Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর ব্যাখ্যা পার্ট-(৩)

فضل هذه الكلمة

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর ফজিলত

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর বড় বড় ফজিলত আছে এবং আল্লাহর কাছে এর বিশেষ স্থান রয়েছে।

এর রয়েছে অনেক বড় বড় মর্যাদা এবং আল্লাহর কাছে এর রয়েছে বিশেষ স্থান। যে ইমানের সাথে এই বাক্য বলবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন আর যে এই বাক্য অন্তরে বিশ্বাস না করেই শুধু মুখে উচ্চারণ করবে তার জান নিরাপদে থাকবে ও তার মাল সংরক্ষিত থাকবে এবং তার হিসাব আল্লাহ তা’আলা নিবেন। এই বাক্যটি অল্প শব্দের, স্বল্প অক্ষরের, উচ্চারণে সহজ ও মিজানের পাল্লায় ভারী। ইবনু হিব্বান ও হাকিম একটি হাদিস আবু সাঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাদিসটিকে তিনি সহীহ বলেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, মুসা (আলাইহিস সালাম) বলেছেন : “হে আমার রব, আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যার মাধ্যমে আপনার যিকির করবো এবং আপনার কাছে দোআ করবো। আল্লাহ বলেন : মুসা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো। তিনি বললেন : আপনার সকল বান্দাই তো এটা বলে। আল্লাহ বললেন : হে মুসা, যদি আমি বাদে সাত আসমান ও এর অধিবাসীদেরকে ও সাত জমিনকে এক পাল্লায় রাখা হয় আর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহকে আরেক পাল্লায় রাখা হয় তাহলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর ওজনই বেশি হবে।” এই হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ হলো সর্বোত্তম যিকর। আব্দুল্লাহ ইবনু আমরের হাদিসে মারফু সূত্রে বর্ণিত আছে :

خير الدعاء دعاء يوم عرفة ، وخير ما قلت أنا والنبيون من قبلي : لا إله إلا الله وحده لا شريك له ، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير

“সর্বোত্তম দোআ হলো আরাফাতের দিনের দোআ। আর আমি ও আমার পূর্বের নবীরা সবচেয়ে উত্তম যে বাক্য বলেছেন তা হলো : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হু’ওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।’’[1]

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” যে মিজানের পাল্লায় ভারী হবে তার আরো প্রমাণ পাওয়া যায় যা তিরমিজী বর্ণনা করেছেন এবং ঐ হাদিসটিকে তিনি সহীহ বলেছেন। এই হাদীসটি নাসায়ী ও হাকিমও বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি মুসলিমের শর্তে সহীহ। আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

(يصاح برجل من أمتي على رءوس الخلائق يوم القيامة ، فينشر له تسعة وتسعون سجلا كل سجل منها مد البصر ، ثم يقال : أتنكر من هذا شيئا ؟ فيقول : لا يا رب ، فيقال : ألك عذر أو حسنة ؟ فيهاب الرجل فيقول : لا . فيقال : بلى إن لك عندنا حسنة ، وإنه لا ظلم عليك . فيخرج له بطاقة فيها أشهد أن لا إله إلا الله ، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله ، فيقول : يا رب ، ما هذه البطاقة مع هذه السجلات ؟ فيقال : إنك لا تظلم . فتوضع السجلات في كفة والبطاقة في كفة فطاشت السجلات وثقلت البطاقة)

“কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের এক লোককে সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডাকা হবে। তার ৯৯ টা খাতা খোলা হবে। প্রত্যেকটি খাতা দৃষ্টি সীমা পর্যন্ত বড়। তারপরে তাকে বলা হবে তুমি কি এসবের কোনো কিছুকে অস্বীকার করো? সে বলবে: না, হে রব। তাকে বলা হবে তোমার কি কোনো ওজর আছে অথবা তোমার কি কোনো নেক আমল আছে? লোকটি ভয় পাবে এবং বলবে : না। আল্লাহ তা’আলা বলবেন : অবশ্যই তোমার কিছু নেক আমল আমাদের নিকটে আছে। তোমার প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না। তারপরে তার জন্য ছোট একটা চিরকুট বের করা হবে আর তাতে থাকবে: 

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورَسُولُه

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া ‘ইবাদাতের উপযুক্ত সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল ও তাঁর বান্দা।”

“সে বলবে: হে রব, এতগুলো খাতার বিপরীতে এক টুকরো কাগজ দিয়ে কি হবে? বলা হবে : তোমার প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না। ঐ খাতাগুলো এক পাল্লায় ও ঐ কাগজের টুকরোটি আরেক পাল্লায় রাখা হবে। অতঃপর খাতাগুলো ওজনে হালকা হবে এবং ঐ কাগজের টুকরোটি ভারী হবে।’’[2]

এই মহান বাক্যের অনেক মর্যাদা রয়েছে যার মধ্যে থেকে কিছু ইমাম ইবনু রজব তার “কালিমাতুল ইখলাস” নামক পুস্তিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি ওখানে প্রত্যেকটি ফযিলাতের দলিল উল্লেখ করেছেন। তিনি যেসব ফযিলত উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে আছে যে:

১) লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ হলো জান্নাতের মূল্য।

২) যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

৩) এটা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়।

৪) এই বাক্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা পাওয়াকে অপরিহার্য করে দেয়।

৫) এটা সবচেয়ে বড় নেকীর কাজ।

৬) এটা পাপ মোচন করে।

৭) এটা পর্দা চিরে আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়।

৮) এটা এমনই এক বাক্য যে, যে এই বাক্য বলে আল্লাহ তাকে সত্যায়ন করেন।

৯) এই বাক্য নবীদের সবচেয়ে উত্তম বাণী।

১০) এটা সর্বোত্তম যিকর।

১১) এটা সর্বোত্তম আমল এবং সবচেয়ে বেশি গুণে বৃদ্ধি পায়।

১২) এটা পড়লে গোলাম আজাদের সমান সাওয়াব পাওয়া যায়।

১৩) এটার মাধ্যমে শয়তান থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

১৪) এটা কবরের একাকীত্ব ও হাশরের ভয়াবহতা থেকে নিরাপত্তা দেয়।

১৫) যখন মুমিনরা কবর থেকে উঠবে তখন এটা তাদের প্রতীক হবে। আর এর ফাযীলাতের মধ্যে আরো অন্তর্ভুক্ত আছে যে,

১৬) যে এই বাক্য পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের ৮ টি দরজাই খুলে দেয়া হবে; সে যে দরজা দিয়ে চায় সে দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। আর এর ফজিলতের মধ্যে আরো অন্তর্ভুক্ত আছে যে,

১৭) যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর অনুসরণ করবে যদিও এই বাক্যের হক আদায়ে কমতি থাকার কারণে তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে, কিন্তু অবশ্যই তারা সেখান থেকে বের হতে পারবে। ইবনু রজব রহিমাহুল্লাহ তার পুস্তিকায় যেসব ফযিলত উল্লেখ করেছেন এগুলো তার শিরোনাম। তিনি প্রত্যেকটি ফযিলত দলীলসহ উল্লেখ করেছেন।

গ্রন্থ : মা’না লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া মুকতাদাহা ওয়া আসারুহা ফিল ফারদি ওয়াল মুজতামা’, পৃষ্ঠা: ২০-২৩

লেখক: শাইখ সালিহ বিন ফাওযান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওযান

প্রকাশনী : মদিনা ইউনিভার্সিটি, মদিনা। তৃতীয় সংস্করণ (১৪২২ হিজরী, ২০০২ খৃষ্টাব্দ)

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading