Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

শত্রুদের সামনে মুসলিমদের দুর্বলতার কারণ এবং এর থেকে উত্তরণের উপায়

সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার। আল্লাহভীরুদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা, তাঁর রাসূল, ওয়াহীর আমানতদার, সৃষ্টির সর্বোত্তম, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম, আমাদের পথপ্রদর্শক মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবের উপর অতঃপর তাঁর পরিবার, এবং সাহাবীগণের উপর এবং তাদের উপর যারা তাঁর পথের উপর চলেছে এবং যারা তাঁর দেখানো পথের উপর কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। অতঃপর:

ইসলামী চিন্তাবিদগণ, ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং যারা মুসলিমদের অবস্থা ও তাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করেন তারা এ বিষয়টি নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করেছেন। মুসলিমদের দুর্বলতা, শত্রুদের থেকে তাদের পশ্চাৎপদতা, তাদের মধ্যে বিভক্তি ও মতভেদ, মুসলিমদের উপর কাফেরদের বিজয়ী হওয়া ও তাদের দ্বারা মুসলিমদের কিছু দেশ দখল হওয়ার কারণ সম্পর্কে তারা চিন্তাভাবনা করেছেন।

অতঃপর যখন তারা এই সুস্পষ্ট কারণগুলো জানতে পেরেছেন, তখন তারা সেই কারণগুলোর চিকিৎসা নিয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন যেগুলো মুসলিমদের পিছিয়ে পড়া ও দুর্বলতার কারণ হিসেবে পরিচিত। তবে চিকিৎসার এই উপায়গুলো প্রচার করা ও স্পষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ রোগ এবং তার প্রতিকার সম্পর্কে জানা সুস্থতা ও আরোগ্য লাভের প্রধান উপায়গুলোর একটি। একজন রোগী যখন তার রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন হয়, তখন সে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের প্রতি মনোযোগী হয় এবং রোগ নিরাময়ের জন্য সেই চিকিৎসাকে প্রয়োগ করে।

এটিই হলো সেই বোধসম্পন্ন ব্যক্তির স্বভাব যে জীবনকে ভালোবাসে এবং রোগমুক্ত হতে চায়। সে রোগ এবং তার চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার প্রতি গুরুত্ব দেয়।

কিন্তু কিছু মানুষ আছে যাদের উপর রোগ এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছে যে তারা ঐ রোগেই সন্তুষ্ট থাকে এবং তা উপভোগ করে। তাদের সকল অনুভূতি মরে গেছে। কেউ তাদেরকে ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিলে তারা ভ্রূক্ষেপও করে না, কারণ সেই রোগটি তাদের স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। তারা ঐ রোগ নিয়ে খুশি এবং সন্তুষ্ট থাকে। তাদের বিবেক, অন্তর এবং কার্যকলাপের উপর প্রবৃত্তির প্রভাব এতটাই গুরুতর যে তাদের রুচি নষ্ট হয়ে গেছে এবং দূরদর্শিতা দুর্বল হয়ে গেছে। এটিই অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দীন সম্পর্কিত রোগ এবং সেগুলোর চিকিৎসার বাস্তবতা।

অধিকাংশ মানুষ মন্দ কর্মের স্বাদ পেয়েছে এবং এসব রোগ ও মন্দ কর্মগুলো তাদের জন্য সুখকর হয়ে গিয়েছে যা তাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। সেটা তাদের (জীবনের) গতিকে স্থবির করে দিয়েছে, তাদেরকে রোগব্যাধি ও তার পরিণতি অনুভব করা থেকে বাধা দিয়েছে এবং এত্থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যতে উদ্ভূত পরিস্থিতি উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে তাদেরকে অক্ষম করে দিয়েছে। রোগের প্রতিকার তাদের জন্য সহজলভ্য হওয়া সত্বেও তারা সেটি খোঁজে না এবং এ বিষয়ে কোনো আগ্রহও দেখায় না। কারণ, এসব বিষয়ে তারা মোটেও উদ্বিগ্ন নয়। এর মূল কারণ হলো: রোগটি তাদের মধ্যে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তাদের অন্তর এ নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে, (রোগের) ক্ষতিকারক দিকগুলোর প্রভাব লুকায়িত আছে এবং তাদের মধ্যে বড় কিছু অর্জন করার উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাব রয়েছে।

আলেমগণ, চিন্তাশীল, অভিজ্ঞ এবং অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ অতীত ও বর্তমান যুগে এই উম্মতের অবস্থা সম্পর্কে এবং মুসলিমদের দুর্বলতা ও তাদের পিছিয়ে থাকার কারণ‌সমূহ বর্ণনা করেছেন। তারা এই রোগ দূর করার সফল উপায়, চিকিৎসার ফলাফল এবং সেসব চিকিৎসা যথাযথভাবে প্রয়োগ করলে কী হতে পারে তাও তুলে ধরেছেন।

মুসলিমদের এই দুর্বলতা, পিছিয়ে থাকা ও তাদের উপর শত্রুদের বিজয়ী হওয়ার মূল কারণ একটি, যার থেকে অন্যান্য অসংখ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই একমাত্র কারণ হলো অজ্ঞতা—আল্লাহ, তাঁর দীন ও পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞতা। এই অজ্ঞতা অধিকাংশ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। এর ফলে ইলমের স্বল্পতা সৃষ্টি হয়েছে এবং অজ্ঞতা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। আর এই অজ্ঞতা থেকেই দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা, মৃত্যুকে ঘৃণা করা, সালাত নষ্ট করা, প্রবৃত্তির অনুসরণ করা, শত্রুর বিরুদ্ধে প্রস্তুত না থাকা, শত্রুদের থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকা এবং নিজ দেশ ও তার ধনভাণ্ডার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকার মতো অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আর এ থেকেই মতভেদ, অনৈক্য ও সহযোগিতার অভাব তৈরি হয়েছে।

এসকল কারণ ও তার ফলাফল স্বরূপ শত্রুদের সামনে (মুসলিমদের) এই দুর্বলতার উদ্ভব হয়েছে এবং তারা সকল বিষয়ে পিছিয়ে পড়েছে, তবে সেটুকু ব্যতীত যা আল্লাহ চাননি। তারা সেসব হারাম কাজ ও প্রবৃত্তির তাড়নার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছে যা আল্লাহর পথ ও হিদায়েত থেকে তাদেরকে বিচ্যুত করেছে। তারা সেসব কারিগরি দক্ষতা এবং অস্ত্রের পরিমাণের দিক থেকে শত্রুর মোকাবিলায় অপ্রস্তুত যা শত্রুর মনে ভয় সঞ্চার করবে, এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ও তাদের থেকে অধিকার আদায় করার ব্যাপারে সহায়ক হবে। তাদের শরীর জিহাদের জন্য অপ্রস্তুত। শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চার করা, তাদের ক্ষতি থেকে বাঁচা এবং দীন ও দেশের প্রতিরক্ষার জন্য যেখানে সম্পদ ব্যয় করা উচিত সেখানে তারা ব্যয় করেনা।

আর যে কোনো উপায়ে দুনিয়া অর্জন করার লালসা এই রোগ থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রতিটি মানুষ শুধু তার ও তার দেশ ব্যতীত অন্য কিছুর ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়না যদিও এতে তার দীন (ইসলাম) নষ্ট হয়ে যায় বা তার (দীনদারিতার) অধিকাংশ নষ্ট হয়ে যায়।

এটিই অধিকাংশ মানুষের অবস্থা। আর এটিই ইসলামের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্তকারী দেশগুলোর বর্তমান অবস্থা। এটি বললে ভুল হবেনা যে, এটিই বাস্তবতা। তবে কিছু দেশ এর ব্যতিক্রম যারা পরিপূর্ণভাবে না হলেও কিছুটা প্রস্তুত ও সতর্ক আছে। তারপরও তাদের সার্বিক অবস্থা কাঙ্ক্ষিত নয়।

আর এত্থেকে প্রমাণিত হয় যে এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো আল্লাহ ও তাঁর দীন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সেই বাস্তবতাগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতা যেগুলো আঁকড়ে ধরা অবশ্যক। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين

‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দীনের বুঝ দান করেন।’ হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এর সাথে বহু আয়াত ও হাদীস আছে যেগুলো অজ্ঞতার ক্ষতি, এর মন্দ ফলাফল ও মন্দ পরিণতির কথা উল্লেখ করে। বরং সম্পূর্ণ কুরআনই এই ধরনের বাণী দিয়ে ভরপুর যা অজ্ঞতা ও অজ্ঞদের তিরস্কার করে এবং অজ্ঞতা থেকে সাবধান করে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ

‘কিন্তু তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ’। (সূরা আনআম: ১১১)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:

وَأَكْثَرُهُمْ لا يَعْقِلُونَ

‘তাদের অধিকাংশই বোঝে না’। (সূরা মায়িদাহ: ১০৩)

এরকম আরো অনেক আয়াত আছে যেখানে আল্লাহ এবং তাঁর দীন ও শত্রু সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং প্রস্তুতি, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আবশ্যকীয় হওয়ার ব্যাপারে অজ্ঞতাকে নিন্দা করা হয়েছে।

আর অজ্ঞতা থেকেই বিভক্তি, মতানৈক্য, কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, আল্লাহর ওয়াজিবকৃত বিষয়গুলো নষ্ট করা, আখিরাতকে প্রাধান্য না দেওয়া ও আখিরাতের সাথে সত্যিকারের সম্পৃক্ততা না থাকার মতো বিষয়গুলো সৃষ্টি হয়েছে। বরং অধিকাংশ মানুষই ইহকাল ছাড়া কোনো কিছুকে গুরুত্ব দেয় না যেমনটি আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত হয়েছে:

كَلا بَلْ تُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ وَتَذَرُونَ الْآخِرَةَ

‘কখনো নয় বরং তোমরা ইহকালকে ভালোবাসো। এবং তোমরা আখিরাতকে ত্যাগ করো।’ [সূরা কিয়ামাহ: ২০,২১]

আর যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَأَمَّا مَنْ طَغَى وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى

‘আর যে সীমালঙ্ঘন করে এবং দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়; নিশ্চয়ই জাহান্নাম তার আবাসস্থল।’ [সূরা নাযিয়াত: ৩৭-৩৯]

আর এই অজ্ঞতা থেকেই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই বিপর্যয়গুলো হলো দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও মৃত্যুকে ঘৃণা করা, প্রবৃত্তির অভিমুখী হওয়া, ফরয কাজ ও সালাত নষ্ট করা, সকল দিক থেকে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি গ্রহণ না করা তবে ততটুকু ব্যতীত যতটুকু আল্লাহ চান নি। বিভক্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতা না থাকাও এসকল বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين

“আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দীনের বুঝ দান করেন।”

এই হাদীসটি থেকে আমরা যা পাই তা হলো: ব্যক্তি, জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ ও সৌভাগ্যের আলামত হলো দীনের জ্ঞান অর্জন করা। দীনের জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করা, তা শেখা ও তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যা বর্তমান ও ভবিষ্যতে তাদেরকে অবশ্যই পালন করতে হবে। এগুলো তাদের উপর সবচেয়ে বড় আবশ্যকতা। আর এটি একটি আলামত যে আল্লাহ তাদের জন্য কল্যাণ চান।

আর শত্রুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর ফরয বিধানগুলো পালন করা, আল্লাহর হারামকৃত বিষয় থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমার ভিতরে থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। আর এর সাথে আরো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুসলিম দেশগুলোতে সেসকল কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বিদ্যমান থাকা যা সকলেই কাজে লাগাতে সক্ষম হবে যার ফলে সর্বক্ষেত্রে তারা দক্ষ হবে যাতে মুসলিমদেরকে শত্রুর কাছে মুখাপেক্ষী না হতে হয়। আর শত্রুরা যেন মুসলিমদের এসব প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনে তাদেরকে ভয় পায়। ফলে তারা তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করে, তাদের হক আদায় করে এবং সীমার মধ্যে থাকে। আর এর মাধ্যমে যেন শরীর প্রস্তুত হয় এবং এমন বিলাসবহুল জীবন যাপন থেকে বিরত থাকা যায় যা শত্রুর মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে শরীর ও অন্তরের শক্তিকে কমিয়ে দেয় এবং যাতে জিহাদ করার শক্তি অর্জন করা যায়।

