الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وبعد
যারা আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহাবায়ে কেরামদের ব্যাপারে কুৎসা রটনা করে, বাস্তবে তারা অসৎ উদ্দেশ্য লালন করে এবং পরোক্ষভাবে রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-কে তিরস্কার করতে চায়, কেননা [এর দ্বারা] তারা তাঁর চরিত্র ও সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, একইভাবে তারা কুরআনকে তিরস্কার করতে চায় এবং তারা ইসলাম এবং এর অনুসারীদের অকল্যাণ কামনা করে। এই বিষয়ে আস-সালাফ আস-সালেহ থেকে এটিই বর্ণিত হয়েছে।
১. মু’আবিয়া (رضي الله عنه) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ইমাম আন-নাসা’ঈ (رحمه الله) বলেন:[১]
“ইসলাম হলো একটি গৃহের মতো যার একটি দরজা আছে। ইসলামের দরজা হলো সাহাবায়ে কেরাম। যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কেরামকে তিরস্কার করল, তবে সে [পরোক্ষভাবে] ইসলামকে [তিরস্কার] করতে চাইল। কারণ যে দরজা ভেঙ্গে ফেলে, [এর অর্থই হলো] সে ঐ গৃহে অনুপ্রবেশ করতে চায়। সুতরাং যে ব্যক্তি মু‘আবিয়াকে তিরস্কার করতে চায়, সে মূলত সাহাবাদেরকে [তিরস্কার করতে] চায়।”
২. ‘আবদুল্লাহ বিন মুস‘আব বলেন:[২]
মাহদী বললেন: “যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কেরামদেরকে তিরস্কার করে তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন?” আমি বললাম: “তারা যিন্দীক্ব (زنادقة) কারণ তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে সরাসরি তিরস্কার করতে পারেনি, সেজন্য তারা তাঁর সাহাবায়ে কেরামদেরকে তিরস্কার করেছে। তারা যেন বলতে চেয়েছিল: “তিনি মন্দ সঙ্গীদের সাথে বিচরণ করতেন।”
৩. শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (رحمه الله) সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যকার ফিতনা সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:[৩]
“সাহাবায়ে কেরামদের মাঝে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে তারা [আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ কোনো মন্তব্য করা থেকে] বিরত থাকেন এবং তারা বলেন: “ঐ সমস্ত বর্ণনা যা তাদের ভুল-ত্রুটি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তাতে রয়েছে মিথ্যাচার, যা বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকে হয় পরিবর্ধিত, হ্রাসকৃত বা পরিবর্তিত। আর তাদের (যে ত্রুটিগুলো) সত্য বলে প্রমাণিত, তবে সেক্ষেত্রে তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত, কারণ তারা হয় ইজতিহাদ করে তাতে সফল হয়েছেন, আর না হয় ইজতিহাদ করে তাতে ভুল করেছেন।”
৪. সাহাবায়ে কেরামদেরকে যারা তিরস্কার করে ইমাম মালিক (رحمه الله) তাদের সম্পর্কে বলেছেন:[৪]
“আসলে তারা এমন এক গোষ্ঠী যারা রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-কে তিরস্কার করতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। একারণে তারা তাঁর সাহাবায়ে কেরামদেরকে তিরস্কার করেছে যাতে লোকেরা এটা বলে: “একজন দুষ্ট লোক, যদি সে সৎকর্মশীল হতো তবে তাঁর সঙ্গীরাও সৎকর্মশীল হতো।”
৫. আবূ যুর‘আহ আর-রাযী (رحمه الله) বলেন:[৫]
“যখন আপনি দেখবেন কোনো ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর কোনো সাহাবীকে হেয় করছে, তবে জেনে রাখুন সে যিন্দীক্ব। কারণ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আমাদের কাছে সত্য এবং কুরআন সত্য। আর আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহাবীরা আমাদের কাছে কুরআন ও সুন্নাহ’র বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু তারা আমাদের এই সাক্ষীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চায় যাতে করে কুরআন ও সুন্নাহকে তারা বাতিল সাব্যস্ত করতে পারে। [অথচ] তারাই তিরস্কৃত হওয়ার অধিক হকদার [যেহেতু] তারা যিন্দীক্ব।
৬. ইমাম আবূ নু‘আইম (رحمه الله) বলেন:[৬]
“যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহাবাদের ভুল-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, এবং [তাঁদের প্রতি] রাগান্বিত ও মর্মাহত অবস্থায় তাঁদের দ্বারা যা সংঘটিত হয়েছিল সেগুলো তাঁদের বিরুদ্ধে লিপিবদ্ধ করে, তবে সে এমন লোক যার অন্তর দীনের ক্ষেত্রে ফিতনায় নিপতিত হয়েছে।”
৭. ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (رحمه الله) বলেন:[৭]
“যখন তুমি কাউকে দেখবে যে, সে সাহাবীদের কোনো একজনের ব্যাপারে মন্দ কথা বলছে, তখন তার ইসলাম নিয়ে সন্দেহ করবে।”[৮]
শাইখ আবূ ইয়াদ্ব আমজাদ রফীকের প্রবন্ধ থেকে অনূদিত
১. আল-হাফিয আল-মিযযী কর্তৃক তাহযীবুল কামাল (১/৩৩৯)।
২. আল-খাত্বীব আল-বাগ্বদাদী আত-তারীখে (১০/১৭৫) বর্ণনা করেছেন।
৩. মুহাম্মাদ খালীল হাররাস কর্তৃক শারহু আক্বীদাতিল ওয়াসিত্বিয়্যাহ (পৃ. ১৭৩)।
৪. ইবনু তাইমিয়্যাহ কর্তৃক আস-সারিমুল মাসলূল (পৃ. ৫৮০)।
৫. আল-খাত্বীব আল-বাগ্বদাদী কর্তৃক আল-কিফায়াহ (পৃ. ৯৭)।
৬. আবূ নু‘আইম কর্তৃক তাসবীতুল ইমামাহ ওয়া তারতীবুল খিলাফাহ (পৃ. ৩৪৪)।
৭. ইবনু কাসীর কর্তৃক আল-বিদায়াতু ওয়ান-নিহায়াহ (৮/১৪২)।
৮. অর্থাৎ, এটাই প্রমাণ করে যে, সে তার অন্তরে খারাপ উদ্দেশ্য লালন করছে।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket

















