মহান আল্লাহ বলেছেন: বলুন, “আমার রব তো শুধু হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা এবং পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সাথে শরীক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।” [সূরা আল-আ’রাফ: ৩৩]
তিনি, সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা, তাঁর সম্পর্কে না জেনে কথা বলাকে শিরকের চেয়েও গুরুতর পাপ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এটি আল্লাহর সম্পর্কে না জেনে কথা বলার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রযোজ্য; কুরআন ও সুন্নাহর দলীল ছাড়া দীনের মৌলিক বিষয় (উসূল) এবং এর শাখা-প্রশাখা (ফুরূ) নিয়ে কথা বলাও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। (আর দলীল ব্যতীত) কোনোকিছুকে হারাম বা হালাল ঘোষণা করার বিষয়টি তাঁর সম্পর্কে না জেনে কথা বলার সমতূল্য যার ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
“তোমাদের জিহবা থেকে যেসব মিথ্যা বের হয় তার মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করার জন্য এমন কথা বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম। যারা আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যাচার করে, তারা কখনো সফলকাম হয় না।” [সুরা আন-নাহাল: ১১৬]
সুতরাং, মহান আল্লাহ যদি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং ধ্বংসের হুমকি দেন যারা দলীল ছাড়া কোনো বিষয়কে হালাল অথবা হারাম ঘোষণা করে, তাহলে তাদের অবস্থা কী হবে যারা দলীল ছাড়া আল্লাহর নির্ধারণকৃত ইবাদাতমূলক কাজ, ইবাদাতের নির্ধারিত স্থান ও সময় সম্পর্কে কথা বলে?
তাছাড়া, এটি জানা বিষয় যে ইবাদাতের ধরণ, সময় এবং স্থান তাওক্বীফী (কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সুনির্দিষ্ট) । সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি ইবাদাতের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি, সে সর্বশক্তিমানের বাণীর উপযুক্ত হয়ে যায়:
“তাদের কি এমন কতগুলো শরীক আছে যারা তাদের জন্য বিধান দিয়েছে এমন দীনের যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি ফয়সালার ঘোষণা না থাকত, তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েই যেত। নিশ্চয়ই জালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।” [সূরা আশ-শূরাহ: ২১]
একারণে তিনি, সুবহানাহু ওয়া তা’আলা, তাঁর তাশরী (বিধান প্রণয়ণ)-এর ক্ষেত্রে তাদেরকে শরীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যারা দীনের ভিতর এমন বিধান প্রণয়ন করে যা মহান আল্লাহ প্রণয়ন করেননি। আর যে কেউ সেই ব্যক্তির আনুগত্য করবে, সে আল্লাহর নিকট মুশরিক হিসেবে গণ্য হবে কারণ সে আনুগত্য করার ক্ষেত্রে [আল্লাহর সঙ্গে] শিরক করেছে, নবী (ﷺ) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আমাদের এই দীনের ভিতরে এমন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” কারণ আল্লাহ তাআলা যে বিধান প্রণয়ন করেছেন এবং (এর মাধ্যমে) যে সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন, তিনি (ﷺ) মহান আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী তা মানুষের নিকট স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন:
“আর এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে নিজের উপরই জুলুম করে।” [সূরা আত্ব-ত্বলাক্ব: ১]
“এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর নির্ধারণকৃত সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, বস্তুত তারাই জালিম।” [সূরা আল-বাক্বারাহ: ২২৯]
“আর যে কেউই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, সে তাতে চিরস্থায়ী হবে এবং সে লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে।” [সূরা আন-নিসা: ১৪]
উৎস: শাইখ সালিহ আল-ফাওযান, আল-ক্বাওলু ‘আলাল্লাহি বি গাইরি ইলমিন আদীল আশ-শিরক
Share this:
- Click to share on X (Opens in new window) X
- Click to share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Click to email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Click to share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Click to share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Click to print (Opens in new window) Print
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Click to share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Click to share on Pocket (Opens in new window) Pocket

