দীনী জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যমে আখিরাত, জান্নাত, জান্নাতের নেয়ামত, তার প্রাসাদসমূহ, বড় বড় নেয়ামত‌, এবং জাহান্নাম ও তার শাস্তি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জিত হয়। তাই এর মাধ্যমে অন্তর প্রাণবন্ত হয়, তা দুনিয়া‌বিমুখ হয়, তা শত্রুর জন্য প্রস্তুত হয় এবং তা আল্লাহ তাআলার রাস্তায় জিহাদ করা ও শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।

দীনী জ্ঞান অর্জন করলে তা সাধারণ জনগণ ও তাদের নেতাদেরকে ঐসকল কাজে উৎসাহ দেয় যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করে, আর ঐসকল কাজ থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ দেয় যেগুলো তাঁর অসন্তুষ্টি অর্জন করে। আর দীনী জ্ঞান অর্জন করার ফলে মুসলিমদের অন্তরসমূহ শত্রুদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একত্রিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। এর মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়িত হয়, তাঁর শরীয়ত দিয়ে বিচার-ফয়সালা পরিচালিত হয় এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার প্রতি উৎসাহ জাগে। আর আল্লাহ তাআলা ও তাঁর বান্দাদের প্রতি যেসব কর্তব্য আছে সে বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার সৃষ্টি করে। কারণ নিশ্চয়ই উপকারী ইলম মানুষকে সৎ আমল, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পরস্পরকে নসীহাত করার প্রতি আহ্বান করে। আর এই ইলম তাকে ফরয পালন করা, হারাম থেকে দূরে থাকা, আখিরাতের প্রতি আগ্রহী হওয়া, হকের উপর থেকে মৃত্যুকে ভয় না করা, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা, শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ও তাদের থেকে অধিকার বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণরূপে অনুপ্রাণিত করে।

আর (উপকারী) জ্ঞানের কারণে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত রাখা, মুসলিমদেরকে তাদের শত্রুদের হাত থেকে ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা করা, শত্রুদের হাত থেকে অসহায় মুসলিমদেরকে রক্ষা করা, মুসলিমদের অস্তিত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা করা এবং তাদের দেশ ও অধিকার রক্ষা করার বিপরীতে জান ও মালের মূল্য নগণ্য হয়ে যায়। আর যখন অজ্ঞতা প্রকাশ পায় তখন এই অধিকার, কল্যাণ, জ্ঞান, ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং হকের জন্য জানমালের মূল্য নগণ্য মনে করার মতো মূল্যবোধগুলো হারিয়ে যায়। কবি বলেছেন:

ما يبلغ الأعداء من جـاهل ما يبلغ الجاهل من نفسه

“শত্রু অজ্ঞ ব্যক্তির ততটা ক্ষতি করতে পারে না যতটা সে নিজে নিজের ক্ষতি করে।”


অজ্ঞতা একটি মারাত্মক রোগ। অজ্ঞতা অন্তর ও অনুভূতিকে মেরে ফেলে, শরীরকে দুর্বল করে দেয় এবং এটি মানুষকে চতুষ্পদ জন্তুর মতো বানিয়ে দেয়। তখন গোপনাঙ্গ ও পেটের তাড়না মেটানো ব্যতীত তার কোনো বাসনা থাকে না। এগুলো ছাড়া তারা যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেয় সেগুলোও এই দুই প্রবৃত্তির অনুগামী। অজ্ঞ ব্যক্তির অন্তর ও অনুভূতি দুর্বল এবং তার দূরদর্শিতা কম। তাৎক্ষণিক প্রবৃত্তি ছাড়া কোনো কিছু নিয়ে তার বাসনা থাকেনা। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা হাসান হাদীসে সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

يوشك أن تداعى عليكم الأمم كما تداعى الأكلة على قصعتها قيل: يا رسول الله أمن قلة بنا؟ قال: لا، ولكنكم غثاء كغثاء السيل، تنزع المهابة من قلوب عدوكم منكم ويوضع في قلوبكم الوهن قالوا يا رسول الله وما الوهن؟ قال: حب الدنيا وكراهية الموت

“ভবিষ্যতে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে একে অন্যকে তেমনিভাবে আহ্বান করবে যেমনিভাবে ভক্ষণকারীরা খাবারের পাত্রের প্রতি একে অন্যকে আহ্বান করে। তখন বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল এটি কি আমাদের সংখ্যা কম হওয়ায় কারণে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:

না। কিন্তু তোমরা হবে স্রোতে ভাসমান আবর্জনার মতো। তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে ভয় উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং তোমাদের অন্তরে ‘ওয়াহন’ প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হবে। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল ওয়াহন কি? তিনি বললেন: দুনিয়াকে ভালোবাসা ও মৃত্যুকে ঘৃণা করা।” [সহীহুল জামী’: ৮১৮৩]

আর হাদীসে উল্লিখিত এই ওয়াহন এর উৎপত্তি অজ্ঞতা থেকেই হয়েছে যার কারণে তারা স্রোতে ভাসা আবর্জনার মতো হয়ে গিয়েছে। এই অজ্ঞতার কারণে তাদের কর্তব্য সম্পর্কে তারা জ্ঞান রাখে না তাই তাদের এই অবস্থা।

ওয়াহন তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তা তাদের অন্তরে স্থায়ী হয়ে গিয়েছে। তারা উঁচু মর্যাদার আসনে পৌঁছাতে পারছে না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে পারছে না এবং তার কালিমাকে সমুন্নত রাখতে পারছে না; কারণ দুনিয়া ও তার প্রবৃত্তি তথা খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র, বাসস্থান ও এরকম আরো অনেক জিনিসের প্রতি তাদের ভালোবাসা তাদেরকে উঁচু মর্যাদায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা থেকে বিরত রেখেছে। তারা আশঙ্কায় থাকে যে এসব তাদের থেকে হাতছাড়া হয়ে যাবে।

আর দুনিয়ার প্রতি তাদের এই ভালোবাসা তাদেরকে কৃপণ বানিয়েছে এজন্য তারা এই প্রবৃত্তি ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সম্পদ ব্যয় করে না। আর এই অজ্ঞতার কারণে তারা সৎ, যোগ্য, আর প্রভাব বিস্তারকারী এমন মহান নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে যে নেতৃত্বের চিন্তা চেতনা থাকবে শুধু আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত রাখা, তাঁর রাস্তায় জিহাদ করা, মুসলিমদের নেতৃত্ব দেওয়া, শত্রুদের থেকে মুসলিমদের অস্তিত্বকে রক্ষা করা; মুসলিমদের দীন, ভূমি, জানমাল ও তাদের সন্তানদেরকে রক্ষা করা।

অজ্ঞতার ক্ষতি মারাত্মক এবং ফলাফল ভয়াবহ; এর মধ্যে রয়েছে শত্রুদের কাছে মুসলিমদের লাঞ্ছনা যে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাদেরকে স্রোতে ভাসমান আবর্জনার সাথে তুলনা করেছেন। আর তাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তাদের ভয় উঠিয়ে নেওয়াই এই লাঞ্ছনার কারণ । অর্থাৎ তাদের শত্রুরা তাদেরকে ভয় পায়না ও মূল্যায়নও করে না যেহেতু তারা জানে যে এসকল মুসলিমরা অজ্ঞ ও দুনিয়ার প্রতি তাদের প্রচণ্ড লোভ ও ঝোঁক আছে।

শত্রু শুধু প্রতিপক্ষের শক্তি, উদ্যমতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আদর্শের ভিত্তিতে তার প্রতিপক্ষের আত্মত্যাগকে সম্মান করে। যখন শত্রু দেখে যে তার প্রতিপক্ষের এই উচ্চাভিলাষ নেই বরং সে তার প্রবৃত্তি ও তাৎক্ষণিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়, তখন সে তাকে এসব জিনিস দেয় যাতে তার শক্তিকে দুর্বল করে দেওয়া যায় এবং তার (শত্রুর) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার চিন্তা থেকেও তাকে বিরত রাখা যায়, কারণ তারা দুনিয়াকে ভালোবাসে ও প্রবৃত্তির ভিতরে নিমজ্জিত হয়ে থাকে।

অল্প কিছু ব্যতীত ওয়াহন (অনেক মুসলিমের) অন্তরকে আক্রান্ত করেছে। এটি মুসলিমদের অন্তরে শক্তভাবে গেঁথে গেছে তবে আল্লাহ যাকে দয়া করেছেন তার কথা স্বতন্ত্র , আর তাদের সংখ্যা খুবই কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা শত্রুর সামনে দুর্বল হয়ে গিয়েছে এবং শত্রুর অন্তর থেকে তাদের প্রতি ভয় তুলে নেওয়া হয়েছে। তাই তাদের শত্রুরা তাদেরকে গুরুত্ব দেয়না এবং তাদের সাথে ন্যায়বিচারও করেনা। কারণ তারা তাদের অবস্থা সম্পর্কে জেনে গেছে এবং তারা এটিও জেনে গেছে যে তাদের মধ্যে শক্তি ও আত্মসম্মানবোধ নেই। তারা জানে যে তাদের যুদ্ধ করার ধৈর্য নেই। আর তারা জানে যে যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়ক হবে এমন শক্তি-সামর্থ্য তাদের নেই এবং এই অবস্থার জন্য তারা প্রস্তুতিও নেয়নি।

এজন্যই শত্রুরা তাদেরকে অবজ্ঞা করেছে এবং তাদেরকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেনা। যেভাবে মনিব তার দাসের সাথে আচরণ করে এবং যেভাবে কোনো নেতা তার অধীনদের সাথে আচরণ করে তারা (শত্রুরা) সেভাবে তাদের (মুসলিমদের) সাথে আচরণ করছে। তারা দুনিয়ার মোহে বিলীন হয়ে গিয়েছে এবং মৃত্যু থেকে পলায়ন করার আকাঙ্ক্ষায় হারিয়ে গিয়েছে, তবে তার কথা স্বতন্ত্র যাকে আল্লাহ দয়া করেছেন। যে কোনো উপায়ে হোক না কেন তারা কাঙ্ক্ষিত লালসাগুলোকে অর্জনে আগ্রহী। মৃত্যুর ব্যাপারে তারা অন্তত সাবধান। মৃত্যুর ভয়ে তারা ছোট বড় সকল রোগের চিকিৎসা এবং ঔষধের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। যেসব কারণে মৃত্যু হতে পারে এবং এই দুনিয়ার লোভনীয় বস্তু হাতছাড়া হতে পারে এমন কারণগুলোর ব্যাপারে তারা অত্যন্ত সতর্ক।

যে আখিরাত চায়, আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করতে চায় ও তার রাস্তায় জিহাদ করতে চায় তার অবস্থা এমন হবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে, সাহাবীদের যুগে ও তাঁর পরবর্তীদের যুগে (সাহাবীদের অনুসরণকারী ) সালাফে সালিহীনদের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তারা যে জিহাদ করেছেন, যে প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং ক্লান্তি ও কষ্টে তারা যে ধৈর্যধারণ করেছেন তা আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার ক্ষেত্রে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও আমাদের দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য আদর্শ ও স্মরণীয় বিষয়। আর এজন্য আমাদের ধৈর্য‌ধারণ করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে, আখিরাতকে প্রাধান্য দিতে হবে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য জান ও মাল কুরবানী দিতে হবে, যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে, কঠিন পরিবেশে ধৈর্যধারণের অভ্যাস গড়ে তোলার ব্যাপারে আগ্রহী হতে হবে ও সবসময় আখিরাতকে স্মরণ করতে হবে। এছাড়াও শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য যা প্রয়োজন সে বিষয়ে সহায়তা করতে হবে, এ বিষয়ে ধৈর্যধারণ করতে হবে, মুসলিমদের কালিমা ও কাতারকে এক করার চেষ্টা করতে হবে যাতে করে আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করা যায় এবং মুসলিমদেরকে শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করা যায়।

যখন এটি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে আমরা রোগটি নির্ণয় করতে পেরেছি, এবং তা হলো অজ্ঞতার প্রভাব ও তার বিস্তারলাভ করা, দীনের জ্ঞানার্জন না করা ও শরীয়তের জ্ঞান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, এবং শুধু চাকরির জন্য দুনিয়াবী ইলম নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা; সেই ইলম পরিত্যাগ করা যা শত্রুদের থেকে আমাদেরকে আত্মনির্ভরশীল করে এবং আল্লাহর আদেশ পালনে সহায়তা করে ও তার অসন্তুষ্টি থেকে দূরে রাখে। বরং এগুলো (দুনিয়াবি জ্ঞানগুলো) সীমাবদ্ধ এবং দুর্বল জ্ঞান, যার সর্বোচ্চ গণ্ডি হলো দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী কাজের জন্য কোনো ব্যক্তিকে দেশ ও জাতির জন্য প্রস্তুত করা।

যখন আমরা এটি জানতে পারলাম, তখন আমাদের কর্তব্য হলো শরীয়ত প্রদত্ত জ্ঞান দিয়ে এই রোগের চিকিৎসা করা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে উপকারী জ্ঞান নিয়ে এসেছেন তাকে গুরুত্ব দেয় এমন লোকের সংখ্যা কমে গেছে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নেওয়ার মতো লোকের সংখ্যাও কমে গেছে যাদের মাধ্যমে জাতি ও রাষ্ট্র শত্রুদের থেকে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।

রোগটি স্পষ্ট আর এই রোগটি কয়েকটি উপাদান দিয়ে গঠিত যা অজ্ঞতা, দীনবিমুখতা ও গাফিলতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এমনকি (এসব রোগের কারণে) মৃত্যু তাদের জন্য ভয়ংকর একটি বিষয়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দুনিয়া তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কাঙ্ক্ষিত বস্তুতে পরিণত হয়েছে। জিহাদ তাদের জন্য এমন একটি ভয়ংকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যার প্রতি খুব কম মানুষই আগ্রহ দেখায়। আর যারাও বা লড়াই করে তাদের উদ্দেশ্য আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করা নয় বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো জাতীয়তাবাদ নয়তো অন্য কিছু যার মধ্যে দীনকে বিজয়ী করা, এ দীন ব্যতীত ইসলাম বিরোধী অন্যান্য বাতিল দীনগুলোকে ধ্বংস করার মতো কোনো উদ্দেশ্য নিহিত নেই। তাই বলতে পারি, জিহাদের জন্য প্রস্তুতি খুবই কম বা এটি প্রায় অস্তিত্বহীন।

সাফল্য, শত্রুদের মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়া, তাদের সামনে দুর্বল না হওয়া , উচ্চ মর্যাদা ও মহৎ লক্ষ্যে পৌঁছানো, বিজয় —এসব অর্জনের মাধ্যম হলো উপকারী জ্ঞান অর্জন ও দীনের গভীর অনুধাবন, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, তাঁর আদেশ মেনে চলা ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকা, এবং অতীতের পাপ ও ত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে তওবা করা।

এছাড়াও, এসব অর্জনের জন্য রাষ্ট্র ও জনগণের উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে অটল থাকা, হারাম থেকে বিরত থাকা, এবং যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা, যেমন আল্লাহ বলেন:

وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ

“আর তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রস্তুত করো।” [সূরা আনফাল: ৬০]

তাই সর্বপ্রকারের শারীরিক এবং বস্তুগত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে যাতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যা দিয়েছেন তার মাধ্যমে আমরা শত্রুদের মুখাপেক্ষিতা থেকে দূরে থাকতে পারি। কারণ শত্রুদের কাছে যা আছে তা সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা খুবই দুরূহ বিষয়। শত্রু যদি আপনাকে অস্ত্র সংগ্রহ করা থেকে বাধা দেয় তবে আপনি কি দিয়ে যুদ্ধ করবেন? তার উপরে আপনার দূরদর্শিতা কম আর জ্ঞানও স্বল্প।

সাধ্যমতো প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমরা তাদের শত্রুদের থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার নিয়ত রাখবে, শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের নিয়ত রাখবে, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তাদের দেশকে শত্রুদের হাত থেকে উদ্ধার করার নিয়ত রাখবে এবং আখিরাতে (সাফল্য অর্জনের) উদ্দেশ্য নিয়ে যতটুকু সম্ভব লড়াই করার চেষ্টা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত সাধ্যমতো প্রস্তুতি গ্রহণ করাই যথেষ্ট হবে, কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন:

وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ

“আর তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রস্তুত করো।” [সূরা আনফাল: ৬০]

তিনি বলেননি, “তাদের শক্তির সমান শক্তি প্রস্তুত করো,” কারণ তা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। যদি মুসলিমরা আন্তরিক হয়, পরস্পর সাহায্য সহযোগিতা করে, শত্রুদের বিরুদ্ধে যতটা সম্ভব প্রস্তুতি নেয় এবং আল্লাহর দীনকে সাহায্য করে, তবে আল্লাহ তাদের সাহায্য করবেন এবং বিজয় দান করবেন। তিনি তাদেরকে শত্রুদের উপরে রাখবেন, নিচে নয়। আল্লাহ তাআলা যিনি তাঁর কথা ও ওয়াদায় সত্য, তিনি বলেছেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ

“হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পাগুলোকে সুদৃঢ় করবেন।” [সূরা মুহাম্মাদ: ৭]

আল্লাহ সামর্থহীন নন এবং তিনি মানুষের মুখাপেক্ষীও নন। তবে তিনি তাঁর নেক বান্দাদেরকে নিকৃষ্টদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। এর মাধ্যমে তিনি সত্যবাদীদের সত্যতা এবং মিথ্যাবাদীদের মিথ্যাচার প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে তিনি সেই মুজাহিদদেরকে তাদের থেকে আলাদা করেন যারা তাঁর পথে সংগ্রাম করেনা, এবং তিনি এর মাধ্যমে নাজাতের ব্যাপারে আগ্রহী এবং অনাগ্রহীদেরও প্রকাশ করেন । আল্লাহ নিজেই তাঁর ওলীদেরকে জিহাদ বা কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই সাহায্য করার ক্ষমতা রাখেন এবং শত্রুদের ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখেন যেমন তিনি বলেছেন:

ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لانْتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِنْ لِيَبْلُوَ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ

“এটিই বিধান, আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদেরকে একে অপরের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে চান” [সূরা মুহাম্মাদ: ৪]

আল্লাহ তাআলা সূরা আনফালে বদরের ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন:

وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلا بُشْرَى وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ

আর আল্লাহ তা করেছিলেন তার উদ্দেশ্য তোমাদেরকে সুসংবাদ দান ছাড়া আর কিছু নয় আর যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।” [সূরা আনফাল: ১০]

এখানে ফেরেশতাদেরকে দিয়ে যে সাহায্য করা হয়েছিল সে কথা বলা হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন

وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيم

“সাহায্য তো একমাত্র আল্লাহর নিকট হতেই আসে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আনফাল: ১০]

