আমাদের বাংলাদেশে অবস্থানরত ভাই-বোনদের প্রতি আমার উপদেশ হলো, আপনাদের দেশের যে সকল স্থানে ফিতনা, নৈরাজ্য ও অরাজকতা বিদ্যমান, আপনারা সে সকল স্থান থেকে দূরে থাকুন। এমন কিছু বলবেন না বা করবেন না যা দেশের চলমান বিশৃঙ্খলার আগুনকে আরো প্রজ্বলিত করবে। আপনারা নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করুন এবং আপনাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং প্রতিবেশীদেরকে একই কাজ করতে উৎসাহিত করুন।
আপনারা নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করুন এবং ইখলাস এবং বিনয়ের সহিত আল্লাহকে ডাকুন – বাংলাদেশের জনগণ যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছে এত্থেকে উত্তরণের জন্য তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলার) কাছে দুআ করুন।
ভাই ও বোনেরা (আল্লাহ আপনাদেরকে হেফাজত করুন) আপনারা যে বিপর্যয় ও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হচ্ছেন তার উপর ধৈর্যধারণ করুন। আল্লাহর কাছে সাহায্য চান, তাঁর কাছে দুআ করুন, আপনাদের ঈমানের যত্ন নিন, নিরাশ হবেন না – নিশ্চয়ই তিনি (পরম করুণাময় ও মহিমান্বিত) আপনাদের সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ বের করে দিবেন।
মহান আল্লাহ বলেছেন: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য এবং সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” [কুরআন ২:১৫৩]
তিনি আরও বলেছেন: “আর আমি অবশ্যই কিছু ভয়, ক্ষুধা, জানমাল ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করব – আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। যারা, যখন তাদের উপর কোনো বিপর্যয় আঘাত হানে, তারা বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।’ তাদের উপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত।” [কুরআন ২:১৫৫-১৫৭]
ইমাম আল-বারবাহারী রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৩২৯হি) বলেছেন: “যখন ফিতনা সংঘটিত হয়, তখন আপনার গৃহে অবস্থান করুন এবং ফিতনার পরিবেশ ছেড়ে পলায়ন করুন। এবং কোনো দলের পক্ষালম্বন থেকে সাবধান থাকুন। দুনিয়াবি কারণে মুসলিমদের মাঝে যে সকল বিবাদ সংঘটিত হয় সেগুলো ফিতনা। সুতরাং শুধু আল্লাহকে ভয় করুন, যাঁর কোনো শরীক নেই, এবং তাঁর প্রতি অনুগত হোন – ফিতনার মুখোমুখি হবেন না, সংঘাতে লিপ্ত হবেন না, এসবের মাঝে পতিত হবেন না, কারো পক্ষ নিবেন না অথবা কোনো এক পক্ষের প্রতি ঝুঁকে পড়বেন না এবং তাদের কোনো কার্যকলাপকেই ভালোবাসতে যাবেন না…”
ইমাম আহমাদ আল-মুসনাদে (৫/২২৬) বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমার বন্ধু আবুল ক্বাসিম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তুমি যদি কখনো এসব ফিতনার সম্মুখীন হও, উহুদ পাহাড়ে যাও এবং সেখানে তোমার তলোয়ার ভেঙ্গে ফেলো – এরপর তোমার গৃহে অবস্থান করো।” (শাইখ আল-আলবানী হাসান বলেছেন, দেখুন আস-সাহীহাহ ৩/৩৬৯)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসন্ন ফিতনার ব্যাপারে বলছিলেন তাই আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করলেন: “আমি তখন কী করব, আল্লাহ্ যেন আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করেন? তিনি বলেন: “তোমার গৃহে অবস্থান করবে, নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখবে, যা ভালো তা গ্রহণ করবে, যা মন্দ তা পরিহার করবে, তুমি নিজের ব্যাপারে সচেতন থাকবে এবং সর্বসাধারণের বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত হবে না।” [আবূ দাঊদ নং ৪৩৪৩, শাইখ আল-আলবানী হাসান বলেছেন]
আমি আল্লাহর কাছে দুআ করছি তিনি যেন বাংলাদেশে অবস্থানরত আহলুস-সুন্নাহকে সাহায্য করেন, এবং সে দেশের মুসলিমদেরকে ঐ সরল পথে পরিচালিত করেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের পথ – এবং এর জনগণকে শয়তানের চক্রান্ত ও ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেন। হে আল্লাহ! আপনি বাংলাদেশের জনগণকে কিতাব ও সুন্নাহর পথ প্রদর্শন করুন, তাদের অন্তরগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে দিন, তাদেরকে শক্তিশালী করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে তাদেরকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদান করুন, নিশ্চয়ই আপনিই পরম দাতা, পরম করুণাময়।
আবূ খাদীজাহ আব্দুল ওয়াহিদ (৬ই আগস্ট, ২০২৪)
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr

















