Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আযান: বায়ান তালবীস আল-হাজাওয়িরাহ

আহলুস-সুন্নাহর অতীত এবং বর্তমান যুগের আলেমদের তাহক্বীক্বের আলোকে ইয়াহইয়া আল-হাজূরী এবং তার হাদ্দাদী অনুসারীদের দাবির বিরুদ্ধে উসমানের প্রতিরক্ষা

সূচীপত্র

শাইখ রাবী বিন হাদী আল মাদখালী বলেছেন:

সে একজন হাদ্দাদী, সালাফী দাওয়াহর জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর।

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান বলেছেন:

তারা উসমানকে বিদআতী বলতে চায়।

ভূমিকা

উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রবর্তিত আযানের পর্যালোচনা এটি প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট হবে যে হাজূরীর অনুসারীরা মুক্বাল্লিদাহ (অন্ধ অনুসারী), কারণ উম্মতের আলেমগণ যেই সত্যের অনুসরণ করেন সেটি তাদের নিকট স্পষ্ট করার পরও তারা এর বিরোধিতা করে ও তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং তাদের নেতা ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর ভ্রান্তিগুলো তাদের নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হওয়ার পরও তাকে সমর্থন করার জন্য তারা যথাসাধ্য তৎপরতা চালাতে পারে[১]

পরবর্তীতে আমরা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আযান নিয়ে আলোচনা করব কারণ তাতে আল-হাজূরী ও তার অনুসারীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতারণার একটি ভালো উদাহরণ রয়েছে আর ঐ সমস্ত কারণেই সে সমালোচিত হয়েছে এবং তাকে খণ্ডন করা হয়েছে।

ইয়াহইয়া আল-হাজূরী এবং তার প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুতর বিদআত সমর্থন করার ক্ষেত্রে হাজূরীর অনুসারীদের ব্যবহৃত কৌশলের পর্যবেক্ষণ

আর নেদারল্যান্ডসের হাজূরীর অনুসারীদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে[২], তাদের দাবি যে ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর বিরুদ্ধে লেখা সমালোচনাগুলো সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা এবং অপব্যাখ্যা[৩], যার কারণে তারা এই (বৈধ) সমালোচনাগুলোর বিপক্ষে লেখা পাল্টা সমালোচনার অনুবাদ করেছে এবং সেটি এক দীর্ঘ পিডিএফে সংকলন করেছে যা পরবর্তীতে কিছু সালাফীদেরকে প্রভাবিত করেছে এবং তারা আল-হাজূরীর পক্ষ নিয়েছে এই ভেবে যে তারা প্রমাণ পেয়েছে এবং তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে যে আল-হাজূরী সঠিক বা তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে, তার আগে আপনাকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে:

যে-সকল কারণে আল-হাজূরী সমালোচিত হয়েছে তা কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যেতে পারে:

[০১] বড় এবং সাংঘাতিক বিপর্যয় যে-সম্পর্কে সমালোচনা যুক্তিসঙ্গত, জোরালো এবং তার উপর হুজ্জাহ (প্রমাণ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেগুলো ব্যাখ্যা করা বা সেগুলো থেকে তাওবাহ করা থেকে সে বিরত থেকেছে এবং তার মিথ্যাচারের উপর অটল থেকেছে। সেগুলো আমাদের দীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উসূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেমন সাহাবীদেরকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) ইরজা  দিয়ে অভিযুক্ত করা, উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী হিসেবে তাদেরকে অভিযুক্ত করা এবং উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিদআত, মুখালাফা (বিভক্তি) এবং দ্বলালাহ [৪] (ভ্রষ্টতা)-এর জন্য অভিযুক্ত করা ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়ার পরেও আল-হাজূরী এবং তার অনুসারীরা বাতিলের পক্ষ নিয়েছে। তাদের নেতাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে এমনকি তারা অযৌক্তিক কথাবার্তা বলেছে এবং তাদের বিভ্রান্তিগুলোকে একত্রিত করেছে (যা প্রমাণসহকারে খণ্ডন করা হয়েছে) এবং তারা নিজেরাই সেই (তাক্বলীদের) সাহায্য নিয়েছে যেই তাক্বলীদের তারা বিরোধিতা করেছে এবং তা প্রত্যাখান করেছে বলে তারা দাবি করেছে। উল্লিখিত বিষয়গুলোর সমষ্টির কথা বাদ দিলাম বরং শুধু একটি কারণে আল-হাজূরীর উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সে বিদআতী হয়েছে, কারণ সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরেও সে ফিরে আসেনি বা তাওবাহ করেনি। সেই বিষয়গুলো নিয়ে সে এবং তার অনুসারীরা প্রতারণা করেছে এবং প্রায়শই তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে পরিবর্তন করেছে যার মূল উদ্দেশ্য ছিল এর মূল অন্তর্নিহিত কারণ সম্পর্কে অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করা।[৫]

[০২] যে-সব বিষয় থেকে সে প্রকাশ্যে তাওবাহ করেছে বা সরে এসেছে বলে কথিত আছে। সুতরাং তাদের দৃষ্টিতে সেই বিষয়গুলোতে তার সমালোচনা আর বৈধ নয়। উদাহরণস্বরূপ, যেই কবি আল-হাজূরীকে “ইমাম আস-সাক্বালাইন” বলে আখ্যায়িত করেছিল সে তার বক্তব্য থেকে দুইবার প্রকাশ্যে তাওবাহ করেছে, কিন্তু আমরা আল-হাজূরীর  (কোনো মৌখিক বা লিখিত) তাওবাহ বা প্রত্যাহারমূলক বক্তব্য শুনিনি বরং তাকে এই অসংখ্য গুলূ (অতিরঞ্জন) সমর্থন করতে দেখা গিয়েছে বা সে-সম্পর্কে নীরব থাকতে দেখা গিয়েছে অথবা যেই লেখক বা কবি সেগুলো প্রকাশ করেছে তাকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা গিয়েছে। আল-হাজূরীর বক্তব্যতে সুস্পষ্ট, প্রকাশ্য তাওবাহ পাওয়া যায়নি। “এটি ভুল”, “আমি এতে সন্তুষ্ট নই”, “এই বিষয়গুলো ছাড়ুন”, “আমি এর সঙ্গে একমত নই” ইত্যাদির ন্যায় বক্তব্য থাকতেই পারে, কিন্তু এগুলো প্রত্যাহার বা তাওবার পর্যায়ে পড়ে না। হাজূরীর অনুসারীরা সেগুলোকে তার পক্ষ থেকে তাওবাহ এবং প্রত্যাহার হিসেবে প্রচার করে। আল-হাজূরীর প্রত্যাহারের গুঞ্জন থাকা সত্ত্বেও, তার বিরুদ্ধে যেসব প্রধান হুজ্জাহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সে বিষয়ে তার নিকট হতে তাওবাহ অথবা প্রত্যাহারমূলক কোনও স্পষ্ট, দ্ব্যর্থক লিখিত বা মৌখিক স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।

[০৩] যেই বিষয়গুলো সম্পর্কে আল-হাজূরীর বিরুদ্ধে লেখা সমালোচনা অস্পষ্ট, সেখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, আরও বিশদ বিবরণের প্রয়োজন রয়েছে বিধায় সেগুলো দুর্বল ইত্যাদি বলে কথিত আছে। হাজূরীর সমর্থনকারীরা সেই সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অনস্বীকার্য বিচ্যুতি এবং বিদআতগুলোর প্রতি সন্দেহ তৈরি করার জন্য উপরিউক্ত বক্তব্যগুলো ব্যবহার করেছে যেসব কারণে আল-হাজূরী সমালোচিত হয়েছে। কিবারুল উলামাদের মধ্যে থেকে যারা আল-হাজূরীর সমালোচনা করেছেন সেটি কেবল স্পষ্ট এবং বাহ্যিক বিষয়ের[৬] ভিত্তিতে করেছেন, তবে উল্লিখিত বিষয়গুলো (সন্দেহগুলো) ঐসকল ফোরামে আছে যেখানে কিছু লোক তাদের ব্যক্তিগত সমালোচনা নিয়ে লেখালেখি করেছে আর (এই সুযোগে) হাজূরীর অনুসারীরা তাদের ফোরাম এবং গ্রুপগুলোতে সেসব (ব্যক্তিগত) সমালোচনা নিয়ে উল্লাস করেছে যা আল-হাজূরীর সুস্পষ্ট বিচ্যুতিগুলো থেকে তাদেরকে অন্ধ বানিয়ে রেখেছে।

[০৪] যে-সব সমালোচনার যথাযথ জবাব দেওয়া হয়েছে এবং তা নিরসন করা হয়েছে অথবা যে-সব সমালোচনার মাধ্যমে আল-হাজূরীর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে বলে কথিত আছে। আমরা হাজূরীর অনুসারীদের জন্য সর্বোত্তম এবং অনুকূল পরিস্থিতি প্রদান করার জন্য এটি বলছি, এটি বুঝানোর জন্য যে, এতো কিছুর পরেও তারা বাতিলের উপর আছে এবং তারা আল-হাজূরীর সবচেয়ে ভঙ্গুর এবং গুরুতর ত্রুটিগুলো রক্ষা করতে অক্ষম হয়েছে এবং শুধু একটি কারণে আল-হাজূরী বিদআতী হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস (সহ অন্যান্য দেশে) হাজূরীর অনুসারীরা প্রথম শ্রেণির বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে হাজূরীর ছাত্রদের লেখা সব নিরর্থক সমালোচনা একত্রিত করেছে এবং তাতে সত্যের লেশমাত্র নেই এবং তারা আরো গুরুতর বিষয়গুলো হালকা করেছে বা অপসারণ করেছে এবং সেগুলোর চারপাশে “বিশৃঙ্খলা” এবং “ধোঁয়াশা” তৈরি করার জন্য অবশিষ্ট তিনটি শ্রেণি যুক্ত করেছে । যেই ব্যক্তি বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নয় এবং যে ব্যক্তি (প্রথম শ্রেণির) প্রধান বিষয়গুলোকে সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করেনি এবং যে ব্যক্তি হাজূরীকে সমর্থন করার জন্য হাজূরীর অনুসারীদের স্পষ্ট মিথ্যাচার, প্রতারণা এবং অপকৌশল সম্পর্কে অজ্ঞ, সে বাকি তিন শ্রেণির দ্বারা বিভ্রান্ত বা প্ররোচিত হবে।

তাই সালাফীদের মধ্যে যারা হাজূরীর অনুসারীদের দ্বারা পথভ্রষ্ট এবং প্ররোচিত হয়েছে, তাদের তাওবাহ করা উচিত এবং তাদের বিবেকবুদ্ধি পুনরুদ্ধার করা উচিত আর যদি তারা বিস্তারিত ও নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে তাহলে  সামান্য ক’টি বিষয় তাদের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তারা জানতে পারবে যে ইয়াহইয়া আল-হাজূরী এবং তার অনুসারীরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং তারা বাতিলের পক্ষে বিতর্ক  করে। এরই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এবং জুমুআর প্রথম আযান । যে কেউই এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত এবং নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করবে সে হাজূরীর অনুসারীদের প্রতারণা দেখতে পারবে যা তারা আল-হাজূরীকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করেছে এবং তারা পরিশেষে সেই তাক্বলীদের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়েছে যার বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছে বলে দাবি করেছে – যার স্বপক্ষে তাদের নিকট বিন্দুমাত্র প্রমাণ নেই। শাইখ রাবী, শাইখ ইবনুল উসাইমীন, শাইখ আল-ফাওযান[৭] এবং অন্যান্য আলেমদের সমালোচনার দ্বারা নাস্তানাবুদ হওয়ার পর তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাক্বলীদ, ব্যক্তিপূজা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণকে বেছে নিয়েছে। একইভাবে, তারা সাহাবীদেরকে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এবং সেটি (অভিযোগ) ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আল-হাজূরীর অবলম্বনকৃত বিভিন্ন কৌশল এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সুতরাং এখানে মূল কথা হলো যে, আল-হাজূরীর বিরুদ্ধে দীনের মৌলিক বিষয় নিয়ে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত, বৈধ সমালোচনা রয়েছে এবং অসংখ্য আলেম এবং ত্বলিবুল ইলম বিভিন্ন বিষয়ের উপর তাকে খণ্ডন করেছেন। এক্ষেত্রে সে একা। তার ছাত্রদের মধ্যে যারা তার প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করে তারা ব্যতীত আহলুল ইলমদের মধ্যে কেউ তার সহযোগিতা বা সমর্থন করছেন না। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই অতি উৎসাহি ছাত্ররা দীর্ঘ সময় ধরে সংকলন করে, লেখালেখি করে, এবং সমালোচনা করে যাতে আল-হাজূরীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত প্রধান এবং গুরুতর বিষয়গুলো অস্পষ্ট এবং গোপন থাকে। আল্লাহ যেন আহলুস সুন্নাহকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং তাদেরকে হিদায়াত দেন, আমীন ।

ইয়াহইয়া আল-হাজূরী শুধু একটি কারণে মুবতাদী (বিদআতী) হয়েছে, আমাদের দশ বা শতাধিক কারণের প্রয়োজন নেই।

আল-হাজূরীর দৃষ্টিভঙ্গির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাসূল ()-এর অবমাননা, উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু), সাহাবা এবং প্রায় সমগ্র উম্মতের তাবদী [৮]

আমরা যদি শুধু যুক্তির খাতিরে মেনে নেই যে – আল-হাজূরী সম্পর্কে ত্বালিবুল ইলমগণ মিথ্যাচার করেছে এবং তার কথা বিকৃত করা হয়েছে অথবা যে বিষয়গুলোর কারণে তাকে সমালোচনা করা হয়েছে সেগুলো হতে কিছু সে স্পষ্ট করেছে বা প্রত্যাহার করেছে – তাহলে জেনে রাখুন! যদি আমরা হাজূরীদের সঙ্গে একমত হইও, তারপরেও এর কোনোটি এই সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না যে আল-হাজূরী শুধু এক, দুই বা তিনটি কারণে মুবতাদী (বিদআতী) হয়েছে। যার মধ্যে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আমলের সঙ্গে বিদাআত, মুখালাফা (বিরোধিতা) এবং দ্বলালাহ (পথভ্রষ্টতা) যুক্ত করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিদআত আল-হাজূরী এবং তার অনুসারীরা দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে যাদের উপর একই হুকুম প্রযোজ্য হয়েছে।

যেই দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে ইয়াহইয়া আল-হাজূরী দৃঢ়তার সহিত লড়াই করছে এবং তা সমর্থন করেছে সেটির উৎপত্তি হলো ইবন মুতাহহির [৯] আর-রাফিদ্বীর বক্তব্য এবং সে ইমাম মুক্ববিল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ত্রুটিপূর্ণ ইজতিহাদের উপর নির্ভর করেছে। এই ব্যাপারে তিনি (ইমাম মুক্ববিল) ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য কারণ বিষয়টি (তার জীবদ্দশায়) পর্যাপ্তভাবে বিতর্কিত এবং সমালোচিত হয়নি এবং যার উপর ভিত্তি করে তিনি এই ইজতিহাদটি করেছিলেন তা বাতিল সাব্যস্ত হয়েছে। আমরা শাইখ মুক্ববিলকে নির্দোষ বলতে পারলেও আল-হাজূরী ও তার সমর্থনকারীদের ক্ষেত্রে তা বলতে পারিনা কারণ তারা যে-সব প্রমাণ উত্থাপন করেছে তার প্রতিটি প্রমাণসহ খণ্ডন করা হয়েছে।[১০] এখন হাজূরীর অনুসারীদের নিকট কেবল তাক্বলীদ, “এই বিষয়ে খিলাফ (মতপার্থক্য) আছে”-এর মতো উক্তি এবং হিশাম আল-গাযের প্রতি বানোয়াট সহানুভূতি দেখানো ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, যার হাদীসের (যা ইবন উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে তারা দাবি করে) উপর ভিত্তি করে তারা উসমানকে অভিযুক্ত করেছে।[১১]

আল-হাজূরী তাদের মধ্যে পার্থক্য করে না যারা বিদআতের দিকে আহ্ববান করে এবং যারা বিদআতের দিকে আহ্বান করে না এবং সে তাদের সঙ্গে একই আচরণ করে

উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রথম আযানের ব্যাপারে হাজূরীর দৃষ্টিভঙ্গি জানার পূর্বে আমাদেরকে আল-হাজূরীর অন্যান্য ভ্রান্ত নীতির আলোকে তা বুঝতে হবে। “আল-ক্বাওল আল-জালী” ক্যাসেটে, আল-হাজূরী তার ছাত্রদের জিজ্ঞেস করছে: [১২]

তাদের কারো কারো বক্তব্য, যারা বিদআতীদেরকে বিদআতের দিকে আহ্বানকারী এবং আহ্বানকারী নয় এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করে, দলীল কি এই বিভক্তিকে সমর্থন করে? এটি কি সঠিক না বাতিল?

এবং তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলোচনা করার পর, সে বলেছে:

বাতিল, আল্লাহর শপথ, বাতিল, এবং আমিও এর শপথ করে বলছি, এটি বাতিল… প্রত্যেক বিদআত চর্চাকারী যার নিকট একটি বিদআত আছে তাকে তার বিদআতের দিকে আহ্বানকারী হিসেবেই গণ্য করতে হবে… । এই পৃথিবীর বুকে এমন কোনো বিদআতী পাওয়া যাবে না, কোনো বিদআতী, যার সম্পর্কে বলা হয়েছে, “কথা বা কাজ দ্বারা তার বিদআতের দিকে আহ্বান করা তার জন্য সম্ভব নয়।” দাওয়াহ (আল্লাহর দিকে আহ্বান করা) কথা এবং কাজ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, এটি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এবং এই বিভাজন বাতিল, বাতিল…এই কথা বাতিল, এটি কিছুই না বরং একটি বাতিল বিভাজন। আর আপনি যদি এটি মানতে অস্বীকৃতি জানান আর যদিও অধিকাংশই এর পক্ষে কথা বলে তারপরও আমরা একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করব এবং সেটি ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে আগ্রাসন চালাবো, আল্লাহর কসম এটি একটি বাতিল বিভাজন, হ্যাঁ… এটি একটি নিরর্থক কথা, নিরর্থক কথা। এই বিভাজন কি সঠিক?! হ্যাঁ, আমরা আহলুস সুন্নাহর কিছু লোককে এই বিভাজন সমর্থন করতে দেখেছি। কুরআন, সুন্নাহ এবং বাস্তবিক প্রমাণের ভিত্তিতে আমি এই বিভাজনের বিরুদ্ধে… বিষয়টি সূর্যের মতো স্পষ্ট, এটি একটি বাতিল বিভাজন, এই বিভাজনের (বিরুদ্ধে) একটি পর্যবেক্ষণ আছে। এটি কেবল অল্পসংখ্যক নয় বরং অধিকাংশ আলেম-ই সমর্থন করেন, তবে এই বিষয়ে একটি পর্যবেক্ষণ আছে, এটি সঠিক নয়, এটি সঠিক নয়, এটি সঠিক নয়

অর্থাৎ, কেউ তার কথা বা কাজের দ্বারা [বিদআতের দিকে] আহ্বান করুক বা না করুক, যদি সে বিদআতের উপর আমল করে তাহলে সে নির্দ্বিধায় বিদআতের দিকে আহ্বানকারী হয়ে যায়। অর্থাৎ, যদি সত্যিই আল-হাজূরী এই নীতি সমর্থন করে যেভাবে সে তা ব্যাখ্যা করেছে এবং আমরা যদি দেখি যে সে কিভাবে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর কর্মকাণ্ড বর্ণনা করেছে তখন এর অর্থ সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই নীতির আলোকে আল-হাজূরী যা বুঝাতে চেয়েছে তা হলো: উসমান (এবং আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই) ছিলেন বিদআত, দ্বলালাহ (ভ্রান্তি) এবং মুখালাফা (বিরোধিতা) এবং উম্মুল বিদআহ (বিদআতের জননী)-এর প্রতি আহ্বানকারী। আল-হাজূরী উসমানের আযান সম্পর্কে এসকল শব্দই ব্যবহার করেছে। এই কারণেই যখন আপনি শাইখ সালিহ আল-ফাওযানের নিম্নলিখিত ফাতওয়াটি পড়বেন, যখন তাকে কিছু লোকের নিম্নলিখিত উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, উসমানের এই কাজটি বিদআত হলেও আমরা তাকে বিদআতী বলি না[১৩], তখন শাইখ এই ব্যাখ্যাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং যে ব্যক্তি এই কথা বলেছে তাকে বিদআতী বলেছেন।

উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আযান সম্পর্কে ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর দাবী

আল-হাজূরীর লেখা “আহকাম আল-জুমুআহ” (দ্বিতীয় সংস্করণ, দারুল ইমাম আহমাদ, ১৪২৮ হিজরী/২০০৬ খৃষ্টাব্দ) বই থেকে তার মতামত এখানে প্রদান করা হলো:[১৪]

“আর যদি সে বলে, ‘এটি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর হিদায়াতের অন্তর্ভুক্ত’, তাহলে সে চরম মিথ্যাবাদী এবং সে মুসলিমদের মাঝে এমন কোনো আলেম খুঁজে পাবে না যিনি এই জঘন্য মিথ্যার উপর তার সঙ্গে একমত হবে। আর যদি (কোনো ব্যক্তি বলে) যেমনটি উম্মতের সকল আলেম বলেছেন: এটি [অর্থাৎ উসমানের আযান] বিদআত যা ইসলামের আলেমদের দ্বারা সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত[১৫], তাহলে আমরা তাকে বলি: তুমি কি দেখো না যে হাদীসের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে তোমাদের সকলকে সতর্ক করে দিচ্ছেন, আর তিনি বলেছেন সেগুলো গোমরাহী?” (পৃ. ২৪৯-২৫০)।[১৬]

“উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তার আমলের দ্বারা নবী (ﷺ)-এর আমল বিষয়ক একটি স্পষ্ট দলীলের বিরোধিতা করেছেন, কারণ তিনি এই আযানের বৈধতা দেননি।” (পৃ. ২৫৭)।

“আর সেই মূল বিদআত থেকে এই বিদআত অর্থাৎ প্রথম আযানের বিদআতের উৎপত্তি হয়েছে।” (পৃ. ৪১৫)।

“প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যে ব্যক্তি তার (অর্থাৎ উসমান) অনুসরণ করেছে, সে বিদআতী হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর দুই সাহাবী (অর্থাৎ, আবূ বকর এবং উমর)-এর সুন্নাতের বিরোধিতা করার জন্য তার কোনো ওজর গ্রহণযোগ্য হবে না।” (পৃ. ৪৫১)

এছাড়াও, আল-হাজূরী তাদের সঙ্গে উপহাস ও বিদ্রুপ করে কথা বলেছে যারা তার মতামতের বিরোধিতা করেছে । সে বলেছে, ‘কিছু ঘোর বিরোধী (মু‘আনিদিন) আছে যারা বলে…’ (পৃ. ২৫০, পৃ. ৪৫০), এবং ‘তাদের ক্ষেত্রে যারা অন্ধ…’ (পৃ. ২৫৩)। আল-হাজূরীর অনুসারীরা এসব দাবি বছরের পর বছর দৃঢ়তার সহিত উত্থাপন করেছে এবং শক্তভাবে সমর্থন করেছে। তারা জানে এর দ্বারা সাহাবা এবং উম্মতের ইজমা (ঐকমত্য)-এর বিরোধিতা করা হচ্ছে, যা আরও প্রমাণ করে যে হিদায়াত তাদের নিকট স্পষ্ট হওয়া পর এবং তা ব্যাখ্যা করার পরও তারা গোমরাহীর পথ বেছে নিয়েছে।

যখন আমরা এই দু’টি বিষয় একত্রিত করি অর্থাৎ (প্রথমত) আল-হাজূরী তাদের মধ্যে পার্থক্য করে না যারা বিদআতের দিকে আহ্বান করে এবং যারা বিদআতের দিকে আহ্বান করে না এবং সে মনে করে কেউ বিদআতের উপর আমল করলে সে বিদআতী হয়ে যায়, আর দ্বিতীয়ত, উসমান তার আমলের দ্বারা উম্মতের মাঝে একটি বিদআত চালু করেছেন এবং তা প্রচার করেছেন, তখন এর দ্বারা উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বিদআতী বলার (তাবদী) বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং উসমানকে বিদআতী না বলার ক্ষেত্রে তোমার যুদ্ধ নিছক একটি ধোঁকা, কারণ যদি তুমি তোমার নীতির উপর অটল থাকো যা তুমি এতো শক্তভাবে অনুসরণ করো এবং তা সাধারণভাবে প্রয়োগ করো, তাহলে তুমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে যে উসমান বিদআতী ছিলেন এবং শুধু তাই নয়, সাহাবীরাও পথভ্রষ্ট ছিলেন কারণ তারা এই বিদআতকে সমর্থন করেছেন। আল-হাজূরীর ব্যাখ্যা উপরিউক্ত বিষয়গুলোকে অপরিহার্য করে দেয়। একারণে শাইখ আল-ফাওযান স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তারা উসমানকে বিদআতী বলতে চায় এবং একই কারণে শাইখ ইবনুল উসাইমীন বলেছেন, যে ব্যক্তি এই আযানকে গর্হিত বিদআত বলবে সে নবী (ﷺ), খলিফা এবং সাহাবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর তিরস্কারকারী বলে গণ্য হবে।[১৭]

ইজমা (ঐক্যমত্য)-এর মিথ্যা দাবি সম্পর্কে আল-হাজূরীর খণ্ডন

ইয়াহইয়া আল-হাজূরী তার মিথ্যাচারকে অস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে, কারণ সে এমনসব উক্তি এবং বর্ণনা ব্যবহার করেছে যা ইঙ্গিত করে যে শাব্দিক অর্থে উসমানের আযান প্রবর্তিত এবং নব উদ্ভাবিত – যা ঐতিহাসিক এবং বাস্তবিকভাবে সঠিক – তবে সে সেগুলোর সঙ্গে তার নিজস্ব মতামত মিশিয়ে দিয়েছে এবং উসমানের আমলকে বিদআত বলার জন্য তাতে শারঈ অর্থ জুড়ে দিয়েছে। তারপর সে দাবি করেছে যে এই বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) আছে, যার মাধ্যমে সে এটা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে যে শারঈ ও গর্হিত অর্থে শব্দটির বিদআত হওয়ার ব্যাপারে ইজমা (ঐকমত্য) আছে। এটি মিথ্যা, কারণ উসমানের আযান গ্রহণযোগ্য এবং বৈধ হওয়ার ইজমা বহু আলেমদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর বিপরীতে উসমানের আমলটি দীনের ভিতর একটি গর্হিত বিদআত হওয়ার স্বপক্ষে ইয়াহইয়া আল-হাজূরী কোনো ইজমা (ঐকমত্য)-এর  উদ্ধৃতি দিতে পারেনি।

সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “সুতরাং উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) জুমুআর তৃতীয় আযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এর উপরই সুন্নাহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তাই যখন থেকে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন থেকে এই আযানটি জুমুআর দিন ব্যতীত অন্য কোনও দিন দেওয়া হয়নি।” [১৮] 

ইবনুল মুনযির বলেছেন, “যখন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, উসমান বিন আফ্ফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তৃতীয় আযানের নির্দেশ দিলেন এবং এটি ছিল প্রথম আযান যা তিনি যাওয়ালের সময় (জুমুআর ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথে) চালু করেছিলেন এবং মুহাজির ও আনসারগণ তখন উপস্থিত ছিলেন এবং আমার জানা মতে তাদের কেউই এর বিরোধিতা করেননি এবং এই উম্মত তখন থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত এই আযানের উপর অবিচল রয়েছে।”[১৯]

ইবন ক্বুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “আর প্রথম আযান ওয়াক্তের শুরুতে দেওয়া বৈধ কারণ উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এটিকে বৈধতা দিয়েছিলেন এবং তাঁর পরবর্তীতে এই উম্মত এর উপর আমল করেছে এবং এটি ওয়াক্ত সম্পর্কে অবগত করার জন্য বৈধ এবং দ্বিতীয়টি খুতবা সম্পর্কে অবগত করার জন্য এবং [জুমুআর] সালাত প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইক্বামত [হিসেবে  দেওয়া বৈধ]।”[২০] 

ইবন তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “আর এই বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে: যখন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এই আযান প্রবর্তন করেছিলেন এবং মুসলিমরা তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছিলেন, তখন এটি একটি শরীয়তসম্মত আযান হিসেবে গণ্য হয়েছিল।” তিনি আরও বলেছেন, “আর যখন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) প্রথম আযান প্রবর্তন করেছিলেন তখন তাঁর পরবর্তীতে বিভিন্ন লোকজন, চার মাযহাবের অনুসারীগণ এবং অন্যান্যরা তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছিলেন, যেমনিভাবে তারা রামাদান মাসে এক ইমামের পিছনে মানুষকে একত্রিত করার বিষয়ে উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সঙ্গে একমত হয়েছিলেন।”[২২] 

সহীহুল বুখারীর ব্যাখ্যায় আল-কিরমানী বলেছেন, “আর যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন যে এটি কিভাবে প্রণীত হয়েছিল? আমি বলি: উসমানের ইজতিহাদ এবং উপস্থিত সকল সাহাবীগণের মৌন সম্মতির ভিত্তিতে সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যেখানে বিরোধিতার লেশমাত্র ছিল না আর এভাবেই এটি মৌন সম্মতির মাধ্যমে একটি ঐকমত্যে (ইজমা) পরিণত হয়েছিল।”[২৩]

ইবন রজব আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,  “এবং হারব, ইসহাক বিন রাহুইয়াহ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে, জুমুআর প্রথম আযান প্রবর্তন করা হয়েছিল, এটি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে মুয়াজ্জিনদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে আযান শোনা সম্ভব হবে এবং দূরবর্তী এলাকায় অবস্থানকৃত লোকেরা তা (জুমুআর ওয়াক্ত সম্পর্কে) জানতে পারবে আর এভাবে এটি একটি সুন্নাতে পরিণত হয়েছিল, কারণ মানুষের (উপকারের) জন্য এধরণের বিষয় পর্যালোচনা করা খলিফাদের জন্য ওয়াজিব।”[২৪] আর ইবন রজব পরবর্তীতে বলেছেন (পৃ. ২৩১): “এবং আল-বুখারীর বর্ণনায় তার বক্তব্য, ‘আর বিষয়টি এভাবেই এর উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল’, ইঙ্গিত করে যে এটি তখনই হয়েছিল যখন উসমান এটির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি অব্যাহত ছিল এবং পরবর্তীতে পরিত্যক্ত হয়নি। আর এটি প্রমাণ করে যে আলী এর উপর অটল ছিলেন এবং তিনি তা বাতিল করেননি, কারণ হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের মধ্যে দু‘জন এর বাস্তবায়নের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন, আল্লাহ যেন তাদের সকলের উপর সন্তুষ্ট হন ।”

 শাইখ আবা বুতাইন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “আর সাহাবা, ইমাম ও তাবেঈনগণের যেসব কাজকে বিদআত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, সেটি মূলত শাব্দিকঅর্থে বিদআত, যেমনটি তারাবীর সালাতের ক্ষেত্রে উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি, “এটি কতই না উত্তম বিদআত”, এবং জুমুআর দিনে উসমান ও সাহাবীগণের প্রবর্তনকৃত প্রথম আযানও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুতরাং এটি “প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহী” এই উক্তির অন্তর্ভুক্ত নয় কারণ এটির (উসমানের আযান) শারঈ ভিত্তি রয়েছে। এটি খলিফাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং তাদের একটি সুন্নাহ রয়েছে যা অনুসরণ করা ওয়াজিব। এর প্রমাণ হলো তাঁর (ﷺ)-এর এই বাণী, ‘তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তীতে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহর অনুসরণ করবে’।”[২৫]

 শাইখ ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “আর এই কারণেই, সাহাবীগণ তাঁর (উসমান) যুগে তাঁর (অর্থাৎ উসমানের প্রবর্তিত আযান) গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর পরবর্তীতে মুসলিমগণ এর উপর আমল করেছেন… যেমনটি উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) রামাদান মাসে তারাবীর সালাতে এক ইমামের পিছনে লোকদের একত্রিত করার মাধ্যমে করেছিলেন।”[২৬]

সুন্নাহর আলেমদের নিকট হতে আরও বিশদ ব্যাখ্যা

শাইখ ইবন বায, শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুদাইয়ান এবং শাইখ আব্দুর-রাজ্জাক আল-আফীফী (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর ফাতওয়ায় বলা হয়েছে, “এটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহর অনুসরণ করবে, তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে তা কামড়ে ধরবে’ থেকে হাদীসের শেষ পর্যন্ত। আর নবী (ﷺ), আবূ বকর এবং উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগে জুমুআর দিন প্রথম আযান তখনই দেওয়া হতো যখন ইমাম মিম্বরের উপর বসতেন। তারপর যখন উসমানের খিলাফতের সূচনা হলো এবং মানুষের (সংখ্যা) বৃদ্ধি পেল, তখন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) প্রথম আযানের নির্দেশ দিলেন যা মোটেও কোনো বিদআত ছিল না কারণ হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের অনুসরণ করার আদেশ নবী ()-এর নিকট হতে ইতোমধ্যে সাব্যস্ত হয়েছে। এবং এর ভিত্তি হলো আল-বুখারী,আন-নাসাঈ, আত-তিরমিযী, ইবন মাজাহ এবং আবু দাউদ যা বর্ণনা করেছেন এবং কথাটি তাঁর নিকট হতে প্রমাণিত হয়েছে, “ইবন শিহাব থেকে: আস-সা‘ইব বিন ইয়াযীদ আমাকে জানিয়েছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু বকর ও উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগে প্রথম আযান তখনই দেওয়া হতো যখন ইমাম  জুমুআর দিন মিম্বরে বসতেন। যখন উসমানের খিলাফতের সময় লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, উসমান তৃতীয় আযানের নির্দেশ দিলেন। তারপর এই আযানটি আয-যূরা (আল-মদীনার একটি বাজার) থেকে দেওয়া হলো। এরপর থেকে বিষয়টি এভাবেই প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।” আল-কাসতালানী আল-বুখারীর ব্যাখ্যায় এই হাদীসের উপর মন্তব্য করে বলেছেন: “উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) যেই আযানটি প্রবর্তন করেছিলেন তা যাওয়ালের সময় (জুমুআর ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথে) দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি এটিকে ‘তৃতীয়’ (আযান) বলেছেন কারণ এটি ইমামের আগমনের সময় দেওয়া আযান এবং সালাতের ইক্বামত ব্যতীত একটি অতিরিক্ত (আযান) ছিল। আর ইক্বামতকে মূলত “আযান” বলা হয়েছে কারণ উভয়ই মানুষকে অবহিত করার মাধ্যম ছিল। এবং মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধিই ছিল এই (তৃতীয়) আযান প্রবর্তন করার কারণ, সুতরাং তিনি (উসমান) তার ইজতিহাদ থেকে এটি প্রবর্তন করেছিলেন। এবং তাঁর প্রতি সকল সাহাবীদের মৌন সম্মতি এবং বিরোধিতার অনুপস্থিতি বিষয়টিকে এক প্রকার মৌন-ঐকমত্যে পরিণত করেছিল। ওয়া বিল্লাহিত-তাওফীক্ব, এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সাহাবীদের উপর দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।”[২৭]

ইবন তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যটি আল-হাজূরীর দৃষ্টিভঙ্গিকে খণ্ডন করে, যেমনটি মাজমু আল-ফাতাওয়া (২১/৩১৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, “আর তিনি (ﷺ) সেই হাদীসে বলেছেন যা সুনানের লেখকগণ এবং আত-তিরমিযীসহ অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন:

‘তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তীতে  হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহ অনুসরণ করবে, তা শক্তভাবে ধারণ করবে এবং তা তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে এবং নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে সাবধান থাকবে, কারণ প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহী।’

সুতরাং সঠিক পথপ্রাপ্ত খলিফাগণ যা-ই প্রতিষ্ঠা করেছেন তা শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে সেই বিদআত বলে গণ্য হবে না যার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যদিও শাব্দিক অর্থে এটিকে ‘বিদআত’ বলা হয়েছে যেহেতু পূর্বে এর অস্তিত্ব ছিল না। যেমনটি উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন, ‘এটি কতই না উত্তম বিদআত।’ এবং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যত্র বলেছেন (৩২/৩৪৭), “কেননা যখন অন্যান্যরা (কোনো বিষয়ে) হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের বিরোধিতা করবে, তখন তাদের (হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের) কথাই প্রাধান্য পাবে কারণ নবী (ﷺ) বলেছেন:

‘তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তীতে আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহ অনুসরণ করবে। তা শক্তভাবে ধারণ করবে এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে। আর নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে সাবধান থাকবে, কারণ প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহী’।”

ইমাম আল-আলবানীর দৃষ্টিভঙ্গি আল-হাজূরী কর্তৃক উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিন্দাকে সমর্থন করে না

শাইখ আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর “আল-আজওয়িবাহ আল-নাফিয়াহ ‘আন আসইলাহ লাজনাহ মাসজিদ আল-জামি‘আহ” (গ্র্যান্ড মসজিদ কমিটির প্রশ্নসমূহের উপকারী উত্তর) বইয়ে ব্যাখ্যা করেছেন যে উসমানের আযান একটি যুক্তিসংগত কারণেই প্রবর্তন করা হয়েছিল এবং যেখানেই এই কারণ পাওয়া যাবে সেখানে উসমানের আযান বৈধ হবে। শাইখ এই কথাটি অস্বীকার করেননি যে এই আযান সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তিনি তাদের সমালোচনা করেছেন যারা বর্তমান যুগে এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে না। প্রয়োজনে এই আযান কোথায় দিতে হবে সে-প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, “হ্যাঁ, আমরা সেনানিবাসের বাইরের প্রবেশপথ থেকে উসমানের এই (অতিরিক্ত) আযান না (দেওয়ার) কোনো কারণ দেখি না কারণ সেটি পথচারীরা শুনতে পায় এবং তাদের অবহিত করে যে সেনানিবাসের ভিতরে একটি মসজিদ আছে যেখানে সালাত আদায় করা হয় যার কারণে তারা সেখানে যাওয়ার সু্যোগ পায় এবং তারা রাস্তার সংলগ্নে থাকা বাড়ির লোকজনদের মতোই সেখানে সালাত আদায় করতে পারে। তবে দু’টি আযানের মধ্যে অল্প সময়ের ব্যবধান থাকা বাঞ্ছনীয়, কারণ যাওয়াল (সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়া)-এর পরপরই খুতবা আরম্ভ করা সুন্নাহ।”[২৮]

এটি প্রমাণ করে যে, উসূলের আলোকে ইমাম আল-আলবানী এই আযানকে গর্হিত বিদআত হিসেবে গণ্য করেননি – যা ইবন মুতাহহির আল-রাফিদ্বী এবং ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর দাবির বিপরীত।

ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস সম্পর্কে হাজূরীর অনুসারীদের বিভিন্ন প্রতারণা

হাজূরীর অনুসারীরা মূলত ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি বর্ণনার উপর নির্ভর করেছে যেখানে তিনি একটি আযানকে (এর প্রেক্ষাপট স্পষ্ট না করে) বিদআত বলেছেন। ইবন আবী শায়বা তার মুসান্নাফ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: শাবাবা আমাদের নিকট হিশাম বিন আল-গায থেকে নাফি থেকে ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “জুমুআর দিনের প্রথম আযান একটি বিদআত।”[৩০] তারা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আমলের সঙ্গে বিদআতকে যুক্ত করার জন্য এই বক্তব্য নিয়ে কঠিন লড়াই করেছে। এই বক্তব্য সম্পর্কে তাদের কিছু গুরুতর প্রতারণা এখানে প্রদান করা হলো:[৩১]

[০১] যদি ধরে নেওয়া হয় এটি বিশুদ্ধ, ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কেবল “প্রথম আযান”-এর কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেটি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আযান কিনা তা উল্লেখ করেননি। সম্ভবত তিনি অন্য কোনো আযানের কথা বলছিলেন। এটি বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে তিনি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের সময়, আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের সময় এবং তার পরবর্তীতেও তিনি [ইবন উমর] নিজেই  এই আযান প্রত্যাখ্যান করেননি। উল্লিখিত বর্ণনার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করে দেয় যে, ইবন উমর একজন সিরীয় ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন, এবং হতে পারে সেটি অন্য কোনও আযানের সাথে সম্পর্কিত ।[৩২]

[০২] এই বর্ণনাটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য, তারা দাবি করে এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যদিও এটি ইবন আবী শায়বা তার মুসান্নাফে বর্ণনা করেছেন এবং এই বর্ণনাটি ইবন রজব এবং আল-জাসসাসের ওয়াকি‘ নামের গ্রন্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর সঙ্গে এটি সম্পৃক্ত নয়। উপরিউক্ত বিষয়টিকে সাহাবীদের সেই বিরোধিতার সঙ্গে তুলনা করুন যা তারা মিনায় উসমানের চার রাকাত সালাতের ক্ষেত্রে করেছিলেন, যা সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সুবিদিত। আপনি ভাবুন যে প্রতি সপ্তাহে সবার সামনে প্রকাশ্যে জুমুআর আযান পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে। যদি সাহাবীরা এটি প্রত্যাখ্যান করতেন, তাহলে এটি জোরালো এবং বহুল প্রচারিত হতো। কিন্তু এই রীতি অব্যাহত থাকল, সুতরাং যদি এই রীতির নিন্দা করা হতো তাহলে আমরা ধারাবাহিক সূত্রে সে-সম্পর্কে জানতে পারতাম। কিন্তু আমরা এসম্পর্কিত কোনো তথ্য পাই না অথচ বর্ণনাটি সুবিদিত বলে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য হাজূরীর অনুসারীরা এই বর্ণনার তাখরীজ (উৎস) সম্পর্কে মিথ্যাচার করছে।

[০৩] উল্লিখিত তথ্যের আলোকে, এই বর্ণনাটি তাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা যারা কস্মিনকালেও সেটি বর্ণনা করেনি, যেমন ইবন আবী হাতিম, আব্দুর রাজ্জাকের মুসান্নাফ এবং আল-দারিমীর আস-সুনান। এসবের মূল উদ্দেশ্য হলো এই বর্ণনাটিকে বাস্তবের চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য এবং বহুল প্রচলিত বলে প্রদর্শন করা।

[০৪] তাদের দাবি যে হিশাম বিন আল-গায এর একমাত্র বর্ণনাকারী নন এবং তারা অন্যান্য বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করে। তবে সেই বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় উসমানের আযানকে বিদআত বলার কোনও উল্লেখ নেই।[৩৩] বরং, তারা তিনটি ভিন্ন বর্ণনার মাঝে মিশ্রণ ঘটিয়েছে:

[০৫] প্রথমটি হলো: ইবন উমরের বক্তব্য, “প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহী যদিও মানুষ সেটি ভালো মনে করে।” এটি হিশাম বিন আল-গায, নাফি থেকে ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি আল-মারওয়াযী (আল-সুন্নাহ), ইবন বাত্তাহ (আল-ইবানাহ আল-কুবরা), আল-বায়হাক্বী (আল-মাদখাল), আল-লালাকায়ী (শারহ উসূলিল-ইতিক্বাদ), আবূ শামা (আল-বা’ইস) এবং আল-হারাওয়ী (যাম্মুল-কালাম) বর্ণনা করেছেন।  হাজূরীদের প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত হলো এই বর্ণনাটিকে অপর একটি বর্ণনার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া অতঃপর দাবি করা যে, এই ছয়টি উৎসই উসমানের আযানের বিদআতের ধরণ প্রতিষ্ঠা করে যদিও এই বর্ণনাগুলোর কোনোটিতে এই আযানের উল্লেখ পাওয়া যায় না এবং এই উক্তিটি নির্ভরযোগ্য নয়।

[০৬] দ্বিতীয়টি হলো: জুমুআর আযান বিদআত হওয়ার ব্যাপারে ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হিশাম বিন আল-গাযের মাধ্যমে যে অস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে, যেটি ইবন আবী শায়বা বর্ণনা করেছেন। এবং এখানে, হিশাম বিন আল-গায একমাত্র নাফি থেকে সেটি বর্ণনা করেছেন। সালাফদের নিকট হতে এমন কোনো উক্তি পাওয়া যায় না যা নির্দিষ্টভাবে উসমানের আযানকে বিদআত  সাব্যস্ত করে, এমনকি হাজূরীর অনুসারীরা যে বর্ণনার উপর নির্ভর করে সেখানে নির্দিষ্টভাবে উসমানের আযানের উল্লেখ নেই। বরং, এখানে শুধু জুমুআর “প্রথম আযান”-এর কথা উল্লেখ রয়েছে এবং এটির ব্যাখ্যাযোগ্য প্রেক্ষাপট রয়েছে। যদি আমরা এই বর্ণনাটি সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য বলে ধরে নেই, তাহলে এর দু’টি ব্যাখ্যা থাকতে পারে। প্রথমত, এখানে বিদআত শব্দটি তার ভাষাগত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে শারঈ অর্থে নয়। সুতরাং এটি এমন বিদআত নয় যা শরীয়ত কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত, বরং তা এমন একটি কাজের বাস্তবিক বর্ণনা যা আগে করা হয়নি বরং নতুনভাবে প্রবর্তন করা হয়েছে। এটি কেবল ভাষাগত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।[৩৪] দ্বিতীয়ত, ইবন উমর সম্ভবত উসমানের আযানের কথা বলেননি বরং আযানের সাথে সম্পর্কিত পরবর্তী ঘটনাবলী, আযানের পদ্ধতি বা অনুরূপ বিষয়ে লোকেদের উদ্ভাবনকৃত বিদআত সম্পর্কে কথা বলেছেন। এবং (ইবন উমরের) এই বর্ণনাটি উসমানের আযান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে উসমান এবং সাহাবীদেরকে সাধারণভাবে দোষারোপ করার জন্য ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যেমনটি রাফিদ্বীরা করেছে।

[০৭] তৃতীয়টি হলো: হিশাম বিন আল-গায থেকে ওয়াকি‘র একটি বর্ণনা, যিনি বলেছেন, “যখন আমি নাফি‘কে জুমুআর প্রথম আযান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তিনি বলেছিলেন, ইবন উমর বলেছেন: এটি একটি বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহী, যদিও লোকেরা তা ভালো মনে করে।” এই বর্ণনাটি কেউই প্রকাশিত কোনও গ্রন্থে উল্লেখ করেননি তবে এটিকে ওয়াকি‘র একটি গ্রন্থের সঙ্গে ইবন রজব এবং আল-জাসসাস সম্পর্কযুক্ত করেছেন। সম্ভবত এটি ওয়াকি‘র গ্রন্থে উল্লেখ ছিল অথবা ইবন রজব এবং আল-জাসসাস দুটি পৃথক বর্ণনাকে একত্রিত করেছিলেন। ইবন আবী শায়বা এবং মুহাম্মাদ বিন নাসর (আল-মারওয়াযী) উভয়েই ওয়াকি‘ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তারা কেউই তা এইভাবে উল্লেখ করেননি।

[০৮] উল্লিখিত বিষয়গুলো নির্দেশ করে যে এই বর্ণনাটি সমস্যাযুক্ত। তবে, যদি আমরা একে নির্ভরযোগ্য বলে ধরেও নেই তাহলে এর অপর একটি ব্যাখ্যা রয়েছে আর তা হলো এটি হিশাম বিন আব্দুল মালিকের প্রবর্তিত সেই আযান যা তিনি (মসজিদের বাইরের দেওয়ার পরিবর্তে) ইমাম বা মিম্বরের সামনে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইমাম আল-শাতিবীর উদ্ধৃতি দিয়ে ইমাম আল-আলবানী এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, “ইবন রুশদ বলেছেন: জুমুআর দিন ইমামের সামনে আযান দেওয়া অপছন্দনীয় কেননা এটি বিদআত (মুহদাস) এবং এটি সর্বপ্রথম হিশাম বিন আব্দুল মালিক প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি আল-জুরা’র আযান আল-মুশাররাফাতে এবং আল-মুশাররাফাত-এর আযান ইমামের সামনে (মসজিদের ভিতরে) স্থানান্তরিত করেছিলেন।[৩৫] তারপর থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের খলিফারা তার অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেছেন: “এবং এটি বিদআত, [কিন্তু] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর পরবর্তীতে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাগণ যা করেছেন তা সুন্নাহ।” এবং ইবন আল-হাবীব বলেছেন, ইমাম মিম্বরে আরোহণ করার সময় যে আযানটি দেওয়া হতো তা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময় চলমান ছিল, যা সহীহ হাদীসের বিশারদগণের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং পূর্বে যা চলমান ছিল তার সঙ্গে উসমান আয-যূরা’র আযান ব্যতীত আর কিছুই যোগ করেননি। সুতরাং, হিশাম বিন আব্দুল মালিকের দ্বারা (শরীয়ত কর্তৃক) নির্ধারিত আযানটি [মসজিদের] মিনার থেকে ইমামের সামনে স্থানান্তরিত করার বিষয়টি শরীয়তের নির্ধারিত বিষয়ের ভিতরে একটি বিদআত ছিল।”[৩৬]

[০৯] উল্লিখিত বিষয় থেকে হাজূরীর অনুসারীদের ভুলত্রুটি পরিষ্কার হয়েছে এবং সুস্পষ্ট হয়েছে এবং তারা আলেমদের ঐকমত্য ভুলভাবে গ্রহণ করেছে অতঃপর তারা বলেছে যে এর পূর্বে নবী (ﷺ), আবূ বকর এবং উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উসমানের আযানের অনুসরণ করেননি এবং তারা ভুলভাবে এটিকে বিদআত শব্দের গর্হিত এবং শারঈ অর্থে গ্রহণ করেছে। তারপর তারা এমন একটি বর্ণনার উপর নির্ভর করেছে যা ইবন উমর থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়নি আর যদি তা হয়েও থাকে, তবে এর দু’টি স্বতন্ত্র ব্যাখ্যা রয়েছে। ইবন উমর হয় বিদআত শব্দটিকে শাব্দিকঅর্থে ব্যবহার করেছেন, যেমনটি তারাবীর সালাতের ক্ষেত্রে তার পিতা উমর করেছিলেন, অথবা তিনি হিশাম বিন আব্দুল মালিকের কর্মকাণ্ডকে পূর্ববর্তী মূল আযানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করার মাধ্যমে তা উল্লেখ করেছেন যা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। তারপর এই বর্ণনাটি শক্তিশালী করার জন্য তারা এই বর্ণনা এবং বর্ণনাকারী হিশাম বিন আল-গাযকে নিয়ে তাদের হাদ্দাদী নেতার মতো বিভিন্ন রকমের ধোঁকা এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।[৩৭]

[১০] যখন এই সন্দেহযুক্ত বর্ণনার সঙ্গে হাজূরীদের সম্পৃক্ততা বাতিল প্রমাণিত হলো, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আযানের বৈধতা সত্যায়নকারী স্পষ্ট ইজমা (ঐকমত্য) পরিত্যাগ করার বিষয়টি জানা হলো, ইমাম ইবন বায, ইমাম আল-আলবানী, ইমাম ইবনুল উসাইমীন, শাইখ রাবী ইবন হাদী, শাইখ সালিহ আল-ফাওযানের মতো বর্তমান যুগের সকল প্রধান সালাফী আলেমদের প্রতি তাদের বিরোধিতা স্পষ্ট হলো, এবং যে-সব সুন্নী আলেমদের ভুল স্পষ্ট হয়েছে তাদের তাক্বলীদ করা তাদের জন্য আর বৈধ থাকছে না, এরপরও তারা উসমানের আমলকে বিদআত বলেছে, তখন স্পষ্টতই তাদের নিকট শুধু ইবন মুতাহহির আর-রাফিদ্বী[৩৮] এবং রাফিদ্বীদের (যারা সাহাবীদের আক্রমণ করার জন্য উসমানের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম এই অপবাদ দিয়েছিল) তাক্বলীদ করার মতো লজ্জাজনক পন্থা ব্যতীত কিছু অবশিষ্ট থাকছে না! আল্লাহুল মুস্তাআন, কিভাবে প্রবৃত্তি অন্তরকে অন্ধ বানিয়ে দেয়!

ইবন উমর এবং বর্ণনাকারী হিশাম বিন আল-গাযের বর্ণনা সম্পর্কে শাইখ রাবী বিন হাদী (রাহিমাহুল্লাহ)

এই অংশে আমরা শাইখ রাবীর আয-যাব্ব আনিল-খালিফাহ আর-রাশিদ, উসমান (তৃতীয় খলিফা উসমানের প্রতিরক্ষা প্রসঙ্গে) শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃতি দিব, শাইখ লিখেছেন:

(জুমুআর) প্রথম আযান বিদআত হওয়া প্রসঙ্গে যে বক্তব্য রয়েছে যেটি হিশাম বিন আল-গাযকে ঘিরে আবর্তীত হয়েছে আর তিনি হিফয (মুখস্থ) এবং ইতক্বান (নির্ভুলতা)-এর জন্য সুপরিচিত ছিলেন না। যদিও হাদীস শাস্ত্রের কোনো কোনো আলেম যেমন ইয়াহইয়া বিন মাঈন, দুহাইম এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার তাকে সিক্বাহ (বিশ্বস্ত) বলে আখ্যায়িত করেছেন, তবে সঠিক কথা হলো তিনি “সালিহ” ব্যক্তি, যেমনটি ইমাম আহমাদ বলেছেন এবং ইবন মাঈন তার সম্পর্কে আরেকটি বক্তব্য দিয়েছেন যেখানে তিনি বলেছেন, “তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (লা বা’সা বিহী)।” আর একারণে আয-যাহাবী তার সম্পর্কে বলেছেন, “তিনি সাদূক্ব (সত্যবাদী)।” আর তার সম্পর্কে আল-হাফিয ইবন হাজারের বক্তব্য: “তিনি সিক্বাহ (বিশ্বস্ত)” পর্যালোচনার দাবি রাখে। আর তার হাদীস সম্পর্কে এটি বলা যাবে না যে তা সহীহ অথবা হাসান কেননা এই শ্রেণির বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে তা সমীচীন নয়।

আমার নিকট স্পষ্টতই মনে হয় যে নাফি থেকে তার (হিশামের) বর্ণনাটি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) কারণ নাফি’র অসংখ্য সহচরদের তুলনায় তিনি (হিশাম বিন আল-গায) বিরল যেখানে তার শহর আল-মদীনা আন-নববীর সর্বোত্তম ব্যক্তিগণ তার (নাফি) সহচরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার (নাফি) নিকট হতে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

তার পুত্র, আবূ উমর, উমর এবং আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ বিন দীনার, সালিহ বিন কাইসান, আব্দ রাব্বিহী এবং ইয়াহইয়া – সাঈদ আল-আনসারীর দুই পুত্র। আর ইউনুস বিন উবাইদ, ইয়াযীদ বিন আবী হাবীব, আবূ ইসহাক্ব আস-সুবাই, আয-যুহরী, মুসা বিন উক্ববাহ, মাইমূন বিন মাহরান, ইবন আজলান, আইয়্যূব আস-সাখতিয়ানী, জারীর বিন হাযিম, আল-হাকাম বিন উতায়বাহ, সাদ বিন ইবরাহীম, আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবী হিন্দ, উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-উমরী এবং তার ভাই আব্দুল্লাহ। এবং ইবন জুরাইজ, আল-আওযায়ী, ইবন ইসহাক, আব্দুল কারীম আল-জাযারী, আতা আল-খুরাসানী, লাইস ইবন আবী সালিম, মুহাম্মাদ ইবন সাওক্বাহ, হিশাম ইবন সাদ, মাতার আল-ওয়াররাক্ব, মালিক বিন আনাস, ইসমাঈল বিন উমাইয়া, উসামাহ বিন যাইদ আল-লাইসী, ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন উক্ববা, আইয়্যূব বিন মূসা আল-কুরাশী, বুকাইর বিন আবদুল্লাহ বিন আসহাজ, ইয়া’লা বিন হাকীম, জুওয়াইরিয়াহ বিন আসমা, আবূ সাখর হামীদ বিন যিয়াদ, হানযালাহ বিন আবী সুফিয়ান, রাক্বাবাহ বিন মুসাক্কালাহ, সাঈদ বিন হিলাল, সাখর বিন জুওয়াইরিয়া, আল-দাহহাক বিন উসমান, আব্দুল আযীয বিন উমর বিন আব্দুল আযীয, উবাইদুল্লাহ বিন আবী জাফার, উমর ইবন যাইদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উমর, ঈসা ইবন হাফস ইবন আসিম ইবন উমর ইবন আল-খাত্ত্বাব, ইউনুস ইবন ইয়াযীদ, ফুলাইহ ইবন সুলাইমান, কাসীর বিন ফারক্বাদ, আল-ওয়ালীদ বিন কাসীর, শুআইব বিন আবী হামযাহ, আল-লাইস বিন সাদ এবং আরও অনেকে।” দেখুন: তাহযীব আত-তাহযীব (১০/১৪৩)

অতএব, হিশাম বিন আল-গাযকে এই বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারীর মধ্য থেকে শুধু নাফির বর্ণনাকারী হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার (নাফির) পুত্রদ্বয় এবং মদীনার প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ তার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন  কিন্তু এই উদ্ভট বর্ণনাটি তাদের কারও নিকট হতে বর্ণিত হয়নি। তাছাড়া (এটি সত্য) যে তার (ইবন উমর) নিকট হতে (বর্ণনাকারী ব্যক্তি) হিশাম বিন আল-গায মদীনার অধিবাসী ছিলেন না। বরং, তিনি আগন্তুক ছিলেন, তিনি মূলত দামেস্কের অধিবাসী ছিলেন, তারপর তিনি বাগদাদে বসবাস করেছেন তারপর আবূ জাফর আল-মানসূরের বাইতুল মালের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। যখন বর্ণনাকারীর অবস্থা এরকম তখন এই ধরণের হাদীস মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) বলে বিবেচিত হয়।

এবং ইমাম মুসলিম তার গ্রন্থের ভূমিকায় (পৃ. ৭) বলেছেন, “যেহেতু ‎আহলুল ইলমদের ফাতওয়া এবং আমরা তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে যা জানি তা হলো, যদি একজন মুহাদ্দিস  কোনো হাদীস একা বর্ণনা করেন (অর্থাৎ অন্য কেউ ঐ হাদিস বর্ণনা করেনি), তাহলে সেটি তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন সে নির্ভরযোগ্য হাফিয ও আলেমদের সঙ্গে কিছু বর্ণনায় অংশগ্রহণ করবে এবং তাদের বর্ণনায় তাদের সঙ্গে মিল রাখার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবে। যখন এটি প্রমাণিত হবে যে, সে (বর্ণনায়) তাদের সঙ্গে একমত হয়েছে, এরপর যদি সে এমন কোনো (زيادة) অতিরিক্ত বর্ণনা করে যা তার সাথীদের নিকট নেই তখন তার এই অতিরিক্ত বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য হবে।

আর যে ব্যক্তিকে আপনি আয-যুহরীর মতো প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের প্রতি মনোনিবেশ করতে দেখেন যার অগণিত ছাত্র রয়েছে যারা তার এবং অন্যান্যেদের হাদীসের হুফ্‌ফায মুতক্বিনীন (নির্ভুল মুখস্থকারী) অথবা সে ব্যক্তি হিশাম বিন উরওয়ার মতো ব্যক্তির প্রতি মনোনিবেশ করে, যাদের হাদীস বহুল প্রচলিত এবং প্রসিদ্ধ এবং তাদের সহচরগণ তাদের উভয়ের সম্মতিক্রমে তাদের হাদীস উদ্ধৃত করেছেন; অতঃপর সে ব্যক্তি যদি ​​তাদের উভয় অথবা তাদের কোনো একজনের নিকট হতে কিছু হাদীস বর্ণনা করে যার ব্যাপারে তাদের উভয়ের কোনও ছাত্রই অবগত নয়, এবং সে এমন ব্যক্তি যে তাদের (ছাত্রদের) নিকট নির্ভরযোগ্য সূত্রে যা রয়েছে তাতে অংশগ্রহণ করেনি, তখন এধরনের ব্যক্তি থেকে হাদীস গ্রহণ করা জায়েয নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।”

ইমাম মুসলিমের এই বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করুন: “যদি একজন মুহাদ্দিস কোনো একটি হাদীস একাই বর্ণনা করে (অর্থাৎ অন্য কেউ ঐ হাদিস বর্ণনা করেনি), তাহলে সেটি তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন সে নির্ভরযোগ্য হাফিয ও আলেমদের সঙ্গে কিছু বর্ণনায় অংশগ্রহণ করবে এবং তাদের বর্ণনার সঙ্গে মিল রাখার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবে।” 

এবং হিশাম বিন আল-গাযের মধ্যে এই গুণাবলি পাওয়া যায় না, কারণ তিনি বর্ণনাকারী হিসেবে বিরল এবং তিনি নাফির ছাত্রদের দ্বারা বর্ণিত কিছু বিশুদ্ধ হাদীসে অংশগ্রহণ করেননি এবং তিনি তাদের সঙ্গে একমত হওয়ার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখেননি। আর এই কারণে, দুই ইমাম, আল-বুখারী এবং মুসলিম, নাফি থেকে এসম্পর্কিত কোনও হাদীস বর্ণনা করেননি, তবে আল-বুখারী মুতাবা‘আতে তার সূত্রে মু‘আল্লাক আকারে একটি হাদীস এনেছেন, ১৭৪২ নং হাদীস দেখুন।

আর তাদের সকলের মধ্যে ইবন আবী শায়বা ব্যতীত আর কেউই এই হাদীস বর্ণনা করেননি, এবং এটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তিনি এর সত্যতা যাচাই করেননি যা ইবন উমরের সাথে এই বর্ণনার সম্পৃক্ততা বাতিল সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টিকে আরো জোরালো করে।

ইমাম মুসলিমের বক্তব্যের উপর আল-হাফিয ইবন আল-রজব মন্তব্য করেছেন: “তাই তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যখন একজন সিক্বাহ (বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী) হাদীসের সিক্বাতগণের (বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের) সঙ্গে মিল রাখার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করবে, এরপর যদি তিনি কোনো হাদীসে তাদের নিকট হতে কিছু সংযোজন করেন, তখন তার সংযোজনটি গ্রহণযোগ্য হবে।” দেখুন: “শারহ ইলাল আত-তিরমিযী” (১/৪৫৬-৪৫৭)। আর হিশাম বিন আল-গায-ই হলেন এমন ব্যক্তি যাদের হাদীস গ্রহণ করা জায়েয নয় কারণ তিনি নাফি এবং আয-যুহরীর মতো ব্যক্তিদের নিকট হতে তা একাই বর্ণনা করেছেন এবং তাদের সহচরদের মধ্য হতে কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি সেই বর্ণনায় অংশগ্রহণ করেননি।

তারপর, আমরা যদি এটিকে আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রতিষ্ঠিত বলে মেনেও নেই, সেক্ষেত্রে কোনো কোনো আলেম বলেছেন যে তিনি এটিকে শারঈ অর্থে নয় বরং ভাষাগত (অর্থে) “বিদআত” বলেছেন, যেমনটি উমর তারাবীহ সালাতের ক্ষেত্রে “বিদআত” শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।

নিশ্চয়ই আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে শ্রদ্ধা করতেন এবং তাকে সমর্থন করতেন। সুতরাং, তার সঙ্গে হিশাম বিন আল-গায যে বিষয়টি সংযুক্ত করেছেন তা হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে তিরস্কার করার নামান্তর। ইমাম আল-বুখারী “উসমানের ফযীলত অধ্যায়ে” (হাদীস ৩৬৯৮ এবং ৩৬৯৯) বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন হাতিম বিন বাযীগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: শাযান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আব্দুল আযীয বিন আবী সালামা আল-মাজিশুন আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ থেকে নাফি থেকে ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: “নবী (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় আমরা (শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে) আবূ বকরকে অপ্রতিদ্বন্দ্বি মনে করতাম, তারপর উমর এবং তারপর উসমান এবং এরপর আমরা নবীর সাহাবীগণের মধ্যে পার্থক্য করতাম না।” আর [দ্বিতীয় হাদীসে] মুসা বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবূ আওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: উসমান, যিনি ইবন মাওহাব, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: একজন মিশরীয় ব্যক্তি কাবার হজ্জ করতে এসে কিছু লোককে বসে থাকতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “উনারা কারা?” একজন বলল, “তারা কুরাইশ গোত্রের লোক।” তিনি বললেন, “তাদের মধ্যে যেই বৃদ্ধ লোকটি বসে আছে তিনি কে?” লোকেরা বলল, “তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর।” তিনি বললেন, “হে ইবন উমর! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই, দয়া করে আমাকে এর সম্পর্কে বলুন। আপনি কি জানেন উহুদের (যুদ্ধের) দিন উসমান পলায়ন করেছিলেন?” ইবন উমর বললেন, “হ্যাঁ।” (মিশরীয়) লোকটি বলল, “আপনি কি জানেন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বদরের (যুদ্ধের) দিন অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাতে অংশগ্রহণ করেননি?” ইবন উমর বললেন, “হ্যাঁ।” লোকটি বললেন, “আপনি কি জানেন তিনি রিদ্বওয়ানের বায়াতে (অর্থাৎ হুদাইবিয়ার বায়াত) উপস্থিত হননি এবং বায়াত করেননি?” ইবন উমর বললেন, “হ্যাঁ।” লোকটি বলল, “আল্লাহু আকবর!” ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “আমি আপনার নিকট (এই তিনটি বিষয়) ব্যাখ্যা করছি। উহুদের দিন তার পলায়নের ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ তার উপর দয়া করেছেন এবং তাকে ক্ষমা করেছেন। আর বদরের যুদ্ধে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন কারণ তার স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ-এর কন্যা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি আওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, “(যদি তুমি তার সঙ্গে থাকো) তুমি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মতোই (গনিমতের সম্পদ) পাবে।”

রিদ্বওয়ানের বায়াতের সময়ে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন কারণ (প্রতিনিধি হিসেবে) মক্কায় উসমানের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আর কেউ ছিল না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অন্য কারো পরিবর্তে তাকেই প্রেরণ করতেন। অবশ্যই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাকে পাঠিয়েছিলেন এবং রিদ্বওয়ানের বায়াতের ঘটনাটি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর মক্কায় যাওয়ার পর সংঘটিত হয়েছিল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম) তার ডান হাত বাড়িয়ে বলেছেন, “এটি উসমানের হাত।” তারপর তিনি এই হাত তার (অন্য) হাতে রেখে বলেছেন, “এটি উসমানের পক্ষ থেকে (বায়াতের শপথ)।” তারপর ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) লোকটিকে বললেন, “এই ওজরগুলো মনে রাখবেন।”

আমি [শাইখ রাবী] বলি: এই মহান সাহাবীর দিকে লক্ষ্য করুন, কিভাবে তিনি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতিরক্ষা করেছেন এবং তাঁর গুণাবলির কথা উল্লেখ করেছেন। আর উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি এই ঈর্ষান্বিত (বিদ্বেষী) লোকটির প্রতি লক্ষ্য করুন, কারণ তার বিদ্বেষপূর্ণ ঈর্ষা তাকে ইবন উমরের নিকট উসমানের আযান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে উদ্বুদ্ধ করেনি আর জিজ্ঞাসা করার মতো এটিই ছিল সবচেয়ে যোগ্য এবং সুবিদিত বিষয়। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে (উসমানের আযান) তাঁর নিকট এবং (সমগ্র) উম্মতের নিকট গ্রহণযোগ্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইমাম আল-বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তার সহীহুল বুখারী (৩৭০৪) গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন রাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: হুসাইন আমাদেরকে নিকট বর্ণনা করেছেন: যায়িদা থেকে, আবী হুসাইন থেকে, সাদ বিন উবাইদা থেকে, যিনি বলেছেন: “একজন ব্যক্তি ইবন উমরের নিকট এসে উসমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। ইবন উমর তার নেক আমলের কথা উল্লেখ করলেন এবং প্রশ্নকারীকে বললেন: “এই বিষয়গুলো কি তোমাকে বিব্রত করে?” একজন বলল, “হ্যাঁ।” ইবন উমর বললেন, “আল্লাহ তোমার নাক ধুলোয় মিশিয়ে দিন!” তারপর লোকটি তাকে আলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। ইবন উমর তার নেক আমলের কথা উল্লেখ করে বললেন, “সবই সত্য, এবং এটি তার ঘর যা নবীর ঘরগুলোর মাঝখানে অবস্থিত। এই তথ্যগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিয়েছে?” প্রশ্নকারী বললেন, “হ্যাঁ।” ইবন উমর বললেন, “আল্লাহ তোমার নাক ধুলোয় মিশিয়ে দিন! যাও এবং আমার বিরুদ্ধে যা পারো করো।”

সুতরাং এটি সুস্পষ্ট হয়েছে যে, তুমি (আলী বিন রাশীদ আল-ইফরি, ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর ছাত্র) এবং তোমার মতো অন্যান্য ব্যক্তি যারা উসমানের মতো সাহাবীদের ভুলত্রুটি খুঁজে বেড়ায় তারা (উপরিউক্ত হাদীসে বর্ণিত) এই দুই ব্যক্তির সদৃশ যারা অবমাননাকর প্রতিটি বিষয় অনুসন্ধান করে এবং তা (মানুষের মাঝে) ছড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য পন্থা অবলম্বন করে। তাদের সুউচ্চ এবং উত্তম গুণাবলি (উল্লেখ) করা [তোমার মানহাজের] অন্তর্ভুক্ত নয় যেই (গুণাবলির) কারণে জগৎসমূহের প্রতিপালক এবং তাঁর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত রাসূল তাদের প্রশংসা করেছিলেন। ইবন উমরের প্রতি লক্ষ্য করুন! কিভাবে তিনি উৎসাহ নিয়ে উসমান এবং আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর গুণাবলি উল্লেখ করেছেন এবং তাদের শত্রুদের মুখে চড় মেরেছেন। এটিই সঠিক পদ্ধতি যা সালাফ আস-সালেহীনগণ অনুসরণ করেছিলেন – আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হোন – এটি সেই মানহাজ যার বিরুদ্ধবাদীদেরকে তারা তিরস্কার করেছেন। [শাইখ রাবীর উক্তি এখানে সমাপ্ত হলো] 

এটি শাইখ রাবী বিন হাদীর প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃত করা একটি ছোট অংশ। এরপর থেকে, আল-হাজূরীর অনুসারীরা আরও জটিল সন্দেহ তৈরি করতে শুরু করেছে যার জবাব শাইখ রাবী পরবর্তীতে দিয়েছেন। এই সন্দেহগুলো হিশাম বিন আল-গাযের বর্ণনার সাথে সম্পর্কিত ছিল। শাইখের দিরাসাত মারউইয়াত হিশাম বিন আল-গায প্রবন্ধটি দেখুন যেখানে তিনি আল-হাজূরীর আরেক অনুসারী ইউসুফ আল-ইনাবীর সন্দেহকে খণ্ডন করেছেন।

আল-হাজূরী এবং তার অনুসারী যারা উসমানকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বিদআতী বলতে চায় এবং সাহাবীদের তিরস্কার করতে চায় তাদেরকে পথভ্রষ্ট বিদআতী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে আলেমদের ফাতওয়া

এই হলো ইমাম ইবন বায, শাইখ ইবনুল উসাইমীন এবং শাইখ আল-ফাওযানের ফাতওয়া যাঁরা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রথম আযানের বিষয়ে কথা বলেছেন এবং এখানে এগুলো উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো এই যে, হাজূরীর অনুসারীরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং তারা প্রতারক; কারণ তারা শাইখ আল-ফাওযানের বক্তব্যের মাধ্যমে শাইখ রাবীর বিরুদ্ধে সন্দেহ ছড়িয়ে দেয় [যা হাদ্দাদীদের সাম্প্রতিক দলগুলো প্রস্তুত করছে এবং ছড়িয়ে দিচ্ছে (যাদের অনেকেই ISIS এর তাকফীরী খারিজীদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাদের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করেছে)]।

ইমাম ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “জুমুআর দিনের প্রথম আযান সম্পর্কে আমাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তন্মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা এটিকে সুন্নাহর অংশ হিসেবে অস্বীকার করে কারণ এটি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত হয়নি এবং তারা এটিকে ত্যাগ করা ওয়াজিব মনে করে। এবং তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা প্রথম আযান অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে অটল। তাহলে হে সম্মানিত শাইখ, এক্ষেত্রে সুন্নাহ কি?” তিনি উত্তর দিলেন, “প্রথম আযান সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, কারণ সেটি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) চালু করেছিলেন এবং সাহাবীগণ তাঁকে সমর্থন করেছিলেন, কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তীতে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহ অনুসরণ করবে’, এবং তিনি হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের একজন। সুতরাং সেটি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) প্রবর্তন করেছিলেন এবং সাহাবীগণ তাঁকে সমর্থন করেছিলেন এবং এতে কল্যাণ রয়েছে কেননা এটি মানুষকে অবহিত করে যে আজ জুমুআর দিন তাই তারা যেন তাড়াতাড়ি (মসজিদে) আসার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সুতরাং এর মধ্যে কোনও ক্ষতি নেই এবং এটি বিদআত নয়, কারণ এটি হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত । এবং নবী (ﷺ) এই কাজের (হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহ অনুসরণের) নির্দেশ দিয়েছেন।”[৩৯] 

শাইখ সালিহ আল-ফাওযানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “সম্মানিত শাইখ, আল্লাহ আপনাকে সফলতা দান করুন, জুমুআর সালাতের প্রথম আযান কি মুআজ্জিন পুনরাবৃত্তি করবে?” শাইখ উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, এটি একটি আযান, এটি একটি বৈধ আযান কারণ এটি হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। এটি তৃতীয় খলিফা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর দ্বারা নির্দেশিত। এবং এটি হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের অন্তর্ভুক্ত আলী ইবন আবী তালিব এবং মুহাজিরিন ও আনসারদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং কেউই তাঁর নিকট হতে এটি প্রত্যাখ্যান করেনি। ইবন আবী শায়বা তার মুসান্নাফে[৪০] ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণনা করেছেন সেটি ব্যতীত, তিনি (ইবন উমর) বলেছেন যে এটি বিদআত এবং ইবন রজব (রাহিমাহুল্লাহ) যখন ইবন উমরের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে তিনি এটিকে (শাব্দিক অর্থে) উত্তম বিদআত বলেছেন, (শারঈ অর্থে) গর্হিত বিদআত বলেননি। এটি তার পিতা (উমর) তারাবীর সালাত সম্পর্কে যা বলেছিলেন তারই অনুরূপ, ‘এটি কতই না উত্তম বিদআত’, অর্থাৎ এটি শাব্দিকঅর্থে বিদআত এবং শারঈ অর্থে বিদআত নয়। হ্যাঁ।”[৪১] 

শাইখ সালিহ আল-ফাওযানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “সম্মানিত শাইখ, একজন দাঈ বলেন, আমরা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিদআতী বলি না – বরং আমরা জুমুআর দিনের প্রথম আযানকে বিদআত বলি।” তিনি (প্রশ্নকারী) বললেন, “তার এই বক্তব্যের হুকুম কি?” তাঁর উত্তর ছিল, “এটিই বিদআত, এই মতামত পোষণ করা বিদআত, এই লোকটি বিদআতী। এই ধরণের বক্তব্য থেকে তার জিহ্বাকে বিরত রাখা ওয়াজিব। উসমান একজন হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা, এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাহ এবং আমার পরে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহর অনুসরণ করবে…’ [উসমানের বিরুদ্ধে] তার এই [বক্তব্য] কি এই জন্য যে সে সুন্নাতের প্রতি আগ্রহী?? সে সাহাবীদের বিদআতী বলে, খলিফাদের বিদআতকারী বলে!! এটি কি সুন্নাহ?! আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি! এটি অজ্ঞতা (জাহল) এবং সুন্নাহ এবং বিদআতের পার্থক্য না জানার ফলাফল। হ্যাঁ।”[৪২]

১৪/০৫/১৪৩৫ হিজরী রবিবারের দারসে শাইখ সালিহ আল-ফাওযানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, এই প্রশ্নকারী বলছেন: জুমুআর দিনের প্রথম আযান কি বিদআত?” শাইখ উত্তরে বললেন, “এই বিষয়ে আমাদের (পূর্বের) দারস কোনও কাজে আসেনি।” তারপর প্রশ্নকারী বললেন, “সম্মানিত শাইখ, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, প্রশ্নকারী বলেছেন: কিছু লোক বলে, যেই কারণে উসমান প্রথম আযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই কারণটি আর অবশিষ্ট নেই।” শাইখ বললেন, “সেটি এখনও অবশিষ্ট আছে, আপনি উসমানকে বিদআতী বলতে চান। এই কাজটি জায়েয নয়। আপনি কি সুন্নাতের প্রতি আপনার আগ্রহের কারণে এই প্রশ্ন করছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাক্ষ্য অনুযায়ী উসমানের কাজ সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত! ‘তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তীতে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহ অনুসরণ করবে।’ সাহাবীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন! বিশেষ করে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন! কারণ তারা উম্মতের মাঝে সর্বোত্তম, তাদের সম্পর্কে (অসম্মানজনক) কথা বলবেন না!”[৪৩]

শাইখ আল-ফাওযান এখানে যা উল্লেখ করেছেন তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ কারণ আপনি যদি আল-হাজূরীর বাতিল উসূলের প্রতি লক্ষ্য করেন যেমন সে তাদের মধ্যে পার্থক্য করে না যে মৌখিকভাবে বিদআতের দিকে আহ্বান করে না এবং যে [মৌখিকভাবে বিদআতের দিকে আহ্বান] করে, আর যে ব্যক্তি বিদআতের উপর আমল করে সে নির্দ্ধিধায় বিদআতের দিকে আহ্বানকারী হয়ে যায় এবং সেটি তাকে মুবতাদী (বিদআতী) বানিয়ে দেয়, তাহলে এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে – যদি আল-হাজূরীর তার বাতিল উসূলের উপর অটল থাকে এবং সত্যবাদী হয় – তাহলে এর অর্থ এই হবে যে, উসমান বিদআত ও দ্বলালার দিকে আহ্বানকারী ছিলেন। একারণে আলেমগণ এই ওজর অর্থাৎ “উসমান ইজতিহাদ করেছিলেন, তার কাজটি ছিল বিদআত কিন্তু আমরা তাকে বিদআতী বলি না” গ্রহণ করেন না। এটা প্রতারণা এবং ধোঁকাবাজি, কারণ তুমি যেই বাতিল উসূল প্রচার করছ সেটি এই ওজরের অনুমতি দেয় না।

শাইখ আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) তার কিতাবুল জানায়িয গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তাতে এই অজুহাতের খণ্ডন এবং মিথ্যাপ্রতিপন্নকরণ রয়েছে যা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর উপর দেওয়া অভিযোগের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। শাইখ বলেছেন, “যে বিদআতের বিপথগামীতা সম্পর্কে শরীয়ত প্রণয়নকারী লিখিতভাবে বর্ণনা করেছেন তা হলো: ক) সুন্নাতের সাথে সাংঘর্ষিক এমন সকল কথা, কাজ বা বিশ্বাস যদিও সেটি ইজতিহাদ (থেকে উদ্ভূত হয়)… খ) এমন প্রতিটি বিষয় যার প্রণয়ন (কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা) লিখিত বা কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়া সম্ভব নয় এবং যার স্বপক্ষে (কুরআন ও সুন্নাতে) কোনও লিখিত প্রমাণ বিদ্যমান নেই, তাহলে সেটি বিদআত, তবে ব্যতিক্রম হলো সেই কাজ যেটি কোনো সাহাবীর নিকট হতে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি (অন্যদের নিকট হতে) কোনো বিরোধিতা ছাড়াই তা পুনরাবৃত্তি করেছেন।”[৪৪]

এই বক্তব্যতে শাইখ ঐ বিদআতের সংজ্ঞা দিচ্ছেন এবং তা ব্যাখ্যা করছেন যেটিকে শারঈ অর্থে গোমরাহী বলা হয়েছে। তিনি প্রথমত ব্যাখ্যা করছেন যে, কোনো বিষয় বিদআত এবং পথভ্রষ্টতা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। আর দ্বিতীয়ত, কিতাব ও সুন্নাহ থেকে যা বর্ণিত হয়নি তা বিদআত হিসেব গণ্য হবে যদি না: কোনো সাহাবী সেটি বর্ণনা করেন, সেটির পুনরাবৃত্তি করেন এবং অন্যান্য সাহাবীগণ সেটির বিরোধিতা না করেন। এবং এটি স্পষ্টতই উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর নির্দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা প্রকাশ্যে, প্রতি সপ্তাহে, হাজার হাজার সাহাবীর উপস্থিতিতে করা হতো।

আর এই বিষয়ে শাইখ ইবনুল উসাইমীনের অসংখ্য বক্তব্য রয়েছে, “আর জুমুআর সালাতের প্রথম আযান উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, এবং তিনি হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের অন্যতম যার সুন্নাহ অনুসরণ করার জন্য আমরা আদিষ্ট হয়েছি । কিছু (তথাকথিত) সালাফি, সুন্নী দাবীদারেরা চাতুরতা দেখিয়ে বলে: আমরা জুমুআর প্রথম আযানটি গ্রহণ করি না, এটি একটি বিদআত, এটি নবী (ﷺ)-এর যুগে ছিল না। তাদের এই বক্তব্যতে রয়েছে নবী ()-এর ব্যাপারে তিরস্কার, হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের ব্যাপারে তিরস্কার এবং সাহাবীদের ব্যাপারে তিরস্কার। আর এই মিসকীনরা তাদের অজান্তেই সীমালঙ্ঘন করেছে। এটি রাসূল (ﷺ)-এর ব্যাপারে তিরস্কার, কারণ নবী (ﷺ) বলেছেন:

“তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তীতে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহ অনুসরণ করবে।”

আর মুসলিমদের ঐকমত্য অনুসারে, উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাগণের অন্যতম। আর যেহেতু এটি হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাগণের তিরস্কার, তাই এটি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে তিরস্কার কেননা তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত। আর তাদের একজনকে তিরস্কার করা হলে তাদের সকলকে তিরস্কার করা হয়, যেমন একজন রাসূলকে অস্বীকার করা হলে সকল রাসূলকে অস্বীকার করা হয়। আর এখানে সাহাবীদের উপর তিরস্কার করার কারণ হলো সাহাবীরা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরোধিতা করেননি। তিনি যদি (এই বিষয়ে) ভুল করতেন তাহলে তারা (এই ভুল) প্রত্যাখ্যান করতেন যেমনিভাবে তারা হজ্জের সময় মিনায় (চার রাকাত সালাত আদায় করার বিষয়টি) প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে জুমুআর প্রথম আযানের ক্ষেত্রে তারা তার বিরোধিতা করেননি। সুতরাং নিজেদেরকে বুদ্ধিমান মনে করা এই ব্যক্তিরা কি শরীয়ত এবং এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাহাবীদের চেয়ে নিজেদেরকে অধিক জ্ঞানী মনে করে?! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সত্য বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন, ‘এই উম্মতের শেষ অংশ তার প্রথম অংশকে অভিশাপ দিবে…’  ওয়াল্লাহুল মুস্তাআন, ‘…এবং (তারা শেষ অংশকে) তিরস্কার করবে।’ সুতরাং প্রথম আযান নবী (ﷺ)-এর দ্বারা সমর্থিত এবং তা মুমিনদের আমীর উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সুন্নাহ এবং সাহাবীদের ঐকমত্য তথা ইজমা সুকূতি (মৌন ঐকমত্য)-এর মাধ্যমে একটি বৈধ আযান হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, এবং এক্ষেত্রে কারও কোনো ওজর গ্রহণযোগ্য হবে না, আল্লাহ যেন এই উম্মতর হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা এবং সাহাবীগণের সমালোচনাকারীর জিহ্বা কেটে দেন।”[৪৫] 

শাইখ ইবনুল উসাইমীন আরও বলেছেন, “আর সে পথভ্রষ্ট হয়েছে যে এটিকে বিদআত বলেছে এবং সে সাহাবীদেরকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) নির্বোধ বলেছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা (উসমান)-কে নির্বোধ বলেছে। আর আমরা বলি: তোমার এই মন্তব্যের দ্বারা তুমি নিজেই বিদআতী (মুবতাদী) হয়েছ। এটি কিভাবে বিদআত হতে পারে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটিকে সুন্নাত বলেছেন, ‘…আমার পরবর্তীতে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাতের অনুসরণ করবে।’ কিন্তু, যারা (উপরিউক্ত মন্তব্য করে) তারা প্রাপ্তবয়ষ্ক হলেও নির্বোধ বলে গণ্য হবে। সাহাবীদের আমীর উসমান বিন আফ্ফানকে তুমি কিভাবে পথভ্রষ্ট বলতে পারো? অথচ তুমি দাবি করো যে তুমি সুন্নাতের অনুসারী? বরং, এই মন্তব্য দ্বারা তুমি নিজেই বিদআতী হয়েছ।”[৪৬]

শাইখ ইবনুল উসাইমীন আরও বলেছেন, “আর যে-সব নব উদ্ভূত ব্যক্তিরা এটিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, ‘এটি একটি বিদআত’ এবং উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে (তার আমলের কারণে) পথভ্রষ্ট বলে ঘোষণা দেয়, তারা নিজেরাই  পথভ্রষ্ট বিদআতী।”[৪৭]

এটি এমন একটি বিষয় যার উপর হাজূরীর অনুসারী বিদআতীরা এখনো অটল এবং তাদের তথাকথিত প্রমাণগুলোকে (প্রমাণসহ) খণ্ডন করার পর এবং তা সমূলে ধ্বংস করার পর এখন তাদের পূর্বে যারা এই মতামত সমর্থন করেছে তাদের তাক্বলীদ, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং তাআসসুব (অন্ধভাবে পক্ষপাতিত্ব করা) ব্যতীত তাদের নিকট আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই বিষয়টিই তাদেরকে পরিষ্কারভাবে মুবতাদিআ (বিদআতী) বানানোর জন্য যথেষ্ট। আর (লক্ষ্য রাখতে হবে) যে তাদের বিরুদ্ধে আহলুস-সুন্নাহর যেসব সমালোচনা রয়েছে সেগুলোর বিপক্ষে লেখা সমালোচনা দ্বারা যেন কেউ প্রতারিত না হয়। আমরা যদি যুক্তির খাতিরে মেনে নেই যে তারা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর আমলের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার পাশাপাশি তারা যা দাবি করেছে তা সঠিক, তারপরও কেবল এই একটি কারণে তারা বিদআতী হয়েছে আর – যদি আমরা যুক্তির খাতিরে মেনেও নেই – যে অন্যান্য বিষয়ে তারা সঠিক তারপরও এর মাধ্যমে তারা লাভবান হতে পারবে না।

তাই এসকল লোকদের দ্বারা কেউ প্রতারিত হয় না তারা ব্যতীত যাদের অন্তরে সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) সম্মানে সামান্য হলেও অবমাননা রয়েছে। একারণে যখন আপনি আলেমদের প্রতি লক্ষ্য করবেন, আপনি দেখবেন যে, বাস্তবে কোনো আলেম আল-হাজূরীকে সমর্থন করছে না কারণ কোনো আলেম যদি আল-হাজূরীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং (সে যেই মতের) সমর্থন করে সে-সম্পর্কে জানতে পারে তাহলে একটি কারণে তারা তাকে বিদআতী বলতে দ্বিধা করবে না – তাদের সমষ্টির কথা বাদই দিলাম। সুতরাং, যখন আপনি হাজূরীর কোনো অনুসারীকে জিজ্ঞেস করবেন, ‘আল-হাজূরীর সঙ্গে কি কোনো আলেম আছেন যিনি উসমানের আযানের বিষয়ে তাকে সমর্থন করেন’ তখন উত্তরে আপনি নিস্তব্ধতা ব্যতীত কিছুই পাবেন না।

উল্লিখিত সবকিছুর পর, এই লোকদের সঙ্গে মোকাবেলা করার শুধু একটি পদ্ধতি আছে তবে সেটি তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে নয়। আসুন সেই পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা জেনে  নেই।

কীভাবে একজন হাজূরীর অনুসারীকে (অথবা তাদের দশ, একশ, এবং হাজার হাজার অনুসারীদের) চুপ করানো যায়, তাদের পায়ের উপর ভর দিয়ে তাদেরকে পালাতে বাধ্য করা যায় এবং যুক্তি বা বিতর্ক ছাড়াই প্রমাণ করা যায় যে তারা বিদআত ও ভ্রষ্টতায় নিপতিত

পৃথিবীর সকল প্রান্তে আহলুস সুন্নাহর উদ্দেশ্যে কিছু কথা যেখানে হাজূরীর অনুসারীদের অস্তিত্ব রয়েছে: হাজূরীর অনুসারীদের সঙ্গে বিতর্ক করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়, তাদের সঙ্গে বিতর্ক করার ব্যাপারে আলেমগণ সতর্ক করেছেন। তবে, অনলাইনে তাদের সন্দেহ (শুবুহাত) ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য হাজূরীর অনুসারীদের ব্যাপক কর্মকাণ্ড এবং তৎপরতা বিদ্যমান রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে যদি আহলুস সুন্নাহ নীরব থাকে তাহলে হাজূরীর অনুসারীদের তৎপরতার আধিক্য দেখে তারা হক্বের উপর আছে বলে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। যদি আপনি এবিষয়ে কিছু করতে চান এবং চান যে সেটি কার্যকর হোক তাহলে আমরা নিম্নলিখিত পরামর্শ দিচ্ছি: হাজূরীর এক অথবা দশ, শত শত অথবা হাজারো অনুসারীকে আমন্ত্রণ জানান – যদি আপনি একা হন তাতে কোনো সমস্যা নেই – একটি উপযুক্ত আয়তনের মসজিদ খুঁজে বের করুন যেখানে আপনাদের সকলের সংকুলান  হবে। এটি স্পষ্ট করে দিন যে সেখানে বিতর্ক করা (মূল) উদ্দেশ্য নয়, বরং সেখানে (উদ্দেশ্য) শুধু ওযু, দুই রাকাত সালাত এবং মহান আল্লাহর নিকট দুআ:

দায়িত্ব নিন এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করুন, আপনার অন্তরকে একত্রিত করুন, উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু), সাহাবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) এবং উসমানের খিলাফতের সময়সীমা থেকে আজ পর্যন্ত ১৪০০ বছরের সালাফী মতাদর্শের প্রতি আপনার ভালোবাসাকে অন্তর দিয়ে স্মরণ করুন। কিছুক্ষণের জন্য এসব নিয়ে স্মৃতিচারণ করুন যতক্ষণ না আপনার আবেগ বিকশিত হয় এবং তা নিয়ন্ত্রণে আসে, তারপর হাত তুলুন এবং দৃঢ়চিত্ত সহকারে নিম্নলিখিত কথাগুলো উচ্চস্বরে এবং প্রকাশ্যে উচ্চারণ করুন: 

“হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট দীন বলে যা বিশ্বাস করি তা হলো, উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বিশেষ প্রয়োজনে একটি সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা সাহাবীগণ বুঝতে পেরেছিলেন এবং পরবর্তীতে সাহাবীগণ, আহলুস-সুন্নাহ ও উম্মতের আলেমগণ তা গ্রহণ করেছেন এবং বাস্তবায়ন করেছেন। রাসূলুল্লাহ () আমাদেরকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এমন কিছু বিষয় থাকবে যা হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাগণ প্রতিষ্ঠা করবেন এবং সেটি তাঁর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হবে। আমি বিশ্বাস করি উসমানের কার্যকলাপ সঠিক ছিল এবং আমি এই বিষয়ে নির্দ্ধিধায় উম্মতের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুসরণ করছি। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এবং অন্যান্য সাহাবীগণ যা অনুসরণ করেছিলেন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি আর একইভাবে বর্তমানে আমাদের ইসলামের আলেমগণ যেমন শাইখ আল-ফাওযান, শাইখ রাবী, শাইখ ইবন বায, শাইখ ইবনুল উসাইমীন এবং অন্যান্যরা যার অনুসরণ করেছেন, আর এর সাথে আমি ইমাম আল-আলবানীর বিশদ ব্যাখ্যার (তাফসীল) উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। হে আল্লাহ, যদি আমিসহ সকল আলেম এবং উম্মতের অধিকাংশ লোক আপনার দীনের ব্যাপারে ভুল বিশ্বাস করি এবং এই মত অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনার দীনের নামে মিথ্যাচার করি, তাহলে মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং মানবজাতির অভিশাপ বর্ষিত হোক। আমীন।”

তারপর (দশ, একশ বা হাজার হাজার) হাজূরীর অনুসারীর দিকে তাকান এবং তারা যদি সত্যবাদী হয় তাহলে তাদেরকে নিম্নোক্ত কথাগুলোর দ্বারা আল্লাহকে আন্তরিকভাবে  ডাকার জন্য বাধ্য করুন: 

“হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট যা আমার দীন বলে বিশ্বাস করি তা হলো, উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) দীনের ভিতর একটি বিদআত (নব উদ্ভাবিত বিষয়), একটি মুখালাফা (বিরোধিতা) এবং একটি দ্বলালাহ (ভ্রষ্টতা) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেমনটি আমার শাইখ ইয়াহইয়া আল-হাজূরী বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর সময়ে উপস্থিত সাহাবীগণ এই বিদাআত সমর্থন করেছিলেন এবং এর উপর আমল করেছিলেন এবং তাদের আমলের দ্বারা এর প্রতি আহ্বান করেছিলেন। আমার শাইখ ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর যুক্তি অনুযায়ী হুজ্জাহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কারণ তারা সকলেই জানতেন যে রাসূলুল্লাহ () এটি করেননি এবং তিনি () বিদআত থেকে তাদেরকে সাবধান করার ক্ষেত্রে অবিচল এবং আন্তরিক ছিলেন । আমি এবং আমার শাইখ ইয়াহইয়া আল-হাজূরী মনে করি উসমানের এই কাজটি ছিল একটি উম্মুল-বিদআহ (অন্যান্য বিদআতের মূল বা জননী) যা উম্মতের মধ্যে স্থায়ীত্ব পেয়েছিল এবং দুর্ভাগ্যবশত এটি অন্যান্য বিদআতের স্বপক্ষে দলীল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, যেমনটি আমার শাইখ ইয়াহইয়া আল-হাজূরী বলেছেন, আর প্রমাণ জানার পরেও যে ব্যক্তি উসমানের অনুসরণ করেছে সে বিদআত এবং মুখালাফা করেছে, সাহাবীদের যুগ হতে আজ পর্যন্ত যেই হোক না কেন সে বিদআতী (মুবতাদী) বলে গণ্য হয়েছে – কারণ আমার শাইখ ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর মতে, যে ব্যক্তি কোনো বিদআতের অনুসরণ করে সে নির্দ্বিধায় বিদআতের দিকে আহ্বানকারী হয়ে যায়। আমি শাইখ আল-ফাওযান, শাইখ ইবন বায, শাইখ ইবনুল উসাইমীন, শাইখ রাবী এবং সমসাময়িক অন্যান্য আলেমদের ফাতাওয়া পথভ্রষ্টতা বলে বিশ্বাস করি, যারা উসমানের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করার মাধ্যমে উসমানের প্রতিষ্ঠিত বিদআতেরই সমর্থন করেছেন যার কার্যকলাপে আপনি সন্তুষ্ট নন হে আল্লাহ, যার কার্যকলাপ আমার শাইখ ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর মতে দীনের ভিতর অন্যান্য বিদআতকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। হে আল্লাহ, যদি আমি এবং আমার শাইখ ইয়াহইয়া আল-হাজূরী  (আমাদের বিরুদ্ধবাদীদের দ্বারা আমাদের উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পরেও) এই সমস্ত কিছু নিয়ে মিথ্যাচার করি, তাহলে মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সমস্ত মানবজাতির লানত বর্ষিত হোক। আমীন।”

হাজূরীর কোনো অনুসারীর পক্ষে উপরিউক্ত বিষয়গুলো অস্বীকার করা বা এর স্বপক্ষে বিতর্ক করা সম্ভব হবে না, কারণ হয় এই সবই লিখিত বা মৌখিকভাবে আল-হাজূরীর দ্বারা বর্ণিত হয়েছে অথবা সেটি তার বাতিল উসূলের মাধ্যমে অপরিহার্য হয়েছে এবং হাজূরীর অনুসারীরা বহু বছর ধরে আল-হাজূরীর এই বিদআতকে সমর্থন করেছে, তাই এটি তাদের নিকট হতে এবং তাদের সম্পর্কে মুতাওয়াতির (সূত্রে বর্ণিত হয়েছে) এবং তা অনস্বীকার্য বটে। এগুলো তাদের নিজস্ব মতামত, হয় স্পষ্ট বা অর্থবোধক। তাই তাদের কাপুরুষতা প্রদর্শন করা উচিত নয় বরং সেগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা উচিত যেভাবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আমাদের মতামত ব্যক্ত করেছি। যদি তারা তাদের বিশ্বাসে সত্যবাদী হয় এবং আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয় এবং তাদের অবস্থানকে আল্লাহর দীনের প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে এই কাপুরুষরা বেরিয়ে আসুক আর যদি তারা সত্যিই এই বিষয়ে সত্যবাদী হয় তাহলে তারা মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষণ করার জন্য দুআ করুক! এই পদ্ধতি ব্যতীত [অন্য কোনো পদ্ধতি দিয়ে] হাজূরীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করা সম্ভব নয় কারণ তারা ঝগড়াটে ও গোয়াড় সম্প্রদায় যারা আপনার সময় নষ্ট করবে। যদি তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক স্থাপন করতেই হয় তাহলে এটিই একমাত্র উপায়। অন্য কোনো বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না, কারণ এটি তাদের কৌশলের অংশ, যাতে তারা তাদের সুস্পষ্ট এবং অনস্বীকার্য বিদআত থেকে আপনাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে যার মাধ্যমে তারা পথভ্রষ্ট বিদআতী হয়েছে তারপর আল-হাজূরী এবং হাজূরীর অনুসারীদের প্রতি অন্যায় ও মিথ্যাচার করা হয়েছে বলে সেটি চিত্রিত করে তারা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করেছে!

পরিশেষে, যেমনটি ইবন তাইমিয়্যাহ বলেছেন, “এটি একটি আশ্চর্যজনক বিষয় যে রাফিদ্বীরা সেই বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করে যা [প্রকাশ্যে] আনসার ও মুহাজিরগণের সামনে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) করেছিলেন, অথচ তারা [আনসার ও মুহাজিরগণ] সেটি প্রত্যাখ্যান করেননি এবং এই বিষয়ে সকল মুসলিম তাঁর অনুসরণ করেছিলেন, আর তা হলো জুমুআর আযান।”[৫১] এটি আশ্চর্যজনক বিষয় যে হাজূরীর অনুসারীরা রাফিদ্বীদের অনুসরণ করে, উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) যে কাজটি করেছিলেন তা প্রত্যাখ্যান করে, যেটি [প্রকাশ্যে] আনসার ও মুহাজিরগণের সামনে করা হয়েছিল কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেননি বরং সকল মুসলিম এই বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছিলেন, আর সেটি ছিল জুমুআর আযান। শাইখ রাবী বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির চোখ এমন প্রত্যাখ্যাত বর্ণনার[৫২] উপর সন্তুষ্ট হতে পারে না যার মধ্যে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীদের নিন্দা রয়েছে এই অর্থে যে তারা এমন একটি বিদআত সমর্থন করতেন যার ঘোষণা প্রত্যেক সপ্তাহে সবচেয়ে উঁচু স্থান থেকে দেওয়া হতো, অথচ আল্লাহ তাদেরকে উম্মতের সর্বোত্তম বলে প্রশংসা করেছেন, তিনি বলেছেন, “তোমরা সর্বোত্তম জাতি যাদেরকে মানবজাতির জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে, তোমরা সৎকাজের আদেশ করো এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো।[৫৩] হাজূরীর অনুসারীদের তাবদী এই বিষয়টি অপরিহার্য করে দেয় যে, যেহেতু উপস্থিত সাহাবীগণ তখন মন্দকাজ থেকে নিষেধ করেননি সুতরাং তারা সত্যিকার অর্থে “সর্বোত্তম জাতি” হতে পারেন না। এটিই তাদের তিরস্কার হিসেবে যথেষ্ট যেটি শাইখ ইবনুল উসাইমীনের বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে এবং তা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা এমন পথভ্রষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি যেই পথভ্রষ্টতায় রাফিদ্বীরা সন্তুষ্ট হয় এবং আনন্দিত হয়।

এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূল মুহাম্মাদের উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাদের সকলের উপর যারা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করেছে ।

আবূ ইয়াদ্ব আমজাদ রফীক্ব

১৯ই শাওয়াল ১৪৩৫ হিজরি / ১৫ই আগস্ট ২০১৪

৯ই জিলহজ্জ / ৩রা সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে আপডেট করা হয়েছে

সংস্করণ ১.১ 

http://www.alhajuri.com

এ্যাপেন্ডিক্স: আল-হাজুরীর বই থেকে স্ক্যান করা ছবি

পাদটীকা:


১. সম্প্রতি, এই হাজূরীর অনুসারীরা প্রায় পনেরো বছর আগের একটি পুরনো রেকর্ডিং প্রকাশ করেছে। তখন ইয়াহইয়া আল-হাজূরী যুক্তরাজ্য সফর করছিল। তার একটি বৈঠকে – বিদআত এবং বিদআতীর মাঝে পার্থক্য সম্পর্কে আল-হাজূরীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যা আবূ উওয়াইস (রাহিমাহুল্লাহ) অনুবাদ করেছিলেন – এবং উত্তরে সে স্পষ্টভাবে বলেছিল যে, সে উসমানকে বিদআতী হিসেবে গণ্য করে না তবে সে নিশ্চিত যে তার (উসমানের) এই কাজটি দীনের ভিতর একটি বিদআত ছিল। এই অডিওটি খুঁজে বের করার পর সেটি অনলাইনে প্রকাশ করার জন্য তারা যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল তার পিছনে উদ্দেশ্য ছিল: “সালাফী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত একটি ক্যাসেটে কি পাওয়া গিয়েছে তা দেখুন।” এই শিশুসুলভ আচরণ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এই লোকেরা তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করার জন্য যথাসাধ্য তৎপরতা চালাতে পারে। এই অডিওর দ্বারা কিছুই বদলে যায় না বরং এটি আল-হাজূরীর বিরুদ্ধেই আরেকটি প্রমাণ।

২. এই প্রবন্ধটি নেদারল্যান্ডসের হাদ্দাদী হাজূরীদের দ্বারা উত্থাপিত কিছু সন্দেহের বিরুদ্ধে লেখা একটি দীর্ঘ প্রবন্ধের উদ্ধৃতি।

৩. এটি একটি ভীষণ রকমের অতিরঞ্জিত দাবি। যে সমষ্টিগত কারণে এবং যেসব বিষয়ের ভিত্তিতে কিবারুল উলামা তথা শাইখ আল-ফাওযান, শাইখ ইবন আল-উসাইমীন, শাইখ রাবী এবং অন্যান্য ত্বলিবুল ইলমগণ আল-হাজূরীকে খণ্ডন করেছেন তা কিভাবে নিছক মিথ্যাচার এবং বিকৃতি হতে পারে? বাস্তবে, আল-হাজূরী আহলুস-সুন্নাহর উসূলের বিরোধিতা করেছে যার দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ রয়েছে। অথচ এই হাজূরীর অনুসারীরা শাইখ রাবী এবং শাইখ উবাইদের মতো আলেমদের ভুল খুঁজে এবং অন্যান্য শাইখদের উপর দোষ চাপিয়ে দেয় যারা হাজূরীর বিরুদ্ধে কথা বলে এবং পাশাপাশি তারা ইয়েমেনের মাশায়েখদের ভুল খুঁজে এবং এসবের দ্বারা আল-হাজূরীর প্রধান ভুলগুলোকে আড়াল করার মাধ্যমে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার জন্য সেগুলো ব্যবহার করে। আর নিশ্চয়ই আলেমগণ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নন এবং তাদের এমন অস্পষ্ট বক্তব্য থাকতে পারে যা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে, অথবা তাদের নিকট হতে নাওয়াযিল (মুসলিমদের প্রভাবিত করে এমন বিষয়) সম্পর্কিত ফতোয়া থাকতে পারে যেখানে তারা ইজতিহাদ করেছেন এবং সেক্ষেত্রে তারা সঠিক হতে পারেন বা ভুলও হতে পারেন ইত্যাদি। হাজূরীর অনুসারীরা এই ধরনের বিষয়গুলো খুঁজে যাতে আল-হাজূরী তার ভয়াবহ ভুল থেকে রক্ষা পেতে পারে যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিন্দা, সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) ব্যাপারে বিভিন্ন রকমের নিন্দাজ্ঞাপন, অন্যায়ভাবে তাকফীর করা (যেমনটি সে আদমের এক পুত্রের বেলায় করেছে) এবং অন্যান্য অনেক উসূল যার মধ্যে আহলুস-সুন্নাহর বিরোধিতা রয়েছে। এটি ন্যাক্কারজনক, ভয়াবহ রকমের গুলূ (উগ্রবাদী মনোভাব, অতিরঞ্জন)-এর প্রতি নির্দেশ করে যেটি আরও স্পষ্ট হয় যখন আমরা বিভিন্ন অতিরঞ্জনমূলক বক্তব্যের দিকে তাকাই যা আল-হাজূরী-এর সামনে তাকে প্রশংসা করে করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আবূ হাতিম সাঈদ বিন দিয়াস আল-ইয়াফিয়ীর কবিতাটি দেখুন যার নিম্নলিখিত পঙক্তিগুলো সে ১৪২৮ হিজরীতে আবৃত্তি করেছিল যখন ইয়াহইয়া আল-হাজূরী হজ্জ থেকে ফিরে এসেছিল: “তোমার আগমনে দাম্মাজ আনন্দের সাথে ঝুঁকে পড়েছে। এবং এই ঝুঁকে পড়া এবং মুগ্ধ হওয়া আবশ্যক ছিল। তার শাইখের আগমনের মাধ্যমে (দাম্মাজ) মর্যাদা লাভ করেছে যেভাবে আমাদের (নবী) মুস্তফা এর আগমনে ইয়াসরিব সম্মানিত হয়েছিল। এবং তার (আল-হাজূরী) মধ্যে আল-মাহী (মিথ্যা, শিরক নির্মুলকারী) রাসূলের ধৈর্যশক্তি রয়েছে। এবং (তার, ইয়াহইয়ার) আলীর সাহসিকতা এবং প্রাণশক্তি রয়েছে। এবং (তার মধ্যে রয়েছে) মুহাম্মাদের মৃত্যুর পর খলিফা (অর্থাৎ আবূ বকর)-এর দৃঢ়তা যা লোহার চেয়েও শক্তিশালী এবং শক্ত। এবং (তার) মধ্যে রয়েছে শত্রুর বিরুদ্ধে আল-ফারূক্ব (উমর)-এর কণ্ঠ এবং যে তাকে ভালোবাসে তার মধ্যে বিস্ময়ের সঞ্চার। এবং তার মধ্যে রয়েছে ইবন আফ্ফান (অর্থাৎ উসমান)-এর আত্মার উদারতা এবং সর্বদা ব্যয় করার মতো দানশীলতা। আর যখন তিনি সালাতের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াত করেন, তখন আমরা বলি আবূ মূসা আয-যুবাইরীর মধুর (কণ্ঠ)। তিনি যুদ্ধের সময় খালিদ (বিন ওয়ালিদ), একজন সশস্ত্র যোদ্ধা। তবে পার্থিব (জীবনে) তিনি জুনদূব। এবং আদ-দাওসীর মতো তার হাদীস মুখস্থ থাকে এবং তিনি ভালো কাজে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। আর (তার আছে) ইবন আব্বাসের জ্ঞানের গভীরতা। তিনি ফাতওয়া দেন এবং আঙুলের অগ্রভাগ লিখতে থাকে। আর (তার) আছে সাখরের পুত্র মুআবিয়ার ধৈর্য, ​​তিনি উন্মুক্ত মরুভূমির ন্যায় প্রশস্ত এমনকি (মরুভূমির চেয়েও বেশি প্রশস্ত)। আর যখন তার উপস্থিতিতে (দীনের) সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়, তখন স্থানের প্রশস্ততা (আরো) সংকুচিত হয় এবং তিনি আল-মুহাইমিনের জন্য রাগান্বিত হন । এবং (তার) আছে ইবন আল-আসের চতুরতা, যিনি দুনিয়ার বিষয়সমূহে অন্তরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং অভিজ্ঞ। এবং (তার) আছে ইবন হাম্বালের ধৈর্য, ​​তার পরীক্ষা এবং দৃঢ়তা যা একটি উঁচু পাহাড়ের মতো যা কখনও হেলে পড়ে না। আর (তার) আছে ইমাম আশ-শাফিয়ীর বুদ্ধিমত্তা, [এবং] দীর্ঘ সময় ধরে ইলম (অন্বেষণ), যার পরেও তিনি আরও অন্বেষণ করতে প্রস্তুত। আর (তার) আছে ইবন তাইমিয়্যার মহত্ত্ব, বাতিলের বিরুদ্ধে তাঁর অক্লান্ত জিহাদ। এবং (তাঁর) ইমাম আল-ওয়াদিয়ীর দৃঢ়তা এবং ইবন বাযের চিন্তাভাবনা ও পরিশীলিত আখলাক্ব। এবং মুহাদ্দিস নাসিরের মতো শরীয়াহ প্রচারে অফুরন্ত বইয়ের লেখকত্ব। এবং (তাঁর) আল-উসাইমীন আত-তামীমীর ফিক্বহ (বুঝ) রয়েছে, তিনি (দীর্ঘসময় ধরে) শিক্ষকতা করেন এবং ক্লান্ত হন না বরং (আরও দীর্ঘ সময়) শিক্ষাদানের জন্য প্রস্তুত থাকেন। আরো অনেক সৎ গুণাবলি যা আমি বর্ণনা করতে পারছি না যা আমার মতো লোকদের নিকট হতে লুকায়িত এবং যা (পরিমাপ করা) কঠিন।” এখানে কবিতা শেষ। এই কবিতার লেখক আরও বলেছেন, “এবং (তিনি) উচ্চতায় মিথুন তারামণ্ডলেরও উপরে এবং তিনি নক্ষত্রসমূহের মাঝে একটি নক্ষত্র।” এই হলো এই লোকদের অতিরঞ্জন যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি কেন আল-হাজূরীর অনুসারীরা আল-হাজূরীকে রক্ষা করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। কারণ তারা তাকে নিয়ে সেই পর্যায়ের অতিরঞ্জন করেছে যেই অতিরঞ্জন সুফীরা তাদের শাইখদেরকে নিয়ে করে।

৪. এই বিষয়ে হাজূরীর অনুসারীরা শাইখ মুক্ববিল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাক্বলীদ করেছে যার জীবদ্দশায় এটির বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়নি এবং তা সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে নিরসন করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং, আমরা তাদেরকে ক্ষমা করতে পারি যারা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ভুল ইজতিহাদের কারণে এই মতামত ব্যক্ত করেছেন। তবে, ব্যাপক অনুসন্ধানের পর, সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর, সমস্ত প্রমাণ যাচাই করার পর এবং তাদের বাস্তবতা স্পষ্ট হওয়ার পর যারা তাআসসুব (অন্ধভাবে পক্ষপাতিত্ব), তাক্বলীদ (অন্ধ অনুসরণ) এবং হাওয়া (প্রবৃত্তি)-এর কারণে এই ভুল দৃষ্টিভঙ্গির উপর অটল থাকবে তাদের জন্য এই ওজরগুলো গ্রহণযোগ্য হবে না।

৫. আপনাকে এই পিচ্ছিল সাপদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে কারণ তারা তর্ক-বিতর্কের সময় প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করবে এবং সেটিকে মূল বিষয় থেকে ঘুরিয়ে দিবে। তারপর মূল বিষয়টি বাদ দিয়ে তারা তাদের উদ্ভাবনকৃত বিষয় দিয়ে তর্ক করবে এবং সমালোচনা করবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিরক্ষা করার জন্য এটি আল-হাজূরীর অনুসৃত কৌশল এবং এক্ষেত্রে তার অন্ধ অনুসারীরা তাকে অনুসরণ করে।

৬. উদাহরণস্বরূপ, উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রথম আযানের বিষয়ে শাইখ রাবী, শাইখ আল-ফাওযান এবং শাইখ ইবনুল উসাইমীনের কঠোর অবস্থান সম্পর্কে বিবেচনা করুন।

৭. শাইখ ইবনুল উসাইমীন বলেছেন, যে ব্যক্তি উসমানের আযানকে বিদআত বলে সে রাসূল (ﷺ), খলিফাগণ এবং সাহাবীদের তিরস্কারকারী এবং সে একজন মূর্খ-পথভ্রষ্ট বিদআতীও বটে। শাইখ আল-ফাওযান বলেছেন, এই লোকেরা উসমানকে বিদআতী বলতে চায় অথচ উসমান সম্পর্কে এই দৃষ্টিভঙ্গি নিজ থেকেই একটি বিদআত এবং যে ব্যক্তি এটি পোষণ করে সে একজন বিদআতী। দেখুন: http://www.alhajuri.com

৮. এই অধ্যায়ে যা উল্লিখিত হয়েছে সেটি শাইখ আল-ফাওযান, শাইখ ইবনুল উসাইমীনের মতো আলেমের ফাতওয়ার পাশাপাশি আল-হাজূরীর এই দাবি ও মূলনীতি থেকে গ্রহণ করা হয়েছে যার ভিত্তি হলো এই বিশ্বাস: যারা বিদআতের উপর আমল করে বা সেটির অনুমোদন দেয় তখন এই কাজের দ্বারা তারা বিদআতের দিকে আহ্বানকারী হয়ে যায়। দয়া করে এই পুরো অধ্যায়টি পড়ুন এবং আল-হাজূরীর নিজেস্ব বক্তব্যটি পড়ুন এবং তার বক্তব্যের বিপক্ষে আলেমগণের

ফাতওয়া এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করবে।

৯. ইবন তাইমিয়্যাহ বলেছেন, “বিষয়টি অদ্ভুত যে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আনসার ও মুহাজিরদের সামনে [প্রকাশ্যে] এমন একটি কাজ করেছিলেন তা রাফিদ্বীরা প্রত্যাখ্যান করেছে অথচ তারা (আনসার ও মুহাজিরগণ) সেটি প্রত্যাখ্যান করেননি এবং (এক্ষেত্রে) প্রত্যেক মুসলিম তার অনুসরণ করেছেন, আর সেটিই হলো জুমুআর আযান।” মিনহাজ আল-সুন্নাহ (৬/২৯৩)।

১০. তারা ইমাম আল-আলবানীর মতামত ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল, যেটি তারা বিকৃত করে আল-হাজূরীর পক্ষে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু সেটি আল-হাজূরীকেই দোষী সাব্যস্ত করেছে। ইমাম আল-আলবানীর দৃষ্টিভঙ্গি হলো এই যে, উসমানের কাজ একটি সুন্নাত ছিল কারণ সেটি একটি বৈধ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কারণে প্রণয়ন করা হয়েছিল আর যেখানে ও যখনই এই কারণ বিদ্যমান হবে উসমানের এই সুন্নাত বাস্তবায়ন করা যাবে। শাইখ কেবল উসমানের সুন্নাতের ভুল বাস্তবায়নের বিষয়টি সমালোচনা করছিলেন, সেটি সুন্নাত হওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেননি। বিস্তারিত জানতে দেখুন: http://alhajuri.com/?bfbqfsl  এবং এই অধ্যায়ে শাইখ আল-আলবানীর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।

১১. যখন শাইখ রাবী প্রমাণ করলেন যে হিশাম বিন আল-গাযের সূত্রে বর্ণিত ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনাটি শায এবং মুনকার (অন্যথায় জানা ও প্রতিষ্ঠিত বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক) এবং হিশামের ক্ষেত্রে হাদীসের ইমামগণ যে তা’দীল করেছেন তাতে কিছু সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ রয়েছে, ঠিক তখনই হাজূরীর অনুসারীরা অতিরঞ্জিত শিরোনাম সহকারে নিবন্ধ লিখতে শুরু করল যেমন (نعوذ بالله من الهوى: التابعي الجليل هشام بن الغاز تحت الأقدام) “আমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি: হিশাম বিন আল-গায, মহান তাবিয়ী এখন পায়ের নীচে” ইত্যাদি। এখান থেকে আপনি এই লোকদের পথভ্রষ্টতা এবং অন্ধত্ব দেখতে পাবেন যা প্রবৃত্তির অনুসরণের চূড়ান্ত ফলাফল। আপনি যদি তাদের কর্মকাণ্ডের দিকে একটু মনোযোগ দেন তাহলে দেখবেন যে তারা একজন তাবেয়ী, হাদীস বর্ণনাকারীর সম্মান রক্ষা করার ভান করেছে, কারণ শাইখ রাবী বলেছেন যে ইবন উমর থেকে তার বর্ণনা শায এবং তার তা‘দীলে আরও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যেন তারা উসমান বিন আফ্ফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে তাদের অপবাদের ন্যায্যতা দিতে পারে, যিনি তার (হিশাম বিন আল-গায) চেয়েও উচ্চ এবং সম্মানিত ব্যক্তি, যাতে এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি (উসমান) দীনের ভিতর বিদআত, মুখালাফা এবং দ্বলালাহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা আরো ইঙ্গিত করে যে যারা (সাহাবীগণ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল আলেম) তার অনুসরণ করেছেন তারা বিদআতী বা বিদআতের দিকে আহ্বানকারী ছিলেন! সুতরাং, এটি একটি অভিনব কায়দা যেখানে তারা হিশাম বিন আল-গাযকে জুলুমের শিকার এবং তিরস্কৃত বলে চিত্রিত করেছে এবং তার সম্মান রক্ষা করতে চেয়েছে, কিন্তু এসবই শুধু এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে যে উসমান দীনের ভিতর বিদআত, মুখালাফা এবং দ্বলালাহ  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন!

১২. দেখুন: আল-মুখতাসার ফী বায়ান বা‘দ মুখালাফাত ইয়াহইয়া আল-হাজূরী (পৃ. ৩১)-এর পর থেকে।

১৩. মূসা মিলিংটন আল-ত্রিনিদাদী নামের হাদ্দাদী হাজূরীর অনুসারী বলেছে, যেই হাদ্দাদী খালিদ আল-গারবানী দ্বারা পরিচালিত ফোরামে লিখেছে, “উসমানের আযানকে বিদআত হিসেবে আখ্যায়িত করলে সেটি উসমান বিন আফ্ফানের উপর তাবদী অপরিহার্য করে না।”

১৪. এ্যাপেন্ডিক্সে এই উদ্ধৃতিগুলো লিখিত আকারে দেখুন।

১৫. আল-হাজূরী এই শব্দগুলোর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছে যে, ইসলামের আলেমগণ উসমানের কাজকে একটি নব উদ্ভাবিত পথভ্রষ্টতা হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং তার দাবি অনুযায়ী এই বিষয়ে ঐকমত্য আছে। লক্ষ্য করুন, সে কেবল এতটুকু বলে ক্ষান্ত হয়নি যে উসমানের আযান একটি নব-উদ্ভাবন ছিল, যা সর্বসম্মত বটে। বরং, সে বুঝাতে চেয়েছে যে এটি একটি গর্হিত বিদআত এবং দ্বলালাহ (পথভ্রষ্টতা) যার ব্যাপারে ইজমা আছে। তার দাবি মিথ্যা এবং এক্ষেত্রে হাজূরীর কোনও অনুসারী যদি হাজূরীকে বিশ্বাস করে এবং এই কথা বলে সেও মিথ্যাবাদী। লক্ষ্য করুন সে “মুহদাস” শব্দটি ব্যবহার করেছে (যেটিকে সে “বিদআত” বলতে চাইছে)। একটি অডিও রেকর্ডিং থেকে এখানে প্রতিলিপি করা হয়েছে: http://www.sahab.net/forums/?showtopic=136806

১৬. এরপর, আল-হাজূরী এই দাবির প্রতিফলন এইভাবে ঘটানোর চেষ্টা করেছে যে এটি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর তাবদী করার সমতুল্য এই অর্থে যে উসমান ইজতিহাদ করেছেন সুতরাং এক্ষেত্রে (তিনি ভুল করতে পারেন বলে) একটি অজুহাত রয়েছে এবং সে আযানের বিষয়টিকে মিনায় উসমানের চার রাকাত সালাত আদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সুবিদিত ভুলের সঙ্গে তুলনা করেছে যেই কারণে সাহাবীরা তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন। তবে, দুটি বিষয়ের মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই কারণ চার রাকাত সালাত প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি সাহাবীদের নিকট হতে সুবিদিত এবং প্রতিষ্ঠিত। উসমানের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত তাঁর প্রথম আযানটি যে সাহাবীগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে আল-হাজূরী দাবি করেছে তার কোনও প্রমাণ নেই।

১৭. নিম্নে শাইখ আল-ফাওযান এবং শাইখ ইবনুল-উসাইমীনের বক্তব্যগুলো দেখুন।

১৮. আন-নুমাইরী কর্তৃক তারীখ আল-মাদীনা (৩/৯৬০)। ইক্বামতকে আযান হিসেবে বিবেচনা করা হতো তাই কোনো কোনো আলেমদের বক্তব্য অনুসারে উসমানের আযানকে তৃতীয় আযান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

১৯. আল-আওসাত মিন আস-সুন্নাহ ওয়াল-ইজমা (দার আল-ফালাহ, ১৪৩১হি, ৪/৬৩)।

২০. দেখুন: ইবন ক্বুদামাহ কর্তৃক আল-কাফী (১/৪৯৪)।

২১. মাজমূ আল-ফাতাওয়া (২৪/১৯৩-১৯৪)।

২২. মিনহাজ আস-সুন্নাহ (৬/২৯২)।

২৩. শারহু সাহীহ আল-বুখারী (৬/২৬), ইতহাফ আহল আল-ইমান বি ইজমা আল-উলামা আলা সুন্নিয়্যাত আল-আযান আল-আউয়াল আল্লাযী সান্নাহু উসমান। এই ঐকমত্যটি মুল্লা আলী আল-ক্বারী, বাদার আদ-দীন আল-আইনী (এর মতো  হানাফী ফিক্বাহবিদগণ) আর একইভাবে মুহাম্মাদ সিদ্দীক্ব হাসান খান নিশ্চিত করেছেন।

২৪. তার ফাতহ আল-বারী (৮/২২০-২২১) গ্রন্থটি দেখুন । লক্ষ্য রাখতে হবে যে ইয়াহইয়া আল-হাজূরী তার আহকাম আল-জুমুআহ গ্রন্থে এই বক্তব্যটি বাদ দিয়েছে এবং এটি এভাবে উদ্ধৃত করেছে, “তিনি (ইসহাক্ব) বলেছেন: জুমুআর দিনের প্রথম আযান বিদআত, এটি উসমান কর্তৃক উদ্ভাবিত, এই বর্ণনাটি ইবন রজব ফাতহ আল-বারী (৮/২২০-২২১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।” এবং উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আল-হাজূরী এখানে সুস্পষ্ট প্রতারণা করেছে ।

২৫. আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ (৮/১০৩)।

২৬.দেখুন: http://www.binbaz.org.sa/mat/10052

২৭. ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ (৮/১৯৮)।

২৮. দেখুন: আল-আজওয়িবাহ আন-নাফিআহ আন-আসইলাহ লাজনাহ মাসজিদ আল-জামিআহ (পৃ. ২৫) এবং বিস্তারিত জানতে দেখুন: http://alhajuri.com/?bfbqfsl

২৯. এই সময় হাজূরীর বহু অনুসারী প্রতিবাদ করে এবং বলে যে শাইখ মুক্ববিল এটিকে বিদআত বলেছেন। এটি প্রমাণ করে যে তারা মুক্বাল্লিদাহ (অন্ধ অনুসারী) এবং তারা এমন একজন আলেমের ভুল বক্তব্যের অনুসরণ করে যার দলীলগুলো বাতিল সাব্যস্ত করার মাধ্যমে তাকে তার ভুল সম্পর্কে অবগত করা সম্ভব হয়নি।

৩০. শাইখ রাবী, আল-হাজূরীর কিছু ছাত্রদের অতিরঞ্জিত দাবি খণ্ডন করে প্রচুর লেখালেখি করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে এই বর্ণনাটি শায (অস্পষ্ট), মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) কারণ এটি সেই বিষয়গুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক যা সুপরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত, পাশাপাশি বর্ণনাকারী হিশাম বিন আল-গাযের সাথে সম্পর্কিত আরও অসংখ্য পর্যালোচনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

৩১.দেখুন: http://www.sahab.net/forums/?showtopic=137362

৩২. হিশাম বিন আব্দুল মালিকের আযানের আলোচনা এবং ইমাম আশ-শাতিবীর উদ্ধৃতি সম্পর্কে জানতে আরও নিচে দেখুন।

৩৩. আল-হাজূরী তাঁর আহকাম আল-জুমুআহ (দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃ. ৪১০-৪২২) গ্রন্থে এই কাজটিই করেছে। সেখানে সে ২৯জন আলেমের বক্তব্য তুলে ধরেছে এবং উসমানের আযান নব-উদ্ভাবিত, দীনের ভিতর বিদআত, সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয় অথবা সেটি আমলযোগ্য নয় বলে দাবি করেছে। আর যখন আপনি সেগুলো একে একে পর্যালোচনা করবেন, তখন আপনি দেখতে পারবেন যে (প্রথম আযানকে কোনো প্রকার শ্রেণিকরণ বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই দীনের ভিতর একটি গর্হিত বিদআত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার) উদ্ধৃতিগুলো দিয়ে আল-হাজূরী যা দাবি করেছে সেগুলোর মাঝে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পরিশেষে তাদের নিকট শুধু ইবন উমরের বর্ণনাই অবশিষ্ট রয়েছে, যার কারণে তারা এর সত্যতা প্রমাণ করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছে, যাতে তারা এটি প্রমাণ করতে পারে যে উসমান দীনের ভিতর একটি বিদআত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেটি তার পরবর্তীতে উম্মত অনুসরণ করেছে।

৩৪. আর সাহাবীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সুন্নাহর আলেমগণ এই বর্ণনাটিকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন, এই ধারণার ভিত্তিতে যে এটি বিশুদ্ধ।

৩৫. এখানে, ইবন উমরের কথিত বক্তব্যের দ্বারা উসমানের প্রবর্তিত আযানকে বুঝানো হয়নি যা আয-যূরা থেকে দেওয়া হতো বরং (জুমুআর) সেই মূল আযানকে বুঝানো হয়েছে (যা সর্বদা মসজিদের বাইরে থেকে দেওয়া হতো) যা (পরবর্তীতে) মসজিদের ভিতরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল এবং (এরপর থেকে) ইমামের সামনেই দেওয়া হতো।

৩৬. আল-আজওয়িবাহ আন-নাফিআহ আন আস-ইলাহ লাজনাহ মাসজিদ আল-জামিআহ (পৃ. ২৮ )।

৩৭. তাদের পথভ্রষ্টতা এবং প্রবৃত্তি অনুসরণের বড় লক্ষণ হলো, যখন শাইখ রাবী বর্ণনাটিকে শায ও মুনকার প্রমাণ করলেন, তখন তারা তাবেয়ী হিশাম বিন আল-গাযের পক্ষে যুক্তি উত্থাপন করতে লাগল এবং তাকে নিন্দা ও অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে দাবি করতে লাগল – এবং এসবই কেবল এই দাবিকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য যে উসমান দীনের ভিতরে বিদআত, দ্বলালাহ এবং মুখালাফাহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন!

৩৮. সে সর্বপ্রথম এই দাবি করেছিল এবং ইবন তাইমিয়্যাহ মিনহাজ আস-সুন্নাহ গ্রন্থে তাকে খণ্ডন করেছেন।

৩৯. ফাতাওয়া নূর আলা আদ-দারব (১৩/২০৭)। আর এবিষয়ে কিন্তু শাইখের অসংখ্য ফাতওয়া আছে।

৪০. এই শায এবং মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) বর্ণনাটিকে ঘিরে হাজূরীদের বিরুদ্ধে শাইখ রাবীর লেখা বিস্তারিত খণ্ডন দেখুন যে বর্ণনাটি হাজূরীর অনুসারীরা বিশুদ্ধ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করেছে যেন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিদআতী বলার অভিযোগ থেকে তারা তাদের হাদ্দাদী নেতাকে রক্ষা করতে পারে।

৪১. অডিওর জন্য http://alhajuri.com/dld.cfm?a=vazbjh দেখুন। শাইখ আল-ফাওযানের এই বক্তব্য থেকে আপনি বুঝতে পারছেন যে, যখন সাহাবীগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আলেমগণ এই বর্ণনাটি (যেটি শায ও মুনকার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে) পর্যালোচনা করেছেন, তারা ইবন উমরের সাথে সম্পর্কযুক্ত এই মন্তব্যটিকে তার পিতা উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর মন্তব্যের আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন। এটি ইবন আল-মুতাহহির (যাকে ইবন তাইমিয়্যাহ মিনহাজ আস-সুন্নাহ গ্রন্থে খণ্ডন করেছেন) এবং হাজূরীর অনুসারীদের বিপরীত যাদের উপর হুজ্জাহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আলেমরা যাদের বিদআত ও দ্বলালাহ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন এরপরেও যারা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর উপর বিদআত সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অটল থেকেছে।

৪২. অডিওর জন্য দেখুন: http://alhajuri.com/dld.cfm?a=sdduoa

৪৩. অডিওর জন্য দেখুন: http://alhajuri.com/dld.cfm?a=znxoar

৪৪. কিতাব আল-জানায়িয (পৃ. ৩০৫)।

৪৫. শারহ রিয়াদ্ব আল-সালিহীন, আযানের শ্রেষ্ঠত্বের অধ্যায় (দারুস সালাম, প্রথম সংস্করণ, ১৪২৩ হি, পৃ. ১২৭৮)।

৪৬. রিয়াদ্ব আস-সালিহীনের রেকর্ডকৃত দারস। অডিওর জন্য দেখুন: http://alhajuri.com/?fvwezev

৪৭. শাইখের এই তিনটি বক্তব্য লিখিত আকারে দেখুন: http://alhajuri.com/?mzwdxmm

৪৮. এই অংশটি আহলুস সুন্নাহর দৃঢ় অবস্থানের একটি উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যারা সাহাবীদেরকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে যা হাজূরী হাদ্দাদীদের বিপরীত যারা তাদের নেতা কর্তৃক  সাহাবীদের অসংখ্য তিরস্কারের প্রতি উদাসীন।

৪৯. আমরা হাদ্দাদী হাজূরীদের স্পষ্টীকরণের দাবীতে উসমানের নামের পরে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) যোগ করিনি কারণ তারা মূলত এটাই বুঝাতে চেয়েছে যে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাজের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট নন কারণ এটি রাসূল (ﷺ)-এর শানে বিদআত, দ্বলালাহ এবং মুখালাফা যা উম্মতের ভিতরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সুতরাং, উসমানের সেই কাজ – তাদের মতে – সমগ্র উম্মতকে বিদআত এবং বিভ্রান্তি প্রচারের দিকে পরিচালিত করেছে। এবং – তাদের দৃষ্টিতে – বিষয়টির বাস্তবতা হলো এমন যে, উসমান কীভাবে এই ব্যাপারে অজ্ঞ হতে পারেন, এবং হাজার হাজার সাহাবী যখন এটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন তখন তারা কীভাবে এই আমল অব্যাহত রাখার অনুমোদন দিতে পারেন?

৫০. আল-হাজূরী পূর্বের মতোই এই নীতিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে আর সে তাদের মধ্যে পার্থক্য করে না যারা বিদআতের দিকে আহ্বান করে এবং যারা আহ্বান করে না।

৫১. মিনহাজ আস-সুন্নাহ (৬/২৯৩)।

৫২. যেই বর্ণনাটি হিশাম বিন আল-গাযের সূত্রে ইবন উমর পর্যন্ত পৌঁছেছে।

৫৩. শাইখের “আয-যাব্ব আন খালিফা আর-রাশিদ উসমান” প্রবন্ধে হাজূরীর উগ্রবাদী অনুসারী, ইউসুফ বিন আল-ঈদ আল-ইনাবী আল-জাযায়িরীকে খণ্ডন করা হয়েছে।

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading