যে সকল গুণাবলি সম্পন্ন স্ত্রী বাছাই করা উচিত

প্রশ্ন: আমি বিয়ে করতে চাই। যার জন্য প্রস্তাব দিব আপনার মতে তাকে কোন শর্তগুলো পূরণ হতে হবে ? আমাকে দিকনির্দেশনা দিন। জাঝ়াকাল্লাহু খ়ই়রন।

শাইখ ইবনু বায (রহ়িমাহুল্লাহর) উত্তর: আপনি দীনদার স্ত্রী বাছাই করবেন। আপনি সৎ, ভালো চরিত্রের অধিকারিণী, সালাতে পাবন্দ, সতী, ভালো ব্যবহার সম্পন্ন, সুন্দর বাচনের (কথা) জন্য সুপরিচিত ও সাথে সৌন্দর্য দেখে স্ত্রী বাছাই করবেন। কারণ নাবী (স়ল্লাল্লাহু ‘আলাই়হি ও়য়া সাল্লাম) বলেছেন:

تنكح المرأة لأربع: لمالها ولجمالها ولحسبها ولدينها؛ فاظفر بذات الدين تربت يداك

“৪টি কারণে নারীদেরকে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদের জন্য, তার সৌন্দর্যের জন্য, তার বংশ মর্যাদার জন্য এবং তার দীনদারিতার জন্য। তুমি দীনদার স্ত্রীকে নিয়ে সফল হও। তোমার হাত ধূলোময় হোক।’’[1]

তিনি (স়ল্লাল্লাহু ‘আলাই়হি ও়য়া সাল্লাম) দীনদার স্ত্রী বাছাই করার উপদেশ দিয়েছেন। আপনাকে সেই উপদেশই দিচ্ছি যে উপদেশ আল্লাহর রাসূল (স়ল্লাল্লাহু ‘আলাই়হি ও়য়া সাল্লাম) দিয়েছেন। আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, আপনি এমন স্ত্রী বাছাই করবেন যিনি দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত, ওয়াক্ত মত সালাত আদায়কারিণী ও হারামের ক্ষেত্রে সংযত এবং সুন্দর বাচন (কথা), মহৎ চরিত্র ও ভালো আচরণের অধিকারিণী। এসবের সাথে যদি সৌন্দর্য, সম্ভ্রান্ত বংশ ও সম্পদ থাকে তবে তা কল্যাণের উপর কল্যাণ। কিন্তু জরুরি হলো তিনি যেন মহৎ চরিত্রের অধিকারিণী, দীনদারিতার সংরক্ষণকারিণী, উত্তমরূপে সলাত আদায়কারিণী ও উত্তম চরিত্রের অধিকারিণী হন এবং আল্লাহ যেসব খারাপ কাজকে হারাম করেছেন তা থেকে দূরে থাকেন। না’ম।

উপস্থাপক: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং কল্যাণ দান করুন ।

 

Footnotes


  1. স়হ়ীহ়ুল বুখ়ারী : ৫০৭০

Support The Da'wah In Bangladesh

The Messenger (ﷺ) said: “And save yourselves from the hell fire even if it be with the piece of a date.”

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz Al-Imam At-Tahawee Foundation

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

দাওয়াহর কাজে সহযোগিতা করুন (Support The Dawah)