Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

সত্যের সন্ধানে এক ব্যক্তি যার নাম সালমান আল ফারিসী

শাইখ সালেহ আস-সালেহ (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক সংকলিত দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪২৬/২০০৫

আল্লাহ, যিনি আর-রাহমান আর-রাহীম – তাঁর নামে আমি আমার লেখা শুরু করছি:

সূচনা:

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য ও ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নাফস ও আমাদের মন্দ আমলের অনিষ্ট থেকে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দিয়েছেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার অর্থে ‘ইবাদতের যোগ্য আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক তাঁর কোনো শরীক বা সহযোগী নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ হলেন আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। মহান আল্লাহ যেন সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদের উপর, তার উত্তম ও সৎকর্মশীল পরিবারের উপর এবং তার সকল সাহাবায়ে কিরামের উপর তাঁর সালাত ও সালাম প্রেরণ করেন।

বর্তমান সময়ে, বহু মানুষ ইসলাম নিয়ে কৌতূহলী। [তবে] এই দীনকে জানার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে তারতম্য রয়েছে। [এর কারণ হতে পারে যে, ইসলাম সম্পর্কে] তাদের জ্ঞান কোনো প্রবন্ধ, বইপুস্তক, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ধর্মীয় পাঠ্যবই, কতিপয় মুসলিমের মাধ্যমে, কোনো মসজিদের পাশ দিয়ে যাতায়াত, সিনেমা, সংবাদ মাধ্যম, মুসলিম দেশে অবস্থান, কতিপয় মুসলিমের ভালোমন্দ কাজ ইত্যাদি থেকে অর্জিত হয়েছে। কিছু লোকের জন্য এটি হলো “সাধারণ কোনো ধর্ম।” [কিন্তু] অনেকের কাছে ইসলাম হলো চমকপ্রদ “একটি কিছু” যা তারা “ঘেটে দেখতে চান”। আর এমন কিছু লোক আছে, যারা মুষ্টিমেয় মুসলিমদের ভুলত্রুটি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কাজের ভিত্তিতে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে আক্রমণ করেছে। আবার এসবের মাঝে এমনও লোক আছে যারা শুধু ইসলামকে ঘৃণা করে।

এই বইটি ঐ সবার জন্য উপযোগী যারা নিজেদের মনে অনেক প্রশ্নের জবাব খুঁজে বেড়াচ্ছেন: আমি কে? আমার অস্তিত্বের পেছনে কি কোনো উদ্দেশ্য আছে? সত্য ইলাহ কে? মুক্তিলাভের সঠিক পথ কোনটি? ইসলাম কি সেই পথ? আমি যদি মুসলিম হই সেটির প্রভাব আমার, আমার পরিবার ও বৃহত্তর সমাজের উপর কীভাবে পড়বে?

আজ অনেকেই উপলব্ধি করতে পারছেন যে, বস্তুবাদিতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে অর্জিত সব “অগ্রগতি” একটি আধ্যাত্মিক শূন্যতা তৈরি করেছে যা মূলত সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মানসিক সমস্যাগুলোর প্রধান কারণ। তাই দেখা যায়, যারা এক সময় একথা বলতেন, “আমাদেরকে ছাড়ুন আর জীবনটা উপভোগ করতে দিন”, অথবা বলতেন, “দেখো! আমরা আল্লাহর ব্যাপারে জানতে আগ্রহী না”, তারা পুনরায় এই (আধ্যাত্মিকতা) খুঁজে বেড়াচ্ছেন। উপর্যুক্ত প্রশ্নগুলোর ন্যায় তারাও প্রশ্ন করছেন। কারণ মানুষের সহজাত প্রকৃতি কোনটি ভালো কোনটি মন্দ, কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা তা নির্ণয় করতে জানে। আল্লাহর গুণাবলি যে পরম সত্য, অতুলনীয় এবং পরিপূর্ণ সেটি মানব প্রকৃতি উপলব্ধি করতে পারে। তাই স্রষ্টার গুণাবলির প্রতি কোনো প্রকার অবক্ষয় বা তাঁর প্রতি মানবীয় গুণাবলি সাব্যস্ত করাকে তা (সহজাত প্রকৃতি) কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনা। সে জানে এক পরম সত্য ইলাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহর অস্তিত্ব থাকতে পারে না, সুতরাং একটি সত্য ধর্ম ব্যতীত আর অন্য কোনো ধর্ম তাঁর (আল্লাহর) কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি তাঁর সৃষ্টির একাংশকে তাঁর ‘ইবাদত করার আদেশ দিবেন অথচ বাকি সকলকে “ঈসা (আলাইহিস সালাম), বৌদ্ধ, আগুন, আলো, কৃষ্ণ, জোসেফ স্মিথ, সূর্য, চন্দ্র, খোমেইনী, রাম, মন্দির, নবী-রাসূল, এলাইজাহ, ফাররাখান, ক্রুশ, গাছ, ত্রিভুজ, সাধু, যাজক, সন্ন্যাসী ইত্যাদির” ইবাদত করতে বলবেন তা হতেই পারে না।

আল্লাহ ব্যতীত বাকি সবকিছুই সৃষ্ট প্রাণী বা বস্তু। সেগুলো সবই হলো ত্রুটিপূর্ণ, সবই [আল্লাহর উপর] নির্ভরশীল, কিন্তু আল্লাহ, তিনি অমুখাপেক্ষী। তিনিই সর্বপ্রথম, তাঁর আগে কিছুই ছিল না। তিনিই সর্বশেষ, তিনি ব্যতীত বাকি সবই ধ্বংসশীল, তিনি চিরঞ্জীব; তাঁর কাছেই চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন। তিনি জন্ম দেন না এবং তিনি জন্ম নেনও নি। কোনো মানুষ তাঁর নামকরণ করেনি, তিনি নিজেই নিজের নামকরণ করেছেন – আল্লাহ। আর আল্লাহ নামক এই শিরোনামের অর্থ কী? এর অর্থ হলো, “সেই সত্য ও একক ইলাহ, যিনি চূড়ান্ত ভালোবাসা, পরম ভক্তি ও আকুল আকাঙ্ক্ষাভরে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য।” তিনি “কোনো জাতিভিত্তিক বা গোষ্ঠীগত ইলাহ” নন। তিনি সমস্ত কিছুর স্রষ্টা। তাই এটি তাঁর প্রাপ্য অধিকার যে, আমরা শুধু তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করব, তাঁরই আনুগত্য করব এবং তিনি ব্যতীত যে সমস্ত কিছুর ‘ইবাদত করা হয় সে সমস্ত কিছু থেকে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করব। এটিই হলো ইসলাম।

লোকেরা প্রতিদিন পায়ে হেঁটে (পরিশ্রম করে) নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যান। কেউ পড়াশোনার উদ্দেশ্যে স্কুলে যায় আবার কেউ রিযিকের তাগিদে কর্মক্ষেত্রে যান। কিন্তু যখন প্রশ্ন উঠে এই জীবনের উদ্দেশ্য কী, তখন এমন অনেকে আছেন যারা এর উত্তর নিয়ে ভাবতেও চান না! অথচ এই পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বের পেছনে যেই উদ্দেশ্য নিহিত আছে তা মহান আল্লাহ মানবজাতির প্রতি সর্বশেষ নাযিলকৃত বাণী কুরআনুল কারীমে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রে মানুষ আল্লাহর বিধান মেনে চলার জন্য আদিষ্ট। দীন ইসলামে ইবাদতের অর্থ বলতে এটিই বুঝানো হয়েছে এবং এই সেই মহান উদ্দেশ্য যে কারণে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাদের প্রতিটি কাজই এই উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত।

এমন লোক আছে, যারা আল্লাহকে ইবাদতের যোগ্য একমাত্র সত্য ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে নিবে কিন্তু তারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন নাও করতে পারে। তাদের কর্মকাণ্ড ইসলাম থেকে বিচ্যুত। সুতরাং, তারা ইসলামকে বিবেচনা করার কোনো মানদণ্ড হতে পারে না। কেননা ইসলাম নিখুঁত কিন্তু মানুষ (নিখুঁত) নয়। তাই ইসলামের ব্যাপারে অনুসন্ধান করার জন্য মানবজাতিকে আহ্বান করা হয়েছে।

সত্যের সন্ধানরত সালমান আল-ফারিসী নামক ব্যক্তির এক দীর্ঘ যাত্রাকে নিরীক্ষণ করে, মানুষকে তাদের পরিত্রাণের পথ খোঁজার প্রতি আহ্বান জানানোই এই বইটির মূল উদ্দেশ্য। আমরা কেনই বা তা করব না? আমরা কি সব জানি? কিন্তু আমরা যখন এটা জানি, যেই বায়ু থেকে আমরা নিশ্বাস গ্রহণ করি এর মালিক আমরা নই এবং আমরা নিজেরা নিজেদেরকে সৃষ্টি করিনি বা আমরা শূন্য থেকে সৃষ্টি হইনি, ঠিক তখন সেই স্রষ্টা (আল্লাহ) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, জীবন দিয়েছেন এবং যিনি একদিন আমাদেরকে তাঁর কাছে ফিরে যেতে বলবেন। সেই দিন চূড়ান্ত জবাবদিহিতা থাকবে, আর ফলাফল হবে অনন্তকালীন সুখ নতুবা অনন্তকালীন যন্ত্রণা।

সালমান ও তাঁর যাত্রা

সূচনা:

সালমানের যাত্রা সালমানের চেয়ে ভালো আর কেউ বলতে পারবে না। তিনি (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম[১])-এর এক নিকটাত্মীয় ও সাহাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাসের (আল্লাহ যেন তাঁর ও তাঁর পিতার উপর সন্তুষ্ট হন) কাছে তাঁর ঘটনাটি বর্ণনা করেন।

সালমান বলেন:

“আমি জায় নামক শহরের, ইস্ফাহান[২]) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একজন ফারসী লোক ছিলাম। আমার বাবা ছিলেন শহরের প্রধান। তার দৃষ্টিতে আমি ছিলাম আল্লাহর সৃষ্ট সবচেয়ে প্রিয় বস্তু।”

এটি পিতার প্রতি পুত্রের উত্তম আচরণের ইঙ্গিত বহন করে। সালমান সত্য ইলাহর সঠিক নাম ব্যবহার করছেন, আল্লাহ। এই নাম – আল্লাহ – সকল নবী ও রাসূলদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী ‘ঈসা (‘আলাইহিস সালাম) তাঁর আরামিক ভাষায় ইলাহ বলতে এই একই নাম ‘আল্লাহ’ ব্যবহার করেছেন।

“আমার প্রতি তার ভালোবাসা এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে, তিনি যেই আগুন[৩] প্রজ্বলিত করতেন তার তত্ত্বাবধান আমার উপর ন্যস্ত করলেন। তিনি সেটা নিভতে দিতেন না।”

একটা ভিন্ন ধর্ম?

“আমার বাবার একটি দায়ে’আ ছিল: আবাদযোগ্য জমিসহ একটি বৃহৎ গ্রামাঞ্চল। একদিন নির্মাণ কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকাকালীন, তিনি আমাকে তার দায়ে’আ পরিদর্শন করতে বললেন এবং সেখান থেকে তার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আসতে বললেন। দায়ে’আ যাওয়ার পথে আমি একটি গির্জা দেখতে পেলাম। আমি ভেতরে থাকা লোকদের প্রার্থনার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি জানতাম না বাইরের মানুষেরা কীভাবে জীবনযাপন করে, কারণ আমার বাবা আমাকে তার বাড়িতে বন্দী করে রাখতেন! যখন আমি সেই (গির্জার) লোকদের সন্ধান পেলাম এবং আমি তাদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, তখন আমি ভেতরে ঢুকে তারা কি করছে তা দেখতে থাকলাম।”

আগ্রহ জন্মাল!

“আমি যখন তাদেরকে দেখলাম, তাদের প্রার্থনা আমার পছন্দ হলো এবং তাদের বিষয়ে (অর্থাৎ ধর্ম সম্পর্কে জানতে) আমি আগ্রহী হয়ে উঠলাম। আমি মনে মনে বললাম: ‘আল্লাহর কসম, এই দীন আমাদের (দীনের) চেয়েও উত্তম।”

অন্ধ অনুকরণ থেকে মুক্ত পরিচ্ছন্ন একটি অন্তর

“আল্লাহর কসম, আমি সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাদেরকে ছেড়ে যাইনি।”

ঐ ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য তিনি নিজেকে সময় দিলেন কারণ তখন তার কাছে তা সঠিক বলে মনে হয়েছিল। ধৈর্য দ্বারা চালিত একটি বোধসম্পন্ন ও বিনয়ী অন্তরের প্রয়োজন আছে যা এমন চিন্তাচেতনার সীমাবদ্ধতা থেকে উত্তরণে অনুপ্রেরণা দিবে: “ও আচ্ছা! আমি খুঁজে বের করার চেষ্টা করব, কিন্তু আমি এখন ব্যস্ত, ইত্যাদি!’ অথচ কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই মৃত্যু দরজায় কড়া নাড়তে পারে।

“আমি আমার বাবার দায়ে’আ পরিদর্শন না করেই ফিরে যাই। আমি (গির্জার লোকদের) জিজ্ঞেস করলাম, “এই ধর্মের উৎস কি?”

“উৎস” খুঁজতে চাওয়া। যারা (সত্যের) অনুসন্ধান করছেন তাদের জন্য এটি এক প্রকার নির্দেশিকা। “উৎস”, “মৌলিকত্ব”, “উৎপত্তি”, এসবই অতি প্রয়োজনীয় শব্দবিশেষ যা এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় সহযোগী হবে। ইসলামের “উৎস” কী এবং এর “মৌলিকত্ব” কী? এটি নাযিল হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি একক স্রষ্টা ও সত্য ইলাহ এবং এর মূল বিষয় হলো তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করা, যিনি সুমহান ও সর্বোচ্চ।

“তিনি বললেন: “আশ-শাম”[৪] থেকে আমি আমার বাবার কাছে ফিরে আসি, যিনি ইতোমধ্যে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন এবং কাউকে আমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছিলেন। আমার আগমনে তিনি বললেন: ‘হে আমার পুত্র! তুুমি কোথায় ছিলে? আমি কি তোমাকে কোনো দায়িত্ব দেইনি?’ আমি বললাম: ‘আমি কিছু লোককে গির্জায় প্রার্থনা করতে দেখেছি অতঃপর তারা যেই ধর্মের উপর ছিল তা আমার পছন্দ হলো। আল্লাহর কসম আমি সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাদের সাথে বসে ছিলাম।”

কি এক আশ্চর্যজনক সততা! তাও এমন ব্যক্তি থেকে যে ভালো করে জানে তার পিতা নিজ ধর্মের প্রতি কতটা অনুরক্ত। এই রকম নিষ্ঠা সত্য অনুসন্ধানকারী ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয়।

বিরোধিতা

“আমার পিতা বললেন: ‘হে আমার পুত্র! সেই ধর্মে কোনো কল্যাণ নেই। তোমার পিতা ও পূর্বপুরুষের ধর্মই উত্তম।”

এটা তাদের পন্থা যারা আক্বীদাহ-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অন্যদের পথকে অন্ধ অনুসরণ করে। এটা আমাদের আল্লাহর বাণীকে স্মরণ করিয়ে দেয়:

“কাফিরেরা বলে: ‘তোমরা এই কুরআনকে শ্রবণ কোরো না এবং তা তিলাওয়াত করা হলে শোরগোল সৃষ্টি করো যেন তোমরা বিজয়ী হতে পারো।” [কুরআন, আল-ফুসসিলাত : ২৬]

“বরং তারা বলে: ‘আমরা তো আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকে পেয়েছি এক মতাদর্শের অনুসারী এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।” [কুরআন, আয-যুখরুফ : ২২]

“‘বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে পথের উপর পেয়েছি তারই অনুসরণ করব।” [কুরআন, আল-লুক্বমান : ২১]

“আমাদের পূর্ব-পুরুষদের জামানায় আমরা কখনও এরকম কথা শুনিনি।” [কুরআন, আল-ক্বাসাস : ৩৬]

অন্য ধর্ম থেকে যারা দীন ইসলামে প্রবেশ করেছেন তাদের সাথে কথা বললে আপনি এই একই যুক্তিগুলো বহুবার শুনতে পাবেন যেগুলো মহান আল্লাহ বলেছেন। এই যুক্তিগুলো এক ও অভিন্ন যা এইভাবে উপস্থাপিত হয় : ‘আপনি কি আপনার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করবেন?’ শুধু তাই নয়, পিতামাতাসহ পুরো পরিবার একজন নও-মুসলিমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। পার্থিব জীবনে, এই বিরোধিতার মাত্রা প্রাণনাশের হুমকি থেকে শুরু করে সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়া পর্যন্ত হতে পারে। এটাই সাধারণত দেখা যায়। আবার, ছোটখাটো বিরোধিতা ও নিরপেক্ষ থাকার বিষয়টিও লক্ষ্য করা যায়।

সালমান বললেন:

“না, আল্লাহর কসম, এটি আমাদের ধর্মের চেয়েও উত্তম।”

তিনি তার বাবাকে ভালোবাসতেন, কিন্তু তাই বলে তাকে তোষামোদ করেননি। তিনি যা সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন তা নিয়ে আপস করেননি। তার বাবার প্রতিক্রিয়া কি ছিল?

সালমান বললেন:

“তিনি আমাকে হুমকি দিলেন এবং আমার পায়ে শিকল বেঁধে আমাকে তার বাড়িতে বন্দী করে রাখলেন।”

একজন পিতা তার প্রিয় পুত্রকে সত্য অন্বেষণ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্যাতন করছেন। ‘ঐতিহ্যের’ বিরোধিতা করার কারণে অনেক নবী তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা বিরোধিতা, অপবাদ ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছিলেন! সালমান কি সেখানে থামলেন?

মুক্তির পথ

তিনি বলেন:

“আমি খ্রিষ্টানদের নিকট অনুরোধ করে পাঠালাম যে, আশ-শাম থেকে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসা খ্রিষ্টানদের কোনো কাফেলা সম্পর্কে যেন আমাকে জানানো হয়। একটি কাফেলা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসলো আর তারা (খ্রিষ্টানরা) আমাকে বিষয়টি জানালো। আমি (খ্রিষ্টানদেরকে) বললাম যে, যখন কাফেলা তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম শেষ করবে ও নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিবে (তখন) তারা যেন আমাকে কাফেলার লোকজনের ব্যাপারে অবহিত করে। আশ-শামের লোকেরা যখন তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শেষ করলেন আর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিলেন তখন তা সত্যই আমাকে জানানো হলো। তখন আমি আমার পায়ের শিকল খুলে ফেললাম আর (কাফেলার) সাথে আশ-শাম পর্যন্ত চলতে থাকলাম।”

তিনি তার পিতার অন্যায় আদেশের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। তিনি সেই সত্যের পথে সংগ্রাম করলেন যা তাকে পরিশেষে সেই একক স্রষ্টা, আল্লাহ সম্পর্কে জানতে পরিচালিত করেছিল:

“যারা আমাদের উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে, আমরা[৫] অবশ্যই তাদেরকে আমাদের পথে পরিচালিত করব।” [কুরআন, আল-‘আনকাবূত ২৯:৬৯]

সুদূর ও অপরিচিত দেশ হওয়া সত্ত্বেও সালমান সিদ্ধান্ত নিলেন, মনস্থির করলেন ও যাত্রা শুরু করলেন। আল্লাহ, তিনি পরম মহিমান্বিত ও সুউচ্চ, তার সততা সম্পর্কে জানতেন, আর তাই একটি বাহনের ব্যবস্থা করে দিয়ে আশ-শামের যাত্রা তার জন্য সহজ করে দিলেন।

ব্যস এইতো। তবে!

“সেখানে পৌঁছানোর পর আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম: (তোমাদের) এই ধর্মের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব কে?”

সালমান সুস্পষ্টভাবে সত্যটি তালাশ করছেন আর এই ক্ষেত্রে তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। এবং তিনি কেনই বা তা করবেন না? লোকেরা সেরা খাবার, সর্বোত্তম স্ত্রী ও সেরা পোশাক বেছে নিতে পছন্দ করে। সালমান সেরা (সঠিক) বিশ্বাসের সন্ধান করছেন।

“তারা বলল: ‘বিশপ। (তিনি) গির্জায় আছেন।’ আমি তার কাছে গিয়ে বললাম: আমি এই ধর্মটি পছন্দ করি আর তাই আমি আপনার সান্নিধ্যে থেকে এই গির্জার সেবা করতে চাই, আপনার কাছ থেকে শিখতে চাই ও প্রার্থনা করতে চাই।”

সালমান শুরু থেকে উপলব্ধি করলেন যে, জ্ঞানী লোকের সাথে থাকলে জ্ঞান অর্জিত হয়। এর বিনিময়ে তিনি সেই বিশপের সেবক হিসেবে নিজেকে নিয়োগ দিতে প্রস্তুত ছিলেন। যারা সত্যের সন্ধান করেন তাদের বিনয়ী মনোভাব তাদেরকে সত্যের আরও কাছে নিয়ে যায়। তবে বিনয়ের বিপরীতে আছে অহংকার। মানুষ সত্যের নিদর্শন ঠিকই দেখতে পায় কিন্তু অহংকার তাকে ধ্বংসের দিকে পরিচালিত করে।

“তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর ঐগুলোকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিল। সুতরাং দেখো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কি হয়েছিল!” [কুরআন, আন-নামল :১৪]

সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি কোনো অবস্থাতেই যেন ব্যক্তিকে সত্যের সন্ধান থেকে বিরত না রাখে, কেননা সেটি তার ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করবে। এসব বিলীন হয়ে যাবে আর ব্যক্তি কেবল তার আমল নিয়েই তার কবরে যাবে। এই আমলগুলো হচ্ছে অন্তরের (বিশ্বাস) এবং জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ, যা অন্তরের অভ্যন্তরীণ কর্মেরই বহিঃপ্রকাশ। আমি কি আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি? আমি কি তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলেছি যেভাবে কুরআনে এবং সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেয়া শিক্ষার দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে? প্রতিফল দিবসে শুধু এটিই কাজে আসবে:

“যে দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহর নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে।” [কুরআন আশ-শু’আরা’: ৮৮-৮৯]

তিনি বললেন: “ঠিক আছে! তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারো । অতঃপর আমি তার সাথে তার কাজে আত্মনিয়োগ করি।’ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সালমান এই বিশপ সম্পর্কে কিছু জানতে পারলেন। সে একজন নিকৃষ্ট ব্যক্তি ছিল যে নিজে ভোগ করার উদ্দেশ্যে তার অনুসারীদেরকে দান করতে বলত এবং এতে অনুপ্রাণিত করত কিন্তু সেগুলো সে গরীবদেরকে দিতো না। এভাবেই সে ৭ বয়াম ভর্তি স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করেছিল।”

এই হলো প্রত্যেক স্থানকালভেদে দুর্নীতিবাজ ও দুষ্কৃতকারীদের উদাহরণ। এরাই হলো মুনাফিক ও ইতর শ্রেণীর লোক। কিন্তু সালমান কি সেই দুর্নীতিবাজের কারণে সেখানেই থেমে গেলেন? না! তিনি তার অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্যায়ে উন্নীত হলেন। তিনি দীন থেকে বিমুখ হননি।

“আমি তাকে যা করতে দেখেছি সে কারণে আমি তাকে খুব ঘৃণা করতাম।”

এখানে এটি সুস্পষ্ট যে, বিশপের প্রতি ঘৃণা তাকে সত্যের সন্ধান থেকে বিরত রাখেনি। আল্লাহ, তিনি সুমহান, তার (অর্থাৎ সালমানের) অন্তরস্থ সত্যকে জানার প্রবল নিষ্ঠা সম্পর্কে জানতেন বিধায় তাকে পরিচালিত করলেন।

“সে (বিশপ) মারা গেল। খ্রিষ্টানরা তাকে দাফন করার জন্য জড়ো হলো। তখন আমি তাদেরকে বললাম, ‘সে একজন নিকৃষ্ট ব্যক্তি ছিল যে আপনাদের দান করতে বলত এবং তাতে অনুপ্রাণিত করত ঠিকই, কিন্তু সেটা সে নিজে ভোগ করার উদ্দেশ্যে করত। সে এত্থেকে কিছুই গরীবদেরকে দেয়নি।’ তারা বলল: ‘তুমি এটা কীভাবে জানলে?’ আমি বললাম: ‘আমি আপনাদেরকে তার গুপ্তধন দেখাতে পারি। তারা বলল: ‘আমাদেরকে দেখাও।’

তারা তা দেখে বললো, ‘আল্লাহর কসম আমরা কখনো তাকে দাফন করব না।’ অতঃপর তারা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করল ও পাথর মারল।”

আকাঙ্ক্ষা বড়ই প্রবল

সালমান বলেন:

“তারা তাদের বিশপ বদলে ফেলল। আমি পূর্বে এমন ব্যক্তি দেখিনি যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার (অর্থাৎ নতুন বিশপের) চেয়ে উত্তমরূপে আদায় করে: না এমন কাউকে দেখেছি যে এই দুনিয়ার জীবন হতে তার চেয়ে অধিক বিমুখ ও পরকালের প্রতি তার চেয়ে বেশি অনুরক্ত, আর না তার মতো নিষ্ঠাবান এমন কাউকে দেখেছি যে দিনরাত তার চেয়ে অধিক সৎকর্ম করে। আমি পূর্বে যা কিছু ভালোবাসতাম তার চেয়ে বেশি তাকে ভালোবাসতে লাগলাম।”

দীন ইসলামে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে ফরয করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা কীভাবে এবং দিনের কোন কোন সময় আদায় করতে হবে তা শিক্ষা দিয়েছেন। তবে এটি সেই “প্রার্থনা” নয় যা কিছু লোকেরা উদ্ভাবন করেছে এবং তা অনুশীলন করছে। নামাজ হলো দীন ইসলামের স্তম্ভ। যদি নবীর শেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী তা আদায় করা হয়, তবে তা ব্যক্তির পাপ ও অপরাধমূলক কাজকে মোচন করে দেয় যা দিবারাত্রি তার দ্বারা সংঘটিত হয়।

“তার মৃত্যুর পূর্বে কিছু সময় আমি তার সাথে ছিলাম। যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এলো আমি তাকে বললাম : ‘হে (তার নাম ধরে), আমি আপনার সাথেই ছিলাম এবং এর পূর্বে আমি যা কিছু ভালোবাসতাম তার চেয়ে বেশি আপনাকে ভালোবেসেছি। আপনি এখন আল্লাহর নির্ধারিত বিষয়ের (অর্থাৎ মৃত্যুর) সম্মুখীন, সুতরাং আপনি আমার জন্য কাকে সুপারিশ করবেন এবং আপনি আমাকে কী আদেশ দিতে চান?”

জ্ঞানী এবং উত্তম ব্যক্তিদের খোঁজ সালমানের মনে। সত্যের পিছনে ছুটার তাগিদ ও প্রস্তুতি তার দৃঢ়।

“বিশপ বললেন: ‘আল্লাহর কসম! লোকেরা সম্পূর্ণ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে; তারা যে বিষয়ের (ধর্মের) উপর ছিল তা পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করেছে। আমি আল-মূসিলের[৬] একজন ব্যক্তি ছাড়া আর এমন কারও সম্পর্কে জানি না যিনি এই একই দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন, তাই আপনি তার (অতঃপর তিনি তার নাম বললেন) কাছে চলে যান।”

আরেকটি পদক্ষেপ

“লোকটি মারা যাওয়ার পর সালমান আল-মূসিলে চলে যান এবং সেই সুপারিশকৃত ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সালমান বলেন: ‘আমি তাকে বললাম যে (অমুক ব্যক্তি), তার মৃত্যুর সময় আপনার সাথে যোগদানের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আমাকে এটিও বলেছেন যে, আপনি ঐ একই (দীনের) উপর প্রতিষ্ঠিত যার উপর তিনি প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আল-মূসিলের লোকটি সালমানকে তার সাথে থাকতে বললেন : ‘আমি তার সাথে ছিলাম এবং আমি দেখতে পেলাম যে, তিনি তার বন্ধুর ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত উৎকৃষ্ট একজন ব্যক্তি ছিলেন।”

‘শীঘ্রই তিনি মারা যান’, সালমান বলেন, যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এলো, সালমান তাকে (যেমনটি তার বন্ধুর সাথে ইতঃপূর্বে করেছিলেন) একই ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত অন্য কাউকে নিজের জন্য সুপারিশ করতে বললেন। লোকটি বললেন : ‘আল্লাহর কসম! নাসিয়ীবীনের[৭] একজন ব্যক্তি ছাড়া আমাদের এই বিষয়ের (দীনের) উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন বলে আর কাউকে আমি চিনি না অতঃপর তিনি (তার নাম বললেন), তাই আপনি তার সাথে যোগ দিন।”

আরও একটি পদক্ষেপ

“তার মৃত্যুর পর, আমি নাসিয়ীবীনের ঐ লোকটির কাছে চলে যাই। সালমান লোকটিকে খুঁজে পেয়ে কিছুদিন তার সাথে থাকলেন। এবারও ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। লোকটির মৃত্যু ঘনিয়ে এলো এবং তিনি মারা যাওয়ার পূর্বে সালমান তার কাছে এলেন এবং কোথায় ও কার কাছে যেতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ চাইলেন। লোকটি সালমানকে আম্মুরিইয়াহ[৮] নামক স্থানে একই ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত একজনের সন্ধান দিলেন এবং তাকে তার সাথে যোগ দিতে বললেন।”

তার বন্ধু মারা যাওয়ার পর সালমান আম্মুরিইয়াহ চলে গেলেন। তিনি সেই সুপারিশকৃত ব্যক্তিকে খুঁজে পেলেন এবং তার সাথে তার দীনে যোগ দিলেন। সালমান সেখানে শ্রম দিলেন এবং কিছু গরু ও একটি ভেড়া উপার্জন করলেন।

মুমিনের জন্য উত্তম ও হালাল উপার্জনের পথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চয়ই অর্থের প্রভাব গুরুতর। অনেকেই (অর্থের লোভে) নিজেকে এবং নিজের নীতিগুলোকে সস্তা মূল্যে বিক্রি করে দেয়। অনেকে অর্থের লোভে প্রতারক হয়ে যায়। আবার অনেকে আছে, যত যাই হোক না কেন, সত্যের পক্ষে উঠে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। কেননা তা অন্তর ও মনের ভিতরে প্রশান্তি আনে।

একটি বিরাট পদক্ষেপ

আম্মুরিইয়াহর সেই লোকটির মৃত্যু ঘনিয়ে এলো। সালমান পুনরায় সেই একই অনুরোধ করলেন। এবার উত্তর ছিল ভিন্ন। লোকটি বললেন : ‘হে আমার পুত্র! আমি এমন কারও সম্পর্কে জানি না যিনি আমাদের মতো এই একই (ধর্মের) অনুসারী। তবে একজন নবীর আবির্ভাব আপনাকে পথ দেখাবে। এই নবী হবেন ইব্রাহীমের (‘আলাইহি সালাম) দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত।

তিনি ইব্রাহীমের দীন সম্পর্কে জানতেন। এই দীনই হলো তাওহীদের মূল উৎস। তা একমাত্র আল্লাহর ‘ইবাদতের প্রতি আহ্বান জানায়। ইব্রাহীম তার সন্তানদের প্রতি কী অসিয়ত করেছিলেন তিনি তা ভালো করে জানতেন:

“আর ইবরাহীম ও ইয়াক্বূব স্বীয় সন্তানদেরকে সদুপদেশ দিয়েছিলেন: ‘হে আমার বংশধরগণ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দীনকে মনোনীত করেছেন, অতএব তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না।” [কুরআন, আল-বাক্বারাহ : ১৩২]

ইব্রাহীম সারাহ ও হাজেরাকে বিয়ে করেছিলেন। সারাহ’র গর্ভ থেকে তাঁর নিম্নলিখিত বংশধর ছিল : ইসহাক্ব, ইয়াক্বূব, ইঊসুফ, দাঊদ, সুলাইমান, মূসা এবং ‘ঈসা, ‘আলাইহিমুস সালাম। তাঁর ও হাজেরা’র দিক থেকে ছিলেন ইসমাঈল (‘আলাইহিস সালাম), এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। ইসমাঈল আরবের বাক্কায় (যা মক্কা নামেও পরিচিত) বেড়ে উঠেন। আর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন ইসমাঈলের বংশধর।

লোকটি জানতেন যে, ইব্রাহীমের ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাসকে অনুসরণ করা অপরিহার্য। ইসমাঈলের বংশ থেকে একটি “মহান জাতি” আনয়নের যেই প্রতিশ্রুতি আল্লাহ দিয়েছেন সে বিষয়টি তিনি নিশ্চয়ই পড়েছেন (জেনেসিস ২১:১৮), অতঃপর ইসমাঈলের বংশধর হতে আগমনকারী, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী আর ইব্রাহীমের দীন অনুসরণকারী সেই নবীকে তিনি সালমানের জন্য সুপারিশ করলেন :

“হে আমাদের রব[৯]! তাদেরই মধ্য হতে এমন একজন রাসূল প্রেরণ করুন যিনি তাদেরকে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনাবেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দিবেন ও তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [কুরআন, আল-বাক্বারাহ : ১২৯]

“অতঃপর আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম (হে মুহাম্মাদ) : তুমি মিল্লাতে ইব্রাহীমের অনুসরণ করো; যে ছিল একনিষ্ঠ এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।” [কুরআন, আন-নাহল : ১২৩]

“নিশ্চয়ই মানুষের মাঝে ইব্রাহীমের সবচেয়ে নিকটবর্তী তারা, যারা তাঁর অনুসরণ করেছে এবং এই নবী ও মুমিনগণ। আর আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক।” [কুরআন, আল-‘ইমরান : ৬৮]

লোকটি এই নবীর বর্ণনা দিলেন : ‘তিনি ইব্রাহীমের মতো একই দীন নিয়ে প্রেরিত হবেন। তিনি হবেন আরব-দেশীয় আর কালো পাথরের ভূচিত্রের মাঝে (যেন তা আগুনে পুড়ে গিয়েছে) অবস্থিত একটি অঞ্চলে তিনি হিজরত করবেন। এর অভ্যন্তরে থাকবে খেজুরের বৃক্ষমালা। তাঁর কিছু সুনিশ্চিত আলামত থাকবে। তিনি উপঢৌকন হিসেবে দেওয়া খাদ্য (থেকে) খাবেন কিন্তু যা দান করা হবে তা গ্রহণ করবেন না। নবুওয়াতের সিলমোহর তার কাঁধের মাঝ বরাবর থাকবে। আপনি যদি সেখানে যেতে পারেন, তবে তাই করুন।

বর্ণনাসমূহের যাচাইকরণ

আরব থেকে নবীর আগমন সম্পর্কে লোকটি জানতেন, যিনি হবেন ইস্রাঈলীয়দের জ্ঞাতি ভাইদের মধ্য হতে একজন (ডিউট্রনমী ১৮: ১৭-১৮: “আমি তাদেরই জ্ঞাতি ভাইদের মধ্য থেকে আপনার মতো (অর্থাৎ : মূসার মতো)[১০] একজন নবীর উত্থান ঘটাব। আমি আমার কথা তাঁর জবানের[১১] উপর রাখব আর সে তাদেরকে শুধু তাই বলবে যা আমি তাকে প্রত্যাদেশ করব।”) নিশ্চিতভাবে এই বাণী ঈসা (‘আলাইহি সালাম)-এর ব্যাপারে ছিল না যেমনটা পল (সাধু পৌল) ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে (এ্যাক্টস ১৩ : ২২-২৩) কারণ ঈসা ইসমাইলের বংশধর ছিলেন না, বা তিনি নিজে[১২] একজন ইস্রাঈলীয় হয়ে ইস্রাঈলীয়দের “জ্ঞাতি ভাই” হতে পারেন না।

তেমা অঞ্চল (জে. হেস্টিংসের বাইবেলের অভিধান অনুসারে তা আরবের মদীনা শহরের উত্তরে অবস্থিত) থেকে আল্লাহর বাণী আসার ব্যাপারে লোকটি আগে থেকে জানতেন এবং পারান থেকে আসা ‘পবিত্র ব্যক্তি’ সম্পর্কেও তিনি জানতেন। জেনেসিস ২১:২১ অনুসারে, পারান ছিল সেই জায়গা যেখানে ইসমাঈল বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং সেখানে তার বারোটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছিল, তন্মধ্যে ছিল ইসমাঈলের দ্বিতীয় পুত্র কেদার। আইযাইয়াতে ৪২:১-১৩, ‘আল্লাহর প্রিয়’-কে কেদারের বংশধরদের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আর কেদার ছিল নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্বপুরুষ।

নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মক্কাবাসীকে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানালেন, তখন তাদের অধিকাংশই তা প্রত্যাখ্যান করল এবং তারা নবীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করল। তাদের মাঝে যারা ইসলাম গ্রহণ করলেন, তাদেরকে নিয়ে মদীনায় হিজরত করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে নির্দেশ দেওয়া হলো। শীঘ্রই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর “মুষ্টিমেয় ও দুর্বল-নিরস্ত্র” অনুসারীদের সাথে মক্কার পৌত্তলিকদের একটি যুদ্ধ হলো। এই যুদ্ধ নবীর হিজরতের এক বছর পর বদরে সংঘটিত হয়। নবী ও তাঁর সাহাবীগণ তাতে বিজয়ী হয়েছিলেন (আইযাইয়াহ ২১:১৩-১৭)।[১৩]

লোকটি জানতেন যে, ঈসা (‘আলাইহি সালাম) আহমাদ (মুহাম্মাদ[১৪]) নামক একজন নবীর আগমনের ব্যাপারে আগাম বার্তা দিয়েছেন। এটা ছিল সেই সুসংবাদ যা মহান আল্লাহ, ঈসা (‘আলাইহি সালাম)-এর জবানের উপর ওয়াহী করেছিলেন:

“আর (স্মরণ করো) যখন মারিয়াম পুত্র ঈসা বলেছিল, ‘হে বনী ইস্রাঈল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমাদ।” [কুরআন, আস-সাফ: ৬]

লোকটি মারা গেলেন। সালমান আম্মুরিইয়ায় রয়ে যান যতদিন না কালব[১৫] গোত্রের একদল বণিক তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল, সালমান বলেন, ‘আমি তাদেরকে বললাম, আপনারা আমাকে আরবে নিয়ে চলুন এবং এর বিনিময়ে আমি আমার গরু এবং এই একটি মাত্র ভেড়া আপনাদেরকে দিব।’ তারা বললেন: ‘ঠিক আছে।’ সালমান তাদেরকে যা দিতে চাইলেন তা দিলেন অতঃপর তারা তাকে তাদের সাথে নিয়ে গেলেন। যখন তারা ওয়া’দী আল-কুরায় (মদীনার নিকটে) পৌঁছালেন তখন তারা তাকে একজন ইহুদির কাছে ক্রীতদাস হিসাবে বিক্রি করে দিলেন। সালমান ঐ ইহুদির সঙ্গেই থেকে যান। অতঃপর তিনি খেজুর গাছ দেখতে পান। সালমান বললেন, ‘আমি আশা করছি এটি আমার বন্ধুর বর্ণনাকৃত সেই একই জায়গা হবে (উপরে দেখুন)।’ একদা এক ব্যক্তি, যে সালমানের মনিবের আপন চাচাতো ভাই ছিল ও মদীনার বানূ কুরাইযা নামক ইহুদি গোত্রের একজন লোক ছিল, সেখানে দেখা করতে এলো। সে সালমানকে তার ইহুদি মনিব থেকে কিনে নিলো: ‘সে আমাকে তার সাথে মদীনায় নিয়ে গেল। “আল্লাহর কসম! যখন আমি সেটি (মদীনা) দেখলাম, তখন আমার বন্ধু আমার কাছে (এর ব্যাপারে) ইতঃপূর্বে যা বর্ণনা দিয়েছিলেন এর সাথে তার মিল খুঁজে পেলাম।” অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (অর্থাৎ মুহাম্মাদ) প্রেরণ করলেন। তিনি যতদিন মক্কায় ছিলেন[১৬] ততদিন আমি তাঁর সম্পর্কে কিছুই শুনিনি কারণ আমি দাসত্বের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এরপর তিনি মদীনায় হিজরত করলেন।

সালমান বলতে থাকলেন, “একদা আমি একটি খেজুর গাছের ‘আদাক’ (খেজুর গুচ্ছের) উপরাংশে আমার মনিবের জন্য কিছু কাজ করছিলাম। ইতোমধ্যে তার আপন চাচাতো ভাই তার সামনে এসে হাজির হলো (তখন তার মনিব বসে ছিলে) এবং বলল: “আফসোস! বনী কীলার এ কী হয়েছে? তারা কিবায়[১৭] এক ব্যক্তিকে ঘিরে একত্রিত হয়েছে যিনি আজই মক্কা থেকে এসেছেন এবং দাবি করছেন তিনি নবী।”

এ শুনে আমি কেঁপে উঠলাম এবং আমার মনে হলো এই বুঝি আমি আমার মনিবের উপর পড়ে যাব। আমি নিচে নেমে বললাম : কী বললেন!? আপনি কী বললেন!? আমার মনিব রাগান্বিত হয়ে আমাকে জোরে ঘুসি দিয়ে বললেন : এ দিয়ে তোমার কি? তুমি তোমার কাজে মন দাও। আমি বললাম: না কিছু না! উনি যা বলেছেন আমি শুধু ঐ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম।”

“সেদিনই সন্ধ্যাবেলায় আমি আল্লাহর রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই। তখন তিনি কিবায় অবস্থানরত ছিলেন। আমার জমাকৃত কিছু (খাদ্যসামগ্রী) আমি আমার সাথে নিয়ে নিলাম। আমি ভেতরে ঢুকে বললাম: ‘আমাকে বলা হয়েছে আপনি একজন সৎকর্মশীল লোক এবং যারা আপনার সাথে আছেন তারা এখানে আগন্তুক এবং অভাবগ্রস্ত, তাই আমি আপনাদেরকে কিছু দান করতে চাই। আমি দেখছি আপনি অন্য সবার চাইতে এর বেশি হকদার।’ সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বললেন: ‘অতঃপর আমি তাকে সেটি দিলাম; কিন্তু তিনি তাঁর
সঙ্গীদের বললেন : ‘তোমরা খাও, আর এই বলে তিনি তাঁর হাত সরিয়ে রাখলেন (অর্থাৎ তিনি তা খেলেন না)।’ আমি মনে মনে বললাম: ‘এই হলো একটি (তাঁর নবুওয়াতের আলামতগুলোর একটি)।’

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এই সাক্ষাতের পর সালমান আরেকটি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে রওনা হলেন! এবার তিনি একটি উপহার নিয়ে মদীনায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন।

‘আমি লক্ষ্য করেছি যে আপনি দানকৃত কিছুই খাচ্ছেন না, তাই এখানে একটি উপহার আছে যার মাধ্যমে আমি আপনার সম্মান করতে চাই।’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা খেলেন এবং তাঁর সাহাবীদেরকেও তাই করার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁরা সেটিই করলেন। আমি মনে মনে বললাম: ‘এ নিয়ে দুটো!’ (অর্থাৎ নবুওয়াতের দু’টি নিদর্শন সত্য হিসেবে প্রমাণিত হলো)।

তৃতীয় সাক্ষাতে, সালমান বাক্বী’ আল-গারক্বাদে (যা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের সমাধিস্থল) এলেন যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একজন সাহাবীর জানাযায় অংশ নিচ্ছিলেন।

সালমান বললেন : ‘আমি তাকে (ইসলামের সালাম দিয়ে) সালাম দিলাম তারপর আমি আমার বন্ধুর বর্ণিত (নবুওয়াতের) সিলমোহর দেখার চেষ্টায় তাঁর দিকে আগ বাড়ালাম। যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখলেন তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, আমি কিছু ‘আলামত নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। তিনি তার পিঠ থেকে জামা সরিয়ে নিলেন এবং আমি সিলের দিকে তাকালাম। আমি তা চিনতে পারলাম। অতঃপর আমি তা চুম্বন করি আর কান্নায় ভেঙে পড়ি। আল্লাহর রাসূল আমাকে তাঁর সামনে যেতে বললেন (অর্থাৎ তার সাথে কথা বলতে বললেন)। আমি তাকে আমার ঘটনা খুলে বললাম যেমনটি আমি আপনার সাথে করছি হে ইবনু আব্বাস

(মনে রাখবেন ইবনু ‘আব্বাসকে সালমান তাঁর ঘটনা বলছেন)।

তিনি (রাসূল-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ঘটনা তাঁর সাহাবীদের বলতে পছন্দ করতেন।

শুধু আল্লাহর দাসত্ব

সালমান তার ঘটনা ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা)-এর নিকট বর্ণনা করতে থাকেন। সালমান তখনও তার মালিকের নিকট চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। [যে কারণে] তিনি আরবের পৌত্তলিকদের বিরুদ্ধে দু’টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন:

“হে সালমান লিখো (তোমাকে মুক্ত করার জন্য তোমার মনিবের কাছে দরখাস্ত লিখো)।”

সালমান তা মান্য করলেন ও নিজের মুক্তি চেয়ে দরখাস্ত লিখলেন। তিনি [তার মনিবের সাথে] একটি চুক্তি করলেন যে, তিনি তার [মুক্তির বিনিময়ে] তার মনিবকে চল্লিশ আউন্স (আনুমানিক ১ কেজি ১৩০ গ্রাম) পরিমাণ স্বর্ণ প্রদান করবেন এবং তিনশত নতুন খেজুর গাছ রোপণ করে সেগুলো সফলভাবে গড়ে তুলবেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদেরকে বললেন:

“তোমাদের ভাইকে সাহায্য করো।”

তারা [সাহাবীরা] তাকে গাছ দিয়ে সাহায্য করলেন এমনকি তার জন্য সবকটি গাছ সংগ্রহ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমানকে চারা রোপণের জন্য নির্ভুলভাবে গর্ত খননের নির্দেশ দিলেন, তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেকটি তাঁর নিজ হাতে রোপণ করলেন।

সালমান বললেন:

‘যার হাতে (অর্থাৎ আল্লাহ) আমার প্রাণ, একটি গাছও মরেনি।

এইভাবে করে সালমান সবকটি গাছ তার মনিবের নিকট বুঝিয়ে দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমানকে মুরগির ডিমের সমান একটি স্বর্ণের টুকরো দিয়ে বললেন:

“হে সালমান, এটি নাও এবং তোমার ঋণ পরিশোধ করো।”

সালমান বললেন:

“আমার উপর যে ঋণ আছে এর জন্য (মূল্যের দিক থেকে) এটিই যথেষ্ট হবে!”

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন:

“নাও! এ দিয়ে আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধ করবেন।”[১৮]

আমি তা নিলাম এবং এর একটি অংশ ওজন করে দেখলাম যে, তা চল্লিশ আউন্স হয়ে গেছে।

সালমান তার মালিককে স্বর্ণটি দিলেন। অবশেষে তিনি তার চুক্তি পূর্ণ করলেন ও মুক্ত হলেন।

তখন থেকে সালমান নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবী হয়ে উঠলেন: [আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু), যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একজন প্রখ্যাত সাহাবী ছিলেন, বর্ণনা করেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বসে ছিলাম। তখন সূরা আল-জুমুআহ (কুরআনুল কারীমের ৬২ নং সূরাহ) তাঁর উপর অবতীর্ণ হলো। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন:

“আর (এই রাসূলকে পাঠানো হয়েছে) তাদের অন্যান্যদের জন্যও যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি (কিন্তু তারা ভবিষ্যতে আসবে)। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [কুরআন, আল-জুমুআহ : ৩]

তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি বললেন, আল্লাহর রাসূল! কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না তিনি (ঐ ব্যক্তি) তাকে একবার, দু’বার বা তিনবার জিজ্ঞাসা করলেন। আর আমাদের মাঝে তখন সালমান আল-ফারিসী ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমানের গায়ে হাত রেখে বললেন:

“যদি ঈমান আল-সুরাইয়ার (আকাশে সব থেকে দূরে অবস্থিত নক্ষত্রের) কাছেও থাকে, তার মতো (অর্থাৎ সালমানের মতো) লোকেরা নিশ্চিতরূপে তা অর্জন করতে পারবে।”

তারা অবশ্যই আসবে!

এই পৃথিবীতে অনেকেই সালমানের মতো: সেই একমাত্র সত্য ইলাহ সম্পর্কে তারাও অনুসন্ধান করছেন। সালমানের এই গল্পের সাথে আমাদের সমসাময়িক অনেক কিছুই প্রাসঙ্গিক। অনেকের অনুসন্ধান তাদেরকে এক গির্জা থেকে আরেক গির্জা, গির্জা থেকে বৌদ্ধধর্ম বা অজ্ঞেয়বাদের [agnosticism] দিকে নিয়ে গেছে। ইহুদি ধর্ম থেকে নিরপেক্ষতায় [নিয়ে গেছে]! ধর্ম থেকে ধ্যান ও মানসিক ব্যাধির দিকে [নিয়ে গেছে]। আমি এমন কিছু লোকের সন্ধান পেয়েছি এবং শুনেছি যে তারা [ক্রমাগত] এক ধর্ম থেকে আরেক ধর্মে ধর্মান্তরিত হচ্ছিলেন। তারা ইসলাম সম্পর্কে অনুসন্ধান করতেও ভয় পেতেন! যতক্ষণ পর্যন্ত না কিছু মুসলিমের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয়, এবং এর সুবাদে, তারা অন্তত একটি নিরপেক্ষ মন নিয়ে ফিরতে পেরেছিলেন। সালমানের ঘটনা এক সুদীর্ঘ অনুসন্ধানের [ঘটনা]। আপনি চাইলে এত্থেকে উপকৃত হয়ে তা সংক্ষিপ্ত করতে পারেন।

ডক্টর সালেহ আস-সালেহ

৪ঠা শাবান (৮ম ইসলামী মাস), ১৪২৬ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০০৫ ঈসায়ীর সাথে মিল রেখে।

দ্রষ্টব্য: পাদটীকা #১০ এর ছকটি “বাইবেলে মুহাম্মাদ” নামক একটি বই থেকে নেওয়া হয়েছে যা ঈসা (‘আলাইহি সালাম)-এর ‘মৃত্যু’ সম্পর্কিত জটিলতা নিরসনের পর সংযোজন করা হয়েছে। ঘটনা হলো ঈসা (‘আলাইহি সালাম) মৃত্যুবরণ করেননি। আল্লাহ তাকে ক্রুশবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাকে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে গেছেন। বিচার দিবসের আগে আর পৃথিবীতে অবতরণের পর তাঁর মৃত্যু হবে। পৃথিবীতে অবতরণের পর, ঈসা (‘আলাইহি সালাম) আল্লাহর কিতাব, কুরআন ও নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন করবেন। এই বইয়ের উদ্ধৃতি লেখকের মানহাজকে অনুমোদন দেয় না। একজন মানুষকে তার প্রচেষ্টার জন্য তার প্রাপ্য কৃতিত্ব দেওয়াই এর একমাত্র উদ্দেশ্য।

Footnotes


১. সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম : মহান আল্লাহ যেন তাঁর (নবীর) স্মরণকে সমুন্নত করেন এবং প্রত্যেক অবমাননাকর বিষয় থেকে তাকে (ও তাঁর দাওয়াহকে) হেফাযত করেন।

২. ইস্ফাহান : উত্তর-পশ্চিম ইরানের একটা অঞ্চল।

৩. তার পিতা একজন মাজূসী ছিল যে আগুনের উপাসনা করত।

৪. আশ-শাম : বৃহত্তর সিরিয়া (যা বর্তমানে লেবানন, সিরিয়া, ফিলিস্তীন ও জর্ডান এলাকা জুড়ে বিস্তৃত)। 

৫. “আমরা” : একটি বহুবচন “সর্বনাম” যা ক্ষমতা, শক্তি ও মহত্ত্বকে বুঝানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। সেমেটিক ভাষাগুলোর ক্ষেত্রে, কোনো রাজার জন্য এই (“আমরা”) বহুবচন সর্বনামের ব্যবহার অতি সাধারণ একটি ব্যাপার। এটা ইউরোপীয় এবং অন্যান্য রাজবংশের দ্বারাও ব্যবহৃত হয়। তবে আল্লাহর জন্য হলো সর্বোত্তম উদাহরণ। এখানে “আমরা” বলতে Trinity [ত্রিত্ববাদ] বা অন্য কোনো মিথ্যা মতবাদকে বুঝায় না।

৬. আল-মূসিল : উত্তর পশ্চিম ‘ইরাক্বের একটি প্রধান শহর।

৭. নাসিয়ীবীন : আল-মূসিল এবং আশ-শামের মাঝপথে অবস্থিত একটি নগরী।

৮. আম্মুরিইয়াহ : একটি শহর যা রোম সাম্রাজ্যের (পূর্ব অঞ্চলের) অন্তর্ভুক্ত ছিল।

৯. রব : আল্লাহ হলেন আর-রব : আর তিনিই সেই সত্তা যিনি সব কিছুকে বেড়ে উঠার, নড়াচড়া করার ও পরিবর্তন হওয়ার ক্ষমতা দেন; সৃষ্টি ও আদেশদান তাঁরই অধীনে; তিনিই সেই মহান প্রভু যার সার্বভৌমত্বে, রাজত্বে ও সুউচ্চতায় তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। যিনি অস্তিত্ববান সকল কিছুর রিযিকদাতা ও পালনকর্তা।

১০.মূসা (‘আলাইহি সালাম)-এর মতো একজন নবী :

তুলনাযোগ্য ক্ষেত্রবিশেষ ঈসা

মুহাম্মাদ

মূসা

জন্ম

অস্বাভাবিক

স্বাভাবিক

স্বাভাবিক

পারিবারিক জীবন

অবিবাহিত ছিলেন কোনো সন্তান ছিল না

বিবাহিত ছিলেন সন্তান ছিল

বিবাহিত ছিলেন

মৃত্যু

মৃত্যুবরণ করেন নি (ঊর্ধ্বাকাশে আছেন। কেয়ামতের পূর্বে মৃত্যুবরণ করবেন)

স্বাভাবিক

স্বাভাবিক

   বাধ্য হয়ে হিজরত

(যৌবনকালীন)

হিজরত করেন নি

মদীনায় হিজরত

করেন

মিদিয়ানে হিজরত

করেন

ওয়াহী লিপিবদ্ধকরণ

তাঁর পরবর্তীতে

তাঁর জীবদ্দশায়

তাঁর জীবদ্দশায়

নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা

অধিকাংশ ইস্রাঈলীয় দ্বারা প্রত্যাখ্যাত

প্রত্যাখ্যাত পরবর্তীতে গৃহীত

প্রত্যাখ্যাত পরবর্তীতে গৃহীত

১১. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বয়স তখন চল্লিশ আর সে সময় তিনি মক্কার হিরা’ গুহায় অবস্থান করছিলেন যখন জিব্রীল তাকে আদেশ দিলেন : “পড়ুন বা তেলাওয়াত করুন!” মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আতঙ্কিত হয়ে উত্তর দিলেন : “আমি পড়তে জানি না!” তারপর সেই ফেরেশতা পুনরায় তেলাওয়াত করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বাণীর পুনরাবৃত্তি করলেন: “পড়ুন! আপনার রবের নামে, যিনি (যা অস্তিত্বে আছে সে সমস্ত কিছুকে) সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ুন! আর আপনার রব মহিমান্বিত। যিনি কলম দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন।” [কুরআন, আল-আলাক্ব :১-৫]

১২. লক্ষ্য করুন, বাইবেলে ইস্রাঈলীদেরকে ইসমাঈলীদের “জ্ঞাতি ভাই” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। দেখুন, জেনেসিস ১৬:১২ এবং জেনেসিস ২৫:১৮।

১৩. “এই হলো আরব সম্পর্কে বার্তা। দেদানের লোক, তোমরা আরবের বিরান দেশে নিজেদের কাফেলা স্থাপন করো। তৃষ্ণার্ত লোকেরা তোমাদের কাছে এলে তাদেরকে পানি পান করাও। হে তেমা অঞ্চলের লোকেরা! তোমরা উদ্বাস্তুদেরকে আহার করাও। তারা পলায়ন করছে সেই তলোয়ারগুলো থেকে যা তাদেরকে হত্যার করার জন্য প্রস্তুত, সেই ধনুক থেকে যেগুলো নিক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত, যুদ্ধের সেই সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে [তারা পলায়ন করছে] (এখানে সম্ভবত মদীনায় হিজরত করার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে)। তখন প্রভু আমাকে বললেন, “ঠিক এক বছরের ভিতর কেদারের (অর্থাৎ : নবীর গোত্র যা ঐ সময়ে আরবের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত গোত্র হিসেবে পরিচিত ছিল) শ্রেষ্ঠত্ব বিলীন হবে।” (আইযাইয়াহ ২১: ১৩-১৭, গুড নিউজ বাইবেল, আমেরিকান বাইবেল সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত, ১৯৭৮)।

১৪. আহমাদ নামের আক্ষরিক অর্থ হলো : “যে ব্যক্তি অন্যদের চেয়ে আল্লাহর বেশি প্রশংসা করে।” এটি হলো নবী মুহাম্মাদের দ্বিতীয় নাম – একটি সহীহ বর্ণনায় তিনি বলেন : “আমার পাঁচটি নাম রয়েছে : আমি মুহাম্মাদ এবং আহমাদ ; আমি আল-মাহী যার মাধ্যমে আল্লাহ (কুফর) দূরীভূত করবেন; আমিই আল-হাশির যে সর্বপ্রথম পুনরুত্থিত হবো, এরপর মানুষেরা পুনরুত্থিত হবে; এবং আমি আল-‘আক্বিব (অর্থাৎ : আমার পর আর কোনো নবী আসবে না)।” এই বর্ণনাটি সহীহ আল-বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, যা নবীর কথা, কাজ ও সুন্নাতের সবচেয়ে খাঁটি সংগ্রহশালা (খ.৪, #৭৩২, ইংরেজি-আরবি। প্রকাশনা : আদ-দারুল ‘আরাবিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন)।

১৫. আরবের একটি গোত্র।

১৬. ওয়াহী প্রাপ্ত হওয়ার তেরো বছর পর।

১৭. মদীনা শহরে।

১৮. আল্লাহ প্রদত্ত একটি মু’জিযা।

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading