আল্লাহ, সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা, কুরআনে বলেছেন:
مَّا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلاَّ رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلاَنِ الطَّعَامَ انظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الآيَاتِ ثُمَّ انظُرْ أَنَّى يُؤْفَكُون
“মারইয়াম পুত্র মাসীহ (ঈসা ইবনু মারইয়াম) একজন রাসূল ব্যতীত কিছুই ছিলেন না। তাঁর পূর্বে বহু রাসূল বিগত হয়েছে এবং তাঁর মাতা (মারইয়াম) ছিলেন সিদ্দীক্বাহ [তিনি আল্লাহ ও তাঁর প্রেরিত কিতাবসমূহের উপর বিশ্বাসী ছিলেন]। তারা উভয়ে খাদ্য গ্রহণ করতেন [যেমন অন্যান্য মানুষেরা করে অথচ আল্লাহ খাদ্য গ্রহণ করেন না]। দেখো, কীভাবে আমরা তাদের জন্য নিদর্শনাবলি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করি, তবুও দেখো, কীভাবে তারা (সত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।” [সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৭৫]
মন্তব্য:
এই আয়াতে, মহান আল্লাহ সেসব খ্রিষ্টান সম্প্রদায়গুলোর দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছেন যারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর পরে আবির্ভূত হয়েছে এবং তাঁকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাতা, মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে সেভাবেই জন্ম দিয়েছিলেন যেভাবে অন্যান্য নারীরা সন্তান জন্ম দেয়, সুতরাং এই বৈশিষ্ট্যটি শুধু একজন মানুষের বৈশিষ্ট্য হতে পারে, বিশ্বজগতের প্রতিপালকের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। ঈসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর অন্যান্য রাসূলদের মতোই একজন রাসূল ছিলেন যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন অতঃপর বিগত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং তাঁর সত্যতার প্রমাণ হিসেবে নিদর্শনাবলি, উপদেশবাণী, শিক্ষণীয় বিষয় এবং দলীল-প্রমাণ নাযিল করেছেন যেমনটি তিনি পূর্ববর্তী রাসূলদের ক্ষেত্রে করেছিলেন।
তাঁর মাতা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম) কথা এবং কাজে অত্যন্ত সত্যবাদী একজন নারী (সিদ্দীক্বাহ) ছিলেন এবং তিনি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলির উপর বিশ্বাসী ছিলেন। সিদ্দীক্ব, সিদ্দীক্বীন, সিদ্দীক্বাহ (নিয়ত, কথা এবং কাজের সামঞ্জস্যপূর্ণতার চূড়ান্ত সত্যতার অর্থ বহন করে) শব্দগুলো কুরআনে সর্বোচ্চ স্থান এবং মর্যাদা ব্যক্তকরণে ব্যবহৃত হয়েছে যার স্থান নবুওয়াতের স্থানের পরে, অর্থাৎ এটি নবুওয়াতের পরে কোনো মানুষের দ্বারা অর্জিত সর্বোচ্চ স্থান বা মর্যাদা।
ঈসা এবং তাঁর মাতা মারইয়াম উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করতেন, কারণ তাদের শরীরকে টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজন হতো, সুতরাং কারো অবস্থা যদি এমন হয় তাহলে সে কখনোই সত্য ইলাহ হতে পারে না, কারণ যার (প্রকৃত) অবস্থা এরকম সে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বরং সে অন্যের উপর নির্ভরশীল। এবং সুস্থ, সহজাত প্রকৃতির (ফিতরাতের) অধিকারী সমস্ত মানুষ জানে যে খাদ্যের উপর নির্ভরশীলতা অক্ষমতার পরিচয় বহন করে এবং যে নিজেই অক্ষম সে কখনো সত্য ইলাহ হতে পারে না। আল-মুফাসসির আল-বাগাওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন যে, এখানে খাদ্যের কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে মল ও প্রস্রাবের প্রতি পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ, যে ব্যক্তি খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে তাকে অবশ্যই মলত্যাগ ও প্রস্রাব করতে হয়, সুতরাং, তাকে কীভাবে সত্য ইলাহ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়? সুতরাং, ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ইলাহ হওয়ার ব্যাপারে খ্রিষ্টানরা যে মিথ্যা দাবি করে এই বিষয়টি তাকে সূক্ষ্মভাবে খণ্ডন করে।
আল্লাহ বলেছেন, “দেখো, কীভাবে আমরা তাদের নিকট নিদর্শনাবলি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করি, তবুও দেখো, কীভাবে তারা (সত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।” এই ‘সত্য’ এমন লোকদের কাছে স্পষ্ট যাদের ফিতরাত বা সহজাত প্রকৃতি সুস্থ ও অক্ষুণ্ণ রয়েছে, এবং একারণে তাদের অনেকেই যারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর পরে উদ্ভাবিত খ্রিষ্টীয় মতবাদগুলোর বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে তারা আল্লাহর চূড়ান্ত প্রত্যাদেশ তথা কুরআনে ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার সত্যতাকে উপলব্ধি করেছে অতঃপর তা স্বীকার করেছে, কারণ তাদের আত্মার অভ্যন্তরে (সৃষ্টিগতভাবে) যা গেঁথে দেওয়া আছে তাদের সহজাত প্রকৃতি বা ফিতরাত এখনো সেই সত্যের স্বীকৃতি দিচ্ছে যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং পালনকর্তা নেই।
এই আয়াতের আরও বিশদ ব্যাখ্যার জন্য তাফসীর আত্ব-ত্বাবারী, আল-বাগাওয়ী, ইবনু কাসীর, আস-সা‘দী এবং আত-তাফসীর আল-মুইয়াসসার পড়ুন।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr

















