর মানির সাক্ষাৎ হয়, যে তার ধারণাগুলো (hypothesis) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পেয়ে যান।

ড. মানি সম্পর্কে জানতে এই ভিডিওটি দেখুন:

অস্ত্রোপচার, রাসায়নিক পদার্থের প্রয়োগ, কাউন্সেলিং সেশন, এবং (দুই যমজ ভাইয়ের মধ্যে এবং ছয় বছর বয়সী অন্যান্য ছেলেদের ভিতরে) জোরপূর্বক যৌনাচার করিয়ে ডক্টর মানি রেইমারকে (ছেলে থেকে) মেয়েতে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন। এই সবই তার নিজের তত্ত্বাবধানে হতো এবং তিনি নিজেই সেসব পর্যবেক্ষণ করতেন। তবে, এসবই তার (অর্থাৎ রেইমারের) জীবনে ভোগান্তি, বিষণ্ণতা এবং মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায় যার ফলে রেইমার এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করে, যদিও এর আগে সে কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তার যমজ ভাই, ব্রায়ান দু’বছর আগেই আত্মহত্যা করে এবং পরে, তাদের বাবাও নিজের অপরাধবোধ কাটিয়ে উঠতে না পেরে আত্মহত্যা করেন।

   তার নিষ্ঠুর পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো তাকে ভুল প্রমাণিত করে

মানির নিষ্ঠুর, বিকৃত ধারণাগুলো তারই পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। এই কারণেই ট্রান্স-অ্যাক্টিভিস্টরা (trans-activists) তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের উৎস, ‘লিঙ্গ বিজ্ঞান’ (gender science) এবং এর পেছনের মূলহোতাদের বিষয়ে সবসময়ে নীরব থাকে।​

এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ‘আন্তলিঙ্গ বা ক্লীবলিঙ্গ’ (intersex) নামের একটি গোষ্ঠী আছে যারা অসম্পূর্ণ যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং তাদের আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের অসম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে গঠিত জৈবিক বৈশিষ্ট্যের (incompletely distinguished biology) মধ্যে নিহিত আছে। এই ধরনের ব্যক্তিদের ব্যাপারে ইসলামে বিধান রয়েছে এবং তাদের ক্ষতি করা, নিপীড়ন করা বা তাদেরকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা জায়েজ নয়।

মানির নিষ্ঠুর, বিকৃত ধারণাগুলো তারই পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। এই কারণেই ট্রান্স-অ্যাক্টিভিস্টরা (trans-activists) তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের উৎস, ‘লিঙ্গ বিজ্ঞান’ (gender science) এবং এর পেছনের মূলহোতাদের বিষয়ে সবসময়ে নীরব থাকে।​

এসব লোকেরা যা করছে তা ইবলীসের কথার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ:

وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَأَمُرَنَّهُمۡ فَلَيُبَتِّكُنَّ ءَاذَانَ ٱلْأَنْعَٰمِ وَلَأَمُرَنَّهُمۡ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ ٱللَّهِ وَمَن يَتَّخِذِ ٱلشَّيْطَٰنَ وَلِيًّا مِّن دُونِ ٱللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا

“আর অবশ্যই আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিবো এবং তাদেরকে আদেশ করব ফলে তারা পশুর কান ছিদ্র করবে এবং তাদেরকে আরও আদেশ করবো ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে। আর যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করল, তাহলে সে সুস্পষ্টতই ক্ষতিগ্রস্ত হলো।”[৪]

ইমাম আস-সা’দী (رحمه الله) বলেছেন:

وهذا يتناول تغيير الخلقة الظاهرة بالوشم، والوشر والنمص والتفلج للحسن، ونحو ذلك مما أغواهم به الشيطان فغيروا خلقة الرحمن. وذلك يتضمن التسخط من خلقته والقدح في حكمته، واعتقاد أن ما يصنعون بأيديهم أحسن من خلقة الرحمن، وعدم الرضا بتقديره وتدبيره

উলকি আঁকা, ভ্রূ উপড়ে ফেলা, সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য (দাঁতে) ফাঁক তৈরি করা এবং এর মতো অন্যান্য কাজগুলো এর অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করেছে। ফলে তারা আর-রহমানের সৃষ্টিকে পরিবর্তন করেছে। নিজ আকৃতির প্রতি রাগান্বিত হওয়া, [আল্লাহর] জ্ঞানকে অবজ্ঞা করা, এটা বিশ্বাস করা যে তারা নিজ হাত দিয়ে যেগুলো করে তা আর-রহমানের সৃষ্টির চেয়ে উত্তম এবং তাঁর ফয়সালা এবং নির্ধারণের প্রতি অসন্তুষ্টি জ্ঞাপন করাও এর অন্তর্ভুক্ত।

এটি বাহ্যিক অবয়ব পরিবর্তনকে বোঝায় কিন্তু লিঙ্গ বিপ্লবীরা (gender revolutionaries) পুরুষ এবং নারীর মাঝে পার্থক্য নির্ণয়কারী মৌলিক ভিত্তিকে (অর্থাৎ যেসব জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কে পুরুষ এবং কে নারী তা নির্ধারিত হয়) শুধু পরিবর্তনই করতে চায় না; বরং বাস্তবে তারা সেটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে চায়।

সুতরাং মুসলিম পিতামাতার উচিত পুরুষ এবং নারীর মাঝে সৃষ্টিগতভাবে যে পার্থক্য, বৈশিষ্ট্য এবং অনন্য গুণাবলি নিহিত আছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা, আর সেই সাথে এই বিষয়টিও স্পষ্ট করা যে, আল্লাহর বান্দা হিসেবে তারা উভয়ই যেমন সমান, তেমনিভাবে, ইবাদত, আচরণ বিধি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও তারা সমান; তবে ঋতুস্রাবের মতো কতিপয় ব্যতিক্রমধর্মী বিষয় আছে যা শারীরিক এবং জৈবিক (physiological & biological) পার্থক্যের সাথে জড়িত এবং সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানও রয়েছে। এসম্পর্কিত আরও কিছু লেখা পড়ুন:

যেখানে পুরুষ এবং নারীর মধ্যকার পার্থক্যগুলো প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে এবং পরিবার, সমাজ এবং জাতিকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করে এবং (সমগ্র ইতিহাস জুড়ে) এই পার্থক্যগুলো (যুদ্ধবিগ্রহের মতো) বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবেলার ক্ষেত্রেও মেনে চলা হয়েছে এবং বজায় রাখা হয়েছে, সেখানে এসব চরমপন্থি মতাদর্শের অনুসারী এবং লিঙ্গ বিপ্লবীরা (gender revolutionaries) সেগুলোকে ধ্বংস করতে চায়। এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ‘মানবাধিকার’, ‘সমতা’ ইত্যাদির নামে যৌনাচার ও স্বেচ্ছাচারিতার উন্মুক্তকরণ এবং এগুলো সবই প্রতারণামূলক স্লোগান যা প্রাচীনকাল থেকে সকল দুর্নীতিবাজ ও দুষ্কৃতকারী লোকদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।

যখনই এই মতাদর্শগুলো কোনো সমাজে প্রকাশ পায় এবং সমাজ সেগুলো গ্রহণ করে নেয় অথবা সেগুলোর প্রতি উদাসীন থাকে, তখনই সেই সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়ায়। কেননা, এ ধরনের বাহ্যিক ও সুস্পষ্ট নৈতিক অবক্ষয়গুলো একটি অভ্যন্তরীণ পচনের দিকেই ইঙ্গিত করে যা যুগ যুগ ধরে চলে এসেছে এবং চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছে।

পাদটীকা:

১. সূরাহ আল-লাইল (৯২:৩)

২. সূরাহ আর-রূম (৩০:২১)

৩. এই লক্ষ্যে তারা বিকৃত যৌনাচার এবং লিঙ্গ বিভ্রান্তিকে সক্রিয়ভাবে প্রচার করে যার মাধ্যমে পরিবার, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তির অধিকারগুলোকে ধ্বংস করার যায়। এগুলোর (বিকৃত যৌনাচার এবং লিঙ্গ বিভ্রান্তি) কোনোটিই মুখ্য উদ্দেশ্য নয় বরং এসবই হলো অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের একটি মাধ্যম মাত্র।

৪. সূরাহ আন-নিসা (৪:১১৯)

Support The Da'wah In Bangladesh

The Messenger (ﷺ) said: “And save yourselves from the hell fire even if it be with the piece of a date.”

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz Al-Imam At-Tahawee Foundation

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading