Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

শবে বরাতের তাৎপর্য কী? – ইবনু ‘উসাইমীন, বিন বায, ইবনু রজব, আলবানী, আত-তারতূশী, ইবনু ওয়াদ্দাহ

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وبعد

আল-‘আল্লামাহ ইবনু ‘উসাইমীন

শবে বরাত (অর্থাৎ ১৫ই শা‘বানের রাতে) কি বৈধ কোনো সুন্নাত আমল আছে? এক্ষেত্রে কিছু হাদীস উদ্ধৃত করা হয় যেগুলো মানুষেরা ব্যবহার করে।

“যা সঠিক তা হলো: মধ্য শা’বানের (শবে বরাতের) ফজিলত সংক্রান্ত যা কিছু উদ্ধৃত করা হয় সেসবই দুর্বল বর্ণনা – এবং সেগুলো প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। আর সেসবের মাঝে কিছু জাল বর্ণনা আছে। এছাড়াও, কোনো সাহাবী থেকে জানা যায় না যে, তাঁরা শবে বরাতের রাতকে সম্মান করতেন বা সৎ আমল সম্পাদনের জন্য একে বিশেষ একটি রাত হিসেবে গণ্য করতেন – অথবা নির্দিষ্ট করে এই দিনটিতে রোজা রাখতেন। যারা এই রাতকে উদযাপন করতেন তাদের বেশিরভাগই ছিলেন আশ-শাম (সিরিয়া)-এর লোক, এবং যে সকল তাবিয়ূন এই আমল করতেন তাঁরা নিঃসন্দেহে সাহাবা ছিলেন না। এছাড়াও, মক্কা ও মদীনার তাবিয়ূন তাদের তিরস্কার করতেন এবং এই বলে তাদের নিষেধ করতেন যে, সুস্পষ্ট ও প্রামাণিক দলিল ব্যতীত (কুরআন ও সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের আমল ব্যতীত) কোনো ঘটনাকে উদযাপন করা তোমাদের জন্য অনুমোদিত নয়। তাই মধ্য শা’বানের (শবে বরাতের) ব্যাপারে যা সঠিক তা হলো একে অন্যান্য রাতের মতোই গণ্য করতে হবে – রাতের নামাযের জন্য একে নির্দিষ্ট করবেন না এবং এর দিনটিকে রোজা রাখার জন্য নির্দিষ্ট করবেন না। তবে যে ব্যক্তি সাধারণত প্রতি রাতে ক্বিয়ামুল লাইল করেন তিনি যেন স্বাভাবিকভাবে নামায পড়েন এবং আমরা তাকে এটি বলব না যে, তিনি যেন নামায না পড়েন – এবং যে ব্যক্তি প্রতি মাসের মাঝামাঝি তিন দিন রোযা রাখেন তাকেও তাই করতে হবে। বরং, আমরা যা বলি তা হলো এই রাত বা দিনকে (‘ইবাদতের জন্য) নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে একে বিশেষ গুরুত্ব দিবেন না।

উৎস: আল-ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল ‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ), সামান্য সংক্ষেপিত। আরও দেখুন আল-ইমাম বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)।

ইমাম বিন বায

“ঐসকল বিদ‘আত যা কিছু লোকেরা প্রবর্তন করেছিল তার মধ্যে (অন্যতম) হলো মধ্য শা’বান (শবে বরাত) উদযাপন করার বিদ‘আত আর (সেই সাথে) তারা নির্দিষ্ট করে এই দিনটিতে রোজা রাখে। তবে, এই আমলের ভিত্তি হিসেবে তাদের কোনও প্রমাণ নেই। এর ফজিলত সম্পর্কিত কিছু দুর্বল বর্ণনা আছে তবে সেগুলোর উপর নির্ভর করা যাবে না কারণ সেগুলোকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুক্ত করা যাবে না। এবং যে সমস্ত বর্ণনায় এই রাতের নামাযের ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে সেগুলো জাল (মাওদূ’) যা অনেক আলিম সুস্পষ্ট করেছেন। এবং আমরা তাদের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করব, ইন-শা-আল্লাহ।

আমাদের কাছে আশ-শামের ‘উলামা হতে কতিপয় সালাফের বর্ণনা আছে আর তা হলো এই যে, অধিকাংশ আলিম যে বিষয়ে একমত তা হলো মধ্য শা’বান (শবে বরাত) উদযাপন করা বিদ‘আত – আর এ সংক্রান্ত ঐসকল হাদীস যেগুলো এর ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে সেগুলো দুর্বল এবং অন্যান্যগুলো জাল (মাওদূ’)। যে সকল ‘উলামারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন আল-হাফিয ইবনু রজব (রাহিমাহুল্লাহ) যিনি তাঁর লাতাইফ আল-মা‘আরিফ সহ অন্যত্র তা লিপিবদ্ধ করেছেন। যে কোনো আমলের ক্ষেত্রে যদি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নির্ভরযোগ্য ভিত্তি না থাকে তাহলে দুর্বল বর্ণনার উপর আমল করা যাবে না। মধ্য শা’বান (শবে বরাত) উদযাপনের ক্ষেত্রে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায় না যেটি আমরা দুর্বল হাদীসগুলোর ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। এই অসাধারণ নীতিটি শাইখুল ইসলাম আবুল ‘আব্বাস ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ব্যক্ত করেছেন।

অতীতের ‘উলামাগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ) সর্বসম্মতিক্রমে (ইজমা দ্বারা) ঐকমত্য হয়েছেন যে, লোকেরা যে বিষয়েই মতভেদ করুক না কেন তা সমাধানের জন্য কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যেতে হবে। আর যা কিছুই এই দুই বা এর একটির ভিত্তিতে অকাট্য বলে প্রমাণিত হবে, তবে তা শরঈ বিধান বলে বিবেচিত হবে যা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আর যা কিছু এর বিরোধিতা করবে তা একপাশে ফেলে দিতে হবে। আর এই দু’টি উৎস থেকে যা কিছু ইবাদত হিসেবে প্রমাণিত হবে না, তা বিদ‘আত এবং এর উপর আমল করা জায়েয নয়। আর মানুষকে এর প্রতি আহ্বান করা, একে সমর্থন করা বা একে প্রতিষ্ঠা করার তো প্রশ্নই উঠে না! মহান আল্লাহ বলেছেন:

يا أيها الذين ءامنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ذلك خير وأحسن تأويلا

“হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো ও রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মাঝে যারা কর্তৃত্বাধীন তাদের; অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হয় তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে থাকো; এটিই কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠতর পরিসমাপ্তি।” (আন-নিসা: ৫৯)

এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন:

وما اختلفتم فيه من شيء فحكمه إلى الله

“তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, এর সমাধান তো আল্লাহরই কাছে।” (আশ-শু’রা: ১০)

এবং তিনি আরও বলেছেন:

قل إن كنتم تحبون الله فاتبعوني يحببكم الله ويغفر لكم ذنوبكم

“আপনি বলুন: যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তাহলে আমার অনুসরণ করো, (তাহলেই কেবল) আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন ও তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন।” (আলি-‘ইমরান: ৩১)

আল-হাফিয ইবনু রজব (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর আল-লাতাইফ আল-মা‘আরিফ গ্রন্থে এই বিষয়ে বলেছেন: “আর মধ্য শা’বানের এই রাতে আশ-শামের (সিরিয়ার) কিছু তাবিয়ূন ‘ইবাদত করতেন। যেমন খালিদ বিন মা‘দান, মাকহুল, লুক্বমান বিন ‘আমির সহ অন্যান্যরা। এ রাতে তারা ‘ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতেন। আর তাদের কারণেই মানুষ এই রাতটি পুণ্যময় হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং তারা একে সম্মান করত। এবং বলা হতো যে, এ রাতকে তারা সম্মান করত কারণ ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের থেকে কিছু বর্ণনা (ইসরাঈলীয় রেওয়ায়েত) তাদের নিকট পৌঁছেছিল। তাই মক্কা ও মদীনার অধিকাংশ আলিম সেগুলোকে খণ্ডন করেছিলেন – তাদের মধ্যে ছিলেন আতা, ইবনু আবী মুলায়কাহ – আর ‘আবদুর রহমান ইবনু যায়দ ইবনু আসলাম মদীনার ‘উলামাদের থেকে এই একই অবস্থানটি ব্যক্ত করেছিলেন। মালিক ইবনু আনাস (ইমাম মালিক)-এর সাথিগণ ও অন্যান্যদেরও এই একই অবস্থান ছিল। তাঁরা বলতেন: ‘এই সবই হলো বিদ’আত।’ আর ইমাম আহমদ বিন হাম্বাল থেকে (মধ্য) শা‘বানের রাতকে সম্মান করার ব্যাপারে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না।” এই প্রসঙ্গে ইবনু রজব সর্বশেষ যা বলেছেন: “মধ্য শা‘বানের রাতে নামাযে দাঁড়ানো নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর সাহাবাদের থেকে প্রতিষ্ঠিত (বা প্রমাণিত) নয়।”

আল-ইমাম আবু বকর আত-তারতূশী (রাহিমাহুল্লাহ) তার আল-হাওয়াদীস ওয়াল-বিদ‘আহ গ্রন্থে বলেছেন: “ইবনু ওয়াদ্দাহ যাইদ বিন আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেছেন: “আমাদের কোনো শাইখ বা ফাক্বীহদের কাছ থেকে আমাদের নিকট এমন কিছুই পৌঁছেনি যে, তারা মধ্য শা’বানের রাতটিকে গুরুত্ব দিতেন। তারা মাকহুলের বর্ণনার প্রতিও ভ্রূক্ষেপ করতেন না এবং অন্যান্য রাতের উপর এর বিশেষ কোনো ফজিলত আছে বলে বিশ্বাস করতেন না।” ইবনু আবী মুলায়কা-কে বলা হয়েছিল: “যিয়াদ আন-নুমাইরি বলেছেন: মধ্য শা‘বানের রাতের সাওয়াব লাইলাতুল ক্বদরের সাওয়াবের সমতুল্য।” প্রত্যুত্তরে ইবনু আবী মুলায়কাহ বললেন: “আমি যদি তার কাছ থেকে এটি শুনতাম এবং আমার হাতে একটি লাঠি থাকত তবে আমি তাকে অবশ্যই বেত্রাঘাত করতাম।” কিন্তু যিয়াদ উপস্থিত ছিলেন না।’”

দেখুন মাজমূ‘উল ফাতাওয়া আল-ইমাম বিন বায (২/৮৮২)।

আল-ইমাম আলবানী

“একটি বহুল উদ্ধৃত বর্ণনা আছে যা শাইখ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হয়েছে যেখানে মুআয বিন জাবাল বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা মধ্য শা’বানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে তাকান। অতঃপর তিনি মুশরিক (যে আল্লাহর সাথে শরীক করে) এবং মুশাহিন (মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ও সুন্নাহ পরিত্যাগকারী বিদ‘আতী) ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করেন।”

আলবানীর তাহক্বীক্বকৃত ইবনু আবী ‘আসিমের আস-সুন্নাহ (নং. ৫১২), ইবনু হিব্বান (নং. ১৯৮০) সহ অন্যান্যরা লিপিবদ্ধ করেছেন। শাইখ আলবানী আস-সিলসিলাতুস-সহীহায় (নং ১১৪৪, ৩/১৩৫ এবং ১৫৬৩, ৪/৮৬) এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন। এছাড়াও, আবূ মূসা (নং. ১৩৯০) থেকে ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন যা আলবানী হাসান বলেছেন।

এই সালাফী ইমাম আলবানী যে হাদীসটি সহীহ সাব্যস্ত করেছেন তা (কোনোভাবেই) প্রমাণ করে না যে, মুসলিমদের এই রাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো ‘ইবাদত করা উচিত কারণ এই হাদীসে এই রাতকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কোনো আমলের কথা উল্লেখ নেই। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো যে সমস্ত সুফী, দেওবন্দী ও অন্যান্যরা এই রাতটি উদযাপন করার উদ্দেশ্যে মসজিদে সমবেত হয়, মোমবাতি জ্বালায়, মিষ্টি বিতরণ করে এবং আরো নানান কাজ করে, এরাই হলো সেসকল লোক যাদেরকে এই হাদীসে হুমকি দেওয়া হয়েছে কারণ “মুশাহিন” শব্দটি আহলুল বিদ‘আহদেরকে বুঝায়, যারা সুন্নাহ পরিত্যাগ করে এবং আহলুস সুন্নাহর প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। ইবনু আসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “মুশাহিন হলো বিরুদ্ধবাদী এবং আল-আওযায়ী বলেছেন: ‘রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এখানে মুশাহিন শব্দটি দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন: একজন বিদ‘আতী, যে উম্মাহর জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।” (দেখুন আস- সিলসিলাতুস-সহীহা, ৪/৮৬)।

‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর প্রতি যে বর্ণনাটি সম্বোধন করা হয়েছে যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যখন মধ্য শা’বানের রাত আসে, তখন সে রাতটিতে তোমরা নামাযে দাঁড়াবে এবং সে দিনটিতে রোযা রাখবে। কারণ সেই দিন সূর্যাস্তের পর আল্লাহ প্রথম আসমানে অবতরণ করেন আর বলতে থাকেন: ‘কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। কোনো রিযিক অনুসন্ধানকারী আছে কি? আমি তাকে রিযিক দিবো। কোনো দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি আছে কি? আমি তাকে মুক্ত করব।’ এভাবে সুবহে সাদিক উদয় হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।’’’ (ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন, নং ১৩৮৮)। এই হাদীসটি জাল (মাওদূ’) এবং এর উপর নির্ভর করা যাবে না (দেখুন আলবানীর আস-সিলসিলাহ আয-যাঈফাহ, নং. ২১৩২)। আর এ রকম আরও অনেক দুর্বল ও জাল বর্ণনা রয়েছে।

এছাড়াও, ইসলামী শরীয়তের একটি জানা কথা হলো যে, কোনো উপলক্ষ্যের আগমন ইবাদতকারীর জন্য আমলকে বাধ্যতামূলক করে না যদি না এর স্বপক্ষে শারঈ প্রমাণ থাকে।

যেমন, ইসরা ও মি’রাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের ওয়াহীকরণ, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মদীনায় হিজরত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মদিন, হীরা গুহায় ওয়াহীর অবতরণ – এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, তবে মুসলিমদের জন্য এগুলোকে (‘ইবাদতের জন্য) নির্দিষ্ট করা বা সাধারণের ঊর্ধ্বে গিয়ে কিছু উদযাপন করা উচিত বলে কুরআন, সুন্নাহ বা সাহাবায়ে কেরামদের থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় না। বাস্তবে, এগুলো পালন করা বিদ‘আত ও ভ্রষ্টতা।”’
মধ্য শা’বান (শবে বরাতকে) নিয়ে কিছু দুর্বল ও বানোয়াট হাদীস:

وقال العلامة الشوكاني رحمه الله في الفوائد المجموعة ما نصه : “حديث : يا علي من صلى مائة ركعة ليلة النصف من شعبان ، يقرأ في كل ركعة بفاتحة الكتاب ، و( قل هو الله أحد ) عشر مرات ، إلا قضى الله له كل حاجة … الخ ” وهو موضوع [ أي مكذوب على النبي صلى الله عليه وسلم ] ، وفي ألفاظه – المصرحة بما يناله فاعلها من الثواب – ما لا يمتري إنسان له تمييز في وضعه ، ورجاله مجهولون ، وقد روي من طريق ثانية كلها موضوعة ، ورواتها مجاهيل
وقال في المختصر : حديث صلاة نصف شعبان باطل ، ولابن حبان من حديث علي : ( إذا كان ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا نهارها ) ضعيف
وقال في اللآلئ: مائة ركعة في نصف شعبان بالإخلاص عشر مرات … موضوع وجمهور رواته في الطرق الثلاث ، مجاهيل وضعفاء ، قال : واثنتا عشرة ركعة بالإخلاص ثلاثين مرة ، موضوع وأربع عشرة موضوع .
وقال الحافظ العراقي : “حديث : صلاة ليلة النصف ، موضوع على رسول الله صلى الله عليه وسلم ، وكذب عليه”.
وقال الإمام النووي في كتاب المجموع : “الصلاة المعروفة بـ : صلاة الرغائب ، وهي : اثنتا عشرة ركعة بين المغرب والعشاء ليلة أول جمعة من رجب ، وصلاة ليلة النصف من شعبان مائة ركعة ، وهاتان الصلاتان بدعتان منكرتان ، ولا يُغتر بذكرهما في كتاب قوت القلوب و إحياء علوم الدين ، ولا بالحديث المذكور فيهما ، فإن كل ذلك باطل ، ولا يغتر ببعض من اشتبه عليه حكمهما من الأئمة فصنف ورقات في استحبابهما ، فإنه غلط في ذلك”
وقد صنف الشيخ الإمام أبو محمد عبد الرحمن بن إسماعيل المقدسي كتاباً نفيساً في إبطالهما ، فأحسن وأجاد ، وكلام أهل العلم في هذه المسألة كثير جداً ، ولو ذهبنا ننقل كل ما اطّلعنا عليه من كلامهم في هذه المسألة لطال بنا الكلام ، ولعل في ما ذكرنا كفاية ومقنعاً لطالب الحق

দেখুন মাজমূ‘উল ফাতাওয়া আল-ইমাম বিন বায (২/৮৮২)

উৎস: https://abukhadeejah.com/what-is-the-significance-of-the-night-in-the-middle-of-shaban-%e2%80%95ibn-uthaimin-ibn-baz-ibn-rajab-al-albani-abu-bakr-at-tartushi-ibn-waddah/

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading