নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা মহান আল্লাহর নিকটে আমাদের নাফস ও মন্দ আমলের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দিয়েছেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার অর্থে ‘ইবাদতের যোগ্য আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক বা সহযোগী নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:
আমরা অত্যন্ত কঠিন একটি সময়ে বসবাস করছি এবং মুসলিমদেরকে এটি অনুধাবন করতে হবে যে, আল্লাহ শুধু তখনই মুমিনদেরকে সাহায্য করবেন যখন তারা তাঁর আনুগত্য করবে, তাঁর কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর যদি তারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করতে থাকে সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাদেরকে অপমানিত করতে থাকবেন।
ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর এই হাদীসের প্রতি মনোযোগ দিন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ ذُلاًّ لاَ يَنْزِعُهُ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ
“যখনই তোমরা আল-ঈনাহ (এক ধরনের সুদ)-এর মাধ্যমে লেনদেন করবে, আর গরুর লেজ ধরে থাকবে, আর কৃষিকাজ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে আর জিহাদকে পরিত্যাগ করবে; তখন আল্লাহ তোমাদের উপর অবমাননাকর শাস্তি প্রেরণ করবেন। তিনি তা অপসারণ করবেন না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের দীনের প্রতি ফিরে যাবে।”[১]
এই হাদীসে, আমরা সে কারণগুলো দেখতে পাই যেগুলো মুসলিমদের উপর আল্লাহর আযাব নামিয়ে আনে এবং এর পাশাপাশি আমরা সেগুলোর প্রতিকার দেখতে পাই, আর তা হলো হুবহু সেই দীনে প্রত্যাবর্তন করা যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় প্রতিষ্ঠিত ছিল। আর জিহাদের বিষয়বস্তু এবং এর প্রকার সম্পর্কে, ইমাম আব্দুর-রহমান আস-সা‘দী (রাহিমাহুল্লাহ) কিছু চমৎকার বক্তব্য রেখেছেন:
“জিহাদ হলো দুই প্রকার: প্রথমত, সেই জিহাদ যার মাধ্যমে মুসলিমদের পরিশুদ্ধি, আক্বীদাহ, আখলাক্ব, দীন ও দুনিয়ার সংস্কারকে বুঝানো হয়। ইলম ও আমল বিষয়ক তারবিয়্যাহও এর অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের জিহাদ হলো জিহাদের ভিত্তি এবং এর মেরুদণ্ড।
আর এর উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় প্রকার জিহাদ, যে জিহাদের উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে প্রতিহত করা যারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সীমালঙ্ঘন করে তথা কাফের, মুনাফিক্ব, যিন্দীক্ব সহ ইসলামের বাকি শত্রু ও সকল বিরুদ্ধবাদীরা।”[২] আল-ইমাম ইবনুল-ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “দলিল-প্রমাণ ও কথা দিয়ে জিহাদ করা তলোয়ার, তীর ও বর্শা দিয়ে জিহাদ করার চেয়ে উত্তম।”[৩]
নিশ্চয়ই, মানুষের আক্বীদাহ-বিশ্বাসে যে বিকৃতি প্রকাশ পেয়েছে তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা কাফিরদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে। এর কারণ হলো, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করার ভিত্তিতে মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে সাহায্য করে থাকেন। আর আল্লাহ কেবল যোগ্য ব্যক্তিদেরকে তাঁর অনুগ্রহ ও নেয়ামত প্রদান করেন যা বিকৃত আক্বীদাহ-বিশ্বাস, অবাধ্যতা ও পাপের দরুন অপসারিত হয় – তাই আজ মুসলিমরা যে লাঞ্ছনা ভোগ করছে তা মহান আল্লাহ কখনোই তুলে নিবেন না এবং তাঁর অনুগ্রহ ফিরিয়ে দিবেন না, যে পর্যন্ত না লোকেরা ইসলাম ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাবে। মহান আল্লাহ বলেছেন:
اِنَّ اللّٰهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتّٰى يُغَيِّرُوۡا مَا بِاَنۡفُسِهِمۡؕ وَاِذَاۤ اَرَادَ اللّٰهُ بِقَوۡمٍ سُوۡۤءًا فَلَا مَرَدَّ لَهٗۚ وَمَا لَهُمۡ مِّنۡ دُوۡنِهٖ مِنۡ وَّالٍ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। যদি কোনো সম্প্রদায় সম্পর্কে আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন তাহলে তা রদ করার কেউ নেই এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোনো অভিভাবক (ওয়ালী) নেই।”[৪]
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে দীনের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছেন এবং ফিতনা থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছেন। আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন:
تركنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وما طائر يقلب جناحيه في الهواء إلا وهو يذكرنا منه علما
“আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, অথচ বাতাসে ডানা ঝাপটায় এমন একটি পাখিও নেই যার ব্যাপারে তিনি আমাদেরকে অবহিত করেননি।”
এরপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
ما بقي شيء يقرب من الجنة ويباعد من النار إلا بين لكم
“এমন প্রতিটি বিষয় যা তোমাদেরকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে ও জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে, তা তোমাদের নিকট স্পষ্ট করা হয়েছে।”[৫]
একজন মুসলিমের পক্ষে এটি কল্পনা করাও অসম্ভব যে, রাসূল তাঁর উম্মতকে তাহারাহ (পবিত্রতা) ও ইবাদতের ক্ষুদ্রতম বিবরণ শিখিয়ে দিবেন অথচ তিনি কেয়ামতের পূর্বে কাফিরদের অত্যাচার সম্পর্কিত কোনো নির্দেশনা না দিয়ে আমাদের থেকে বিদায় নিবেন! এই দীন পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ আমাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে নিজ থেকে সংশোধনের পথ খুঁজতে বলেন নি। সেজন্য সালাফদের মানহাজে প্রত্যাবর্তন করার মাধ্যমে আমরা (দীন ও দুনিয়াবি) সকল বিষয়কে সংশোধন করব ঠিক যেভাবে ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাহিমাহুল্লাহ, মৃ. ১৭৯হি) বলেছেন:
لن يَصلُحَ آخرُ هذه الأمة إلا بما صَلَح به أولها فما لم يكن يومئذٍ دينًا لا يكون اليوم دينًا
“এই উম্মাহর পরবর্তী অংশ কখনই সংশোধিত হবে না ঐ বিষয়কে বাদ দিয়ে যে বিষয়টি দ্বারা এর পূর্ববর্তী অংশ সংশোধিত হয়েছিল। সুতরাং, যা তখন দীন ছিল না তা এখনও দীন হতে পারে না।”[৬]
সংশোধনের পথ হিসেবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে বিক্ষোভ, মিছিল, প্ল্যাকার্ড উড়ানো, অনশন ও সমাবেশ করতে বলেন নি! এগুলো (কাফিরদের থেকে ধার নেওয়া) নব-উদ্ভাবিত পন্থা এবং এতে অংশগ্রহণকারীরা কোনো সাওয়াবের অধিকারী হয় না; এগুলো মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত এবং শুধু তাঁর অসন্তুষ্টি অর্জন করে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এ বিষয়ে (দীনের ভিতর) এমন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন’: “যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করবে যা আমাদের এই বিষয়ের (দীনের) অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।”[৭] বিক্ষোভ করা ও রাস্তায় মিছিল করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয় – তা দীনের নামে নব-উদ্ভাবিত পন্থা, বিচ্যুতি ও ভ্রষ্টতা।
মুসলিমরা তাদের পরিবার, জানমাল, সন্তান, নির্বাসন, চরম ভীতি ও সংকীর্ণ জীবন দিয়ে পরীক্ষিত হবে। মহান আল্লাহ বলেন:
إِذْ جَآءُوكُم مِّن فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ ٱلْأَبْصَـٰرُ وَبَلَغَتِ ٱلْقُلُوبُ ٱلْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِٱللَّهِ ٱلظُّنُونَا۠ هُنَالِكَ ٱبْتُلِىَ ٱلْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا۟ زِلْزَالًۭا شَدِيدًۭا
“যখন তারা তোমাদের কাছে এসেছিল তোমাদের উপরের দিক থেকে এবং তোমাদের নিচের দিক থেকে, তখন তোমাদের চোখগুলো বিস্ফোরিত হয়েছিল এবং তোমাদের প্রাণ হয়ে পড়েছিল কণ্ঠাগত, আর তোমরা আল্লাহ সম্বন্ধে নানা রকম ধারণা পোষণ করছিলে; তখন মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণ কম্পনে প্রকম্পিত হয়েছিল।” (সূরাহ আল-আহযাব ৩৩: ১০-১১)
মহান আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ধৈর্যধারণ করব, হিদায়াতের অনুসরণ করব এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করব, ততক্ষণ আল্লাহর সাহায্য আসতেই থাকবে:
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُم ۖ مَّسَّتْهُمُ ٱلْبَأْسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوا۟ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصْرُ ٱللَّهِ ۗ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ ٱللَّهِ قَرِيبٌۭ
“নাকি তোমরা মনে করো যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনো তোমাদের কাছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি? দরিদ্রতা ও দুর্দশা তাদেরকে স্পর্শ করেছিল এবং তারা এতো ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল যে রাসূল নিজে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ঈমানদারেরা বলে উঠেছিল, ‘আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?’ জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।” (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২: ২১৪)
আল-বাগাওয়ী তাঁর তাফসীরে বলেছেন: “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীরা যখন মদীনায় আগমন করলেন, (এর পূর্বে) মুশরিকদের হাতে তারা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। মুমিনরা তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের ধন-সম্পদ ছাড়া মক্কা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং তারা নিজেদের ঘরবাড়ি পরিত্যাগ করেছিলেন। অতঃপর মদীনার ইহুদীরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি তাদের শত্রুতা প্রকাশ করল আর মুনাফিক্বরা তাদের শত্রুতা গোপন করল, তাই আল্লাহ তাঁদের অন্তরের প্রতি সান্ত্বনাস্বরূপ এই আয়াতটি নাযিল করলেন।”
ইবনু কাসীর বলেছেন: “আল্লাহ বলেছেন: ‘এবং তারা এতো ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল…’ অর্থাৎ: তাদের শত্রুদের ভয়ে তারা প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠেছিল, এবং তাদেরকে একটি কঠিন পরীক্ষা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল যেমনটি খাব্বাব ইবনু আরাত্ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর হাদীসে পাওয়া যায়। যিনি বলেছেন:
شَكَوْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ مُتَوَسِّدٌ بُرْدَةً لَهُ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ قُلْنَا لَهُ أَلاَ تَسْتَنْصِرُ لَنَا أَلاَ تَدْعُو اللَّهَ لَنَا قَالَ كَانَ الرَّجُلُ فِيمَنْ قَبْلَكُمْ يُحْفَرُ لَهُ فِي الأَرْضِ فَيُجْعَلُ فِيهِ فَيُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُشَقُّ بِاثْنَتَيْنِ وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الْحَدِيدِ مَا دُونَ لَحْمِهِ مِنْ عَظْمٍ أَوْ عَصَبٍ وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ وَاللَّهِ لَيُتِمَّنَّ هَذَا الأَمْرَ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ لاَ يَخَافُ إِلاَّ اللَّهَ أَوِ الذِّئْبَ عَلَى غَنَمِهِ وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ
“আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অভিযোগ করলাম, তিনি তখন কাবার ছায়াতলে তাঁর চাদরকে বালিশ বানিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা তাঁকে বললাম: ‘আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য চাইবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ করবেন না?’ তিনি বললেন: “তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিদের মাঝে এমনও লোক ছিল যার জন্য মাটিতে একটি কূপ খনন করা হতো এবং একটি করাত এনে সেটা তার মাথায় রেখে তাকে দু’ভাগ করা হতো। এরপরও সেটা তাকে তার দীন থেকে বিচ্যুত করেনি। লোহার চিরুনি দিয়ে একজন লোকের হাঁড় থেকে মাংস ও ধমনি চিরে ফেলা হতো এরপরও সেটা তাকে তার দীন থেকে বিচ্যুত করেনি। আল্লাহর কসম, এই দীন বিজয়ী হবে, এমনকি কোনো মুসাফির সান’আ থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত যাত্রা করবে, অথচ সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করবে না অথবা এটাও ভয় করবে না যে কোনো নেকড়ে তার ভেড়াটি ছোঁ মেরে নিবে। তবে নিশ্চয়ই তোমরা হলে ত্বরাপ্রবণ জাতি।”[৮] এটি এমন একটি সময় ছিল যখন আল্লাহ মুমিনদেরকে কঠিন মুসিবত দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন আর সে কারণে তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে দিকনির্দেশনা চেয়েছিলেন।
সুতরাং, “আমাদের যা করণীয় আমরা তার উল্টোটা করতে পারি না।” আমরা আল্লাহর সাহায্য চাই, আমরা চাই তিনি যেন আমাদেরকে রক্ষা করেন এবং সেই শত্রুদেরকে পরাজিত করেন যারা দিনরাত আমাদের উপর আক্রমণ চালায় অথচ আমরা কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা করি, আহলুস-সুন্নাহর আক্বীদাহ লঙ্ঘন করি, রাসূল এবং সাহাবীদের মানহাজের বিরোধিতা করি। এটি মুক্তির কোনো পথ হতে পারে না যেমনটি কবি বলেছেন: “তোমরা পরিত্রাণ খোঁজো কিন্তু পরিত্রাণের পথে চলো না – নিশ্চয়ই কোনো জাহাজ শুকনো জমিনে চলে না!” রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতের বিরুদ্ধাচরণ, বিদ’আত ও পাপকাজে ডুবে থাকা বিজয় নিয়ে আসে না, বরং তা আল্লাহর আযাব ও লাঞ্ছনা নিয়ে আসে:
وَمَن يُشَاقِقِ ٱلرَّسُولَ مِنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ ٱلْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ ٱلْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِۦ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِۦ جَهَنَّمَ ۖ وَسَآءَتْ مَصِيرًا
“এবং কারো নিকট সঠিক পথ প্রকাশিত হওয়ার পর যদি সে রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে আর মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, আমরা তাকে সে পথেই রাখব যে পথ সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করাব, আর তা কতই না মন্দ গন্তব্যস্থল !”[৯]
উহুদের যুদ্ধের ঘটনায় ঐসকল মুসলিমের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে যারা আল্লাহর সাহায্য কামনা করে, যারা জানতে চায় যে আজ কী কারণে তারা এই দুর্বলতা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদেরকে আগাম যুদ্ধের জন্য অস্ত্রসজ্জিত করলেন ও কাতারবন্দি করলেন। সেখানে পঞ্চাশজন ঘোড়সওয়ার ও পঞ্চাশজন তিরন্দাজ ছিলেন। তিনি তিরন্দাজদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন পাহাড়ের উপরে তাদের নির্ধারিত স্থান থেকে সরে না যায় এবং তাদের দিক থেকে কোনো আক্রমণ এলে তারা যেন মুসলিমদেরকে প্রতিরক্ষা করে।
আল-বারা ইবনু আযিব (রাদ্বিয়াল্লহু ‘আনহু) বলেন: “উহুদের যুদ্ধের দিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর (রাদ্বিয়াল্লহু ‘আনহু)-কে পঞ্চাশজন তিরন্দাজের সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “যদি তোমরা দেখতে পাও পাখিরা আমাদেরকে ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে, তবুও তোমাদেরকে ডেকে না পাঠানো পর্যন্ত তোমরা এ স্থানটি ত্যাগ করবে না। আর যদি তোমরা দেখো যে, আমরা শত্রুকে পরাজিত করে ফেলেছি এবং তাদের পদদলিত করে ফেলেছি, তবুও ডেকে না পাঠানো পর্যন্ত তোমরা তোমাদের স্থানটিকে ত্যাগ করবে না।”
আল-বারা বলেন: সুতরাং, আল্লাহ তাদেরকে (কাফিরদেরকে) পরাজিত করলেন, এবং আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি নারীদেরকে পাহাড়ে পালিয়ে যেতে দেখেছি। ‘আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের-এর সাথে যে তিরন্দাজরা ছিলেন তারা বললেন, “যুদ্ধের গনিমত আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এবং আপনার সঙ্গীরা তো বিজয়ী হয়েছে, তাহলে আপনি কীসের জন্য অপেক্ষা করছেন?”
‘আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর বললেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদেরকে যা বলেছিলেন তোমরা কি তা ভুলে গেছো? তারা বললেন, “আল্লাহর কসম, আমরা লোকেদের সাথে যোগ দিব এবং গনিমতের মাল নিবো। অতঃপর তারা লোকেদের সাথে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে (পাহাড় থেকে) নেমে গেলেন। তারা তাদের স্থান থেকে সরে গেলেন ও পরাজিত হলেন।”[১০]
এখানে আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু সাহাবীদেরকে দেখতে পাই যারা তাদের নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কারণ তারা মনে করেছিলেন যে, পৌত্তলিকদের পরাজিত করা হয়েছে এবং তারা পুনরায় ফিরে আসবে না। তাদের নির্ধারিত স্থানটি ত্যাগ করার দরুন তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবাধ্য হয়েছিলেন। এই সুযোগে খালিদ বিন ওয়ালীদ দ্বারা পরিচালিত মুশরিক ঘোড়সওয়ারেরা আক্রমণ চালালো ও তিরন্দাজদের ফেলে আসা অরক্ষিত সেই জায়গাটি দেখে ফেলল – (সুযোগ পেয়ে) তারা ভিতরে ঢুকে পড়ল ও মুমিনদের উপর আক্রমণ করল। সুতরাং আল্লাহ যা ঘটাতে চেয়েছিলেন তাই ঘটল ও সত্তরজন মুমিন শহিদ হলেন।
যুদ্ধের পর, মুমিনরা তাদের পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলেন। (কারণ) বদরের যুদ্ধে তারা এর চেয়েও কম সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাই মহান আল্লাহ তাদেরকে উহুদে পরাজয়ের কারণ সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন:
أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُم مُّصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُم مِّثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّىٰ هَٰذَا ۖ قُلْ هُوَ مِنْ عِندِ أَنفُسِكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“আর যখন তোমাদের উপর বিপদ এসেছিল, যদিও তোমরা (বদর যুদ্ধে তোমাদের শত্রুদের উপর আক্রমণ করে) এর দ্বিগুণ জয় লাভ করেছিলে, তখন তোমরা বলেছিলে, ‘এটি কোত্থেকে এলো?’ বলো, ‘তা তোমাদের নিজেদের থেকে।’ নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান।”[১১]
ইবনু সা’দ (রাহিমাহুল্লাহ)[১২] বলেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর তিরন্দাজদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন – কিন্তু তারা তাকে অমান্য করেছিলেন এমনকি শুধু দশজন ছাড়া বাকি সবাই তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তাই খালিদ বিন ওয়ালীদ (যিনি তখন মুশরিক ছিলেন) যখন দেখলেন যে পাহাড়ের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি পরিত্যক্ত হয়েছে তখন তিনি তিরন্দাজদের জায়গাটি দখলে নিলেন এবং যারা অবশিষ্ট ছিল তাদের উপর আক্রমণ চালালেন। বাকি তিরন্দাজরা নিহত না হওয়া পর্যন্ত তীর নিক্ষেপ করতে থাকলেন ও নিজেদের প্রতিরক্ষা করতে থাকলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) তাঁর তীর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিক্ষেপ করতে থাকলেন। এরপর তাঁর বর্শা ভেঙ্গে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি লড়াই করতে থাকলেন। অবশেষে তিনি শহিদ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর তলোয়ারের ভাঙ্গা খোসা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকলেন (আল্লাহ যেন তাঁর উপর সন্তুষ্ট হন)।
ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন যে, “আমরা উহুদের যুদ্ধ থেকে যে বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারি তা হলো: পাপের মন্দ পরিণাম, দৃঢ়সংকল্পের দুর্বলতা ও ঝগড়া-বিবাদের পরিণতি – এবং সাথে আমরা এটিও জানতে পারি যে, তাঁদের উপর যা নিপতিত হয়েছিল তা উপরিউক্ত কারণেই হয়েছিল। সুতরাং যখন তারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবাধ্য হওয়ার দরুন এবং বিবাদ ও সাহস হারিয়ে ফেলার কারণে শাস্তি (ও পরাজয়) আস্বাদন করলেন, এরপর থেকে তাঁরা সে মাধ্যমগুলোর ব্যাপারে সবচেয়ে সতর্ক, সজাগ ও মনোযোগী হয়ে উঠলেন যেগুলো [আল্লাহর পক্ষ থেকে] লাঞ্ছনা নিয়ে আসে।”[১৩] [এরপরও] আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং এত্থেকে তাঁরা একটি বিরাট শিক্ষা লাভ করলেন। মহান আল্লাহ প্রকৃত মুমিনদের জন্য শিক্ষা, উপদেশ ও অনুস্মারক হিসেবে সূরাহ আলি-ইমরানের এই যুদ্ধ সম্পর্কিত ষাটটি আয়াত নাজিল করলেন।
উহুদের যুদ্ধে ৭০ জন সাহাবী শহিদ হয়েছিলেন। বদরের যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম) এমন একটি আক্রমণ করেছিলেন যা শক্তিতে দ্বিগুণ ছিল: একশত চল্লিশটি হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। সত্তরজন পৌত্তলিককে বন্দী করা হয়েছিল এবং তাদের সত্তরজন নিহত হয়েছিল। যে কারণে আল্লাহ এই আয়াতে বলেছেন, “যদিও তোমরা (বদর যুদ্ধে তোমাদের শত্রুদের উপর আক্রমণ করে) এর দ্বিগুণ জয় লাভ করেছিলে।” এ কারণে, আবূ সুফিয়ান (যিনি তৎকালীন মুশরিকদের একজন নেতা ছিলেন) উহুদের যুদ্ধ শেষে বলেছিলেন, “এই দিনটি হলো [প্রতিশোধের] দিন যা বদরের দিনের পরাজয়ের বদলা স্বরূপ – আর যুদ্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া বাকি রইল।”[১৪]
সুতরাং এটিই প্রমাণ করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবাধ্য হওয়ার কারণে মুসলিমদের থেকে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
সুতরাং, আমাদের বর্তমান যুগের মুসলিম উম্মাহ আর কী আশা করে? এমন অনেক মুসলিম আছে যারা কোনো পরোয়া ছাড়াই অন্যদের উপর অত্যাচার করে, তারা একে অপরকে ধোঁকা দেয় এবং ব্যভিচার ও অশ্লীল যৌনাচার, মিথ্যাচার, চুরি, মদপান, জুয়া ও গীবতের মতো বড় বড় পাপে লিপ্ত হয়। এমনও মুসলিম আছে যারা সুদের (রিবা) ব্যবসা করে, পর্নোগ্রাফি দেখে, এমন নারীরা আছে যারা হিজাবকে পরিত্যাগ করে, তারা গান শোনে, এবং সিনেমা ও টিভি শোতে তারা আসক্ত – তারা আত্মীয়তার সম্পর্ককে ছিন্ন করে, তারা তাদের স্ত্রীদের সাথে প্রতারণা করে আর এই তালিকাটি অফুরন্ত!
তারা কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে, যদি তাদের অবস্থা এরকম থাকে তবে আল্লাহ তাদের বিজয় দিবেন বা তাদের উপর থেকে এই লাঞ্ছনা তুলে নিবেন? এসব পাপাচারের চেয়ে আরও ভয়ংকর বিষয় হলো যে, আমাদের যুগে এমন লক্ষ লক্ষ মুসলিম আছে যারা দীনের মূল ভিত্তি তথা সঠিক আক্বীদাহ (বিশ্বাস) সম্পর্কে কিছুই জানে না, তারা তো এটি অধ্যয়ন করেই না বরং বেশিরভাগ “দীন পালনকারীরা” কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরামের মানহাজের বিরুদ্ধাচরণ করে ও তাদের নিজস্ব দলমতের আক্বীদাহ-বিশ্বাস নিয়ে মত্ত থাকে!
এই উম্মতের মাঝে এমন লক্ষ লক্ষ লোক আছে যারা মৃতদেরকে তাদের কবরে গিয়ে ডাকে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মদিন উদযাপন করে, কবরের উপর মাজার নির্মাণ করে এবং তারা গণক ও জ্যোতিষীদের দারস্থ হয়! এই অবস্থায় তারা কি সত্যিই আল্লাহর সাহায্য কামনা করে?
তাদের এই (বাতিল) আক্বীদাহ ও বদ আমলগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে লাঞ্ছনা ও মুসলিমদের উপর কাফিরদের বিজয় নিয়ে আসে।
যতদিন পর্যন্ত মুসলিমরা কুরআন, সুন্নাহ, সালাফদের মানহাজ, আক্বীদাহ ও উত্তম আখলাক্বের বিরোধিতা করবে, ততদিন তাদের জীবন, সম্মান, ভূমি ও সম্পদ ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রুদের দ্বারা লঙ্ঘিত ও শোষিত হবে।
সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
يُوشِكُ الأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَهَنُ قَالَ حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْت
“অচিরেই বিজাতীয়রা তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে আহ্বান করবে ও ঐক্যবদ্ধ হবে, যেমন কাউকে একটি (খাবারের) থালা থেকে ভোজন করার জন্য আহ্বান করা হয়।” একজন বলল, “সেটি কি সেসময় আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে হবে?” তিনি বললেন, “বরং তখন তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে। কিন্তু তোমরা হবে স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের প্রতি ভীতি তুলে নিবেন আর তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহন সঞ্চার করবেন।” একজন বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল-ওয়াহন কী?’ তিনি বললেন, “দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও মৃত্যুকে ঘৃণা করা।”[১৫]
সুতরাং, ব্যক্তিগত পর্যায়ে, একজন মুসলিম যে সত্যিকার অর্থে নিজের ভালো চায় তাকে অবশ্যই মন্দ সাহচর্য ও গুনাহের মাজলিসগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে যেখানে আল্লাহকে অমান্য করা হয়, তাঁর আয়াত ও নিদর্শনগুলোকে অবজ্ঞা করা হয় ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হয়। মুসলিমদের উচিত নিজ নিজ জ্ঞান ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো কাজের আদেশ করা ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা। সংশোধন শুরু হয় নিজেকে দিয়ে, এরপর নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ইত্যাদি – এভাবেই দাওয়াহ প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন:
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُون
“আর তোমাদের মাঝে যেন এমন একটি দল থাকে, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দিবে ও মন্দকাজ থেকে নিষেধ করবে আর এরাই হবে সফলকাম।”[১৬]
ক‘টি আয়াত পর, আল্লাহ সাহাবীদের (এবং যারা সত্যিকার অর্থে তাদের অনুসরণ করেন তাদের) জন্য একটি সুসংবাদ দিলেন:
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ
“তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং তোমরা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করো।”[১৭]
তারা হলেন আহলুস সুন্নাহ, আহলুল হাদীস, প্রত্যেক যুগের সংস্কারকগণ। এবং তারা হলেন আল-জামা‘আহ এবং একইভাবে (ঐ সবাই এই দলের অন্তর্ভুক্ত) যারা প্রতিটি প্রজন্মে আক্বীদাহ ও আমলে তাদের অবিকল অনুসরণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلاَنِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
“নিশ্চয়ই আমার উম্মাতের উপর একের পর এক সেসব নিপতিত হবে যা বনী ইসরাঈলের উপর নিপতিত হয়েছিল। এমনকি বনী ইসরাঈলের কেউ যদি তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে যিনায় লিপ্ত হয়ে থাকে, তাহলে আমার উম্মাতের মাঝেও এমন লোক থাকবে যে অনুরূপ কাজ করবে। আর নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল ৭২ ফিরকায় (দলে) বিভক্ত হয়েছিল। আমার উম্মত ৭৩ ফিরকায় বিভক্ত হবে। এদের মাঝে একটি দল ব্যতীত সকলেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” তারা বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! সেটি কোনটি?” উত্তরে তিনি বললেন, “(যারা সেই দীনের উপর থাকবে) যার উপর আমি ও আমার সাহাবীরা প্রতিষ্ঠিত আছি।”[১৮]
তারা হলেন সাহায্যপ্রাপ্ত দল (আত-তাইফাতুল মানসূরাহ), যারা প্রত্যেক যুগে সফল ও বিজয়ী যেমন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي قَائِمَةً بِأَمْرِ اللَّهِ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ أَوْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ ظَاهِرُونَ عَلَى النَّاسِ
“আমার উম্মাতের একটি দল আল্লাহর আদেশের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাঁদের সঙ্গত্যাগ করবে অথবা তাঁদের বিরোধিতা করবে, তারা তাঁদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। এভাবে আল্লাহর আদেশ (অর্থাৎ কিয়ামতের মুহূর্তটি) এসে পড়বে আর তাঁরা তখনও মানুষের উপর বিজয়ী থাকবে।”[১৯]
এবং এটিই সেই পথ যে সম্পর্কে ফুদাইল ইবনু ইয়াদ্ব (মৃ. ১৮৭ হি, রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন:
عليك بطريق الهدى وإن قل السالكون واجتنب طريق الردى وإن كثر الهالكون
“হিদায়াতের পথকে অনুসরণ করো যদিও এর অনুসারীর সংখ্যা কম হয়। আর ধ্বংসের পথকে পরিহার করো যদিও অধিকাংশই এতে পতিত হয়।”[২০]
‘আল্লামাহ ড. রাবী বিন হাদি আল-মাদখালী ফিলিস্তিনের দুর্দশা সম্পর্কে বলেছেন:
من تاريخ بني إسرائيل ثلاثة أنبياء في عصر واحد فلم يعلنوا الجهاد
قال الشيخ ربيع بن هادي المدخلي:
‘وأنا أقول غير مرة: إن الرومان احتلوا فلسطين في عهد بني إسرائيل، وكان يعيش في وقت ما من أوقاتٍ من تاريخ بني إسرائيل ثلاثة أنبياء في عصر واحد فلم يعلنوا الجهاد، هؤلاء الثلاثة هم زكريا وعيسى ويحيى -عليهم الصلاة والسلام- ولو شاء ربك لأمر أحد الأنبياء يدعو على هؤلاء الأعداء فيغرقهم الله كما أغرق قوم نوح وعاد وثمود، ولكن الله يبتلي الناس بعضهم ببعض، …..’
ويقول الشيخ:
‘فإذا كان الأنبياء في عهد قد شرع فيه الجهاد ولكن الله لم يكلفهم-يعني- بالجهاد وإن كان الجهاد مشروعا في دينهم، لماذا لم يشرع الله ولم يكلف الله هؤلاء الأنبياء بالجهاد، ثلاثة أنبياء في عصر واحد وفي بلدة واحدة وهي القدس ولم يكلفهم الله بإخراج الرومان من القدس، لماذا؟ لأن الله من سننه الكونية والشرعية أن لا يكلف الناس إلا بما يطيقونه، فهل الآن في طاقة هؤلاء الذين هدموا هذا البناء هل في طاقتهم مواجهة أمريكا وأوربا ودول الشرق والغرب، هل في طاقتهم هذا؟ [২১]
“আমি একাধিকবার বলেছি যে বনী ইসরাঈলের যুগে রোমানরা ফিলিস্তিন দখল করে রেখেছিল। তারা ইতিহাসের এমন একটি সময়ে বসবাস করত যখন বনী ইসরাঈলদের তিনজন নবী একই সাথে জীবিত ছিলেন – এরপরও তাঁরা জিহাদের ঘোষণা দেন নি। সেই তিন নবী হলেন জাকারিয়্যা, ঈসা ও ইয়াহইয়া (‘আলাইহিমুস সালাম।) যদি আপনার রব চাইতেন, তবে তিনি অবশ্যই এই নবীদের একজনকে দিয়ে হলেও শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দিতেন, এবং আল্লাহ তাদেরকে নিমজ্জিত করতেন যেভাবে তিনি নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়কে নিমজ্জিত করেছিলেন আর যেভাবে তিনি ‘আদ ও সামূদ জাতিকে ধ্বংস করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ কিছু সংখ্যক লোকদেরকে অন্যদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন…” শাইখ রাবী’ এরপর বলছেন “অতএব, যেহেতু নবীগণ এমন একটি সময়ে বসবাস করতেন যখন জিহাদ শরীয়তের একটি অংশ ছিল কিন্তু জিহাদের বিষয়টি তাদের দীনে বৈধ হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহ জিহাদ করাকে তাদের জন্য ফরয করেননি, তাহলে আল্লাহ কেন (সে অবস্থায়) নবীদেরকে জিহাদ করতে বলেন নি বা তাঁদের উপর সেটি বাধ্যতামূলক করেন নি? তিনজন নবী একই সময়ে, একই দেশে, অর্থাৎ আল-কুদস (জেরুজালেমে), অথচ আল্লাহ তাদেরকে আল-কুদস থেকে রোমানদের উচ্ছেদ করার দায়িত্ব দেননি – কেন দেন নি? কেননা মহান আল্লাহর জাগতিক ও শারঈ পদ্ধতি হলো তিনি মানুষের উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেন না যা তারা বহন করতে পারে না। সুতরাং, এখন যেসব লোকেরা এই ভবনটি ধ্বংস করেছে তাদের কি শক্তি আছে? তাদের কি আমেরিকা, ইউরোপ বা পূর্ব-পশ্চিমের দেশগুলোর মুখোমুখি হওয়ার শক্তি আছে? তাদের আদৌ কি এই শক্তি আছে?”[২২]
সংস্কারের এই কাজটি কেবল আল-গুরাবা (অর্থাৎ অপরিচিতদের) জন্য নির্ধারিত যারা শিরক এবং বিদআত থেকে (দীন ও সমাজকে) পরিচ্ছন্ন করেন।
প্রখ্যাত আলিম, ইমাম ‘আব্দুল আযীয ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
“ইসলাম অতি ক্ষুদ্র হিসেবে মক্কায় প্রকাশ পেয়েছিল। অনেকেই এতে বিশ্বাস করেনি এবং অধিকাংশ লোকই এর প্রতি শত্রুতা প্রদর্শন করেছিল এবং তারা একগুঁয়েভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাঁর ক্ষতি করেছিল। তারা তাঁর সাহাবা (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম)-এর ক্ষতি করেছিল। অতঃপর তিনি মদীনায় হিজরত করলেন ও তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীগণও হিজরত করলেন। এমনকি তারা সেখানেও আল-গুরাবা (অপরিচিত) ছিলেন যতক্ষণ না তাদের সংখ্যা মদীনা সহ অন্যান্য দেশে বৃদ্ধি পেল। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য মক্কাকে উন্মুক্ত করে দিলেন এবং তাঁকে বিজয় দান করলেন যার পর লোকেরা দলে-দলে ইসলামে প্রবেশ করতে লাগল। তাই শুরুতে, ইসলাম মানুষের কাছে অপরিচিত একটি দীন হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল এবং তাদের অধিকাংশই তখন আল্লাহকে অবিশ্বাস করত, শিরক করত এবং তারা মূর্তি, নবী, আউলিয়া, গাছ, পাথর ইত্যাদির পূজা করত।
অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের হাতে যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দিলেন। পরিশেষে লোকেরা ইসলামে প্রবেশ করতে লাগল এবং তারা শুধু আল্লাহর ‘ইবাদত করতে লাগল। তারা মূর্তি, নবী ও আউলিয়াদের ‘ইবাদত করাকে পরিত্যাগ করল।
তাদের ইবাদতকে তারা ইখলাস ও একনিষ্ঠতার সহিত আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করল। একমাত্র তাঁর ইবাদত ব্যতীত তারা আর কারো ইবাদত করত না। তিনি ব্যতীত অন্য কারও কাছে তারা প্রার্থনা করত না এবং তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করত না। তাদের প্রার্থনাকে তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নিবেদন করত না, তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও কাছে মুক্তি চাইত না এবং আল্লাহ (তিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) ব্যতীত অন্য কারও নিকট আরোগ্য তালাশ করত না। তারা না কবরের বাসিন্দাদের কাছে সাহায্য বা উদ্ধার চাইত, না মূর্তি, গাছ, পাথর, জিন বা ফেরেশতাদের কাছে। বরং একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত তারা আর কারো ‘ইবাদত করত না। সুতরাং, এরাই হলেন সেই গুরাবা। শেষ জমানার ক্ষেত্রেও তাই ঘটবে। তারাই আল্লাহর দীনের উপর অটল থাকবেন যখন মানুষেরা দীন থেকে পিছিয়ে পড়বে ও কুফরী করবে বা যখন তাদের পাপ ও মন্দ কাজ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এসবের ভিড়ে এই গুরাবা (অপরিচিতরা) আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর দীনের উপর একনিষ্ঠ থাকবেন। তাদের জন্যই রয়েছে জান্নাত ও সুখ-শান্তি, ইহকাল ও পরকালে প্রশংসনীয় প্রতিদান।”[২৩]
আল-গুরাবা – তাদের বিরোধী দলমত থাকা সত্ত্বেও নির্বিশেষে উম্মাহর সংশোধনের দিকে আহ্বান করেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
بدأ الإسلام غريباً وسيعود غريباً كما بدأ فطوبى للغرباء
“ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল এবং তা পুনরায় সেই অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে যেভাবে তা শুরু হয়েছিল। সুতরাং তূবা (সুসংবাদ) আল-গুরাবাদের জন্য।”
হাদীস বিশারদগণ এই হাদীসের বিভিন্ন বিবৃতি সংগ্রহ করেছেন। এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:
يا رسول الله من الغرباء؟ قال وهم الذين يصلحون ما أفسد الناس من بعدي من سنتي
“হে আল্লাহ্র রাসূল! আল-গুরাবা কারা?” তিনি বললেন, “তারা ঐসকল লোক যারা আমার পরবর্তীতে আমার সুন্নাত হতে লোকেরা যা বিকৃত করবে তা সংস্কার করবে ।”[২৪]
অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন:
يصلحون ما أفسد الناس من سنتي
“আমার সুন্নাত হতে লোকেরা যা বিকৃত করবে তারা তা সংস্কার করবে।”
এটিই হলো সংস্কার ও পরিত্রাণের পথ যেখানে শুরু থেকেই আল্লাহর আনুগত্য করা ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম)-এর মানহাজের অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।
উম্মাহর সংশোধনের সূচনা ও ভিত্তি হলো তাওহীদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা, যার অর্থ হলো ইবাদতে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা এবং আক্বীদাহ ও তাওহীদ বিষয়ক বইপুস্তক অধ্যয়নের মাধ্যমে (তাওহীদের এই বিষয়টি) খুব ভালো ও বিশদভাবে উপলব্ধি করা। এই তাওহীদই হলো আম্বিয়া প্রেরণের মূল উদ্দেশ্য ও তাঁদের দাওয়াতের ভিত্তি। মহান আল্লাহ বলেছেন:
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
“এবং আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহর ‘ইবাদত করো আর ত্বাগূতকে (মিথ্যা উপাস্যদেরকে) বর্জন করো।”[২৫]
মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল নূহ (‘আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে বলেছেন:
لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
“এবং আমরা নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত করো। তিনি ব্যতীত তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করছি।”[২৬]
অন্যান্য নবীদের ব্যাপারে যেমন হূদ (‘আলাইহিস সালাম):
وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۗ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۚ أَفَلَا تَتَّقُون
“আর আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে প্রেরণ করেছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ব্যতীত, তোমাদের ইবাদতের যোগ্য, আর কেউ নেই। তোমরা কি সাবধান হবে না?”[২৭]
আর এ ছিল সেই একই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য যেটি দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে (বিভিন্ন অভিযানে) প্রেরণ করতেন। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) বলেছেন:
لَمَّا بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُعَاذًا نَحْوَ الْيَمَنِ قَالَ لَهُ إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَى أَنْ يُوَحِّدُوا اللَّهَ تَعَالَى فَإِذَا عَرَفُوا ذَلِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ فَإِذَا صَلُّوا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكَاةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ غَنِيِّهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فَقِيرِهِمْ فَإِذَا أَقَرُّوا بِذَلِكَ فَخُذْ مِنْهُمْ وَتَوَقَّ كَرَائِمَ أَمْوَالِ النَّاسِ
“যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু’আয ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-কে ইয়ামানে পাঠালেন, তিনি তাকে উদ্দেশ্যে করে বললেন: ‘তুমি আহলুল কিতাবদের একটি ক্বওমের নিকট যাচ্ছো। সুতরাং, তাদের প্রতি তোমার দাওয়াতের প্রথম বিষয় হবে যে, তারা যেন আল্লাহর একত্বকে স্বীকার করে নেয়। যদি তারা তা মেনে নেয় তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরয করেছেন। যদি তারা নামাজ আদায় করে, তখন তুমি তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তাদের ধন-সম্পদের উপর আল্লাহ তা‘আলা যাকাত ফরয করেছেন। তাদের ধনীদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে এবং তাদের গরিবদের নিকট তা বণ্টন করা হবে। যদি তারা তা মেনে নেয়, তখন তাদের থেকে তা গ্রহণ করবে। তবে লোকজনের ধন-সম্পদের উত্তমাংশ গ্রহণ করা থেকে সংযমী হবে।”’[২৮]
মহান আল্লাহ মুসলিমদেরকে তখনই বিজয় দান করবেন যখন তারা তাওহীদ, সুন্নাহ ও আল্লাহর আনুগত্য প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি শিরক, বিদ‘আত ও পাপাচার পরিত্যাগ করবে। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমাদেরকে এই পদ্ধতিটি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন:
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَىٰ لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا ۚ يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا ۚ وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে আল্লাহ তাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে তাদেরকে প্রতিনিধিত্ব দিবেন যেভাবে তিনি তাদের পূর্ববর্তীদেরকে প্রতিনিধিত্ব দিয়েছিলেন। তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের দীনকে – যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন তা প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং এবং তিনি তাদের ভীতিপূর্ণ অবস্থাকে পরিবর্তিত করে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দিবেন। (এই শর্তে যে) তারা আমার ‘ইবাদত করবে, আর আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করবে না। এরপরও যারা কুফরি করবে তারাই হলো ফাসিক্ব।”[২৯]
এই হলো সেই নির্ভুল ও সত্য মানহাজ যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন যা মুসলিমদের সার্বিক পরিস্থিতিকে সংশোধনের পথে পরিচালিত করবে।
ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং হামাসের আক্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর আজ শাইখ আবূ খাদীজাহ আব্দুল-ওয়াহিদের উপদেশ:
প্রশ্নকর্তা: সুলায়মান আবূ হামজাহ। ক্লাস চলাকালীন একটি উপদেশ, এবং এই উপদেশটি তিনি প্রচার করার অনুমতি দিয়েছেন বিধায় আমি তা লিখে রেখেছি।’ (১০শে অক্টোবর ২০২৩)
“আজ ফিলিস্তিনে যা ঘটছে, তা অবশ্যই এই উম্মাহর জন্য একটি পরীক্ষা। আপনি যখন জানেন আপনার প্রতিবেশী একটা মাস্তান, এবং আপনি জানেন আপনার প্রতিবেশী শক্তিতে সুসজ্জিত, এবং আপনি জানেন আপনার প্রতিবেশী – যদি আপনি তাকে উসকে দেন – সে আপনার জানালা ভেঙ্গে দিবে আর আপনার সন্তানদের হত্যা করবে; তাহলে নিশ্চয়ই সে (সাধারণ) কোনো প্রতিবেশী না যার দিকে আপনি পাথর ছুড়ে (নিশ্চিন্তে থাকতে) পারবেন কেননা তাকে প্রতিহত করার ক্ষমতা আপনার নেই, এই জুলুম প্রতিহত করার ক্ষমতা আপনার নেই৷
আর এটাই ফিলিস্তিনের উপমা। কেননা তাদের ঐ ক্ষমতা নেই, না ধর্মীয় জ্ঞানের দিক থেকে, না সামরিক শক্তির দিক থেকে। সুতরাং এটা চিন্তা করাই নিছক নির্বুদ্ধিতা যে, আপনি এমন এক জাতিকে আক্রমণ করতে যাচ্ছেন যারা পরিপূর্ণরূপে সশস্ত্র, যারা চরমপন্থি ইহুদিবাদীত্বে বিশ্বাসী এবং যারা যুদ্ধ ও হত্যাকাণ্ডের অজুহাত খুঁজছে। এবং আপনি এটাও জানেন যে তাদের বিতাড়িত করার ক্ষমতা আপনার নেই। এবং আপনি এটাও জানেন যে, তারা যখন আপনার দিকে ধেয়ে আসবে, তারা শুধু আপনাকে হত্যা করতে আসবে না; বরং তারা আপনার সন্তান, আপনার মা-বোন, সমস্ত স্কুল ও আপনার বাড়িঘর ধ্বংস করতে আসবে। আপনি যদি তাদের ১০ জন লোককে হত্যা করেন এর পরিবর্তে তারা আপনার ১০০ জন লোককে হত্যা করবে। তাদের একেক জনকে হত্যা করার পরিবর্তে তারা আপনার ডজন-কে-ডজন লোক হত্যা করবে।
এই অবস্থায়, তাদেরকে আক্রমণ করা এবং তাদের সাথে লড়াই করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তার উপর, বেসামরিক লোকদের হত্যা করা জায়েজ নয়। সুতরাং, যদি বেসামরিক লোকদের উপর হামলা করা হয় তবে তা শরীয়তে জায়েয নয়, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারী, শিশু ও নিরস্ত্রদের হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন।
তাই একজন ব্যক্তিকে বিচক্ষণ হতে হবে, এই ধরনের বিষয়গুলো শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে যারা এর নেপথ্যে কাজ করছে, এবং আগে থেকেই এর নেপথ্যে কাজ করে এসেছে। আর আলিমদের দায়িত্ব হলো জনসাধারণকে সে বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া যেটা তাদের পার্থিব জীবনে উপকারে আসবে, দীনের ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করবে এবং যা অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য বয়ে আনবে: আর তা হলো তাওহীদ, সঠিক আক্বীদাহ-বিশ্বাস, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ এবং আল্লাহর سبحانه و تعالى ইবাদতের দিকে প্রত্যাবর্তন। এটিই প্রতিকার, এটিই সমাধান।
কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এলোমেলোভাবে আক্রমণ করা ও তাদের বেসামরিক লোকদের হত্যা করা, বা আপনার সামনে যারাই আসুক তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করা কোনও সমাধান বয়ে আনবে না, কেননা বেসামরিক লোকদের হত্যা করা এমনিতেই হারাম। এই ধরনের বিশৃঙ্খল আক্রমণে আমরা বিশ্বাসী না, কেননা যখন তারা (শত্রুপক্ষ) পালটা আক্রমণ করবে তখন তারা আরও বেশি জুলুম, অত্যাচার ও ব্যাপক ক্ষতির উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণ করবে। সুতরাং তারা (হামাস) যা করেছে তা প্রজ্ঞার পরিচায়ক না।
আর এ কারণেই – এবং আল্লাহই ভালো জানেন – আমি বিশ্বাস করি যে এর পেছনে আরো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। কারণ এরকম একটা কাজের প্রতিক্রিয়া কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা জানার পরও কোনো মুসলিম তা কীভাবে করতে পারে? আমি কেন আমার প্রতিবেশীকে আক্রমণ করব যখন আমি জানি সে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করবে? এটা আমি কেন করতে যাবো? তারা আমার স্ত্রী-সন্তানদের আক্রমণ করবে আর আমি আত্মগোপনে থাকব? এটার কোনো মানেই হয় না!
এর নেপথ্যে আরও মারাত্মক কিছু ঘটছে কিন্তু সেটা কি তা আল্লাহই ভালো জানেন। এখানে কিছু বিষয়াদি আছে যা আমাদের কাছে এখনও পুরোপুরিভাবে বোধগম্য না।
তবে এর সমাধান হিসেবে – আপনি উম্মাহর বর্তমান অবস্থা, এর দুর্বলতার কারণ এবং এর (গৌরব) পুনরুদ্ধারের উপায় সম্পর্কে আমাদের লেখা, এবং আমাদের আলিমদের লেখা বইপুস্তক/প্রবন্ধ, যা আমরা অনুবাদ করেছি সেগুলো পড়ুন। ইন শা আল্লাহ আমি আজ এটা টুইট করব, ইন শা আল্লাহ, এবং এই পরিস্থিতিতে – দীন শিক্ষা করা এবং উম্মাহকে সাহায্য করা – এটিই আমাদের করণীয়।
আর হ্যাঁ, আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম ভাইবোনসহ তাদের পরিবারগুলোকে অবশ্যই সাহায্য করতে হবে, যেমন চিকিৎসা, খাদ্য, আশ্রয়, অনুদানসহ সকল মানবিক অনুদান প্রেরণের (বৈধ) খাতে তাদেরকে সাহায্য করুন, আর এভাবেই সাহায্য করতে হবে – আর অবশ্যই তাদের জন্য দু‘আ করুন – এছাড়া আমাদের আর করণীয় নেই, বারাকাল্লাহু ফীকুম।
আপনি যদি উম্মাহর কল্যাণ চান, তাহলে এটিই একমাত্র উপায়। আপনাকে বিচক্ষণ হতে হবে, আপনার শত্রুর প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে তা আপনাকে জানতে হবে। বেসামরিক লোকজন ও নিরস্ত্রদের লক্ষ্যবস্তু বানানো মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ। শুধু নেতৃস্থানীয় শাসকবৃন্দ যুদ্ধের ঘোষণা দিতে পারেন – এভাবে বিশৃঙ্খল হত্যাযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয় না।
সুতরাং সুন্নাহ কী তা শিখুন এবং এর উপর আমল করুন। বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে বারাকাল্লাহু ফীকুম, এই উম্মাহর (প্রবীণ ও নেতৃস্থানীয়) আলেমদের কাছে বিষয়গুলো প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের সন্তান, ভাই ও বোনদের সাহায্য করার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যারা এই নৈরাজ্যের জন্য দায়ী নন বরঞ্চ তারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
যতবারই এই জুলুম-অত্যাচার আঘাত হানে আর অত্যাচারীরা আক্রমণ করে, নিরীহ মানুষজন ক্ষতিগ্রস্ত হয় – তাদের মসজিদ ও বাসস্থানগুলো উড়িয়ে দেওয়া হয়, তাদের স্কুল আর হাসপাতালগুলো ধ্বংস করা হয় এবং তাদের সন্তানরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিধন হতে থাকে। তাহলে বাস্তবে আদৌ কি কিছু অর্জিত হলো? এত্থেকে আপনি কী অর্জন করলেন? আমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থী।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন তাদেরকে সাহায্য করেন, তাদের প্রতি দয়া করেন, তাদেরকে হিদায়াত দেন, আমাদেরকে ক্ষমা করেন ও তাদেরকেও ক্ষমা করেন। আল্লাহ তা’আলা যেন বিশ্বের সর্বত্র মুসলিমদের সাহায্য করেন।
আর সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি জগৎসমূহের রব, এবং আল্লাহর শান্তি ও রহমত যেন বর্ষিত হয় আমাদের প্রিয় নবী, তাঁর পরিবার, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাদের সকলের উপর যারা কেয়ামত প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে ও একনিষ্ঠভাবে তাঁদের পথকে অনুসরণ করবেন।”
[১] আবূ দাঊদ (নং ৩৪৬২) আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন আস-সহীহাহ (নং ১১)
[২] উজূব আত-তা‘আউন বাইন আল-মুসলিমীন, (পৃ.৭-৮)
[৩] আল-হাররাস কর্তৃক শারহুন নূনিয়্যাহ (১/১২), আরও দেখুন ইবনু তাইমিয়্যাহ কর্তৃক আল-জাওয়াব আস-সাহীহ (১/২৩৭)
[৪] সূরাহ আল-রা’দ: ১১
[৫] আত্ব-ত্বাবারানী কর্তৃক আল-মু’জামুল কাবীর (২/১৫৫), আল-হাইসামি কর্তৃক আল-মাজমা’ আয-যাওয়াইদ (৮/২৬৬)। আলবানী আস-সিলসিলাহ আস-সহীহাহ (নং ১৮০৩) গ্রন্থে সহীহ বলেছেন।
[৬] এই বর্ণনাটি ইমাম মালিক থেকে প্রমাণিত। ক্বাদী ইয়াদ্ব এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। দেখুন: আশ-শিফা (১/৩৫৩, ২৭/১১৮)। সামান্য শব্দের পরিবর্তন করে আশ-শাতিবি এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। দেখুন আল-ই’তিসাম (১/১১১) ।
[৭] বুখারী ও মুসলিম।
[৮] বুখারী (নং ৩৬১২)
[৯] সূরাহ আন-নিসা: ১১৫
[১০] আবূ দাঊদ (নং ২৬৬২)
[১১] সূরাহ আলি-‘ইমরান: ১৬৫
[১২] আত-ত্ববাক্বাত (৩/৪৭৬)
[১৩]যা’দুল মা’আদ (পৃ. ৪০১), মু’আসসাসাহ আর-রিসালাহ সংস্করণ, বৈরুত, ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ/১৪৩০ হিজরী।
[১৪] দেখুন আল-বুখারী (নং ৩৯৮৬)
[১৫] আবূ দাঊদ (নং ৪২৯৭)
[১৬] সূরাহ আলি-‘ইমরান: ১০৪
[১৭] সূরাহ আলি-‘ইমরান: ১১০
[১৮]আত-তিরমিযী (নং ২৬৪২), আলবানী হাসান বলেছেন।
[১৯] মুসলিম (নং ১০৩৭)
[২০] আশ-শাতিবি আল-ই‘তিসাম, আন-নববী আল-মাজমূ (৮/২৭৫) এবং অন্যান্যরাও এটি উদ্ধৃত করেছেন।
[২১] https://bitly.ws/X8WY شريط بعنوان: إزالة الإلباس عما اشتبه في أذهان الناس
[২২] এই খুতবাহ থেকে সংগৃহীত: ইযালাতুল ইলবাস ‘আম্মা ইশতিবা ফী আযানুন-নাস। ‘আব্বাস আবূ ইয়াহইয়া-এর মূল প্রবন্ধ থেকে লেখক (আবূ খাদীজাহ) সংকলন করেছেন। https://followingthesunnah.com/in-the-history-of-the-bani-israeel/
[২৩] দেখুন https://binbaz.org.sa/fatwas/ – নং ৭৩০১
[২৪] মুসলিম (নং ১৪৫-৬), আত-তিরমিযী (নং ২৬২৯)
[২৫] সূরাহ আন-নাহল: ৩৬
[২৬] সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৫৯
[২৭] সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৬৫
[২৮] বুখারী (নং ৭৩৭২)
[২৯] সূরাহ আন-নূর: ৫৫
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket

















