الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وبعد
যুল-হিজ্জার প্রথম দশ দিন সম্পর্কিত দশটি বিষয়:
১. প্রথম নয় দিন ও ঈদের দিনকে নিয়ে সর্বমোট দশ দিন। একে যুল-হিজ্জার প্রথম দশ দিন বলা হয়, তবে এর মধ্যে শুধু নয় দিন রোযা রাখা যাবে, কারণ দশম দিনটি হলো ঈদের দিন। আর ঈদের দিন রোযা রাখা হারাম, আলেমদের এই বিষয়ে ইজমা আছে।[1]
২. যুল-হিজ্জার প্রথম নয় দিন রোযা রাখা জায়েয। হাজিগণ ব্যতীত বাকি সবার ক্ষেত্রে এর শেষ দিনটি আরাফার দিন হিসেবে গণ্য হবে। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “এমন কোনো দিন নেই যে দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহর নিকট এই দশ দিনের নেক আমল অপেক্ষা অধিক প্রিয়”[2]
৩. এই দিনগুলোতে, আল্লাহকে অধিক স্মরণ করা মুস্তাহাব্ব – তা পুরো দশ দিনের জন্যই প্রযোজ্য।
৪. এই দিনগুলোতে তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করা মুস্তাহাব্ব – তা পুরো দশ দিনের জন্যই প্রযোজ্য।
৫. এই দিনগুলোতে, বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা ও দান-সাদাকাহ করা মুস্তাহাব্ব – তা পুরো দশ দিনের জন্যই প্রযোজ্য।
৬. নবম দিন হলো আরাফার দিন। একটি সহীহ বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আর আরাফাহ দিবসের রোযা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে”[3] সুতরাং, এটি একটি মহান দিন, হাজিগণ ব্যতীত বাকি সবার জন্য এই দিনটিতে রোযা রাখা মুস্তাহাব্ব। শুধু প্রথম নয় দিন রোযা রাখা জায়েয কেননা দশম দিনটি হলো ঈদের দিন।
৭. মহান আল্লাহ বলেছেন: “যাতে তাদের জন্য রাখা কল্যাণগুলোকে তারা প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিযিক হিসেবে দিয়েছেন, তার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে।”[4] ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: “নির্দিষ্ট দিনগুলো হলো আরাফার দিন (৯ম), নাহর-এর দিন (১০ম),ও তাশরীকের দিন (১১, ১২ ও ১৩তম দিন)।”[5]
৮. যিনি কুরবানী করতে ইচ্ছুক তার জন্য নিজ শরীরের লোম পরিষ্কার করা অথবা নখ কাটা বৈধ না।[6] তবে তার পরিবারের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়, বরং এটি শুধু পরিবারের কর্তার জন্য প্রযোজ্য যিনি কুরবানী করতে ইচ্ছুক।
৯. কুরবানীর পশু যবেহ সংক্রান্ত কিছু বিধান:
ক. যে ব্যক্তি তার নিজ সম্পদ থেকে নিজের ও তার পরিবারের পক্ষ হতে কুরবানীর পশু (উট, গরু, ভেড়া…) যবেহ করবেন – তার জন্য নিজ শরীরের পশম কাটা বা ছাঁটা, চামড়া তুলে ফেলা বা নখ কাটা জায়েয নয়।
খ. যে ব্যক্তি তার নিজ সম্পদ থেকে অন্যের জন্য যবেহ করবেন – যেমন, কেউ যদি তার বাবা বা তার মায়ের জন্য যবেহ করতে চান – তিনিও তার চুল কাটবেন না, তার চামড়া তুলবেন না বা তার নখ কাটবেন না।
গ. যে ব্যক্তি অন্য কারও সম্পদ দিয়ে তাদের পক্ষ থেকে যবেহ করতে চান – অর্থাৎ যিনি অন্য কারও পক্ষ থেকে কুরবানীর পশু যবেহ করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত – ঐ ব্যক্তি তার চুল, নখ কাটতে পারবেন ও তার চামড়া তুলতে পারবেন। তার জন্য এই অনুমতি রয়েছে।
১০. ঈদুল আযহার মোট দিন হলো চারটি: দশম (ঈদের নামাযের দিন) এবং তাশরীকের দিন (যুল–হিজ্জার একাদশ, দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ দিন)। যারা হজ্জ করবেন না তাদের জন্য এ দিনগুলোতে রোজা রাখা জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তাশরীকের দিনগুলো খাওয়া, পান করা ও আল্লাহকে স্মরণ করার দিন।”[7] মহান আল্লাহ বলেছেন, “আর নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো।”[8]
এবং সকল প্রশংসা সৃষ্টি জগতের প্রতিপালকের।
আল-ইমাম আল-বাগাওয়ী, আল-আল্লামাহ ইবনু বায এবং আল-আল্লামাহ ইবনু উসাইমীনের ফাতাওয়া থেকে সংগৃহীত, আল্লাহ যেন তাদের এবং সুন্নাহর সমস্ত আলেমের উপর রহমত বর্ষণ করেন।
আবূ আব্দির-রহমান উওয়াইস আত-তাউইল সংকলন করেছেন @uwaisT (২৩/১০/১৪৪১হি- ১৪/০৭/২০২০)
উৎস: http://www.al-athariyyah.com/ten-points-dhul-hijjah.html
- আন-নববী কর্তৃক আল-মাজমূ‘: ৬/৪৪০ এবং ইবনু আব্দিল-বার কর্তৃক আল-ইস্তিযকার: ২/৩৮৩
- আত-তিরমিযী: নং ৭৫৭
- আবূ ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণিত, সহীহ মুসলিম: নং ১১৬২ এবং আত-তিরমিযী: নং ৭৪৯
- আল-কুরআন ২২:২৮
- বুখারী: ২/২০
- মুসলিম: নং ১৯৭৭
- আবূ নুবায়শাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, সহীহ মুসলিম: ১১৪১
- সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২০৩
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr

















