Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

শাইখ আল্লামাহ রাবী ইবন হাদী উমাইর আল-মাদখালী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ওসিয়ত

মৃত্যু: বৃহস্পতিবার রাত, ১৫ই মুহাররম, ১৪৪৭ হিজরি । এইদিন বৃহস্পতিবার ফজরের সময় মসজিদে নববীতে তার জানাজা পড়ানো হয় এবং তাকে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়, (আল্লাহ তার উপর রহম করুন এবং তাকে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা দান করুন)।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমাদের মন্দ প্রবৃত্তি ও কুকর্ম থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক এবং তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” [আলে ইমরান: ১০২]

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا

“হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর সেই আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট চাও এবং ভয় করো রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।” [নিসা: ১]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের কর্মগুলো সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গুনাহগুলো মাফ করবেন এবং যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে।” [আহযাব: ৭০–৭১]

অতঃপর:

সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিদায়াত। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ। প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয় হলো বিদআহ। প্রত্যেক বিদআহ হলো গোমরাহী এবং প্রত্যেক গোমরাহী জাহান্নামে (যাওয়ার কারণ)।

অতঃপর:

আমি, এই দুনিয়া ত্যাগের নিকটবর্তী এবং আখিরাতের দিকে অগ্রসরমান এক দুর্বল বান্দা হিসেবে সমস্ত মুসলিমদের এই উদ্দেশ্যে ওসিয়ত করছি যে, তারা (মুসলিমরা) যেন আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করে, সবাই যেন একযোগে আল্লাহর রজ্জুকে (কুরআন ও সুন্নাহ) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে, তারা যেন বিভক্ত না হয় এবং তাদের দীনকে বিভক্ত না করে।

নিশ্চয়ই আল্লাহভীতি এবং আল্লাহর রজ্জুকে (কুরআন ও সুন্নাহ) আঁকড়ে ধরার মধ্যে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সুখ ও নেতৃত্বের কারণ নিহিত আছে। আর বিভক্তি ও মতভেদের মধ্যে রয়েছে তাদের জন্য লাঞ্ছনা ও হীনতা। আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর উপর একত্রিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না।

তারা যেন এই মহতী বিষয়টিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে যা দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্যের নিশ্চয়তা প্রদান করে। আর যে বিষয়গুলো এর বিপরীত, যেমন: মতভেদ ও বিভক্তি, সেগুলো থেকে যেন তারা দূরে থাকে। কারণ এসবই দুনিয়া ও আখিরাতের দুঃখ-কষ্ট ও লাঞ্ছনার মূল কারণ।

আমি সালাফীদের উদ্দেশ্যে ওসিয়ত করছি, কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং এর প্রতি আহ্বান করা যাদের বৈশিষ্ট্য; তারা যেন মুসলিমদের অবস্থা, আক্বীদাহ, ইবাদত, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ এবং মুসলিম জীবনের অন্যান্য বিষয়গুলো সংস্কারে তাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করে দেয়। কুরআন ও সুন্নাহই যেন এই সকল বিষয়ের ভিত্তি হয় ।

তারা যেন মুসলিমদের কাছে তাদের সদিচ্ছা ও মহৎ উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে তুলে ধরেন যে, তারা এই উম্মতের জন্য কেবল কল্যাণই চান। তারা মুসলিমদের উপর থেকে সব বিপদ-আপদ দূর করতে চান যা মূলত কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিচ্যুতির ফলে এই উম্মতের উপরে পতিত হয়েছে।

আর আমি বিভিন্ন চিন্তাধারার তালিবে ইলম ও আলেমদের নিকট ওসিয়ত করছি: আপনারা আপনাদের উম্মাহ সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করুন। এই উম্মাহর জন্য যা কল্যাণকর, সেই লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করুন যেন তারা কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের আক্বীদাহ, ইবাদত, রাজনীতি, সামাজিকতা এবং আখলাক্বের দিকে ফিরে যেতে পারে।

আপনারা প্রবৃত্তি ও মতভেদ থেকে দূরে থাকুন যা এই উম্মাহর অনেক ক্ষতি করেছে। এই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা এবং মুসলিমদের সেইসব কারণ থেকে দূরে রাখার এখনই সময় যে বিষয়গুলো তাদের দুর্বলতা ও লাঞ্ছনার দিকে নিয়ে যায়। কেননা এই উম্মাহর শেষ অংশ শুধু সেই বিষয় দ্বারা সংশোধিত হবে যে বিষয় দ্বারা এর  প্রথম অংশ সংশোধিত হয়েছিল। সবাইকে বুঝতে হবে যে, এই উম্মাহ কেবল তখনই সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হতে পেরেছে যখন তারা মানুষকে সৎকাজের আদেশ করেছে, অসৎকাজ থেকে  নিষেধ করেছে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাক্ষ্যের দ্বারা প্রথম যুগের মুসলিমরা অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম এবং তাদের অনুসরণকারীগণ এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন :

“মানুষদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার প্রজন্ম, তারপর তাদের পরবর্তীরা, তারপর তাদের পরবর্তীরা। এরপর এমন কিছু মানুষ আসবে যারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদেরকে সাক্ষ্য দিতে বলা হবে না, তারা আমানত ভঙ্গ করবে, মান্নত করবে কিন্তু তা পূরণ করবে না এবং তাদের মধ্যে স্থুলতা দেখা দিবে ।”

[সহীহ বুখারী: ৩৬৫০, হাদীস: ইমরান ইবন হুসাইন]

তিনি আরও বলেছেন:

“এক এক করে নেককার লোকেরা চলে যাবে, আর থেকে যাবে নীচ প্রকৃতির লোক, যেভাবে অবশিষ্ট থাকে যব ও খেজুরের অব্যবহার্য অংশ । আল্লাহ তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র দৃষ্টিপাত করবেন না।”

[সহীহ বুখারী: ৬৪৩৪, হাদীস: মিরদাস ইবন মালিক আল-আসলামী]

অতএব, ইলম-বহনকারীদের উচিত আল্লাহ, আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল, মুমিন এবং সাধারণ ও বিশেষ সকল শ্রেণির মুসলিমদের প্রতি আন্তরিক উপদেশ প্রদান করা যেন আল্লাহ তাআলা এই দুরবস্থায় পতিত মুসলিমদের  মধ্য থেকে কিছু মানুষকে উদ্ধার করেন। তাদের কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফয়সালার জন্য ফিরে না যাওয়া এই দুর্দশার একমাত্র কারণ । তারা যদি আন্তরিকতা এবং সত্যতার সহিত এসব ঘোষণা করে তাহলে এই উম্মাহর জন্য বহু কল্যাণ আসবে।

আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট দুআ করি, তিনি যেন এ উদ্দেশ্য পূর্ণ করেন এবং মুসলিমদের উপর থেকে সমস্ত অপমান, লাঞ্ছনা, বিভক্তি, হিংসা, শত্রুতা ও বিদ্বেষের কারণগুলো অপসারণ করে দেন যার প্রভাব ও ফলাফল সেই লোকেরা পাবে যারা এই উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করেন।

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading