Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

আল্লাহর জন্য আল-জিহাহ (দিক) সাব্যস্ত করা

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وبعد

দার্শনিকদের একটি দল আল্লাহর আল-উলূ (সুউচ্চে থাকার সিফাতকে) একটি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতির’ ভিত্তিতে অস্বীকার করেছে, যে বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতি অনুযায়ী, আল্লাহর আরশের উপরে থাকার অর্থ দাঁড়ায় যে, তিনি একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ আছেন…

আর আপনি এটি জেনে আশ্চর্য হবেন যে, তারা নিজেরাই এই বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতির সাথে একমত নয়।

এই ইবনু রুশদ, যে তাদেরই একজন বিদ্বান, এটি প্রমাণ করেছেন যে দার্শনিকরা যাকে মূলনীতি মনে করে তা আদৌ কোনো মূলনীতি নয় এবং তা কখনো (মূলনীতি) হতে পারবে না, বরং তা আগাগোড়াই ভিত্তিহীন। তিনি (ইবনু রুশদ) ‘মানাহিজ আল-আদিল্লাহ’ গ্রন্থে বলেছেন, যেমনটি ‘দারউত তা‘আরুদ্ব’ (৬/২১২) গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে,

তিনি (ইবনু রুশদ) বলেছেন: “এবং যে সন্দেহের ভিত্তিতে আল-জিহাহ এর অস্বীকারকারীগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে, তা হলো: দিক সাব্যস্ত হলে স্থান সাব্যস্ত হয় আর স্থান সাব্যস্ত হলে আকার-আকৃতি (জিসম) সাব্যস্ত হয়। কিন্তু আমরা বলি, বাস্তবে এর কোনোটিই সাব্যস্ত হয় না, কারণ দিক (আল-জিহাহ) এবং স্থান (মাকান) দু’টি পৃথক বিষয়। কারণ দিক হলো বস্তুর নিজস্ব বহির্ভাগ (surface) যা (বস্তুকে) ছয় দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রাখে। আর এরই প্রেক্ষিতে আমরা বলি: কোনো বস্তুর ‘উপর’, ‘নিচ’, ‘ডান’, ‘বাম’, ‘সামনের দিক’ এবং ‘পিছনের দিক’ আছে। এছাড়া দিক বলতে অন্য কোনো বস্তুর বহির্ভাগকে বুঝানো হয় যা মূল বস্তুটিকে ছয় দিক থেকে পরিবেষ্টন করে আছে। তবে, কোনো (বস্তুর) নিজস্ব বহির্ভাগ যেহেতু সেই বস্তুরই অংশবিশেষ, তাই সেটি বস্তুর জন্য কোনো স্থান তৈরি করে না।

তবে (অন্যান্য) বস্তুর যেসব বহির্ভাগ তাকে পরিবেষ্টন করে সেগুলো তার জন্য ‘স্থান’ তৈরি করে।[১]

এর উদাহরণ হলো বাতাস অথবা বায়ুমণ্ডলের বহির্ভাগ যা মানুষকে পরিবেষ্টন করে, অথবা মহাজাগতিক বস্তুসমূহের বহির্ভাগ যা বাতাস বা বায়ুমণ্ডলকে পরিবেষ্টন করে – এসবই বাতাস বা বায়ুমণ্ডলের জন্য স্থান তৈরি করে। কোনো কোনো মহাজাগতিক বস্তু (তাদের কক্ষপথ ইত্যাদির কারণে), একটি আরেকটিকে পরিবেষ্টন করে যার ফলে ‘স্থান’ তৈরি হয়।

মহাজাগতিক বস্তুর বহির্ভাগের ক্ষেত্রে, এটি (ইতঃপূর্বে) প্রমাণিত হয়েছে যে একটি মহাজাগতিক বস্তুর বহির্ভাগ তার (মহাজাগতিক বস্তু) থেকে পৃথক নয় এবং তার পৃথক কোনো আকৃতি নেই, কেননা যদি এমনটি হতো তবে সেই বহির্ভাগের আকৃতির বাইরে আরেকটি আকৃতির প্রয়োজন হতো, এবং এই বিষয়টি অনন্তকাল ধরে চলতে থাকতো।[২] সুতরাং, মহাবিশ্বের সর্বশেষ প্রান্তের বহির্ভাগগুলো কোনো স্থান তৈরি করে না (যেহেতু আমরা এর সর্বশেষ সীমানায় পৌঁছেছি), কারণ সেখানে (অর্থাৎ মহাবিশ্বের সীমানার বাইরে) কোনো বস্তু বা আকার পাওয়া সম্ভব নয়। আর যদি এখানে কিছুর অস্তিত্ব আছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে (স্থানকাল বহির্ভূত হওয়ার কারণে) তার অস্তিত্ব হবে সৃষ্ট জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত …”

এবং এটি একটি নিষ্পত্তিমূলক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ, যার সারাংশ হলো: আকাশের উপরে যা কিছু আছে সেসবই যদি সীমাবদ্ধ এবং সীমিত একটি স্থান হয়, তাহলে নিশ্চয়ই এমন কিছুর অস্তিত্ব থাকবে যা তাকে পরিবেষ্টন করবে ও আবদ্ধ করবে, যেন সেটি তার নিজস্ব স্থান ব্যতীত অন্য একটি স্থান দ্বারা পরিবেষ্টিত, আবদ্ধ ও সীমিত হয় (অন্যথায় এটি ইবনু রুশদ এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘স্থান’ হিসেবে বিবেচিত হবে না) আর অবশ্যই এমন আরও একটি স্থান থাকতে হবে যা তাকে আবদ্ধ ও পরিবেষ্টন করবে আর এভাবে তা চিরকাল চলতে থাকবে (যা যৌক্তিক বা বোধগম্য নয়)। সুতরাং, এমন একটি স্থানে গিয়ে অবশ্যই থামতে হবে যেখানে অন্যান্য স্থান শেষ হয়ে যাবে, এবং তা হলো আকাশের উপরে, এবং তার উপরে আল্লাহ আছেন – স্থান, সীমাবদ্ধতা, পরিবেষ্টন এবং (সৃষ্টির সাথে কোনো প্রকার) সংস্পর্শ ছাড়াই তিনি আছেন (তবে তিনি কীভাবে আছেন এর কাইফিয়্যাহ সম্পর্কে আমরা প্রশ্ন করি না: অনুবাদক)। আর এটিই আল-উলূ এর অস্বীকারকারীদের ধারণা এবং অনুমানকে খণ্ডন করে।

এই (খণ্ডন) একজন দার্শনিকের যিনি তাদেরই শাস্ত্রগুলোর উপর দক্ষ ছিলেন, যিনি ইলমুল কালাম (যুক্তিভিত্তিক ধর্মতত্ত্ব) ও ফালসাফাহ (দর্শনের) জন্য প্রখ্যাত ছিলেন। তিনি স্পষ্ট যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে তাদের মিথ্যাচারকে অযৌক্তিক প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, যে (মিথ্যাচারকে যৌক্তিক প্রমাণ করার) জন্য তারা কুরআন-সুন্নাহর দলিলগুলোকে ‘তাউইল’ এবং ‘তা‘ত্বীল’ করেছে। এত্থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, যেই ভিত্তির উপর তারা এই (আল-উলূ এর) সিফাতকে ‘তাউইল’ এবং ‘তা‘ত্বীল’ করেছে, সেই ‘যুক্তি বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ’ দার্শনিকদের দৃষ্টিতেই ভিত্তিহীন, যারা তাদের দলভুক্ত নয় তাদের কথা তো বাদই দিলাম!

উৎস: আশ-শাইখ আবূ ত্বলহা দাঊদ ইবনু রোনাল্ড বুরব্যাঙ্ক (রাহিমাহুল্লাহ) এবং শাইখ আবূ ইয়াদ্ব আমজাদ রফীক্ব কর্তৃক অনূদিত ও সংকলিত Mountains of Knowledge, (পৃ. ১১২-১১৬) থেকে উদ্ধৃত।

পাদটীকা:


১. অর্থাৎ কোনো কিছু কেবল তখনই একটি ‘জায়গা’ বা ‘স্থানে’ অবস্থিত আছে বলে সাব্যস্ত হবে যদি তা অন্য কোনো বস্তু দ্বারা পরিবেষ্টিত হয় । কারণ সেই (পরিবেষ্টনকারী) বস্তুর পরিপ্রেক্ষিতেই বলা হয় যে অমুক জিনিসটি একটি ‘স্থান’ অথবা ‘জায়গায়’ বিদ্যমান। আর সেই পরিবেষ্টনকারী বস্তুগুলো তার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান তৈরি করে।

২. অর্থাৎ কোনো বস্তুর বহির্ভাগ (surface) একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে থেমে যায় ও সমাপ্ত হয় এবং সেটি অন্য বস্তু থেকে পৃথক এবং স্বতন্ত্র হয়।

 

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading