الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وبعد
এই ওয়েবসাইটটি “দাজ্জাল” (চরম মিথ্যাবাদী), শয়তান, জিন এবং এর সাথে সম্পৃক্ত জাদুবিদ্যা ও রহস্যজনক অতিপ্রাকৃতিক জগৎ নিয়ে নির্মিত, এবং এর সাথে এমন সব প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি আছে যা আলোচনার দাবি রাখে। টেলিভিশন (এই পুরো নীল-নকশার) একটি অংশ, যা সহজ ভাষায় মগজধোলাই (ব্রেইনওয়াশিং) ও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (মনস্তাত্বিক পরিবর্তনের দ্বারা সামাজিক পরিবর্তন আনার কৌশল) একটি কার্যকরী মাধ্যম। টেলিভিশনের মাধ্যমে সবচেয়ে স্পষ্ট ও ভয়ংকর যে বার্তাটি প্রচার করা হয় তা হলো ‘পরিবারের বিলুপ্তিকরণ’ (অর্থাৎ এর সকল বন্ধনকে ছিন্নভিন্ন করে একে ধ্বংস করে ফেলা)। আপনাকে শুধু অ্যালডাস হাক্সলি, জুলিয়ান হাক্সলি, জর্জ বার্নাড শ, বার্ট্রান্ড রাসেল, চার্লস ডারউইন, এইচ. জি. ওয়েলসের মতো সুপ্রজননবাদী, ভণ্ড অহংকারী সমাজতান্ত্রিক, সাম্যবাদী, ও কট্টরপন্থি লোকদের ব্যাপারে অবহিত হতে হবে তবেই আপনি “পরিবারের স্বাভাবিক গঠন” – এর বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ সম্পর্ক জানতে পারবেন। টেলিভিশন হলো সেই পরিকল্পিত সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম।
এই প্রবন্ধটি গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির (শাইখ ‘আব্দুল্লাহ আল-গুদাইয়ান, শাইখ ‘আব্দুল্লাহ আল-মানী, শাইখ ‘আব্দুর-রাজ্জাক্ব আল-আফীফী) ফতোয়া নং ৮৯৩-এর কিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে, যা মানবজাতির মাঝে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের আহ্বানকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে (আর ইনশা- আল্লাহ্, আমরা অন্যান্য প্রবন্ধগুলোতে এই বিশেষ গোষ্ঠীর ব্যাপারে পৃথকভাবে কাজ করব):
ولكنها في حقيقتها ودخيلة أمرها دعوة إلى الإباحية والانحلال وعوامل هرج ومرج وتفكك في المجتمعات ، وانفصام لعرى الأمم ومعاول هدم وتقويض لصرح الشرائع ومكارم الأخلاق وإفساد وتخريب العمران
…কিন্তু বাস্তবে ও অভ্যন্তরে এ (আহ্বান) হলো স্বেচ্ছাচারিতা, অধঃপতন, বিশৃঙ্খলা, সামাজিক ভাঙন ও জাতিসমূহের ঐক্য বিনষ্ট করার আহ্বান; এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের ইমারত ধ্বংসকারী হাতিয়ার; এবং উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি ও সমৃদ্ধ সভ্যতার বিলুপ্তি …
বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে, আমরা আশা করছি যে, একজন মুসলিম হিসেবে আপনি জানেন যে টেলিভিশন কী জন্য ব্যবহৃত হয়, আর (যদি আপনার কাছে তা থেকে থাকে) তবে একে ইতোমধ্যেই পরিত্যাগ করেছেন। আপনি বুঝতে পেরেছেন যে, টেলিভিশনের মাধ্যমে যা কিছু প্রচার করা হয় এর বেশিরভাগই অপপ্রচার (প্রোপ্যাগান্ডা), বাজারজাতকরণ (মার্কেটিং), সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পরিবর্তন এবং মগজধোলাই (ব্রেইনওয়াশিং), আর আইনতভাবে টিভি নেটওয়ার্কগুলো সত্য প্রচারে বাধ্য নয় কারণ এগুলো ব্যক্তি-মালিকানাধীন – এবং আপনি টেলিভিশনের মাধ্যমে কী দেখবেন তা নির্ধারিত হয় এমন সব ব্যক্তিদের দ্বারা যাদের মূল্যবোধ কমবেশি আপনার মূল্যবোধের বিপরীত। যদি আপনি ইতোমধ্যেই এটুকু উপলব্ধি করে থাকেন, তাহলে অভিনন্দন, আপনি বিচক্ষণ এবং এই তথ্যটি সত্যিকারার্থে আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
যদি আপনি এমন মুসলিম হয়ে থাকেন যার বাড়িতে একটি টেলিভিশন আছে, তাহলে আমরা আল্লাহ্র ওয়াস্তে আপনাকে নসিহত করছি যে, আপনি এই টেলিভিশন থেকে নিজের ঘরকে মুক্ত করুন এবং আপনার সন্তানদেরকে ‘টেলিভিশনের অভিভাবকত্ব’ থেকে দূরে রাখুন কারণ এর দ্বারা আপনি তাদের জীবনের সামাজিক, নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন, আর আপনি তাদেরকে (শুধু) ‘বিনোদন’ দিচ্ছেন ভেবে প্রতারিত হচ্ছেন। আপনার অবগতির জন্য (জানানো হচ্ছে যে), আজ অমুসলিমদের মধ্যকার একটি সচেতন ও বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন বিরাট গোষ্ঠী টেলিভিশনের জালিয়াতি, ছলনা এবং তাদের ও তাদের সন্তানদের উপর এর কুপ্রভাব সম্পর্কে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন এবং তাদের ঘরগুলোকে এত্থেকে মুক্ত করছেন।
প্রথমে “প্রিডিক্টিভ প্রোগ্রামিং” বলতে কি বুঝানো হয় তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:
যখন আপনি কোনো সামাজিক পরিবর্তন আনতে চাইবেন, তখন আপনার নির্ধারিত দর্শকশ্রোতাকে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের সাথে পরিচিত করিয়ে তোলা (তুলনামূলক) সহজ হবে যদি তা পরোক্ষভাবে করা হয়। সিনেমা, সিটকম ও গানবাজনাকে মূলত ‘বিনোদন’ নাম দিয়ে তা প্রচার করা হয়। বিনোদনের মাধ্যমে আপনি মানুষকে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক নিয়ম বা কার্যাবলির সাথে পরিচিত করাতে পারবেন, কারণ তা (নাটক-সিনেমার) স্ক্রিপ্টের সাথে ওতপ্রোতভাবে জুড়ে থাকে, আর তা বিনোদনমূলক হওয়ায় আপনি ইতোমধ্যেই দর্শকশ্রোতাকে তা অবচেতনভাবে গ্রহণ করাতে সক্ষম হয়েছেন। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি কৌশল। কারণ এইভাবে আপনি যৌনতা, ব্যভিচার এমনকি অজাচার, ডাকাতি, সহিংসতার মতো যে কোনো কিছুকে সামাজিক প্রথা বা নিয়মে পরিণত করতে পারবেন। আপনি কেবল সুক্ষ্মভাবে নাটক বা গল্প তৈরি করবেন এবং সঠিক চরিত্র নির্বাচন করে এই সবকিছুকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারবেন। যদি আপনি মনে করেন যে, আপনি এই বাক্সের (টেলিভিশন) মাধ্যমে ‘বিনোদন’ গ্রহণ করছেন, তাহলে আপনি বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন। আপনি বিনোদনের ছদ্মবেশে ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ (নৈতিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধের পরিবর্তন) গ্রহণ করছেন এবং এটা ততটা ‘নির্দোষ’ নয় যতটা আপনি মনে করছেন – সমস্ত সামাজিক অনিষ্টতা ও নৈতিক অবক্ষয় হঠাৎ করে কোথাও থেকে আসে না, এগুলোর আরও গভীর কারণ ও উদ্দেশ্য থাকে, আর এগুলো অবশ্যই কোথাও না কোথাও থেকে আসে।
অপসংস্কৃতি প্রচলন:
সত্যিকারের সংস্কৃতি সবসময় গোড়া থেকে (সমাজের নিচু থেকে উঁচু শ্রেণির দিকে) প্রসারিত হয়, এটি সবসময় সমাজের মানুষকে দিয়েই শুরু হয়, এরপর তা বিকশিত হয় ও ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বীকৃত রীতিনীতি হয়ে ওঠে, এবং সেই সমাজকে তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম, শতসহস্র বা হাজার হাজার বছর ধরে ঐক্যবদ্ধ করে রাখে। (কিন্তু) আধুনিক যুগে সমস্ত সংস্কৃতিই কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়। এটি সম্পূর্ণরূপে সমাজের উচ্চশ্রেণি থেকে শুরু করে নিম্নশ্রেণি পর্যন্ত জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা মূলত একটি কৃত্রিম, বানোয়াট সংস্কৃতি। ইতিহাস দেখলে বুঝা যায় যে, প্রকৃত সংস্কৃতি মানুষ ও সমাজকে (সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে উপরের শ্রেণির মানুষকে) ঐক্যবদ্ধ করে রাখে। বিংশ শতাব্দীতে সিনেমা, গানবাজনা, উপন্যাসের মাধ্যমে যে কৃত্রিম, শিল্পজাত সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তা সমাজ ও পরিবারগুলোকে ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। “কালচার ক্রিয়েশন” বা “অপসংস্কৃতির প্রচলন” বলতে আমরা একেই বুঝাই। আপনি একটি কৃত্রিম, মিথ্যা সংস্কৃতি তৈরি করলেন এবং বিশ্বের বাকি অংশে তা রপ্তানি করলেন এবং এই কৃত্রিম সংস্কৃতির মাধ্যমে আপনার সমাজতান্ত্রিক উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করলেন। আপনি (এর মাধ্যমে) পারিবারিক বন্ধনগুলোকে (স্বামী-স্ত্রী, পিতামাতা-সন্তানদের সম্পর্ক) ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং সমস্ত নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটাতে পারেন, সহিংসতা, লোভ, আত্মকেন্দ্রিকতার মতো (সামাজিক) প্রথার প্রসার ঘটাতে পারেন। তাই, “কালচার ক্রিয়েশন” বা “অপসংস্কৃতির প্রচলন” অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তা টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
তাই, আমাদেরকে প্রিডিক্টিভ প্রোগ্রামিং এবং ‘অপসংস্কৃতির প্রচলন’ (কালচার ক্রিয়েশন) সম্পর্কে সচেতন হতে হবে কারণ এসবকিছুই আমাদের চারপাশে ঘটছে আর এটা একটা ভুয়া বাস্তবতা যার মাধ্যমে ঘরে ঘরে – জাতি ও সমাজগুলোর মগজধোলাই (ব্রেইনওয়াশিং) চলছে, যার মাধ্যমে আপনার সন্তানদের একটি (কৃত্রিম) সংস্কৃতি, দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাচেতনা প্রদান করা হচ্ছে, যেগুলো থেকে এখন কিছু আপনার জন্য বর্ণনা করা হবে…
শিশু, পরিবার ও সমাজ ধ্বংসকরণে টেলিভিশনের ভূমিকা সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত বিবরণ
এখানে আমরা কিছু প্রধান দিকগুলোর ব্যাপারে উল্লেখ করব:
যত অল্প বয়স থেকে সম্ভব শিশুদের যৌনায়ন শুরু করা:
টেলিভিশনের ভূমিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শিশুদেরকে ছোটবেলা থেকেই যৌনতার সংস্পর্শে নিয়ে আসা। এসব লোকেরা কয়েক দশকের দীর্ঘ গবেষণা থেকে এটা জানে যে, অল্প বয়সে যৌন মিলন ও যৌনাচার পরবর্তী জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ও অর্থবহ সম্পর্ক গড়া ও তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অক্ষমতা তৈরি করে। অন্য কথায়, এটি সকল “সামাজিক বন্ধন” ধ্বংস করে ফেলে। একারণে আপনি টেলিভিশন প্রোগ্রামগুলোতে শিশুদের ক্রমাগত যৌনায়ন দেখতে পাচ্ছেন এবং এতে গান-বাজনার পাশাপাশি কার্টুন ও চলচ্চিত্রও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটা প্রমাণিত যে, যৌনতার প্রতি আগ্রহকে উদ্দীপিত করার জন্য কার্টুনগুলোতে সুপ্ত (subliminal message) বার্তা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষভাবে সঙ্গীত শিল্পীদেরকে খুব অল্প বয়সে বাছাই করা হয়, মেগা পপ-স্টার হওয়ার জন্য পরিচর্যা ও তৈরি করা হয়, যাদেরকে শিশুরা (তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতি অনুযায়ী) আদর্শ মনে করে রোলমডেল হিসেবে গ্রহণ করে। এসব লোকের জীবনযাত্রাকে টিভির মাধ্যমে গুরুত্ব দেওয়া হয়, এসব লোকেরা প্রতিবছর তাদের জীবনসঙ্গী পরিবর্তন করে এবং তুচ্ছ নৈতিকতা সম্পন্ন জীবনযাপন করে। সামাজিক অ্যাজেন্ডাগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সঙ্গীত শিল্পীরা (তাদের) একটি আদর্শ মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হয়। (গান-বাজনার) প্রত্যেক ঘরনাতেই পপ-স্টাররা থাকে, যারা কেবল দাবার গুটি বা সৈন্যের মতো, যাদেরকে এক নির্দিষ্ট সামাজিক রীতি বা নিয়মকে (জনসাধারণের মাঝে) প্রসারের লক্ষ্যে ব্যবহার করা হয়। যৌনতার সাথে এই অসম সংস্পর্শের ফলে, তাদের বয়স যখন ১৩ বা ১৪ অথবা তার চেয়েও কম থাকে, সে শিশুদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে এমন সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় যা একটি স্বাভাবিক সমাজে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে তার ৪০ বছর বয়সেও মুখোমুখি হতে হয় না। এইভাবে, মাত্র ১৪ বছর বা তারও কম বয়সে, এসব শিশুরা বিষাদগ্রস্ত ও জীবনের প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠে, যাদের কোনো লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকে না, একমাত্র যেই জিনিসটি তাদেরকে চালিত করে তা হলো আরও বেশি উত্তেজনা ও আমোদপ্রমোদের আকাঙ্ক্ষা। স্কুলগুলোতে “সেক্স এডুকেশন” বা “যৌন শিক্ষা”-এর অংশ হিসেবে শিশুদেরকে সাত (হ্যাঁ, সাত!) বছর বয়স থেকে স্পষ্ট যৌনমিলনের কার্টুন দেখানো হচ্ছে। যেমনটি আমরা পূর্বে বলেছি, সমস্ত গবেষণা থেকে জানা যায় যে, অল্প বয়সে যৌন কার্যকলাপ ও অশ্লীলতা পরবর্তী জীবনে দীর্ঘমেয়াদি “বন্ধন” গঠন করার ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়।
নারী ও পুরুষের মধ্যকার পার্থক্য ধ্বংস করা – লিঙ্গ বিভ্রান্তি:
সামাজিকভাবে মতদীক্ষিত (socially engineered) করার একটি অন্যতম ও নিরলস প্রক্রিয়া হলো লিঙ্গ পার্থক্যের বিষয়টিকে শিশুদের কাছে অস্পষ্ট করে তোলা। টেলিভিশন কেবল এটি প্রচার করার একটি মাধ্যম আর ফ্যাশন, গানবাজনা, সিনেমা ও সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ (থিঙ্ক-ট্যাঙ্করা) যারা দেশগুলোতে (বিভিন্ন) নীতিমালা চাপিয়ে দেয়, তারা এসব বিভ্রান্তি বা মিথ্যা ধারণাগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কার্টুন, শিশুদের প্রোগ্রাম, সিটকম, চলচ্চিত্র (সব ‘বিনোদন’)-ই পুরুষত্ব ও নারীত্বের স্পষ্ট পার্থক্যগুলোকে অস্পষ্ট ও নষ্ট করার জন্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা হাজার হাজার বছর ধরে সব সংস্কৃতি ও সভ্যতায় স্পষ্টভাবে সঙ্গায়িত করা হয়েছে এবং যা সুদীর্ঘকাল ধরে অর্থবহ সম্পর্ক ও স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্যে সমন্বিত ও নিখুঁতভাবে কাজ করেছে। (আজকের) শিশুরা কয়েক দশকের মধ্যে (আগামীর ভবিষ্যৎ) সমাজ গড়বে। তাই, এই শিশুরাই হলো “সব বন্ধন” ধ্বংস করার আদর্শ ও উৎকৃষ্ট লক্ষ্যবস্তু যা স্বাভাবিক ও স্থায়ী পারিবারিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন পড়ে, আর এটিই মূলত সামাজিক নৈতিকতার ভিত্তি।
বাবা-মায়ের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা বা তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন করে তোলা:
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অন্যতম প্রধান দিক যার জন্য টেলিভিশন মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। প্রধান চলচ্চিত্র নির্মাণ কেন্দ্রগুলো এবং কিছু নির্দিষ্ট ঘরনার গানবাজনার মাধ্যমে এমন কিছু বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয় যার কারণে বাবা-মায়ের প্রতি ঘৃণা জন্মায়। সবচেয়ে ভালো স্থিতিশীলভাবে বেড়ে ওঠা শিশু হলো তারা যারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বয়সের মানুষের সংস্পর্শে থাকে, তারা (অবাস্তব বিষয়ের মধ্যে) আবদ্ধ থাকে না এবং বাস্তবতা সম্পর্কে একটি বিকৃত ও অসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গঠন করে না, এ শিশুরা সবসময় পারিবারিক মূল্যবোধ আর ঐ “বন্ধন” ধরে রাখে যা সমাজকে একত্রিত করে রাখে। বাবা-মা বা প্রবীণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ প্রজন্মের সাথে যোগাযোগ ও “বন্ধন” বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে – তাদের প্রতি অসন্তুষ্টি জ্ঞাপন ও তাদেরকে ঘৃণা করার জন্য মগজধোলাই (ব্রেইনওয়াশিং)-এর কথা বাদই দিলাম – সমাজ কয়েক প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সামঞ্জস্যতা হারিয়ে ফেলে। ফলে তরুণরা বয়স্কদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং এর ফলে বয়োজ্যেষ্ঠদের ভিতর যে নৈতিক মূল্যবোধ ছিল তা তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছায় না। বিশ শতকের প্রথম বা গোড়ার দিকে শিশুদের লক্ষ্য করে বানানো বিখ্যাত ও জনপ্রিয় কার্টুনগুলোতে (বিশেষ করে ডিজনির কার্টুনগুলোতে) তারা একটি নির্দিষ্ট ফরমুলা বা ধারা অনুসরণ করে। এটি এমন একটি বৈজ্ঞানিক সূত্র, যা নিখুঁতভাবে কাজ করে। এসব কার্টুনের বেশিরভাগগুলোতে দেখা যায় যে, প্রধান চরিত্রটি সবসময় তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং সাধারণত তাকে এতিম হিসেবে দেখানো হয়। এভাবে বাবা-মা (বিশেষ করে মা)-এর সাথে বিচ্ছিন্নতা অনেক গল্পের কাহিনীতেই একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। (এসব কার্টুনে) প্রায়শই মা’কে খারাপ, নিপীড়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয় বা এর (প্রধান চরিত্রে) একটি ‘খারাপ সৎমা’ থাকে। এগুলোতে মাতৃত্বের উপস্থিতি থাকে না। এসব কার্টুনের শুরুতেই খুবই মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা দেখানো হয় যেমন খুবই নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে বাবা-মা উভয় অথবা যেকোনো একজনের মৃত্যু। এই দৃশ্যগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে খুবই আবেগঘন ও মর্মস্পর্শী করে তৈরি করা হয়। শিশুরা যখন এসব জিনিস দেখে তখন এটি সত্যিকারার্থেই তাদের (মানসিকভাবে) আঘাত করে। এই মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও বিপর্যস্ত অবস্থায়, চলচ্চিত্র বা কার্টুনের বাকি অংশে যা দেখানো হয়, তার মাধ্যমে যে কোনো মূল্যবোধ বা বার্তা ঢুকিয়ে দেয়া সহজ হয়। বাচ্চারা অবচেতন মনে নিজেদেরকে সেই চরিত্র বা তার পরিস্থিতিতে রেখে কল্পনা করে। তারপর চরিত্রটি যা অনুভব করে এবং যেসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, সেই সবকিছুই কার্টুনটি দেখতে থাকা (মানসিকভাবে বিপর্যস্ত) শিশুটির অবচেতন মনে গিয়ে জমা হয়। এটি সত্যিই একটি গুরুতর বিষয়, তবে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যাক, আপনি যদি মনে করেন এগুলো শিশুদের জন্য সাধারণ কোনো কার্টুন তাহলে ভুল, মহাভুলের মধ্যে আছেন। এসব কার্টুনগুলো অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার পর উদ্ভাবিত, যা বৈজ্ঞানিক সূত্র বা ধারার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
পিতামাতার ব্যাপারে এমন ধারণা তৈরি করা যে মূলত “তারা অপরাধী” আর পিতামাতারা তাদের সন্তানদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিস্বরূপ:
এটি টেলিভিশনের পাশাপাশি অন্যান্য উপায় ও মাধ্যমেও হয়ে থাকে। শিশু নির্যাতন ঘটে, তবে, বিরল, বিচ্ছিন্ন ও চরম পর্যায়ের ঘটনাগুলো (মানুষের) ধারণা পরিবর্তন ও পরিচালনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যার ফলে সমস্ত পিতামাতাকে অপরাধী ও তাদের সন্তানদের জন্য একটি গুরুতর হুমকি মনে করা হয়। এটি সিটকম ও সিনেমাগুলোতে এমনভাবে ঢুকানো হয়, যেখানে প্রতিটি গৃহে শিশু নির্যাতন চলছে বলে মনে করা হয় এবং এর মাধ্যমে শিশুদেরকে তাদের পিতামাতার প্রতি সন্দেহপ্রবণ হতে উৎসাহিত করা হয়। আমরা দেখতে পাই যে, সত্যিকার অর্থে নির্যাতন কি তা খুব ব্যাপকভাবে সংজ্ঞায়িত এবং টেলিভিশন পিতামাতা ও সন্তানদের মধ্যকার সত্যিকারের সম্পর্ককে (কার্টুন, চলচ্চিত্র ইত্যাদির মাধ্যমে) বিশ্বাস, আস্থা, ভালোবাসা, যত্ন ইত্যাদি (যা অধিকাংশ পরিবারে ঘটে) থেকে অবিশ্বাস, নির্যাতন, ঘৃণা ইত্যাদি (যা সাধারণ ধারণা হিসেবে প্রচার ও চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে)-এর দিকে পরিবর্তন ও বিকৃত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জাদু ও জাদুবিদ্যার চর্চা ও পরিচিতি (শয়তান ও জিনদের প্রবেশদ্বার):
এটি এমনিতেই অনেক বড় একটি প্রবন্ধ, কিন্তু এখানে এই বিষয়টি সম্পর্কে উল্লেখ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। জাদু ও জাদুবিদ্যার প্রতি শিশুদের ধারণাকে পরিবর্তন করার জন্য টেলিভিশন এবং এর পাশাপাশি গল্পের বইগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। একে মজার ও উত্তেজনাপূর্ণ আনন্দ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এবং একে স্বাভাবিক ও জীবনের অংশ করে তোলা হয়। আর যদি আপনি এটি না করেন, তাহলে আপনি নীরস, একঘেয়ে। যদি আপনি হ্যারি পটার না পড়েন, তাহলে আপনার মানসিক সমস্যা আছে এবং আপনার জীবন দুঃখময়। এই হলো সেই ধ্যানধারণার পরিবর্তন যা ডাইনি, জাদুকর, উইজার্ড ও তাদের মধ্যকার তরুণ বা বৃদ্ধের দ্বারা নির্বিশেষে – একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অভিনয়ের মাধ্যমে (চলচ্চিত্রে) চিত্রিত করে দশকের পর দশক ধরে চলছে। জাদু হলো ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে শয়তানের ব্যবহার আর শয়তান কখনোই মানুষের আনুগত্য করে না যে পর্যন্ত না মানুষ কুফরী করে এবং দীন, কিতাব ও নবুওয়াতের অবমাননা করে। এই বাধা ভেঙ্গে দেওয়া এবং শিশুদেরকে জাদু ও জাদুবিদ্যার প্রতি প্রলুব্ধ করা তাদেরকে জাদুর প্রভাবের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। এটা বিস্তারিত আলোচনা করার জায়গা নয়, কিন্তু হলিউড, ডিজনি এবং রেকর্ড লেবেলগুলোর বেশিরভাগ সিনেমা ও গান কাব্বালিস্টিক, গুপ্ত জাদুবিদ্যার সংকেত বা প্রতীক বহন করে। তারা গানের মধ্যে মন্ত্র ঢুকিয়ে দেয় এবং এই বিষয়ে আমাদের কাছে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অডিও রেকর্ডিংয়ের প্রমাণ রয়েছে যারা এক সময়ে এই ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে ছিলেন। অন্য এক প্রবন্ধে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
জ্ঞানবুদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তার মান হ্রাস পাওয়া:
টেলিভিশনের অন্যতম প্রধান ভূমিকা হলো বুদ্ধিমত্তা হ্রাস করা এবং গঠনমূলক বা বিশ্লেষণমূলক চিন্তাভাবনা, প্রশ্ন উত্থাপন করা, মূল্যায়ন করার ক্ষমতা এবং বাস্তবিক জ্ঞান অর্জনের পথকে অবরুদ্ধ করা। সমাজতান্ত্রিক কট্টরপন্থি বুদ্ধিজীবীরা তাদের বইয়ে লিখেছেন যে, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমরা এখন শিল্পোত্তর যুগে বাস করছি। অসাধারণ দক্ষতা এবং স্বয়ংক্রিয়করণ (automation) ইত্যাদি আমাদের শিল্পযুগ থেকে বের করে এনেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখাই পরিমার্জিত ও নিখুঁত করা হয়েছে। সমাজের জন্য বিপুলসংখ্যক চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী বা যারা গঠনমূলক বা বিশ্লেষণমূলক চিন্তাভাবনা করতে পারে এরকম লোকের প্রয়োজন নেই। আমাদের শুধু পরিচালনাযোগ্য এমন কিছু লোকের প্রয়োজন যাদেরকে এমন প্রোটোকল ও রুটিন অনুসারে (শিল্প-বিজ্ঞানে) চিন্তা ও কাজ করতে প্রশিক্ষিত করানো যেতে পারে, যা ইতোমধ্যেই নিখুঁত বা পরিমার্জিত করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্য (বাস্তবায়নের জন্য) সিনেমা, সিটকম, গান, কার্টুন হলো প্রচার-প্রচারণার মাধ্যম শুধু এবং আমরা এটি শিক্ষাক্ষেত্রেও দেখতে পাই, বাস্তবিক তথ্য শেখানোর চেয়ে ফলাফল ভিত্তিক শিক্ষা (outcome based education) এর দিকে একটি পরিবর্তন হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে মনোভাব, উপলব্ধি ও নৈতিকতার পরিবর্তন (ছাড়া আর কিছুই না)। দেখুন, আবারও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং! বাস্তবিক তথ্য দিয়ে নিজ বিচারক্ষমতাকে (অর্থাৎ আক্বল)-কে কাজে লাগানোর চেয়ে ‘অনুভূতি’ ও ‘মনোভাব’ (প্রবৃত্তি বা খেয়ালখুশি চর্চা করাকে) প্রাধান্য দেওয়া হয়। এখন সেসব (তথাকথিত) অভিজাত, কট্টরপন্থি সমাজতান্ত্রিক, স্ব-সাধুম্মন্য কমিউনিস্টদের একজন অ্যালডাস হাক্সলি তার বই ‘The Devils of Loudon’ (১৯৫২) এ গানবাজনা ও সঙ্গীত সম্পর্কে কি বলেছেন তা পড়ুন:
লম্বা সময় ধরে ড্রামের আওয়াজ ও গানবাজনার মধ্যে থাকলে, আমাদের সব চিন্তাবিদ-দার্শনিকরাও বর্বরদের সাথে লাফালাফি ও চিৎকার করতে শুরু করবে। একদল পুরুষ ও নারী একসাথে জড়ো করুন, তাদেরকে বিকট আওয়াজে ব্যান্ড মিউজিক ও তীব্র আলোর ঝলকানি দিয়ে আনন্দ দিন, আপনি নিমিষেই তাদেরকে কাণ্ডজ্ঞানহীন অমানুষের পর্যায় নামিয়ে আনতে পারবেন। এর আগে কখনো এতো কম সংখ্যক মানুষেরা এতো বেশি সংখ্যক মানুষকে বোকা, উন্মাদ, অপরাধী বানানোর অবস্থানে ছিল না।
এখানে সে ‘দার্শনিকদের’ কথা বলছে, অর্থাৎ যারা (তার ধারণামতে) শিক্ষিত পরিশীলিত মানুষ, গড়পড়তা মানুষ বা শিশুদের কথা বাদই দিন। কাণ্ডজ্ঞানহীন উন্মাদনা, গানবাজনা, গানের অর্থহীন কথা ও তালের ক্রমাগত ছন্দ, এবং (সিনেমা ও কার্টুনগুলোর) নির্বোধ চরিত্রগুলোকে অর্থবহ করে তোলা আর অন্যান্য অর্থহীন পচা জিনিসগুলো শিশুদের গঠনমূলক চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ককে কাজে লাগানোর ক্ষমতাকে অকার্যকর করে তোলে। তারা চিন্তাভাবনা, স্লোগান আর ছন্দের নতুন উপায় গ্রহণ করে, যা তাদের চরম নির্বোধ ছাড়া আর কিছুই বানায় না। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে যখন সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এতো ব্যাপক পরিসরে শুরু হয়নি তখন যদি কোনো শিশু একটু ভিন্নরকমের আচরণ করত, তবে তাকে নির্বোধ বলা হতো এবং কোনো শিশুকে নির্বোধ বলাটা স্বাভাবিক ছিল। কারণ সেসময় নিয়ম, মূল্যবোধ, মানদণ্ড ইত্যাদি ছিল। যদি আজ আপনি একই মানদণ্ডে কোনো অভিভাবককে বলেন, ‘আপনার একটি নির্বোধ সন্তান আছে’, তাহলে তারা বিক্ষুব্ধ হবেন। বুদ্ধিমত্তা হ্রাসের প্রমাণ হিসেবে, আজ থেকে ১০০ বছর আগের ইংরেজি, ইতিহাস বা গণিতের মানসম্মত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রগুলো দেখুন (যদি আপনি সেগুলো খুঁজে পান) এবং সেগুলোকে আজকের দিনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সাথে তুলনা করুন। (বর্তমান সময়ে) বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত ৪০ বছর বয়সী ডিগ্রিধারী ব্যক্তিও এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হিমশিম খাবেন।
সারমর্ম:
আমরা শিশুদের এই ধরনের মগজধোলাইয়ের প্রধান ফলাফলগুলোর সারসংক্ষেপ করতে পারি, তা হলো টেলিভিশনের (গানবাজনা, চলচ্চিত্র, অনুষ্ঠান, সিটকমের) মাধ্যমে যেসব প্রধান বার্তা বিভিন্ন স্তরে সূক্ষ্মতার সহিত শিশুদের কাছে পৌঁছানো হয়, তার মধ্যে:
- ছোটবেলা থেকে তোমার যৌনতা সম্পর্কে সচেতন ও সক্রিয় হও (এখন ১০ বছর বয়সীদের জন্য মিনি-কনডম রয়েছে এবং ছোট মেয়েদের সংক্রামক রোগ হতে রক্ষা করার জন্য ইনোকুলেশন বা টিকা রয়েছে, এবং আপনি নিরাপদে এসব কাজ করতে পারছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে “সামাজিক সহায়তা” ও পাচ্ছেন।)
- “পুরুষত্ব” বা “নারীত্ব” বলে কিছু নেই, প্রত্যেকেই মূলত এক। এছাড়াও, পুরুষের সাথে পুরুষের এবং মহিলার সাথে মহিলার সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, এবং এটি ব্যক্তির পছন্দের উপর নির্ভর করে, এতে কোনও নিষেধ নেই এবং যেকোনো উপায়ে আনন্দ লাভ করা একটি ভালো জিনিস। এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই যা কাউকে “পুরুষ” বানায় এবং এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই যা কাউকে “নারী” বানায়।
- তোমার বাবা-মা তোমাকে এমনিতেই ত্যাগ করবে আর তাদের তোমার কোনো প্রয়োজন নেই। ছোট মেয়েদেরকে নারীত্বের দিকে পরিচালিত করতে মায়েদের কোনো প্রয়োজন নেই, ছেলেদের রোলমডেল হিসেবে তাদের বাবাদের কোনো প্রয়োজন নেই, তুমি মা-বাবাকে ছাড়াই ভালো থাকতে পারবে। এছাড়াও, তুমি পুরোপুরিভাবে তোমার বাবা-মাকে বিশ্বাস করতে পারো না, তারা তোমার ক্ষতি করতে পারে বা তোমাকে নিপীড়ন করতে পারে।
- জাদু এবং জাদুবিদ্যা একটি স্বাভাবিক, ক্ষতিহীন ও মজার জিনিস যার সাথে জড়িত হতে হবে, এবং প্রত্যেক শিশুকে এতে অংশগ্রহণ করতে হবে।
- মনোভাব, মতামত, আবেগ ও অনুভূতি হলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি তুমি নমনীয় হও যে খুব দ্রুতই মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে, তাহলে তুমি একজন ভালো শিশু। বাস্তবতা বিবেচনা করে মূল্যবোধ গঠন করা আর সে অনুযায়ী কাজ করা আর বাস্তবিক তথ্যানুসারে গঠনমূলক চিন্তাভাবনা ও বিচারক্ষমতার প্রয়োগ শুধু অদ্ভুত মানুষেরই কাজ।
আপনি দেখতেই পাচ্ছেন, এ সবকিছুই সমাজ ধ্বংসের কারণ এবং পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতে আপনি সমাজগুলোর ভাঙন এবং তাদের জনসংখ্যার হ্রাস দেখতে পাচ্ছেন কারণ সমাজগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত, অধঃপতিত এবং কেউই এমন হারে সন্তান গ্রহণ করছে না যা (পশ্চিমা জাতি ও রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে) জনসংখ্যাকে বজায় রাখবে। এখন, টেলিভিশন, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এ সম্পর্কিত বিষয়ে আমাদের আরও অনেক কিছুই বলার আছে, তবে আমরা এখানেই নিবন্ধটি শেষ করব এবং এই মুহূর্তে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোও স্পষ্ট করব:
অনেক উপকারী প্রোগ্রাম, ডকুমেন্টারি ইত্যাদি রয়েছে যা শিক্ষার ক্ষেত্রে উপকারী সহায়ক হিসাবে কাজ করতে পারে, তা ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞান (কুরআন, আরবি ইত্যাদি শেখা) হোক বা অন্যান্য ধরনের জ্ঞান যেমন গণিত, বিজ্ঞান বা ইতিহাস ইত্যাদি। আমরা নিয়ন্ত্রিতভাবে রেকর্ডকৃত মিডিয়া বা মিডিয়া সম্প্রচারের ব্যবহারকে অস্বীকার করি না, যা বাস্তবিক তথ্য শেখানোর ক্ষেত্রে কাজে লাগে [যা মনোভাব গঠন ও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিপরীত, যা টেলিভিশনের মুখ্য উদ্দেশ্য]।
মুসলিম আলেমরা এই বিষয়ে উল্লেখ করেছেন, যেমন শাইখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) তিনি বলেছেন যে টেলিভিশনে যা পাওয়া যায় তার ৯৯% জিনিসই নৈতিক অবক্ষয়, পাপাচার ও অপকর্ম। সুতরাং, এর উপকারিতা খুবই কম। এবং তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে একটি ন্যায়পরায়ণ মুসলিম রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে, (টেলিভিশনের মাধ্যমে) মুসলিমদেরকে (তাদের দীন সম্পর্কে) শিক্ষা দেওয়ার জন্য সত্যিকারের উপকারী বিষয়বস্তু প্রদান করা সম্ভব, এবং এই ক্ষেত্রে এই ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করা ঠিক হবে। অন্যান্য আলেম যেমন শাইখ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) ব্যাখ্যা করেছেন যে হারাম কোনো কিছুকে বাদ দিয়ে শুধু ভালো উদ্দেশ্যে টেলিভিশন ব্যবহার করা অত্যন্ত কঠিন হবে, কারণ যে প্রচুর পরিমাণ সম্প্রচার মাধ্যম বিদ্যমান, এর হারাম জিনিসগুলোকে সরিয়ে ফেলা অসম্ভব।
এটি একটি নিখুঁত বিদ্যা, এসব লোকেরা জানে তারা কি করছে
এখানে ‘স্যাবিডো মেথড’ সম্পর্কে লেখা একটি প্রবন্ধের কিছু অংশবিশেষ উল্লেখ করা হলো, এটি এমন এক পদ্ধতি যেখানে টেলিভিশন সিরিজের (টেলিনোভেল) চরিত্রগুলোর মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন আনা হয় যারা (প্রথমে) কাঙ্ক্ষিত সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধী (হিসেবে অভিনয় করে), তারপর সিরিজটিতে ধারাবাহিকভাবে তাদের চরিত্রের পরিবর্তন ঘটে যতক্ষণ না তারা অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সামাজিক পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়।
স্যাবিডো মেথড হলো রেডিও ও টেলিভিশনে ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ ও প্রযোজনার এক পদ্ধতি যা দর্শকদের মন জয় করার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধও শিক্ষা দেয়।
সমস্ত চলচ্চিত্র, সিটকম, নাটক, এমনকি গানবাজনাও, খুবই সতর্কতার সহিত পরিকল্পিত, এবং একটি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়, এবং বৈজ্ঞানিকভাবে নিখুঁত কিছু ফরমুলা রয়েছে, যেগুলো আচরণ গঠন এবং সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জন্য ব্যবহৃত হয়।
এই বিনোদন-শিক্ষামূলক পরিকল্পনাটি উদ্ভাবক মিগুয়েল স্যাবিডোর নামে নামকরণকৃত, স্যাবিডো মেথড চরিত্র তৈরিকরণ ও ঘটনার গতিপ্রেক্ষিতের উপর ভিত্তি করে বানানো, যা দর্শকদের বিভিন্ন ধরনের চরিত্রের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয় - (যাদের) কেউ ভালো, কেউবা ততটা ভালো নয় - এবং তাদের বিবর্তন ও পরিবর্তনটি তারা (দর্শকরা) অনুসরণ করে… পরিবর্তন হলো স্যাবিডো পদ্ধতির মূল চাবিকাঠি। উদ্দেশ্যেকৃত বার্তার ঠিক বিপরীত মূল্যবোধগুলো প্রদর্শনের মাধ্যমে চরিত্রগুলো সিরিজটি আরম্ভ করতে পারে, কিন্তু অন্যান্য চরিত্রের মাঝে যোগসূত্র স্থাপন, ঘটনার মোড় পরিবর্তন এবং কখনও কখনও বহিরাগত হস্তক্ষেপ এই চরিত্রগুলোর মাঝে সিরিজের অন্তর্নিহিত বার্তাটি স্পষ্ট করে তুলে…এটি নিঃসন্দেহে (গল্পের) চরিত্রগুলোকে বিকশিত করার অতি পুরাতন সাহিত্যিক কৌশল, কিন্তু মিগুয়েল স্যাবিডো টেলিভিশনের জন্য এই প্রক্রিয়াটি এতোটা চতুরতার সহিত তৈরি করেছিলেন যে, তা যৌনাচার, গর্ভপাত, পরিবার পরিকল্পনা, এইডস ইত্যাদির মতো অতি স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকেও মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছিল।
আমরা যে আর্টিকেল থেকে উদ্ধৃত করছি, তা মেক্সিকো ও সেখানকার জনসংখ্যা, সাক্ষরতা ইত্যাদির উপর এই পদ্ধতিটির ইতিবাচক প্রভাব দেখানোর জন্য লেখা হয়েছে। তবে এখানে যে ব্যাপারটি লক্ষণীয় তা হলো এমন কিছু সূত্রের ব্যবহার যেগুলো ধ্যানধারণা, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও আচার-ব্যবহারে পরিবর্তন আনতে অত্যন্ত কার্যকর, এবং এগুলোই জনগণের (যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বসে টিভি দেখে) উপর প্রয়োগ করা হয়।
১৯৭৭ থেকে ১৯৮৬ এর দশকে, যখন এই মেক্সিকান সোপ অপেরাগুলো (এক ধরনের টিভি সিরিজ) সম্প্রচারিত হচ্ছিল, তখন দেশটি তার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৩৪% হ্রাস পেয়েছে বলে রেকর্ড করেছিল। এবং এর ফলস্বরূপ, ১৯৮৬ সালের মে মাসে, বিশ্বে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অন্যতম উদাহরণ হিসেবে মেক্সিকোকে United Nations Population Prize দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছিল।
তারা এসব “টেলিনোভেলের” মাধ্যমে “পরিবার পরিকল্পনাকে” উৎসাহিত করেছিল এবং তা মেক্সিকোর জন্য একটি সাফল্য হিসেবে দেখেছিল। এখানে মূল বিষয়টি হলো, যখন আপনি এই ধরনের পদ্ধতির অন্তর্নিহিত শক্তি সম্পর্কে চিন্তা করবেন, তখন আপনি বুঝতে পারবেন কীভাবে খুব সহজেই পুরো একটি সমাজের মতামত, মনোভাব, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ইত্যাদি একটি নির্দিষ্ট দিকে পরিচালনা করা যেতে পারে। এখন আপনি দেখতে পারছেন কীভাবে এই ‘প্রোগ্রামিং’ কাজ করে, এবং তারা টেলিভিশন আসারও বহু আগে রেডিও সম্প্রচারের যুগ ও বড়-পর্দার যুগ থেকেই এসব জানত, যা টেলিভিশন মূলধারার বিনোদন হয়ে বাড়িতে বাড়িতে আসারও আগের কথা। আর টেলিভিশনকে মূলত এই কারণেই ব্যবহার করা হয়, আর তা হলো “বিনোদনের মাধ্যমে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং“, কেবল বিনোদন নয়। আর পরিশেষে, এখানে একজন বিশিষ্ট মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শদাতা হ্যাল বেইকারের একটি উক্তি উদ্ধৃত করছি, যিনি প্রায় ৩০ বছর আগে বলেছিলেন:
“আমি সেই গোপন কৌশল সম্পর্কে জানি যেটা দিয়ে সাধারণ আমেরিকানকে আমি যা চাই তাই বিশ্বাস করাতে পারি। আমাকে কেবল টেলিভিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে দিন… আপনি টেলিভিশনে কিছু দেখান এবং তাই বাস্তবে পরিণত হয়। টিভি সেটের বাইরের জগৎ যদি (টিভিতে দেখানো) ছবিগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক হয়, লোকজন বাইরের জগৎকে পরিবর্তন করা শুরু করে যেন তা টিভি সেটে দেখানো ছবিগুলোর সাথে মানানসই হয়….
সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা
বিংশ শতাব্দী জুড়ে মিডিয়ার অগ্রগতি হয়েছে এবং তা টেলিগ্রাফ, রেডিও, টেলিভিশন, ডিশ-ক্যাবল এবং ইন্টারনেট থেকে সুপরিকল্পিতভাবে “সোশ্যাল মিডিয়ায়” (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে) রূপান্তরিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের কাছে নিমিষেই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। আচরণগত মনোবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে সমাজে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনা এর মূল উদ্দেশ্য। টেলিভিশন যেখানে একসাথে দেখা হতো, সেখানে, আজ সম্পূর্ণ গোপনে ও বিচ্ছিন্নভাবে, সীমাহীন মিডিয়া কন্টেন্ট প্রতিটি ব্যক্তির হাতের মুঠোয় পৌঁছে গেছে, অর্থাৎ আমরা টেলিভিশনের সাথে সম্পৃক্ত বিপদগুলোর ব্যাপারে যা যা উল্লেখ করেছি, তার ব্যাপ্তি, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে আরো বেড়ে গেছে, যারা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তিকরণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। সোশ্যাল মিডিয়া সত্যিকারার্থে “সোশ্যাল” নয়। বরং, এটি মস্তিষ্ককে খণ্ডবিখণ্ড করে দেয়, এমনকি পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সমাজকেও বিভক্ত করে ফেলে, আর সেই “কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাবিদদের” জন্য উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণের পথকে সুগম করে দেয় যারা পুনরায় সমাজকে পরিবর্তন করতে চায়।
সমাজে বিদ্যমান সকল অপকর্ম আজ অনলাইনে আনা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে, শিশুরা পশ্চিমা দেশগুলোর পুতুল সরকার (compromised governments), কর্পোরেশন এবং সংস্থাগুলোর বিভিন্ন মতাদর্শের দ্বারা মগজধোলাই (ব্রেইনওয়াশিং)-এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে, পৃথিবীর যেকোনো দু’টি মানুষের মাঝে সরাসরি যোগাযোগের পথকে খুলে দেওয়া হয়েছে যে কারণে তারা এখন হিংস্র ও ধোঁকাবাজ লোকদের উন্মুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এ কারণে, যদি কারও সন্তানদের কাছে স্মার্ট ফোন থাকে, সেক্ষেত্রে অভিভাবকদের উচিত সে সকল ডিভাইস, অ্যাকাউন্ট এবং কার্যকলাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। সর্বোত্তম নীতি হলো, অন্তত প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে এই বিশেষ ডিভাইসগুলো না দেওয়া।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr

