আর সূরা আল ইমরানে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلا بُشْرَى لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُمْ بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ

“আল্লাহ এটি করেছিলেন কেবল তোমাদের সুসংবাদ প্রদানের জন্য এবং এর দ্বারা তোমাদের অন্তরের প্রশান্তির জন্য, আর সাহায্য তো শুধু আল্লাহর নিকট হতেই আসে, যিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আল ইমরান: ১২৬]

সুতরাং সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে কিন্তু আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে সাহায্যের মাধ্যম বানিয়েছেন। তিনি যে অস্ত্র দেন, সম্পদ দেন ও অনেক সৈন্য দেন এগুলো সব বিজয়, সুসংবাদ ও প্রশান্তির কারণ। কিন্তু এগুলোর সাথে বিজয় জড়িত না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ

“আল্লাহর হুকুমে বহু ক্ষুদ্র দল বৃহৎ দলের উপর জয়যুক্ত হয়েছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” [সূরা বাকারাহ: ২৪৯]

আর মুসলিম মুজাহিদদের সংখ্যা বদরের দিন ৩১০ এর কিছু বেশি ছিল। তাদের অস্ত্র ছিল কম আর আরোহণের জন্য পশুও ছিল অনেক কম। আর প্রচলিত আছে যে মাত্র ৭০টি উট‌ ছিল যা তারা পালাক্রমে আরোহণ করতেন। আরো প্রচলিত আছে যে তাদের কাছে মাত্র দুটি ঘোড়া ছিল‌ । আর কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা ছিল এক হাজারের মতো। তাদের অনেক শক্তি-সামর্থ্য ও অস্ত্র ছিল। যখন আল্লাহ তাদেরকে পরাজিত করতে চাইলেন তখন তিনি তাদেরকে পরাজিত করলেন আর তাদের শক্তি ও সৈন্য কোনো কাজে আসেনি। আল্লাহ তাআলা হাজারের অধিক সৈন্যের শক্তিশালী দলকে মাত্র ৩১০ জনের কিছু বেশি সংখ্যক সৈন্যদল ও স্বল্প শক্তি দিয়ে পরাজিত করলেন। আল্লাহর সাহায্য সহযোগিতায় মুসলিমরা বিজয়ী হলো, তারা ৭০ জন কাফেরকে বন্দী করল ও ৭০ জনকে হত্যা করল। বাকিরা পরাজিত হলো এবং কেউ একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করল না। এটি আল্লাহ তাআলার নিদর্শন ও সাহায্য।

কাফিররা আহযাবের দিন দশ হাজার সৈন্য নিয়ে মদিনা আক্রমণ করেছিল। তাদের মধ্যে ছিল কুরাইশসহ আরবের অন্যান্য গোত্র। তারা মদিনাকে অবরোধ করেছিল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খন্দক খননের আদেশ দেন যা বিজয়ের জন্য বস্তুগত একটি কৌশল ছিল। তারা বেশ কিছুকাল ধরে মদিনাকে ঘিরে রাখে কিন্তু আল্লাহ তাদের কোনো যুদ্ধ ছাড়াই দূর করে দেন। তিনি তাদের অন্তরে ভয় সৃষ্টি করেন এবং তাদের উপর বাতাস ও নিজের পক্ষ থেকে সৈন্য প্রেরণ করেন যার ফলে তারা সেখান থেকে ছত্রভঙ্গ ও পরাজিত হয়ে নিজেদের এলাকায় ফিরে যায়। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সাহায্য। এরপর তারা আর কখনো মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে পারেনি। বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে হুদাইবিয়ার দিন অভিযান পরিচালনা করেন এবং সেখানে বিখ্যাত চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে হিজরী অষ্টম সনে রামাদান মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর সাহায্যে মক্কা বিজয় করেন। এরপর লোকেরা দলবদ্ধভাবে ইসলামে প্রবেশ করতে থাকে।

এখানে মূল কথা হলো বিজয় আল্লাহর হাতে এবং তিনিই তাঁর বান্দাদেরকে সাহায্য করেন। কিন্তু তিনি আমাদেরকে উপায় অবলম্বন করার আদেশ দিয়েছেন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য করা। আনুগত্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা, যাতে আপনি আল্লাহর বিধান এবং শরীয়ত সম্পর্কে জানতে পারেন। এটি শুধু নিজের জন্য নয় বরং শত্রুর সাথে লড়াইয়ের জন্যও। এই জ্ঞানের মাধ্যমে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিতে পারবে, আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকতে পারবে, আল্লাহর ফরয আদায় করতে পারবে এবং তাঁর সীমানার মধ্যে থাকতে পারবে। মুসলিম ভাইদের সাথে সহযোগিতা করতে পারবে এবং নিজের মূল্যবান জান ও মাল আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী দিয়ে তাঁর দীনকে বিজয়ী করতে পারবে এবং তাঁর কালিমাকে উঁচু করতে পারবে। এটি কোনো দেশ বা জাতীয়তাবাদের জন্য নয়।

এটিই হলো শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ের পথ। আর সেটি হলো ইসলামী শরীয়তের জ্ঞান যাতে করে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। এতে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে সাধারণ মানুষ, বড় থেকে ছোট সবাই অন্তর্ভুক্ত। এরপর সেই জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করা এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা থেকে বিরত থাকা (তাদের কর্তব্য যার মাধ্যমে বিজয়ের পথ উন্মোচিত হবে)। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ لا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ

“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে” [সূরা রা’দ: ১১]।

সুতরাং, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছ থেকে বিজয় ও সাহায্য চায় এবং তাঁর কালিমাকে উঁচু করতে চায়, তাকে অবশ্যই নিজের পাপ ও আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ থেকে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। আপনার রব বলেছেন:

وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا

“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে যমীনে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরে তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না।” [সূরা নূর: ৫৫]।

আল্লাহ বলেননি যে, আল্লাহ কুরাইশ বা আরবদের জন্য এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অথবা যারা প্রাসাদ নির্মাণ করে বা তেল উত্তোলন করে তাদের জন্য এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বরং তিনি ঈমান ও সৎকর্মের ভিত্তিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা আরব হোক বা অনারব।

এই হলো বিজয় ও পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার মাধ্যম। বিজয়ের কারণ আরব জাতীয়তাবাদ বা অন্য কোনো জাতীয়তাবাদ নয়। বরং এর কারণ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস ও ভালো আমল। এটিই মূল কারণ, শর্ত এবং কেন্দ্রবিন্দু যার উপর সাফল্য নির্ভর করে। যে এই পথে পরিচালিত হয় তার জন্যই পৃথিবীতে শক্তি, খেলাফত এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ের অধিকার রয়েছে। কিন্তু যারা তা থেকে বিচ্যুত হয় তাদের জন্য বিজয়, নিরাপত্তা বা সম্মানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং এক কাফির আরেক কাফিরের উপর, এক অপরাধী আরেক অপরাধীর উপর, এমনকি এক মুনাফিক আরেক মুনাফিকের উপর বিজয় লাভ করতে পারে। কিন্তু সেই বিজয় যা আল্লাহ তাঁর ঈমানদার বান্দাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যেখানে তারা তাদের শত্রুদের উপর বিজয়ী হবে; এই বিজয় কেবল তখনই অর্জন হবে যখন সেই শর্তগুলো পূরণ করা হবে যা আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো সত্যিকারের ঈমান এবং সৎ আমল। আর এর মধ্যে আছে আল্লাহর দীনকে সাহায্য করা, যেমন আল্লাহ বলেন:

وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ

“আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী। আমি তাদেরকে পৃথিবীতে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে। সকল কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধীনে।” [সূরা আল-হাজ্জ: ৪০-৪১]।

এটিই হলো আল্লাহর দীনকে সাহায্য করা। যে সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে, সে মূলত আল্লাহর দীনকে সাহায্য করে। কারণ এর মধ্যে আল্লাহর ফরয বিধানগুলো পালন এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকাও অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ আরও বলেন:

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ

“তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদেরকে আবির্ভূত করা হয়েছে, তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করো ও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো ” [সূরা আল-ইমরান: ১১০]।

এছাড়া আল্লাহ বলেন:

وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

“তোমাদের মধ্যে যেন এমন একটি দল থাকে, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, সৎ কাজের আদেশ করে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করে আর এরাই সফলকাম।” [সূরা আল-ইমরান: ১০৪]।

অতএব, তারাই সফল, বিজয়ী এবং প্রশংসনীয় পরিণতির অধিকারী যারা সৎকর্ম করে, সৎ কাজের আদেশ দেয়, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ তাআলাকে সাহায্য করে। তারা সেইসব মানুষ যাদের কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন:

وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ

“মু’মিনদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। ” [সূরা আর-রূম: ৪৭]।

ঔষধ ও চিকিৎসা উভয়ই সুস্পষ্ট। কিন্তু যারা এই চিকিৎসা গ্রহণ করতে চায় তারা কোথায়? যারা এই সমাধান গ্রহণ করতে চায় তারা কোথায়? এবং যারা তা বাস্তবায়ন করবে তারা কোথায়?

যদি অঞ্চল ও দেশভেদে শাসকগণ এবং আলেমগণ ইসলামের দিকে দাওয়াতের বিষয়ে সত্যিকারের আন্তরিক হয়ে থাকেন তবে এটি তাদের কর্তব্য। এই কর্তব্য পালিত হবে সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা এবং এগুলোর প্রতি যত্নবান থাকার মাধ্যমে; সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার মাধ্যমে; দীনের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে; স্কুল কলেজের সকল স্তরের পাঠ্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে; শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সহযোগিতা করার মাধ্যমে; এবং কাজে আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা, সততা ও পরকালের নিয়ত রাখার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর কাছ থেকে বিজয় ও সাহায্যের যোগ্য হয়ে উঠবে যেমনটি আমাদের নেক পূর্বসূরিদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। জ্ঞানীদের কাছে এটি অজানা নয়। নিকট অতীতে হিজরী দ্বাদশ শতকে ইসলামের মুজাদ্দিদ ইমাম দেখলেন যে আরব উপদ্বীপসহ অন্যান্য স্থানে প্রচণ্ড অজ্ঞতা, শরীয়তের বিধান পরিত্যাগ, এবং দীনের অজ্ঞতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর সংখ্যা কমে গেছে। লোকেরা হিদায়েত ও অজ্ঞতায় ভুগছে ও ছোট ছোট রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি উপলব্ধি করলেন যে, তার উপর আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং তাদেরকে এই বিপদ থেকে সতর্ক করা কর্তব্য। আর এমন একজন নেতার অধীনে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে সত্যের পথে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা করাও তার দায়িত্ব যিনি তাদের মধ্যে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করবেন এবং তারা (তার অধীনে) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। তাই তিনি এ বিষয়ে নিজেকে আত্মনিয়োগ করলেন। তিনি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন, শাসকদের সাথে যোগাযোগ করলেন এবং এক আল্লাহর ইবাদত করা, শরীয়ত প্রতিষ্ঠা করা ও শিরক ত্যাগ করার বিষয়ে পত্র লেখা শুরু করলেন। তিনি দেশের আলেমদের এবং অন্যান্য অঞ্চলের আলেমদের কাছে দীন শেখার পর ধৈর্যধারণের সাথে আল্লাহর সাওয়াবের প্রত্যাশা করতে থাকলেন।

অতঃপর তিনি প্রথমে হারিমালায় ও পরবর্তীতে উইয়াইনায় আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং তার রাস্তায় জিহাদে আত্মনিয়োগ করলেন। বিভিন্ন ঘটনা সংঘটনের পরে তিনি দিরইয়ায় চলে যান। সেখানে মুহাম্মাদ বিন সউদ রাহিমাহুল্লাহ তার কাছে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও আল্লাহর হুকুম প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বায়াত করেন। তারা সবাই এই কাজে আন্তরিক ছিলেন। এ বিষয়ে তারা সবাই সঙ্ঘবদ্ধভাবে পরস্পরের সহযোগিতা করেছেন। তারা দুর্বল অবস্থায়ও জিহাদ করেছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাদেরকে বিজয়ী করেছেন। তারা তাওহীদের ঘোষণা করেছিলেন, লোকদের হক ও হিদায়েতের দিকে আহ্বান জানিয়েছিল এবং তাদের মাঝে আল্লাহর শাসন কার্যকর করেছিলেন। আন্তরিকতা, আল্লাহর সাহায্য এবং সৎ নিয়তের কারণে আল্লাহ তাদেরকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছেন। যাদের সামান্যতম অন্তর্দৃষ্টি আছে তাদের অনেকের কাছে তাদের কাহিনি অজানা নয়।

এরপর এই দাওয়াত প্রচার-প্রসারে‌ কিছু দুর্বলতা ও বিভাজন সৃষ্টি হয়েছিল। অতঃপর বাদশাহ আব্দুল আযীয (রহিমাহুল্লাহ) একাজে এগিয়ে আসেন এবং তিনি এই বিষয়ে আত্মনিয়োগ করেন এবং এ ব্যাপারে লেগে থাকেন। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য চান এবং আলেম, ইমানদার ও বিচক্ষণ লোকদের সাহায্য নেন। আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন ও তার জন্য এই উপদ্বীপের মুসলিমদের মধ্যে এক কালিমা,শরীয়ত দিয়ে বিচার ফায়সালা করা ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ভিত্তিতে ঐক্য তৈরি করেন। অবশেষে আন্তরিকতা, জিহাদ, এবং আল্লাহর কালিমাকে উঁচু করার ফলে আরব উপদ্বীপ (উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম) সত্য ও হিদায়েতের পথে একত্রিত হয়। এমন আরো অনেক উদাহরণ আছে, যেমন সালাহউদ্দিন আইউবী ও মাহমুদ জঙ্কির কাহিনি সুপরিচিত।

উদ্দেশ্য হলো, আমাদের পূর্বসূরিগণ যখন নবীর যুগে এবং তার পরবর্তী যুগে জিহাদে আন্তরিকতা দেখিয়েছিলেন তখন আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন এবং দুটি মহান সাম্রাজ্যের উপর বিজয় দান করেছিলেন। আর সেই দুই সাম্রাজ্য হলো পারস্য এবং রোম, বিশেষ করে শাম ও এর আশেপাশের অঞ্চল। তাদের পরে যারা আল্লাহর দীনে আন্তরিক ছিলেন তাদেরকেও আল্লাহ তাদের আন্তরিকতা, ঐক্য ও আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার জন্য বিজয় দান করেছেন। সময় পাল্টানোর সাথে সাথে আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিরা এসেছেন যারা তাদের আন্তরিকতা ও ঐক্যের পরিমাণ অনুযায়ী আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় লাভ করেছেন। আর যুগের আবর্তনে সময়ে সময়ে এমন লোক এসেছেন যারা তাদের আন্তরিকতা ও ইখলাসের কারণে তাদের ইখলাস ও প্রচেষ্টা অনুপাতে শত্রুদের উপর বিজয়ী হয়েছেন।

প্রথম ২ দল এবং পরবর্তী ২ দলকে যিনি বিজয় দান করেছেন তিনি হচ্ছেন আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে বিজয় দান করেন যে আল্লাহকে সাহায্য করে, আর তাকে পরাজিত করেন যে আল্লাহকে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকে। আল্লাহ বলেন:

أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ

“আল্লাহ কি তার বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?” [সূরা যুমার: ৩৬]

এবং তিনি আরো বলেন:

وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا

“তোমরা যদি ধৈর্যধারণ করো এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করো তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।” [সূরা আল ইমরান: ১২০]

আল্লাহ আরো বলেন:

كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ

“কত ক্ষুদ্র বাহিনী আল্লাহর অনুমতিতে বৃহৎ বাহিনীকে পরাজিত করেছে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” [সূরা বাকারা: ২৪৯]।

কিন্তু সমস্যা আমাদের নিজেদের মধ্যে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ

“তোমাদের উপর যেসব বিপদ আসে তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল। আর তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।” [সূরা শূরা: ৩০]

দুর্বলতা, অলসতা, অজ্ঞতা, ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে বেছে নেওয়া, দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা, মৃত্যুকে অপছন্দ করা, আল্লাহর ওয়াজিবকৃত বিষয়গুলো নিয়ে অবহেলা করা, নামাজ ছেড়ে দেওয়া, প্রবৃত্তির অনুসরণ করা, ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া, হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া, অশ্লীল গান (গাওয়া বা শোনা), অন্তরকে কলুষিত করা ও চরিত্রকে নষ্ট করা ইত্যাদি কারণে মুসলিমদের উপর বিপদ এসেছে।

এসব কারণে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের উপরে তাদের শত্রুদেরকে চাপিয়ে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

وَإِذَا أَرَدْنَا أَنْ نُهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا

“আমি যখন কোনো জনবসতিকে ধ্বংস করতে চাই তখন তাদের সচ্ছল ব্যক্তিদেরকে আদেশ করি (আমার আদেশ মেনে চলার জন্য) কিন্তু তারা অবাধ্যতা করতে থাকে। তখন সে জনবসতির প্রতি আমার আযাবের ফায়সালা নির্ধারিত হয়ে যায়। তখন আমি তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করে দেই।” [সূরা ইসরা: ১৬]

আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করি যেন তিনি আমাদেরকে, সকল মুসলিমদেরকে এবং তাদের নেতাদেরকে তওবা করার, তাঁর আদেশের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার, সৎ আমল ও তাক্বওয়ার কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা করার, আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি গ্রহণ করার, দীনের জ্ঞানার্জন করার, তাঁর সন্তুষ্টির কাজে ধৈর্যধারণ করা এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করেন। আর আমরা তার কাছে এই দুআও করি যে, তিনি যেন আমাদের সকলকে পথভ্রষ্টকারী ফিতনাগুলো এবং শাস্তির কারণগুলো থেকে রক্ষা করেন, তার দীনকে বিজয় দান করেন, তার কালিমাকে সমুন্নত করেন, তার শত্রুদেরকে পরাজিত করেন, মুসলিমদেরকে হক ও হিদায়েতের উপর ঐক্যবদ্ধ করেন, তাদের নেতাদেরকে সংশোধন করেন এবং তাদেরকে দূরদর্শিতা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও আমাদের নিকটে।

আল্লাহ যেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার এবং সাহাবীদের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করেন।

 

এই বক্তব্যটি সম্মানিত শাইখ কর্তৃক রিয়াদ বড় মসজিদের সেমিনারে ২৯/৫/১৩৯৯ হিজরী তারিখে প্রদান করা হয়েছিল (মাজমুউল ফাতাওয়া ওয়া মাকালাতিশ শাইখ বিন বায ৫/১০১)

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading