Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর খণ্ডন

প্রশ্নকারী:

“ইয়াহইয়া আল-হাজূরীর ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী যাকে আমাদের লন্ডনের কিছু যুবক সমর্থন করে এবং অনুসরণ করে?”

শাইখ ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্দির রহীম আল-বুখারী:

“আমরা এই বিষয়ে আগেও কথা বলেছি। যে ব্যক্তি এই লোকটিকে সমর্থন করে সে দু’জনের একজন; হয় সে তার (আল-হাজূরীর) বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতা সম্পর্কে অজ্ঞ, তাই তাকে সচেতন করা হবে – এমন উপায়ে যা উত্তম – যদি সে সত্যের সন্ধান করে থাকে এর দ্বারা সে হয়তো সত্যের দিকে ফিরে আসতে পারে।

নতুবা সে এমন একজন ব্যক্তি যে জানে তার (আল-হাজূরীর) সাথে কী ফিতনা ও পথভ্রষ্টতা রয়েছে। এই ব্যক্তির ব্যাপারে তার (আল-হাজূরীর) মতো একই ফাতওয়া হবে এবং তাকে তার (আল-হাজূরীর) সাথেই সংযুক্ত করা হবে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও মঙ্গল কামনা করছি।

নিশ্চয়ই, এই লোকটির (আল-হাজূরীর) ব্যাপারে আমরা অতীতে ও সম্প্রতি কথা বলেছি এবং তাকে খণ্ডন করেছি। এই ব্যক্তি যে বিষয়সমূহের মধ্যে (ভুলে) পতিত হয়েছে সেগুলো যদি কয়েকজন ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয় তবে তাদের মধ্যে যে কোনো ব্যক্তি সেই বিচ্যুতিগুলোর একটির কারণেই বিদআতী হিসেবে গণ্য হবে। তাহলে যার মধ্যে এ সবগুলো (বিচ্যুতি) একত্রিত হয়েছে তার (অবস্থা) কী হবে?

আল-হাজূরীর (বিচ্যুতিগুলোর একাংশ) নবী ﷺ – এর মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত এবং (আল-হাজূরী দাবি করে) নবী ﷺ তাঁর দা’ওয়াহর পদ্ধতিতে ত্রুটিযুক্ত ছিলেন, নবীর ব্যাপারে তার এই অভিযোগ মারাত্মক পাপ। বরং এর থেকেও গুরুতর বিষয় হলো সে এমন একটি বই প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে – প্রমাণ ব্যতীত রাসূল ﷺ এর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়!

যখন নবী ﷺ থেকে প্রমাণ তালাশ করো, তখন তুমি কী প্রমাণ চাও, হে নিকৃষ্ট? আমরা কি কিতাব ও সুন্নাহ (অনুসরণ) করতে বলি না? কার সুন্নাহ এটি? এটি কি নবীর সুন্নাহ নয়?

আল্লাহ কি বলেননি:

“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।” [সূরাহ আল-আহযাব ৩৩:২১]

ইবনু আবী হাতিম কর্তৃক রচিত আয-যুহদ  গ্রন্থে হাসান আল-বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “তারা বলতো ‘আমরা আল্লাহকে ভালোবাসি’, তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর প্রতি তাদের ভালোবাসার নিদর্শন তৈরি করতে চাইলেন এবং তিনি নাজিল করলেন:

“বলো, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরাহ আল-ইমরান ৩:৩১]

আর এই ব্যক্তি (আল-হাজূরী) বলে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য প্রমাণ ব্যতীত গ্রহণযোগ্য নয়… এবং (তার বিচ্যুতিগুলোর অন্যতম হলো) যে সে বলে, যে ব্যক্তি সর্বপ্রথমে ইরজার আক্বীদাহ পোষণ করেছিল, সে ছিল উসমান ইবনু মাযহুন এবং সাহাবীদের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিলেন যারা উসমান ইবনু আফফানের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন!

সে (আল-হাজূরী) মিথ্যা বলেছে, গুনাহ করেছে এবং বিভ্রান্ত হয়ে গেছে!

সে এটিই পার্থক্য করতে পারে না যে, মুহাম্মাদ ইবনু আবী বাকর আস-সিদ্দীক্ব একজন সাহাবী কি (সাহাবী) নয় এবং উসমানের হত্যাকাণ্ড মুহাম্মাদ ইবনু আবী বাকর আস-সিদ্দীক্বের সাথে সম্পৃক্ত করা ও উসমানের হত্যাকাণ্ডে তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ দেয়া ঠিক নয়।

(আল-হাজূরী থেকে) অনেক ফিতনা এসেছে – বারাকাল্লাহু ফীকুম জামী‘আন – আরও অনেক অনেক ফিতনা; আরও অনেক বিষয় রয়েছে!

এতকিছুর পরেও লোকেরা তার ব্যাপারে অজুহাত প্রদর্শন করে। একই ভাবে (তার বিচ্যুতিগুলোর অন্যতম হলো) আহলুস সুন্নাহর বিরুদ্ধে তার অপমানজনক ও (অসার) কথাবার্তা এবং নিজের বক্তব্যের প্রতি তার অসতর্কতা, যেখানে সে বলেছে-

“এই হাদীস আব্দুর রহমান বিন হাসান আলুশ শাইখ তার ফাতহুল মাজীদ কিতাবে বর্ণনা করেছেন” – এটি কী (হাদীস বর্ণনার) ক্ষেত্রে আদৌ কোনো উৎস বা রেফারেন্সের কিতাব যার সাথে তুমি (হাদীসকে) সম্পর্কযুক্ত করতে পারো এবং বলতে পারো “আব্দুর রহমান বিন হাসান আলুশ শাইখ ফাতহুল মাজীদে…” সে কি তাখরীজ (অর্থাৎ হাদীসকে তার মূল কিতাব থেকে বের করার) অর্থ জানে না? বারাকাল্লাহু ফীকুম জামী‘আন – এই সমস্ত বিষয় ও আরো অন্যান্য বিষয়সমূহ (যেগুলো তার থেকে প্রকাশ পেয়েছে), যা দীর্ঘায়িত হয়েছে।

আর এই লোকটির সাথে মিত্রতা-শত্রুতা বেঁধে দেওয়া, এরকমের চরমপন্থা আর দ্বিতীয়টি নেই। তারা সর্বত্র দাওয়াহকে প্রভাবিত করেছে, কেও যদি ইয়াহইয়ার কথার সাথে একমত না হয় তাহলে তার কথা বাতিল এবং সে হিজবী ইত্যাদি। তারা তার (আল-হাজূরীর) বক্তব্যের সাথে মিত্রতা-শত্রুতা (আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা) বেঁধে দিয়েছে, এটি আল্লাহর দীনের মধ্যে বিদ‘আত।

তারা সর্বত্র সালাফী উম্মাহকে বিভক্ত করেছে এবং তোমরা তোমাদের দেশে সেটি দেখেছো ও শুনেছো। সব জায়গা থেকে আমাদের কাছে ছাত্ররা আসে। তাদের কেউ কেউ সেখানে (দাম্মাজ) গিয়েছে এবং এক, দুই, তিন মাস বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে থেকেছে, অতঃপর (সে এই আদর্শ নিয়ে) দেশে ফিরে এসেছে। মস্কো থেকে যোগাযোগ করে আমাদেরকে কিছু ভাইদের ব্যাপারে জানানো হয়েছে যারা সেখানে (দাম্মাজে) কয়েকদিনের জন্যে গিয়েছিল এবং তারা এমনকিছু লিখিত বক্তব্য নিয়ে ফিরে আসে যেখানে বলা হয়েছে – “উবাইদ, ‘আব্দুর রহমান আল-‘আদানী এবং অমুক-অমুক হিজবী।”

তুমি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্যাপারে কথা বলছো – যেখানে একজন লোক হয়ত জানেও না যে কীভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে হয় অথবা কীভাবে কালিমা শাহাদাত উচ্চারণ করতে হয়! আর তুমি সেখানে অমুক-তমুক কে হিজবী আখ্যা দিয়ে আর্টিকেল বিতরণ করছো? এটি কি আল্লাহর দীনের অন্তর্ভুক্ত কিছু যে তুমি দিনের আলোর মতো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতা, বিচ্যুতি ও মিথ্যার উপর ভিত্তি করে তাদেরকে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছো?

আমরা ইন্দোনেশিয়ায়ও এটি দেখেছি, ‘উবাইদ এবং আল-ওয়াসসাবী’র হিজবিয়্যাহ’- এর উপর প্রকাশিত বইগুলো এখনও আমার কাছে আছে। এটি কী? প্রত্যেকে যারাই (তাদের সাথে) একমত হয় না, তাদের সকলেই হিজবী এবং বিদ‘আতী? আমি আল্লাহর নিকট পথভ্রষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।

তারা মিত্রতা-শত্রুতা (আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা) এসব বাতিল ও বিকৃত বক্তব্যের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছে।

ইয়াহইয়ার অনুচর – ‘আব্দুল হামীদ আল-হাজূরী – তার الخيانة الدعوية حجر عثرة في طريق الدعوة السلفية বইতে এমন সব কথা বলেছিল যা ইয়াহইয়া আল-হাজূরী দ্বারা পঠিত, স্বাক্ষরিত ও বিতরণের জন্য অনুমোদিত ছিল। তারা তাকে এমন সব উপাধি দিয়েছে যার কোনো যোগ্যতা তার নেই। এই বইয়ের ভেতরে কী রয়েছে? অনেক বিচ্যুতি – তন্মধ্যে রয়েছে এমন সব কবিতার লাইন যেগুলো হুলূল ও সর্বেশ্বরবাদের দিকে ইঙ্গিত করে। (উদাহরণস্বরূপ),

“তারা যদি তাকে (ইয়াহইয়াকে) গলাতো তাহলে তার গোশত হতো সুন্নাহ আর বাকি সব হতো কুরআনের আয়াত।” এটি কি হুলূল ও সর্বেশ্বরবাদ নয়? ইয়াহইয়া কে গলানো হলে তার গোশত সুন্নাহ হতো আর অবশিষ্ট হাড়গোড় কুরআনের আয়াত হতো? হে শাইখ! রাসূলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কেও একথা বলা হয়নি, আর না বলা হয়েছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পরে সবচেয়ে সম্মানিতদের ব্যাপারে। নবী ﷺ-এর কিছু সাহাবী মসজিদে নববীতে উপস্থিত ছিলেন যেমনটি মুসনাদে ইমাম আহমাদে সহীহ সনদে এসেছে। কিছু সাহাবী ইবনু ‘আব্বাসের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। তিনি বললেন “নবী বলেছেন” এবং তাঁরা বললেন “আবূ বাকর ও ‘উমার বলেছেন”। অতঃপর তিনি বললেন “তোমাদের উপর আসমান থেকে পাথর বর্ষিত হোক। আমি তোমাদেরকে বলছি যে আল্লাহর নবী ﷺ এই এই বলেছেন, আর তোমরা বলছো যে আবূ বাকর ও ‘উমার এই এই বলেছেন!”

অনুরূপভাবে যারা তার প্রশংসায় কবিতা লিখেছে, তারা তাদের কবিতায় বেফাঁস কথাবার্তা বলেছে যেমন, “তারা যদি তাকে (ইয়াহইয়াকে) গলাতো তাহলে তার গোশত হতো সুন্নাহ আর বাকি অংশ হতো কুরআনের আয়াত” এবং তারা তাকে ইমামুস সাক্বালাইন (মানুষ ও জিন উভয় জাতির ইমাম) বলে বর্ণনা করেছে। তারা জিনদেরকেও ছাড় দেয়নি। তো এখন কোনো জিন যদি বলে যে ইয়াহইয়া তাদের ইমাম নয়, তাহলে সে (জিন) তাদের কাছে তাদের গৃহপালিত গাধার চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট! এটা কী? হে ভাইয়েরা, তারা না কোনো গাছ, না পাথর, না শহর, না মানুষ, আর না একটি জিনকেও ছাড় দিয়েছে। এটি আল্লাহর দীন যা নবী ﷺ মানুষের কাছে হিদায়াতস্বরূপ নিয়ে এসেছেন।

“নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে।” [সূরাহ আল-ফাতহ ৪৮:৮]

এবং,

“আমি তো তোমাকে বিশ্ববাসীর প্রতি রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।” [সূরাহ আল-আম্বিয়া ২১:১০৭]

তারা (আল-হাজূরী ও তার ছাত্ররা) যেখানেই গিয়েছে সেখানকার জনগণের জন্য ফিতনায় পরিণত হয়েছে। তারা মানুষকে অভিযুক্ত করে এবং এ ধরনের বিচ্যুতির ভিত্তিতে তাদেরকে হিজবী বলে তকমা দেয়। তো আপনি কী চান? এ বিষয়ে এতো কিছু খোলাসা করার প্রয়োজন নেই। দুই চক্ষুধারী সকলের জন্যে সূর্যোদয় দৃশ্যমান, তবে তার জন্যে যে দেখতে চায়!

এছাড়াও, এসবই হলো এই ব্যক্তির আক্বীদাহগত বিচ্যুতি, ইলমভিত্তিক জঘন্য বিচ্যুতির একটি অংশ মাত্র, যেটা নিয়ে তাওহীদবাদী শিশু ও যুবকেরাও কথা বলে না।

এবং তার আচরণ ও তার অসংযত ও বিদ্বেষপূর্ণ জিহ্বার ব্যাপারে – কোনো দায় ছাড়া নিঃসঙ্কোচে কথা বলুন। আমি বলছি, কোনো দায় ছাড়াই নিঃসঙ্কোচে এ ব্যাপারে কথা বলুন। কিছু ছাত্র আমার কাছে এসেছিল যখন আবী আল-ফিতানের শিং জেগে উঠেছিল (সে আবুল হাসান আল-মিসরী আল-মা’রিবী নামে পরিচিত), যখন তার ফিতনা শুরু হয়েছিল। এই ছাত্ররা আমার কাছে এসে বললো: “ইয়াহইয়া আল-হাজূরী তাকে এবং তার সাথে যারা আছে, তাদেরকে তিনটি টেপে (ক্যাসেট) রদ করেছেন” যাতে বলা হয় যে সেই (আল-হাজূরী) প্রথম তাকে রদ করেছেন – যেন সবার প্রথমে কথা বলতে পারা কোনো তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এই যে, আপনি ইলমের সাথে কথা বলবেন, জাহালতের সাথে নয় তাই প্রথমে, মাঝখানে বা শেষে কথা বলায় কোনো তাৎপর্য নেই। আল্লাহ বলেন:

“আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ করবে।” [সূরাহ আল-আন’আম ৬:১৫২]

সুতরাং, আমি এই তিনটি টেপ শুনেছি, ভাইয়েরা – আল্লাহর কসম, আমার জন্য দুর্ভোগ! এর ভেতরে যেসব জঘন্য কথাবার্তা ছিল সেসব যদি আমি না শুনতাম, (তাহলে ভালো হতো)। তা সত্ত্বেও আমি আবুল হাসান কে রদ করেছি এবং আমি তাকে এ যুগের পথভ্রষ্ট ও বিপথগামীদের একজন বলে মনে করি এবং আমরা তার (আবুল হাসানের) বিরুদ্ধে রদ লিখেছি। কিন্তু! আবশ্যক হলো যে, রদ হতে হবে ইলমের উপর ভিত্তি করে।

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ আল-বাকরীকে খণ্ডন করতে গিয়ে বলেছেন, “ইলম হলো দুই প্রকার: বিশ্বস্ত বর্ণনা অথবা প্রতিষ্ঠিত গবেষণা।”

(আল-হাজূরী বলতো), “অমুক এবং অমুক দাঁড়াও (তার ছাত্রদের মধ্যে হতে)! আবুল হাসানের বিরুদ্ধে তোমার কাছে কী আছে?” (তখন লোকটি বলতো) “তার বিরুদ্ধে আমার কাছে এই এই আছে।” (অতঃপর আল-হাজূরী বলতো) “সে (আবুল হাসান) ধ্বংস হয়ে গিয়েছে…” (এরপর সে বলতো) “তুমি দাঁড়াও! তার বিরুদ্ধে তোমার কবিতা আবৃত্তি করো, তার উপর প্রস্রাব করো না।” এর (অডিও টেপের) সব জায়গায় সে বলেছে “এর উপর প্রস্রাব করো…না, প্রস্রাব করো না। এটা করো…এটা করো…” জঘন্য কথাবার্তা! আপত্তিকর-অপমানজনক শব্দ ছাড়া আর কী আছে জানি না।

যখন ভাইয়েরা আমাকে এটি (অডিও টেপ) দেওয়ার কয়েকদিন পর এসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাদেরকে বললাম “এই টেপগুলো আমার জীবনে শোনা সবচেয়ে নিকৃষ্ট জিনিসগুলোর একটি, কারণ এতে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও ঘৃণ্য-অশ্লীল কথাবার্তা রয়েছে, এবং নবী ﷺ অশ্লীলভাষী ছিলেন না।” অনুরূপভাবে, সাহাবায়ে কেরাম তাঁর পথকে অনুসরণ করেছেন। (আল-হাজূরী ও তার লোকেরা এর বিপরীতে) শুধু গালিগালাজ আর অপমানই করেছে – আ‘ঊযুবিল্লাহ!

প্রত্যেক ব্যক্তি যে (তাদের মতের) অনুসরণ করে না, তারা তাকে তীব্র ক্ষোভের সহিত বিদ্বেষমূলক শব্দ দিয়ে অভিযুক্ত করে। আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আমরা আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি। যাইহোক, নিজেকে তার (আল-হাজূরীর) মতো লোকদের নিয়ে ব্যস্ত রাখবেন না, কারণ আমরা তাকে আগে থেকেই রদ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, যারা বিভ্রান্তি বা সন্দেহের মধ্যে ছিল তাদের কাছে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। না‘আম।”

উৎস:

https://tinyurl.com/2dcvelfq

অনুবাদকের দ্রষ্টব্য:

ইয়াহইয়া আল-হাজূরী সম্পর্কে শাইখ রাবী, শাইখ উবাইদ, শাইখ আব্দুল্লাহ আল-বুখারী, শাইখ আহমাদ আন-নাজমী, শাইখ আল-ওয়াসসাবী সহ অন্যান্য আলিমদের রদ।

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading