Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ, লাভ ম্যারেজ ও জোরপূর্বক বিয়ে

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وبعد

উদ্দেশ্য: অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ, লাভ ম্যারেজ ও জোরপূর্বক বিয়ের প্রথাকে বিবেচনা করা ও ব্যাখ্যা করা। গতানুগতিক মুসলিম সমাজে ছেলে-মেয়েরা অবাধে মেলামেশা করে না, তাহলে তারা কীভাবে বিয়ে করে?

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ হলো এমন একটি বিয়ে যেখানে বাবা-মায়েরা তাদের ছেলে বা মেয়ে সন্তানের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সন্তানদেরই থাকে।

গতানুগতিক মুসলিম সমাজে ছেলেমেয়েরা অবাধে মেলামেশা করে না। যখন তাদের বিয়ের সময় হয়, তাদের বাবা-মা তাদের জন্য উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে বা একে অপরকে পরিচয় করিয়ে দিতে সাহায্য করেন। এটি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ হিসেবে পরিচিত। ভবিষ্যৎ দম্পতির পরিবারেরা একে অপরকে দীর্ঘদিন ধরে চিনতে পারে, তারা আত্মীয়ও হতে পারে আর এমনও হতে পারে যে তারা একে অপরকে চিনত না কিন্তু বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে, ছেলেমেয়েরা বড় হওয়ার সাথে সাথে এটি জানতে পারে যে, তাদের অভিভাবকেরা তাদের বিয়ে পূর্বপরিকল্পনা করে রেখেছেন। তবে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের অর্থ জোরপূর্বক বিয়ে নয়। কোনো ব্যক্তির সাথে বাবা-মায়েরা পরিচয় করিয়ে দিবেন বলেই তাকে বিয়ে করতে হবে বিষয়টি এমন নয়। অ্যারেঞ্জড ম্যারেজকে অনেক সময় ‘পরিচিতিমূলক বিয়ে’ বা ‘সহযোগিতামূলক বিয়ে’ বলা হয়, কারণ বাবা-মায়েরা কেবল তাদের সন্তানদের সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। তারা তাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেন না। তবে অনেক ক্ষেত্রে, ছেলেমেয়েরা নিজ থেকেই তাদের বাবা-মাকে কোনো সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর কথা ব্যক্ত করে; অথবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য বা আত্মীয়-স্বজনও কারও ব্যাপারে প্রস্তাব দিতে পারে। দীনদার মুসলিম পরিবার ছাড়াও বহু গতানুগতিক ইহুদি ও খ্রিষ্টান পরিবারেও বিষয়টি স্বাভাবিক। সুতরাং, অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ যে শুধু ইসলামই অনুমোদন করে এমনটি নয়; বরং এটি ঐসকল সমাজের চিরাচরিত প্রথা যেখানে পুরুষ ও নারী অবাধে মেলামেশা করে না। উল্লেখ্য যে, ইসলাম জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়াকে নিষিদ্ধ করেছে যেমনটি আমরা অন্যত্র আলোচনা করেছি, এবং ইসলাম জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়াকে এক প্রকার জুলুম হিসেবে দেখে এবং এটি বাতিলযোগ্য।

 

একটি ঘটনার পর্যালোচনা: উবায়দার বিয়ে

“উবায়দার বয়স তখন ১৮। তার চাচা তাকে (বিয়ে সংক্রান্ত) যেসব কথা বলেছিলেন সেগুলো সে বুঝতে পারছিল না কারণ সেগুলো ইংরেজিতে ছিল না আর সে খুব একটা উর্দু বলতে পারতো না, তাই তাকে যা বলা হয়েছিল সে তাই করেছিল আর এমন ব্যক্তিকে বিয়ে করার জন্য তার উপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল যাকে সে মোটেই বিয়ে করতে চায় নি। তাকে বলা হয়েছিল যে, তাকে বিয়ে করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এবং তার পরিবার তাকে ছেড়ে চলে যাবে, এবং তার সাথে কেউ থাকবে না – এবং যদি সে (এই বিয়ে) প্রত্যাখ্যান করে তবে সে তার পরিবারের মানহানি করবে। সে খুবই ভীত ছিল। পরে, তার খালা তাকে বললেন যে, সে এখন বিবাহিত এবং তাকে তার বাড়ি ছেড়ে তার স্বামীর সাথে থাকতে হবে। উবায়দার জন্য এটি খুবই কষ্টের দিন ছিল। মাস কয়েক অতিবাহিত হওয়ার পর উবায়দা একজন মুসলিম নারী হিসেবে তার অধিকার সম্পর্কে জানতে পারল।

ইসলাম এই ধরনের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে, যেমনটি উবায়দা পরে বুঝতে পেরেছিল। নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “পূর্বে বিয়ে হয়েছে (তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা) নারীকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেওয়া যাবে না আর কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।” তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “এবং তার (একজন লাজুক কুমারী মেয়ের) সম্মতি কীভাবে নেওয়া হবে?” তিনি উত্তরে বললেন: “তার নীরবতা দিয়ে।” (বুখারী ও মুসলিম) আলেম এবং ফাক্বীহ, শাইখ সালিহ আল-ফাওযান বলেছেন: “এই বর্ণনাটি প্রমাণ করে যে, কোনো নারীকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া যাবে না বা তাকে (বিয়েতে) বাধ্য করা যাবে না, হোক সে কুমারী বা (এমন নারী) যার পূর্বে বিয়ে হয়েছে।” এক্ষেত্রে তার “হ্যাঁ” বা “না” বলাই যথেষ্ট হবে।

অন্য বর্ণনায় আছে, “এক কুমারী মেয়ে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল যে, তার পিতা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বেছে নেওয়ার [হয় তার সাথে থাকার বা তাকে ছেড়ে যাওয়ার] অনুমতি দিলেন।” (আহমাদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) ইসলাম জোরপূর্বক বিয়ের অনুমোদন দেয় না। কিন্তু উবাইদা যখন জানতে পারলো তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। মানুষের উপর আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার সম্পর্কে জানা ও ইলম অর্জন করা দীন ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

জীবনসঙ্গী খোঁজার অন্যান্য উপায়:

বেশিরভাগ অমুসলিমদের বিয়ে অ্যারেঞ্জড বা পরিবারের সম্মতিতে হয় না – তবে আজ মুসলিম যুবসমাজও জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি অবলম্বন করা শুরু করেছে। তারা নিজ থেকে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খোঁজার চেষ্টা করছে যার ফলে অনেক যুবক-যুবতী ভুল মানুষটিকে বাছাই করছে কারণ সেখানে প্রবীণ, প্রাপ্তবয়স্ক ও বিচক্ষণ ব্যক্তিদের (যেমন বাবা-মা, দাদা-দাদি, চাচা, খালা ইত্যাদি) কোনো সম্পৃক্ততা থাকছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, প্রাথমিক আকর্ষণটি শারীরিক চাহিদা ও সম্পর্ক স্থাপনের তাড়না দিয়ে শুরু হয়, যে কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর চরিত্রকে মূল্যায়ন করা হয় না।

এজন্য (একটি অর্থবহ সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে) ব্যর্থতার হার অনেক বেশি কারণ জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে কোনো নৈতিক বা ধর্মীয় মাপকাঠি থাকে না আর পরিবার থেকে কোনো যাচাই-বাছাই থাকে না বললেই চলে। (বর্তমান সময়ে) প্রায়শই বাবা-মায়ের সম্পৃক্ততাকে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জীবনে অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। অভিভাবকরা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করতে চান, নিজেদের সম্পৃক্ত করতে চান এবং তাদের ছেলে ও বিশেষ করে, তাদের মেয়ে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও প্রেমময় সম্পর্কে প্রবেশ করতে যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে চান – কিন্তু আধুনিক পশ্চিমা সমাজে প্রশ্ন করা ও যাচাই-বাছাই করা খুব কমই ঘটে।

এই সমাজগুলোতে পরিবার ভেঙে যাওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। বাস্তবতা সহজেই বলা যায়: বর্তমান সময়ে আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু বিবাহ-বন্ধনের বাইরে জন্মগ্রহণ করে। বিবাহবিচ্ছেদ ও একক অভিভাবকত্ব জীবনযাপনের একটি ধরণ হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, দুই জৈবিক (বা দত্তক নেয় এমন) বাবা-মায়ের লালন-পালনে বেড়ে ওঠা শিশুরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো করে। তারা স্কুল ও উচ্চশিক্ষায় আরও ভালো করে, চাকরি ও অর্থনৈতিকভাবে আরও ভালো করে, ব্যক্তি পর্যায়ে আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলে। [১] তাই শুরু থেকেই সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা দম্পতিদের জন্য এবং সামগ্রিকভাবে একটি সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ – এবং এক্ষেত্রে (পরিবারের) সহযোগিতা নিয়ে (করা বিয়ে) বা অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ একটি দীর্ঘস্থায়ী, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও প্রেমময় সম্পর্ক নিশ্চিত করে এবং তা অনেক দূর এগিয়ে নেয়।

[সকল ধর্মের] বেশিরভাগ বাবা-মা চান না যে তাদের সন্তানরা “সঠিক কাউকে” খুঁজে পাওয়ার পূর্বে একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ুক! জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে এটি কোনো সৎ, নৈতিক, বা সুস্থ উপায় হতে পারে না। ব্রিটেনে প্রতি বছর যত বিয়ে হয় তার অধিকাংশই বিচ্ছেদে পরিণত হয় আর “বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড” সম্পর্কের ভাঙন তো আরো বেশি। এটি পরিবার, সমাজ বা সামগ্রিকভাবে জাতির জন্য কল্যাণকর নয় – আর শিশুরা এতে জড়িত থাকলে তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ২,৪৭,৩৭২ টি বিয়ে এবং ১,১১,১৬৯ টি বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। ৬২% তালাকের আবেদন নারীরা দায়ের করেছিল – তালাকের সাধারণ কারণ ছিল “অযাচিত আচরণ” যা পূর্বে ব্রিটিশ আইনে “নির্মমতা” নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫৮ সালে, তালাকের হার প্রতি ১,০০০ বিয়েতে ছিল ২টি। ২০০৪ সাল নাগাদ, প্রতি ১০০০ বিয়েতে তা বেড়ে হয়েছিল ১৩টি![২] এটি পরিবার-ভাঙনে এক বিশাল বৃদ্ধি। একবার সেই আঘাত, দুঃখ-বেদনার ব্যাপারে ভাবুন আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর এর স্থায়ী প্রভাব সম্পর্কে ভাবুন।

আমাদের এই সময়ে, তরুণ-তরুণীরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রে জীবনসঙ্গী খোঁজে। তারা পাব, ক্লাব এবং ডিস্কোতে মানুষের সাথে দেখা করে। তারা চ্যাট রুম বা অনলাইন ডেটিং এজেন্সি ব্যবহার করে – এসব কিছুই অভিভাবক বা পরিবারের সম্পৃক্ততা ছাড়াই ঘটে। এই পদ্ধতিগুলো বেশিরভাগই বিপজ্জনক, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য; আর এগুলো দীন অনুশীলনরত মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য কোনো বাস্তবসম্মত পন্থাও নয়।

তাই, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে (যারা বিয়ের জন্য প্রস্তুত) তাদের ও তাদের বাবা-মা ও পরিবারের মতামত সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ না লাভ ম্যারেজ?

একটি লাভ-ম্যাচ (বা লাভ ম্যারেজ) তখনই হয় যখন ছেলে এবং মেয়ে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে, প্রেমে পড়ে (যা সাধারণত শারীরিক সম্পর্কে গিয়ে গড়ায়), এবং এর ফলে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। সাধারণত পরিবারকে বাদ দিয়ে এটি ছেলে এবং মেয়ের নেওয়া একটি স্বাধীন সিদ্ধান্ত যা প্রায়শই কিছু সময় ‘লিভ টুগেদার’ করার পর নেওয়া হয়, যা বিয়ের মূল উদ্দেশ্যকে অনেকটাই ব্যর্থ করে দেয়, কারণ বিয়ের পূর্বে শারীরিক সম্পর্ক করা প্রধান ধর্মগুলোতে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

সাধারণত একটি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে, দুজনের মাঝে ভালোবাসা বিয়ের আগে না হয়ে পরে হয়। তারা যে ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চলেছেন তার সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবহিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বিয়ে করে না, তারা তাদের বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে দেখা করে এবং তারা একে অপরের জন্য উপযুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করে। এক কথায়, যদি দম্পতির ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, আগ্রহ, সৌন্দর্য, পরিবার ও শিক্ষার প্রেক্ষাপট ভালোভাবে মিলে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিয়ের সাথে সাথে ভালোবাসাও বৃদ্ধি পায়। তা এতটাই বেশি যে বিয়ের অনেক বছর পরও, তাদের স্নেহ, ভালোবাসা ও একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা বিয়ের প্রথম দিকের দিনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

লাভ ম্যাচ এবং অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ সম্পর্কে কিছু লোকের খুব স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। দীনদার মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, লাভ ম্যারেজের চেয়ে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে সফলতার সম্ভাবনা বেশি থাকে; অন্ততপক্ষে একারণে যে একটি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে উভয় পরিবারই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করে। আর পরিসংখ্যানও এর সত্যতা প্রমাণ করে।

 

আলোচনা পর্যালোচনা:

স্বামী বা স্ত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করা হয় এগুলোর সুবিধা-অসুবিধা কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

 

পর্যালোচনা:

নিম্নলিখিত উক্তিগুলো পড়ুন:
১. ‘আমার বাবা-মা আমাকে বোঝেন না; তারা ভালো কাউকে বাছাই করতে পারবেন না।’
২. ‘যদি আপনি কাউকে ভালো না বাসেন, তাহলে তাকে বিয়ে করবেন না।’
৩. ‘আমি ভেবেছিলাম সে আমাকে ভালোবাসে। বিয়ে করার আগে আমার মা তাকে ভালো করে জানতে বলেছিলেন। তিনি ঠিকই বলেছিলেন।’
৪. ‘আমি অ্যানকে বিয়ে করতে চাই। আমার জীবন আমার পছন্দ।’
৫. ‘আমার বাবা-মা আমাকে ভালোবাসেন এবং আমাকে সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারা আমার জন্য সত্যিই উপযুক্ত কাউকে খুঁজে বের করবেন আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি আমি নিব।’
৬. ‘আমার বাবা-মা আমার জীবনসঙ্গী নির্বাচন করবেন না, কিন্তু তারা আমাকে উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন। এরপর আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করব। যদি সে উপযুক্ত না হয়, তবে আমরা সন্ধান চালিয়ে যাব। উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পেতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’’

উপরোক্ত মন্তব্যগুলোর মাঝে কোন (মন্তব্যটি) এমন কেউ করবে যে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ বা সহযোগিতামূলক বিয়েকে সমর্থন করে? আপনার উত্তরটি ব্যাখ্যা করুন? এগুলোর মধ্যে সাধারণ কী যোগসূত্র রয়েছে? উপরোক্ত মন্তব্যগুলোর মাঝে কোন (মন্তব্যটি) এমন কেউ করবে যে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ বা সহযোগিতামূলক বিয়ের বিরোধী? আপনার উত্তরটি ব্যাখ্যা করুন? এগুলোর মধ্যে সাধারণ কী যোগসূত্র রয়েছে?

 

সারসংক্ষেপ:

এপর্যায়ে আপনার এটি ব্যাখ্যা করতে পারা উচিত যে, একটি অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ বা সহযোগিতামূলক বিয়ের ক্ষেত্রে, বাবা-মায়েরা তাদের ছেলে বা মেয়ের জন্য জীবনসঙ্গী বেছে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, কিন্তু তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করেন না। দীনদার মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, এগুলো লাভ-ম্যাচ বা লাভ ম্যারেজের চেয়ে অধিক সফলকাম।

 

বর্ধিত পর্যালোচনা:

‘তুমি বিয়ে করো, এরপর প্রেমে পড়ো।’

‘তুমি প্রেমে পড়ো, এরপর বিয়ে করো।’

‘কারও ভালো গুণাগুণ জানার পর তাকে দূর থেকে ভালোবাসা সম্ভব, বিয়ে কেবল সেই বন্ধনকে শক্তিশালী করে।’

‘বিয়ে কি অঙ্গীকার, দায়বদ্ধতা, সম্মান ও একসঙ্গে একটি পরিবার গড়ে তোলার নাম নয়? নিশ্চয়ই এসবই একটি বিয়েকে প্রেমময় করে তুলে, এবং এতে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বৃদ্ধি পায়।’

প্রতিটি উক্তি নিয়ে চিন্তা করুন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভাবুন, আপনি আপনার বিয়ে ও সুখ কীসের ভিত্তিতে গড়বেন? একটি তালিকা লিখুন।

 

ইসলামী শিক্ষা:

মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চরিত্র এবং তাক্বওয়া (আল্লাহভীরুতা) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যদি কেউ তোমাদের মেয়েকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দেয় আর তোমরা যদি তার চরিত্র ও দীনদারিতে সন্তুষ্ট হও, তাহলে তোমাদের মেয়েকে তার সাথে বিয়ে দাও।” তিনি আরও বলেছেন: “নারীকে ৪টি কারণে বিয়ে করা হয়: তার সৌন্দর্য, তার বংশমর্যাদা, তার সম্পদ ও তার দীনদারিতা। সুতরাং তুমি দীনদার নারীকে বিয়ে করো ও সফলকাম হও।

পাদটীকা:


[১] See “Family fragmentation: Can anything be done?” Washington Examiner, January 05, 2015
[২] See, “Divorces in England and Wales: 2015 Dissolutions and annulments of marriage by previous marital status, sex, age, fact proven and to whom granted.” Accessed from http://www.ons.gov.uk

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading