আল-আল্লামাহ মুক্ববিল ইবনু হাদী আল-ওয়াদিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
“আলহামদুলিল্লাহ, আমরা প্রখ্যাত আলেমদের ব্যাপারে সম্মানের সাথে কথা বলি, এবং আমরা মানুষকে শাইখ বাদী উদ্দীন শাহ আল-বাকিস্তানী আস-সিন্ধী, শাইখ আল-আলবানী, শাইখ রাবী এবং ইবনু বাযের মতো আলেমদের সান্নিধ্যে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করি। এই আলেমদের সান্নিধ্যে যাওয়ার ব্যাপারে এবং তাদের ও তাদের বইপুস্তক থেকে ফায়দা নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের বইগুলোতে অসংখ্য নসিহত রয়েছে। তবে যদি (আপনার প্রশ্নের দ্বারা) আপনি বুঝাতে চান যে, আমরা বিদাতীদের তাজরীহ (সমালোচনা) করা ব্যতীত আর কিছুই করি না, তাহলে এটি সঠিক কেননা তারাই এসবের (সমালোচনার) জন্য দায়ী:
لَّا يُحِبُّ ٱللَّهُ ٱلْجَهْرَ بِٱلسُّوٓءِ مِنَ ٱلْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ وَكَانَ ٱللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا
“আল্লাহ মন্দ কথার প্রচারণা পছন্দ করেন না, তবে কারো উপর জুলুম করা হলে তার কথা ভিন্ন। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” [সূরাহ আন-নিসা: ১৪৮]
সুতরাং তারাই প্রথমে (অপবাদ দেওয়া) শুরু করে এবং আমাদের কাছ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে নেয়। তাই কখনও আমাদেরকে তারা ‘আহলুত তাকফীর’ (যারা কথায় কথায় তাকফীর করে) আখ্যায়িত করে আবার কখনও তারা আমাদেরকে ‘মুতাশাদ্দিদূন’ (কঠোর) বলে আখ্যায়িত করে। তারা আরও বলে যে আমরা সমসাময়িক বিষয়াদি (ফিক্বহুল ওয়াক্বী) সম্পর্কে কিছুই জানি না। আবার কখনো তারা বলে যে আমরা ‘হাদ্দাসানা ওয়া আখবারানা’ (অমুক অমুক বর্ণনাকারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং অমুক অমুক বর্ণনাকারী আমাদেরকে অবহিত করেছেন – অর্থাৎ হাদীসের জ্ঞান) ব্যতীত কিছুই জানি না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যখন দু’জন ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হয় এবং মাজলুম ব্যক্তি যদি সীমালঙ্ঘন না করে, তবে তারা উভয়ে যা বলেছে তার (পাপ ঐ প্রথম) ব্যক্তির উপরই বর্তায় (যে বিবাদ শুরু করেছে)।” [সহীহ মুসলিম (নং ২৫৮৭)]
সুতরাং আমরা সুন্নাতের প্রতিরক্ষাকারী, আমাদের নিজেদের (প্রতিরক্ষাকারী) নই। আমরা জানি যে লোকেরা আমাদের গালি দেয় ও আমাদেরকে অপমান করে কিন্তু আমরা তাদের জবাব দেই না। সা’দাহ অঞ্চলের লোকেরা আমাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে: ‘অপবাদকারী ও মিথ্যাবাদীর খণ্ডনে চূড়ান্ত বক্তব্য’ – কিন্তু সা’দাহর লোকেদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের জবাব দেইনি… আর আমরা তাদেরকে খণ্ডনও করিনি – আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের নিজেদের আত্মরক্ষা করার সময় নেই, বরং আমরা আমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরেও হলেও সুন্নাতের প্রতিরক্ষা করি । সে শিয়া, সূফী বা মুসলিম ব্রাদারহুড বা যেই হোক না কেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে আমরা কাউকে খারাপ মন্তব্য করতে দেবো না। আমরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের সম্মানকে সুন্নাতের জন্য উৎসর্গ করি।”
উৎস: [ফাদ্বায়িহ ওয়া নাসায়িহ, পৃ. ১৫৩-১৫৫, শাইখ মুক্ববিল ইবনু হাদী আল-ওয়াদিয়ী, দার আল-হারামাইন, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৯ হি./ ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ]
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr

















