শাইখ আবূ ইয়াদ্ব আমজাদ রফীক্ব
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (رحمه الله) বলেছেন:[১]
“আর বানী উমাইয়ার খলিফাদের সর্বশেষ, মারওয়ান বিন মুহাম্মাদ আল-জা’দী, নিজেকে এই জা’দ [বিন দিরহাম] এর সাথে যুক্ত করেছিল। এর কারণে তার উপর এমনভাবে বিপদ-আপদ নেমে এলো যে [উমাইয়া] রাষ্ট্রের অবসান ঘটে গেল।
কেননা রাসূলদের দীনের সাথে সাংঘর্ষিক বিদ‘আতগুলো যখন প্রকাশ পায়, (তখন) যারা রাসূলদের বিরোধিতা করে আল্লাহ তা’আলা তাদের সকলের উপর প্রতিশোধ নেন এবং তাঁদের (রাসূলদের) সহযোগিতা করেন। …সুতরাং যখন নিফাক্ব, বিদ‘আত ও পাপাচার (ফুজূর) প্রকাশ পেল যেগুলো রাসূলদের দীনের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল, তখন শত্রুপক্ষকে তাদের (মুসলিমদের) উপর চড়াও করে দেওয়া হলো।
এভাবে, রোমক খ্রিষ্টানরা বারংবার শাম আর জাযীরাহ (উপদ্বীপে) আক্রমণ করতে লাগলো, এমনকি তারা পর্যায়ক্রমে শামের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো দখল করে নিলো, যতক্ষণ না তারা (হিজরী) চতুর্থ শতাব্দীর শেষের দিকে বায়তুল-মাক্বদিস দখল করে নেয়। আর এর কিছুদিন পর (যখন) তারা দামেস্ক দখল করে নিলো তখন থেকে শামের লোকেরা খ্রিষ্টান (ক্রুসেডার) আর মুনাফিক্ব, যিন্দীক্বদের [উত্তর আফ্রিকার বাত্বিনিয়্যাহ ঊবাইদিয়্যাদের] মাঝে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মাঝে বসবাস করতে লাগল…
আর একইভাবে যখন প্রাচ্যের লোকেরা ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তখন তুর্কি, ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে আগত পৌত্তলিক কাফিরদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করা হয়েছিল। কিন্তু যখন তাদের মাঝে বিদ‘আত, পথভ্রষ্টতা (ইলহাদ) আর পাপাচার হতে যা যা প্রকাশ পাওয়ার তা প্রকাশ পেল, তখন কাফিরদেরকে[২] তাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হলো…
আর মুসলিম ভূখন্ডগুলোতে তাদের (শত্রুদের) অনুপ্রবেশের মূল কারণ ছিল ইলহাদ, নিফাক্ব আর বিদ‘আতের আবির্ভাব…
আর এখানে উদ্দেশ্য হলো যে, বানূ উমাইয়া রাষ্ট্রের পতন (ও অবসানের) কারণ ছিল [আল্লাহর গুণাবলি] অস্বীকারকারী এই জা’দ বিন দিরহাম, এবং [অন্যান্য আরো অনেক] কারণ যা এর নির্মূল হওয়াকে অপরিহার্য করেছিল।
তাদের শাসন আমলের শেষের দিকে আল-জাহম বিন সাফওয়ান খুরাসানে আবির্ভূত হলো। এমনটা বলা হয়েছে যে, তার উৎপত্তিস্থল ছিল তিরমীয, এবং সে জাহমিয়্যাহ [নাম ও গুণাবলি] নাকচকারীদের দর্শনকে প্রকাশ করেছিল…।”
মন্তব্য:
শাইখুল ইসলাম এখানে পাশ্চাত্যের ক্রুসেডার, প্রাচ্যের মোঙ্গলীয় ও তাদের পর্যায়ভুক্তদের কথা উল্লেখ করেছেন। মুসলিমরা যখন সঠিক ‘আক্বীদাহ ও ন্যায়নিষ্ঠত্ব থেকে দূরে সরে গেল আর আল্লাহর গুণাবলির অস্বীকৃতি, আল-ক্বদরের অস্বীকৃতির পাশাপাশি ইরজা, পাপাচার, অবাধ্যতা ও অন্যান্য বিদ‘আতে নিপতিত হলো, তখন আল্লাহ এই জাতিগুলোকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিলেন। আর তিনি তাঁর রাসূলগণের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে এমনটি করেছেন, কারণ তাঁরা যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান করছিলেন এর বিরোধিতা করা হয়েছিল এবং তাঁদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর সাথে আমরা উপনিবেশবাদের সময়সীমার (era of colonialism) বিষয়টিকে যোগ করতে পারি, যা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহর [মৃত্যুর] পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন ঐসমস্ত নিকৃষ্টতম বিদ‘আত যা ইবনু তাইমিয়্যার পূর্বে ইতোমধ্যেই আবির্ভূত হয়েছিল, তা উম্মতের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। যেমন “অস্তিত্বের ঐক্য” (ওয়াহদাতুল উজূদ), “ঐশ্বরিক ঐক্য” (ইত্তিহাদ)[৩], শরীয়তের আদেশ-নিষেধের বিলুপ্তি যা সূফীদের মাঝে বিদ্যমান; যারা যাহির, বাতিন[৪], হাক্বীক্বত আর শরীয়তের[৫] মতো বিভিন্ন (বিদ‘আতের) উপর বিশ্বাস করে। আর যখনই সুস্পষ্ট কুফরের পর্যায়ভুক্ত এই বিদ‘আতগুলো প্রকাশ পেল এবং সেগুলো আরও দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়তে লাগল, তখন তা শত্রুদের দ্বারা পরাধীনতার এক নতুন যুগের সূচনা করল।
১. মাজমূঊল ফাতাওয়া (১৩/১৭৭-১৮২ সংক্ষেপিত।)
২. মোঙ্গলীয়, তাতারীদেরকে বুঝানো হচ্ছে।
৩. “ওয়াহদাতুল উজূদ” হলো এই বিশ্বাস যে, স্রষ্টা ও সৃষ্টি উভয় শুরু থেকে সত্তাগতভাবে এক, এই দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। অর্থাৎ আলাদা করে স্রষ্টা বলতে কিছু নেই। আর “ইত্তিহাদ” হলো এই বিশ্বাস যে, স্রষ্টা ও সৃষ্টি সত্তাগতভাবে পৃথক ছিল কিন্তু পরবর্তীতে উভয় একে অপরের সাথে মিশে গেছে।
৪. তারা মনে করে যে, কুরআনের আয়াতসমূহের গোপন অর্থ আছে যা শুধু “বিশিষ্টজনরা” জানে এবং এর বাহ্যিক অর্থ ও ধরণ হলো সর্বসাধারণের জন্য।
৫. অর্থাৎ তাদের মতে শরীয়তের সকল আদেশ-নিষেধ শুধু সর্বসাধারণের জন্য নির্দিষ্ট, তবে “বিশিষ্টজনের” একটি দল যারা ওয়াহদাতুল উজূদের (অর্থাৎ স্রষ্টা বা সৃষ্টি বলতে স্বতন্ত্র কিছু নেই বরং দুটোই এক ও অভিন্ন) মতো আরও “উচ্চতর বাস্তবতা” সম্পর্কে জানে, তারা এই সমস্ত বাধ্যবাধকতার আওতায় পড়ে না।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
- Share on Pocket (Opens in new window) Pocket

















