﴾ۚوَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ﴿
‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাজ্জ ও ‘উমরাহ সম্পূর্ণ করো।’
[আল-বাকারা: ১৯৬]
★ ১. আপনি যখন মীক্বাতে পৌঁছাবেন তখন (অথবা ঠিক এর পূর্বে) ইহরাম বাধুন অতঃপর পাঠ করুন:
لَـبَّـيْكَ ٱللّـهُـمَّ بِعُمْرَة
লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা বি-‘উমরাহ।
[হে আল্লাহ, আমি ‘উমরাহ পালনের জন্য উপস্থিত।]
★২. যদি আপনি ‘উমরাহ সম্পন্ন করতে না পারার আশঙ্কা করেন, তাহলে পাঠ করুন:
اللَّهُمَّ مَحِلِّيْ حَيْثُ حَبَسْتَنِي
আল্লাহুম্মা মাহিল্লী হাইসু হাবাস্তানী।
[হে আল্লাহ! আমার স্থান সেখানেই হবে যেখানে আপনি আমাকে বাধা দিবেন।]
★৩. কিবলামুখী হয়ে দাড়ান অতঃপর পাঠ করুন:
اللَّهُمَّ هَذِهِ عُمْرَةٌ لَا رِيَاءَ فِيْهَا وَلَا سُمْعَة
আল্লাহুম্মা হাযিহি ‘উমরাহ, লা রিয়া-আ ফীহা ওয়া লা সুম’আহ।
[হে আল্লাহ! এটি এমন একটি উমরাহ, এতে নেই কোনো লৌকিকতা আর না প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।]
★৪. আল-মাসজিদুল হারামে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত উচ্চস্বরে এবং বেশি বেশি করে নিম্নোক্ত তালবিয়াটি পাঠ করুন:
لَـبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْك، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْك، إنَّ الْحَمْدَ وَ النِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْك لَا شَرِيْكَ لَك
লাব্বাইকা-আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি’মাতা, লাকা ওয়াল-মুলক, লা শারীকা লাক।
(আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত, আমি উপস্থিত আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি উপস্থিত। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা এবং সমস্ত অনুগ্রহ আপনারই, এবং সমস্ত রাজত্বও আপনার, আপনার কোনো অংশীদার নেই।)
★৫. এছাড়াও তালবিয়ার অংশ হিসেবে এটি পাঠ করা যেতে পারে:
لَـبَّـيْكَ إِلٰهَ الْحَقّ
লাব্বাইকা ইলাহাল হাক্ব।
[আমি উপস্থিত! হে পরম সত্য ইলাহ।]
★৬. প্রথমে ডান পা দিয়ে আল-মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করুন অতঃপর পাঠ করুন:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ سَلِّم، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أبْوَابَ رَحْمَتِك
আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া সাল্লিম। আল্লাহুম্মাফ-তাহলী আবওয়াবা রহমাতিক।
[হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দিন।]
★৭. হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে আরম্ভ করুন। পুরুষরা ইহরামের কাপড় ডান বাহুর বগলের নিচ দিয়ে (বাম কাঁধের উপরে) রাখুন আর ডান কাঁধটি উন্মুক্ত রাখুন। প্রতিটি চক্করের শুরুতে, কালো পাথর স্পর্শ করুন, যদি তা না পারেন, হাত দিয়ে এর প্রতি ইশারা করুন, অতঃপর বলুন:
اللَّه أكْبَر
আল্লাহু আকবার।
[আল্লাহ সবচেয়ে মহান।]
অতিরিক্ত কোনো দু’আ করার উদ্দেশ্যে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
★৮. ৭ চক্কর দিয়ে কাবার তাওয়াফ করুন। পুরুষরা প্রথম ৩টি চক্কর দ্রুত হেঁটে (রমল) সম্পন্ন করুন আর পরবর্তী ৪টি চক্কর স্বাভাবিক গতিতে সম্পন্ন করুন। প্রতিটি চক্করে, যখন রুকনু ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মাঝামাঝি আসবেন তখন নিম্নোক্ত দু‘আ পাঠ করবেন:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَ فِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَ قِنَا عَذَابَ النَّار
রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ ওয়াক্বিনা ‘আযাবান নার।
[হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।]
তাওয়াফের সময়, দু‘আ করুন, আল্লাহর স্মরণ করুন এবং কুরআন তিলাওয়াত করুন।
★৯. পুরুষরা ডান কাঁধ পুনরায় ঢেকে নিন, অতঃপর মাক্বামে ইব্রাহীমের পেছনে গিয়ে এই দু’আ পড়ুন:
وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ إبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى
ওয়াত্তাখিযূ মিন-মাক্বামি ইবরাহীমা মুসাল্লা।
[এবং মাক্বামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করুন।]
যদি সম্ভব হয়, তাহলে মাক্বামে ইবরাহীমের পেছনে সালাত আদায় করুন, আর তা সম্ভব না হলে আল-মাসজিদুল হারামের যে কোনো স্থানে তা আদায় করে নিন।
★১০. এখানে ২ রাকা‘আত সালাত পড়ুন। প্রথম রাকা‘আতে সূরাহ আল-কাফিরূন ও দ্বিতীয় রাকা‘আতে সূরাহ আল-ইখলাছ তিলাওয়াত করুন। আপনার সামনে সুতরাহ রেখে সালাত আদায় করুন।
★১১. এরপর জমজমের ট্যাপ থেকে পানি পান করুন, তারপর কিছু পানি মাথায় ঢালুন।
★১২. হাজরে আসওয়াদের নিকট ফিরে আসুন আর সম্ভব হলে পূর্বের ন্যায় তা স্পর্শ করুন, এবং আল্লাহু আকবার বলুন, আর যদি তা স্পর্শ করতে না পারেন তাহলে সা’ঈর উদ্দেশ্যে সাফা-মারওয়ার দিকে রওনা দিন।
★১৩. সাফা থেকে আপনার সা’ঈ (হাঁটা) শুরু করুন। সাফার নিচে এসে এই দু’আ পাঠ করুন:
إنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْه أنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَإنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيْم ‐ نَبْدَأ بِمَا بَدَأ اللَّهُ بِهِ
ইন্নাস-সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা‘আ-ইরিল্লাহি, ফামান হাজ্জাল বাইতা আউই‘তামারা, ফালা জুনাহা আলাইহি আই-ইয়াত্ত্বাওয়্যাফা বিহিমা, ওয়া মান তাত্বাওয়্যা‘আ খাইরান, ফা ইন্নাল্লাহা শা-কিরুন আলীম।
[নিশ্চয়ই সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্যতম। সুতরাং, যে ব্যক্তি কাবা ঘরের হজ করবে অথবা উমরা করবে, তার জন্য উভয়ের সাঈ করাতে কোনো দোষ নেই। আর যে স্বেচ্ছায় সৎকর্ম করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।]
★১৪. সাফায় অবস্থানকালীন, কিবলাহমুখী হয়ে হাত তুলে এই দু’আ ৩ বার পাঠ করুন:
اللَّهُ أكْبَرُ، اللَّهُ أكْبَرُ، اللَّهُ أكْبَرُ لَا إِلٰهَ إلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَ يُمِيْتُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْر؛ لَا إِلٰهَ إلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَه، أنْجَزَ وعْدَهُ وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাই-ইন ক্বাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, আনজাযা ওয়া’দাহু ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।
[আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার অর্থে ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সকল কিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার অর্থে ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, এবং তিনি সকল বিরোধী দলগোষ্ঠীকে একাই পরাজিত করেছেন।]
প্রথম এবং দ্বিতীয়বার পাঠ করার পর প্রচুর দু‘আ করুন কিন্তু তৃতীয়বারের ক্ষেত্রে তা করবেন না।
★১৫. এরপর সাফা থেকে পায়ে হেঁটে মারওয়াহ পাহাড়ে যান, এবং সাফা পাহাড়ে যে দু‘আটি পাঠ করেছেন সেখানে [অর্থাৎ মারওয়াহ] পৌঁছে তাই পাঠ করুন। এই হলো একটি পূর্ণাঙ্গ সা’ঈ। এরপর পুনরায় সাফা পাহাড়ে ফিরে আসুন আর এই একই দু’আ পাঠ করুন। এইভাবে সাতবার প্রদক্ষিণ করুন যা মারওয়াহ পাহাড়ে গিয়ে শেষ হবে। মারওয়াহ পাহাড়ে সর্বশেষ প্রদক্ষিণের পর আর এই দু‘আটি পাঠ করবেন না। আর দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সবুজ বাতি দেখার পর, শুধু পুরুষেরা এক সবুজ বাতি থেকে আরেক সবুজ বাতির মধ্যবর্তী স্থানটুকু দৌড়াবে, এর বেশি না। অন্যদের হয়রানি করবেন না বা ধাক্কা দিবেন না।
★১৬. আপনি আল-মাসজিদুল হারাম থেকে এখন বাম পা দিয়ে বের হতে পারেন ও নিম্নোক্ত দু‘আ পাঠ করতে পারেন:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ سَلِّم، اللَّهُمَّ إنِّي أسْألُكَ مِنْ فَضْلِك
আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া সাল্লিম, আল্লাহুম্মা ইন্নী আস-আলুকা মিন ফাদ্বলিক।
[হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।]
★১৭. পরিশেষে, পুরুষেরা তাদের পুরো মাথা মুণ্ডন করবেন, এবং এটিই উত্তম; অথবা মাথার সমস্ত চুল সমানভাবে কেটে নিবেন। মহিলারা তাদের মাথার চুল একত্রিত করবেন, এবং চুলের আগা থেকে আঙুলের অগ্রভাগ সমপরিমাণ চুল কেটে নিবেন। আপনার উমরাহ এখন পরিপূর্ণ হলো, মহান আল্লাহ যেন ক্ববূল করে নেন।
Share this:
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr

















