Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors
Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

হজ এবং উমরার নিয়মাবলি

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে এবং ইবন বায, ইবন উসাইমীন, আলবানী এবং সালিহ আল-ফাওযানের মতো অতীত ও বর্তমান যুগের আলেমদের লেখালেখির আলোকে হজ-উমরা।

ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক – আল্লাহ যেন রাসূলের মাহাত্ম্য ঘোষণা করেন। অতঃপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের উপর। এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর ভিত্তিতে লেখা হজ ও উমরার একটি সহজ এবং বিস্তারিত নির্দেশিকা। মহান আল্লাহ বলেছেন, “এবং মানবজাতির উদ্দেশ্যে হজের ঘোষণা দিন, তারা আপনার নিকট পায়ে হেঁটে আসবে এবং প্রতিটি শীর্ণকায় উটের পিঠে চড়ে আসবে, দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে আসবে।” (সূরা আল-হজ: ২৭) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “কেউ যদি হজ করার সংকল্প করে, সে যেন তা দ্রুত সম্পাদন করে, কারণ সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, তার বাহন হারিয়ে ফেলতে পারে, অথবা কোনো প্রয়োজন পূরণে ব্যস্ত হয়ে যেতে পারে।” [১] এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হজ করবে এবং সকল গর্হিত কাজ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকবে, তাহলে সে ঐদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফিরবে যেদিন সে তার মায়ের গর্ভ থেকে জন্মলাভ করেছিল।” [২]

মীকাত থেকে ইহরামের নিয়ত

ইহরাম হলো সেই বিশেষ অবস্থা যেটিতে মীকাতে পৌঁছানোর পরে প্রবেশ করতে হয় এবং তখন থেকে নির্দিষ্ট কিছু কাজ এবং পোশাক হারাম হয়ে যায়। মীকাত হলো একটি নির্দিষ্ট স্থান যেখান থেকে হজ-উমরার জন্য ইহরাম বাঁধতে হয়।

মীকাতের ৫টি স্থান রয়েছে যেখান থেকে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় প্রবেশ করতে পারে।

উমরার অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:

এই প্রতিটি বিষয় পরবর্তীতে ব্যাখ্যা করা হবে।

১. যারা হজ বা উমরা করবে তাদের জন্য ইহরামের আগে গোসল করা মুস্তাহাব। এটি ঋতুমতী নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যারা বিমানে যাবেন তারা একাজটি বাড়িতেও করতে পারেন।

২. পুরুষরা তাদের শরীরের উপরিভাগের জন্য একটি পোশাক (রিদা) পরিধান করবে এবং নীচের অংশের জন্য আরেকটি পোশাক (ইজার) পরিধান করবে। এমন স্যান্ডেল বা জুতা পরিধান করবে যা গোড়ালি উন্মুক্ত রাখবে। ইহরাম অবস্থায় ঘড়ি, সানগ্লাস, কনট্যাক্ট লেন্স, হিয়ারিং এইড, কোমরের বেল্ট, টাকার থলি, হাঁটার লাঠি, ছাতা এবং ব্যাগ ইত্যাদি বহন করা জায়েয।

৩. পুরুষদের জন্য মাথা ঢেকে রাখা, হাফপ্যান্ট, ফুলপ্যান্ট বা শার্ট পরিধান করা নিষিদ্ধ। আর মহিলারা স্বাভাবিক পোশাক পরিধান করবে এবং উপরে জিলবাব পড়বে। কিন্তু, নিকাব বা হাতমোজা পড়বে না। যদি আশেপাশে না-মাহরাম পুরুষ থাকে তাহলে তার জন্য জিলবাবের উপরের অংশ মাথার উপর থেকে টেনে নিয়ে মুখ ঢাকা জায়েয।

৪. পুরুষরা মীকাতে পৌঁছানোর আগেই ইহরামের পোশাক পরিধান করতে পারবে, এমনকি নিজ ঘর থেকেও তা করতে পারবে, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীরা করেছিলেন, কিন্তু মীকাতে পৌঁছানোর আগে সে ইহরামের নিয়ত করবে না [এবং তালবিয়া পাঠ করবে না]।

৫. পুরুষরা তাদের শরীরে এবং চুলে (পোশাকে নয়) একটি সুন্দর সুগন্ধি ব্যবহার করবে। মীকাতে ইহরাম বাঁধার পূর্বে মহিলারা চাইলে সুগন্ধীবিহীন কিছু ব্যবহার করতে পারবে।

৬. মীকাতে পৌঁছানোর পর নির্দেশিত পোশাক পরিধানের মাধ্যমে ইহরামের নিয়ত করা ওয়াজিব এবং উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা উচিত। মনে মনে হজের নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। বাহ্যিক এবং মৌখিকভাবে ইহরাম বাঁধা বাধ্যতামূলক। সুতরাং, মীকাতে পৌঁছানোর পর বলবে:

لَـبَّـيْكَ ٱللَّـهُـمَّ بِعُمْرَة

লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা বি-উমরা

(হে আল্লাহ, আমি ‘উমরাহ পালনের জন্য উপস্থিত।)

এভাবে সে ইহরামে প্রবেশ করবে। এই বিষয়ে আলেমরা একমত।

৭. মীকাতের (যেসব স্থানে ইহরামের নিয়ত করতে হয়) পাঁচটি স্থান রয়েছে। স্থানীয় লোকদের পাশাপাশি এগুলো তাদের জন্যও প্রযোজ্য যাদেরকে হজ বা উমরার সময়ে সেদিক দিয়ে অতিক্রম করতে হয়। আপনার হজ গাইড (বা বিমানের পাইলট) মীকাতে পৌঁছানোর আগেই আপনাকে অবহিত করবেন যাতে আপনি পূর্ণরূপে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

৮. উড়োজাহাজে থাকা অবস্থায়, মীকাতে পৌঁছানোর ঠিক আগে, কেবল উমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠ করবে। সে দাঁড়িয়ে কিবলার দিকে (সালাতের দিক) মুখ করে বলবে:

لَـبَّـيْكَ ٱللَّـهُـمَّ بِعُمْرَة

লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা বি-উমরা।
(হে আল্লাহ, আমি ‘উমরাহ পালনের জন্য উপস্থিত।)

এসময় থেকে পুরুষ ও নারীদের জন্য ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ

১. শরীরের কোনো অংশ থেকে চুল বা লোম অপসারণ।
২. নখ কাটা বা উঠিয়ে ফেলা। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে নখ ভেঙে যায় এবং কেউ অস্বস্তিবোধ করে, তাহলে তা তুলে নিতে কোনো ক্ষতি নেই আর সেজন্য কোনো ফিদিয়া দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
৩. পোশাক বা শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৪. ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করা নিষিদ্ধ: সে কোনো নারীকে বিয়ে করতে পারবে না, অভিভাবক হয়ে তার (নারীর) জন্য বিবাহ সম্পাদন করতে পারবে না এবং ইহরাম থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে না।
৫. যৌন উত্তেজনা নিয়ে স্ত্রীকে স্পর্শ করা, চুম্বন করা বা আদর করা নিষিদ্ধ, এবং যৌন সম্পর্ক করাও নিষিদ্ধ।
৬. খরগোশ, হরিণ এবং কবুতরের মতো বন্য প্রাণী হত্যা করা।

এসময় থেকে পুরুষদের জন্য ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ

১. মাথা ঢেকে রাখা। অর্থাৎ টুপি, স্কার্ফ, হুড বা পাগড়ির মতো এমন কিছু পরিধান করবে না যা তার মাথা স্পর্শ করে।
২. ইহরাম অবস্থায় পুরুষদের জন্য কিছু পোশাক নিষিদ্ধ। এখানে উদ্দেশ্য হলো এমন সব পোশাক যেগুলো সাধারণভাবে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তার চারপাশ থেকে ঢেকে রাখে; সেটি শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশ বা পুরো শরীরই ঢাকতে পারে; (যেমন) অন্তর্বাস, লম্বা শার্ট, হুডি, প্যান্ট, চামড়ার মোজা বা সাধারণ মোজা (যা গোড়ালি বা টাখনুর উপরে উঠে) এবং গ্লাভস – সবই নিষিদ্ধ।

৯. কেউ যদি কোনো কষ্ট বা বাধার আশঙ্কা করে যা তার হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে – হোক তা অসুস্থতা বা অন্য কিছু, সেক্ষেত্রে ইহরামের নিয়তের সাথে অতিরিক্ত শর্ত যোগ করা সুন্নাহ। সে বলবে:

اللَّهُمَّ مَحِلِّى حَيْثُ حَبَسْتَنِى

আল্লাহুম্মা মাহিল্লি হাইসু হাবাস্তানি।
(হে আল্লাহ, আমার স্থান সেখানেই যেখানে আপনি আমাকে বাধা দিবেন।)

তারপর তাকে বলতে হবে:

اللَّهُمَّ هَذِهِ عُمْرَةٌ لَا رِيَاءَ فِيْهَا وَلا سُمْعَة

আল্লাহুম্মা হাযিহি উমরা, লা রিয়া-আ ফীহা ওয়ালা সুমআহ।
(হে আল্লাহ, এটি এমন একটি উমরা, যাতে নেই লৌকিকতা বা প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।)

১০. অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তালবিয়া পাঠ করবে:

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْك، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْك، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْك لَا شَرِيْكَ لَك

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শরীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা, লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।

(আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত, আমি উপস্থিত আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি উপস্থিত। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা এবং সমস্ত অনুগ্রহ আপনারই, এবং সমস্ত রাজত্বও আপনার, আপনার কোনো অংশীদার নেই।) এই তালবিয়াটি উচ্চস্বরে বলবে। যদি আশেপাশে কোনো পরপুরুষ না থাকে তাহলে মহিলারাও উচ্চস্বরে বলবে। যখন কাবাঘরে পৌঁছাবে, তখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে এবং উমরা শুরু করবে।

মসজিদুল হারাম এবং উমরার তাওয়াফ

১১. প্রথমে ডান পা দিয়ে মসজিদ আল-হারামে প্রবেশ করা মুস্তাহাব। তারপর বলবে:

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَسَلِّم، اللَّهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া সাল্লিম। আল্লাহুম্মাফতাহলী আবওয়াবা রহমাতিকা।

[হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রশংসাকে সর্বোচ্চ মজলিসে সমুন্নত করুন এবং তার উপর শান্তি বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।]

১২. কাবাঘর তাওয়াফ করার জন্য ওযু করা ওয়াজিব। সে সরাসরি কালো পাথরের (হাজরে আসওয়াদ) নিকটে যাবে, সেদিকে মুখ করে বলবে:

بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَر

বিসমিল্লাহি, আল্লাহু আকবার।

[আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।]

হাত দিয়ে কালো পাথরটি স্পর্শ করবে এবং তা চুম্বন করবে আর সম্ভব হলে তার উপরে সিজদা দিবে।

১৩. যদি কালো পাথর চুম্বন করা সম্ভব না হয়, তাহলে সে তার হাত দিয়ে সেটি স্পর্শ করবে, তারপর তার হাত চুম্বন করবে। যদি সে এটি স্পর্শ করতে না পারে, তাহলে সে তার হাত (কালো পাথরের) দিকে তুলে শুধু ‘বিসমিল্লাহি, আল্লাহু-আকবার’ বলবে, শুধু আল্লাহু-আকবার বলে তাকবীর দিবে, তার হাত চুম্বন করবে না। এটি প্রত্যেক চক্করের ক্ষেত্রে করবে। ভিড়ের মাঝে ধাক্কাধাক্কি করে কালো পাথরের নিকট যাওয়া নিষেধ।

১৪. তাওয়াফের সময় পুরুষরা তাদের উপর অংশের কাপড় (রিদা) ডান বগলের নিচে বাম কাঁধের উপরে রেখে পরিধান করবে। প্রথম তিনটি চক্করের ক্ষেত্রে, পুরুষরা দ্রুততা এবং উদ্যমের সাথে কালো পাথর থেকে (পুনরায়) কালো পাথর পর্যন্ত হাঁটবে (এটিকে রমল বলা হয়)। যাদের সঙ্গে নারী, ছোট শিশু, বৃদ্ধ রয়েছে বা যারা হুইলচেয়ার ঠেলে তাওয়াফ করবে তাদের পক্ষে এটি সম্ভব নাও হতে পারে, সেক্ষেত্রে রমল না করলেও কোনো সমস্যা নেই। অবশিষ্ট চক্করগুলোতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটবে। কাবাকে বাম দিকে রেখে কাবার চারপাশে তাওয়াফ করা শুরু করবে। সাতবার কালো পাথর অতিক্রম করবে। যখন সর্বশেষ চক্কর শেষ করে সে কালো পাথরের নিকট পৌঁছাবে এবং (তাওয়াফ) সম্পন্ন করবে, তখন সে তাকবীর বলবে না এবং হাতও তুলবে না এবং এভাবেই (তাওয়াফ করা) শেষ করবে।

এছাড়াও, তাওয়াফ করার সময় অবশ্যই নিচু অর্ধবৃত্তাকার দেয়ালের (আল-হিজর) বাইরে অবস্থান করতে হবে। সেটি অতিক্রম করলে তাওয়াফ বাতিল হয়ে যায়।

১৫. রুকন আল-ইয়ামানী (ইয়েমেনী কর্ণার) অতিক্রম করার সময় প্রতিবার হাত দিয়ে সেটি স্পর্শ করবে কিন্তু চুম্বন করবে না। যদি সে স্পর্শ করতে না পারে, তাহলে তার হাত দিয়ে সেটির দিকে ইঙ্গিতও করবে না। অন্য দুটি কর্ণার স্পর্শ করবে না বা সেগুলোর দিকে ইশারা করবে না।

১৬. রুকন আল-ইয়ামানী (ইয়েমেনী কর্ণার) এবং কালো পাথরের মাঝে কুরআনে বর্ণিত এই দুআটি পাঠ করা উচিত:

رَبَّنَا آتِنَا فِى الدُّنْيا حَسَنَةً وَفِى الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّار

রব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাহ ওয়া ক্বিনা আযাবান-নার।

(হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এই দুনিয়ায় কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।)

১৭. তাওয়াফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো যিকির নেই, তাই কেউ কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে অথবা সুন্নাহ থেকে যেকোনো যিকির পাঠ করতে পারে। এই যিকির একাকী করতে হয়, সমস্বরে বা সমবেতভাবে নয়। এই পুস্তিকাটির শেষে কিছু মাসনূন দুআ যোগ করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে সেগুলো দেখুন।

১৮. ঋতুমতী নারীর জন্য তাওয়াফ করা হারাম। সেক্ষেত্রে সে ইহরাম অবস্থায় থাকবে, ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, গোসল করবে, তারপর তাওয়াফ এবং সাঈ করবে। যে মহিলা (ঋতুমতী নয় বরং) অনিয়মিত স্রাবে আক্রান্ত সে স্বাভাবিকভাবেই হজ-উমরা পালন করবে।

১৯. যখন সপ্তম চক্করটি শেষ করবে, তখন সে তার ডান কাঁধ ঢেকে নিবে এবং মাক্বামে ইবরাহীমের নিকট চলে যাবে এবং নিম্নলিখিত দুআ পাঠ করবে:

وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى

ওয়াত্তাখিযূ মিন-মাক্বামি ইবরাহীমা মুসাল্লা।

(এবং মাক্বামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করুন।)

২০. মাক্বামে ইবরাহীমকে তার এবং কাবার মাঝখানে রেখে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে। প্রথম রাকাতে সূরা আল-কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-ইখলাস পাঠ করবে। সালাতরত অবস্থায় (মুসল্লীর) সামনে দিয়ে হাঁটা অনুচিত। বরং কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে (সূতরা হিসেবে) সামনে রেখেই সর্বদা সালাত আদায় করা উচিত। জনাকীর্ণ স্থানে, কমপক্ষে সালাতরত ব্যক্তি এবং তার সিজদার মধ্যখান দিয়ে চলাচল করা উচিত নয়।

২১. দুই রাকাত সালাত পড়ার পর সে জমজমের পানির ফোয়ারার দিকে যাবে এবং সেখান থেকে পানি পান করবে এবং কিছু তার মাথায় ঢালবে।

২২. তারপর সে কালো পাথরের নিকট ফিরে আসবে, ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে এবং সেটি স্পর্শ করবে। যদি সে জানে যে সে এটি স্পর্শ করতে পারবে না, তাহলে সে সাঈ করার জন্য সরাসরি সাফা পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।

সাফা এবং মারওয়ার সাঈ

২৩. এখন তাকে সাফা এবং মারওয়াহ পর্বতের (দুটি ছোট পাহাড়) মাঝে সাঈ করতে হবে। ওযু করা মুস্তাহাব কিন্তু ওয়াজিব নয়। যখন সাফা পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছাবে তখন বলবে:

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّه شَاكِرٌ عَلِيْم

ইন্নাস-সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা‘আ-ইরিল্লাহি, ফামান হাজ্জাল বাইতা আউই‘তামারা, ফালা জুনাহা আলাইহি আই-ইয়াত্ত্বাওয়্যাফা বিহিমা, ওয়া মান তাত্বাওয়্যা‘আ খাইরান, ফা ইন্নাল্লাহা শা-কিরুন আলীম।

(নিশ্চয়ই সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্যতম। সুতরাং, যে ব্যক্তি কাবা ঘরের হজ করবে অথবা উমরা করবে, তার জন্য উভয়ের সাঈ করাতে কোনো দোষ নেই। আর যে স্বেচ্ছায় সৎকর্ম করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।)

এই বাক্যগুলো প্রতিটি প্রদক্ষিণের ক্ষেত্রে নয় বরং শুধু এই সময় একবারই পাঠ করবে।

২৪. তারপর (শুধু এখানে) বলবে:

نَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّٰهُ بِهِ

নাবদাউ বিমা বাদা-আল্লাহু বিহি 

[আল্লাহ যেখান থেকে শুরু করেছেন, আমরাও সেখান থেকে শুরু করবো।] 

২৫. তারপর সে সাফায় আরোহণ করবে এবং সম্ভব হলে কাবা দেখার চেষ্টা করবে। সেদিকে মুখ করে তার হাত তুলবে এবং বলবে: 

اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَه أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَ نَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাই-ইন ক্বাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, আনজাযা ওয়া’দাহু ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু। 

[আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহানআল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সকল কিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, এবং তিনি সকল বিরোধী দলগোষ্ঠীকে একাই পরাজিত করেছেন।] 

এটি তিনবার পাঠ করবে এবং প্রতিটি পাঠের পরে কল্যাণের জন্য প্রচুর দুআ করবে (কিন্তু তৃতীয়বারের পর আর দুআ করবে না)। এই বইয়ের শেষাংশে কিছু চমৎকার দুআ আছে। 

২৬. তারপর সাফা পাহাড় থেকে নেমে মারওয়া পাহাড়ের দিকে যাবে। সবুজ বাতিতে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত হাঁটবে এবং পরবর্তী সবুজ বাতি পর্যন্ত দৌড়াবে। দৌড়ানো কেবল পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য। 

২৭. তারপর সে হেঁটে মারওয়া পাহাড়ে যাবে এবং তা কিছুদূর আরোহণ করবে এবং কাবার দিকে মুখ করে তাই করবে যা সাফায় করেছিল, অর্থাৎ সে সাফায় যা পাঠ করেছিল সেটিই পাঠ করবে এবং হাত তুলে দুআ করবে (পয়েন্ট ২৫ দেখুন)। এভাবে একটি সাঈ সম্পন্ন হবে । 

২৮. তারপর সে সাফায় ফিরে যাবে, হাঁটার স্থানে হাঁটবে, সবুজ বাতি থেকে (পরবর্তী সবুজ বাতি) পর্যন্ত দৌড়াবে (দৌড়ানো শুধু পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য)। আর এভাবেই দ্বিতীয় সাঈ সম্পন্ন হবে। সাতবার প্রদক্ষিণ না করা পর্যন্ত এটি পুনরাবৃত্তি করবে এবং মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে শেষ করবে। যখন মারওয়ায় সর্বশেষ প্রদক্ষিণটি সম্পন্ন করবে, তখন সে পূর্বে যা পাঠ করেছিল সেটি আর পাঠ করবে না এবং হাত তুলে দুআও করবে না কারণ তার সাঈ করা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। 

২৯. উমরা করার সময়ে অহেতুক কষ্ট এড়াতে স্যান্ডেল পরা জায়েয। বয়স্ক, আহত বা অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য উমরার সময়ে হুইলচেয়ার ব্যবহার করা এবং পুরো উমরাহজুড়ে বাহনে থাকাও জায়েয। হুইলচেয়ার ঠেলে নেওয়া ব্যক্তি এবং বসে থাকা ব্যক্তি উভয়ের উমরা বৈধ। 

৩০. যখন সপ্তমবারের মতো মারওয়া পাহাড় প্রদক্ষিণ করা সম্পন্ন করবে, তখন তারা (পুরুষরা) মাথার চুল সমানভাবে ছোট করবে। মহিলারা তাদের মাথার চুল একত্রিত করবে এবং আঙ্গুলের অগ্রভাগের সমপরিমাণ কেটে ফেলবে, অতঃপর ‘উমরা’ সমাপ্ত করবে। ইহরাম বাঁধার পরে তার জন্য যেসব বিষয় নিষিদ্ধ ছিল তা এখন আবার জায়েয হয়ে যাবে, যার মধ্যে স্ত্রী সহবাসও অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি হজের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে সে ৮ই যুল-হিজ্জাহ পর্যন্ত এই অবস্থায় থাকবে।

উমরার আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি। 

হজের দিনসমূহ – আনুষ্ঠানিকতার সারাংশ

  • ৮ই যুল-হিজ্জাহ। দুপুরের আগে: মক্কা থেকে মিনায় চলে যাওয়া। (তারওয়ীয়্যার দিন।)
  • ৯ই যুল-হিজ্জাহ। সূর্যোদয়ের পর: মিনা থেকে আরাফায় চলে যাওয়া। (আরাফার দিন।)
  • ৯ই যুল-হিজ্জাহ। সূর্যাস্তের পর: আরাফাহ থেকে মুযদালিফায় যাওয়া।
  • ১০ই যুল-হিজ্জাহ হলো ঈদের দিন। সূর্যোদয়ের ঠিক আগে: মুযদালিফা থেকে জামারাতে যান এবং শুধু জামারাতুল আক্বাবায় (তৃতীয় পিলার) পাথর নিক্ষেপ করুন।
  • ১০ই যুল-হিজ্জাহ। এই দিনে: কুরবানী করুন, মাথা মুণ্ডন করুন (বা মাথার চুল ছাঁটাই করুন), তাওয়াফ এবং সাঈ করুন।
  • ১০ই যুল-হিজ্জাহ। মিনায় ফিরে যান এবং রাত্রি যাপন করুন।
  • ১১ই যুল-হিজ্জাহ। মধ্যাহ্নের পরে: তিনটি পিলারে পাথর নিক্ষেপ (রামী) করুন। মিনায় রাত্রি যাপন করুন। (এগুলো তাশরীকের দিন: ১১ই, ১২ই, ১৩ই যুল-হিজ্জাহ)
  • ১২ই যুল-হিজ্জাহ। দুপুরের পর: তিনটি জামরাতে পাথর নিক্ষেপ করা (রামী)। তারপর কেউ চাইলে (সূর্যাস্তের পূর্বে) মিনা ত্যাগ করতে পারে অথবা সেখানে আরেকটি রাত অবস্থান করতে পারে।
  • ১৩ই যুল-হিজ্জাহ। যারা মিনায় আরেকটি রাত্রি যাপন করেছে: দুপুরের পর, তারা তিনটি জামরাতে পাথর নিক্ষেপ (রামী) করবে অতঃপর মিনা ত্যাগ করবে।
  • হজের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হলো। মক্কা ত্যাগ করার ঠিক পূর্বে তাওয়াফ আল-ওয়াদা (বিদায় তাওয়াফ) সম্পন্ন করুন।

হজের বিশদ বিবরণ- ৮ই যুল-হিজ্জাহ

৩১. ৮ই যুল-হিজ্জার সকালে, সে উমরার ইহরামের মতো ইহরাম বাঁধবে (পয়েন্ট ১-৬ দেখুন)। কিন্তু এবার নিম্নোক্ত বাক্য দিয়ে হজের তালবিয়াহ পাঠ করবে:
‘লাব্বাইকা হাজ্জাহ’ এবং মীকাতে যা করেছিল তাই করবে, কিন্তু এবার মক্কায় তাঁর বাসস্থান থেকে এটি আরম্ভ করবে।
যে ঋতুমতী মহিলা উমরা করেনি সে ইহরাম অবস্থায় থাকবে (যেহেতু সে ইহরাম ত্যাগ করেনি)। সে গোসল করবে এবং পুরুষদের ন্যায় হজের তালবিয়াহ পাঠ করবে।

৩২. দুপুরের আগে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হবে এবং সেখানে যুহরসহ পাঁচ ওয়াক্তের সালাত কসর (সংক্ষিপ্ত) করবে, সেগুলো সঠিক সময়ে আদায় করবে এবং জমা করবে না। মিনার উদ্দেশ্যে এই দিনের (অর্থাৎ ৮ই যুল-হিজ্জাহ) আগে রওনা না দেওয়াই সুন্নাহ। তবে, যদি সে এর আগে রওনা হয়, তাহলে তার উপর কিছু বর্তায় না—তবে এই কাজটি সুন্নাতের পরিপন্থি।

মিনার তাঁবু। প্রত্যেক দেশের জন্য তার নিজস্ব স্থান পৃথকভাবে নির্ধারণ করা আছে।

৯ই যুল-হিজ্জাহ – আরাফার দিন

৩৩. পরের দিন, ৯ই যুল-হিজ্জাহ সূর্যোদয়ের পরে, মিনা ত্যাগ করুন এবং তালবিয়াহ পাঠ করতে করতে আরাফাহ নামক বিস্তীর্ণ এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিন: 

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ، وَالنِّعْمَةَ، لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা, লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক। 

৩৪. যদি সম্ভব হয়, তাহলে আরাফার কাছাকাছি নামীরা নামক স্থানে থামুন এবং সেখানে খুতবা শুনুন। তারপর যুহরের সময়, এক আযান ও দুই ইকামত সহকারে যুহর ও আসরের সালাত জমা করে আদায় করুন। আর কেউ যদি ইমামের সাথে সালাত আদায় করতে না পারে, সে একইভাবে একাকী সালাত আদায় করবে, অথবা তার আশেপাশে যাদের অবস্থা অনুরূপ তাদেরকে নিয়ে জামাতে সালাত আদায় করবে। আর কেউ যদি আরাফায় পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত সালাত আদায় করতে না পারে, তাতে কোনো ক্ষতি নেই।

৩৫. তারপর সেদিনের বাকি অংশ আরাফায় অবস্থান করবে ও ইবাদতে মশগুল থাকবে। যুহর ও আসরের সালাতের পর আল্লাহর নিকট দুআ ও তাসবীহ পড়া শুরু করবে। কিছু চমৎকার দুআর জন্য এই পুস্তিকাটির শেষ অংশ দেখুন।

৩৬. সম্ভব হলে জাবাল আর-রাহমাহ এর পাদদেশে পাথরের উপর দাঁড়াবে এবং যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে পুরো আরাফাহ-ই দাঁড়ানো এবং দুআ করার স্থান। পাহাড়ে আরোহণ করা উচিত নয় যেমনটি কিছু অজ্ঞ লোকেরা করে। বরং, সে (পাহাড়ের দিকে মুখ না করে) কিবলার দিকে মুখ করবে এবং দাঁড়িয়ে হাত তুলে দুআ করবে এবং তালবিয়া পাঠ করবে। নিম্নলিখিত দুআটি বেশি বেশি পাঠ করবে কারণ এটি নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) দ্বারা পঠিত আরাফার দিনের সর্বোত্তম বাক্য।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাই-ইন ক্বাদীর। 

৩৭. আরাফায় অবস্থানকারীরা সাওম পালন করবে না। এটি কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা হজ পালন করছে না এবং যারা নিজ দেশে অবস্থান করছে। 

আরাফাহ থেকে মুযদালিফাহ ও মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া

৩৮. সূর্যাস্তের পর লোকেরা বিনম্রতা ও প্রশান্তি সহকারে, তাড়াহুড়া বা ধাক্কাধাক্কি না করে আরাফাহ থেকে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। সূর্যাস্তের আগে স্থান (আরাফাহ) ত্যাগ করা যাবে না । 

৩৯. মুযদালিফায় পৌঁছে আযান দিবে এবং মাগরিবের তিন রাকাত এবং এশার দু’রাকাত সালাত আদায় করবে, প্রতিটি সালাতের জন্য আলাদাভাবে ইকামত দিবে। তারপর সে ফজর পর্যন্ত ঘুমাবে যেন পরের দিনের জন্য শক্তি অর্জন করতে পারে। ঘুম থেকে জেগে যথাসময়ে ফজরের সালাত আদায় করবে। 

অতিরিক্ত ভিড়ের ভয়ে দুর্বল ব্যক্তি, মহিলা (এবং যারা তাদের উপর দায়িত্বশীল তাদের) জন্য মধ্য রাতের পরে মুযদালিফা ত্যাগ করা জায়েয। 

৪০. ফজরের সালাতের পরে, আকাশ অধিক আলোকিত না হওয়া পর্যন্ত মুযদালিফায় দাঁড়িয়ে, কিবলার দিকে মুখ করে আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং দুআ করবে। 

১০ই যুল-হিজ্জাহ: ঈদের দিন-নাহরের (কুরবানীর) দিন

৪১. অতঃপর তালবিয়া পাঠ করতে করতে মুযদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা দিবে:

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ، وَالنِّعْمَةَ، لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَ شَرِيكَ لَكَ

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শরীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা, লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক। 

জামরাত আল-আক্বাবায় পাথর নিক্ষেপ করতে যাওয়ার সময় সে সাতটি ছোট পাথর সংগ্রহ করবে। প্রতিটি পাথরের সাইজ ছোলার চাইতে সামান্য বড় হবে। এটি তিনটি জামরাতের মধ্যে সর্বশেষ জামরা এবং মক্কার সবচেয়ে নিকটস্থ জামরা এবং এই দিনে শুধু এটির উপরই পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। 

৪২. পাথর নিক্ষেপ করার জন্য জামরাতে পৌঁছানোর পরে, মক্কাকে তার বামে এবং মিনাকে তার ডানে রেখে, সেটির (জামরার) দিকে মুখ করে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করবে এবং প্রতিটি নিক্ষেপের সাথে ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। সর্বশেষ পাথরটি নিক্ষেপ করার পর সে তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে। কেউ যদি তা আগে করতে সমস্যা বোধ করে, তাহলে রাত হওয়ার আগ পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপ করতে পারবে। 

৪৩. এই জামরার উপরে পাথর নিক্ষেপ করার পর, তার জন্য তার স্ত্রী সহবাস ব্যতীত সবকিছুই হালাল হয়ে যায়, এমনকি সে যদি ইতোমধ্যে পশু কুরবানী, মাথা মুণ্ডন বা তাওয়াফ নাও করে থাকে। এটিই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাই সে তার (স্বাভাবিক) পোশাক পরিধান করতে পারবে এবং সুগন্ধিও ব্যবহার করতে পারবে। 

৪৪. পাথর নিক্ষেপ করার পর কুরবানী করবে: একজনের জন্য একটি ভেড়া, অথবা সাতজনের জন্য একটি গরু (বা উট)। কেউ যদি (নিজের পশু নিজেই) জবাই করে তাকে জবাই করার সময় নিম্নলিখিত দুআটি পাঠ করতে হবে:

بِـسْـمِ الله وَاللَّه أَكْـبَـرُ اللَّـهُـمَّ إِنَّ هَـذَا مِـنْـكَ وَلَـكَ اللَّـهُـمَّ تَـقَـبَّـلْ مِـنِّـي

বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা ইন্না হাযা মিনকা ওয়া লাকা, আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বাল মিন্নী। 

(আল্লাহর নামে এবং আল্লাহ সবচেয়ে মহান। হে আল্লাহ, এটি আপনার পক্ষ থেকে এবং আপনারই জন্য। হে আল্লাহ, আমার পক্ষ থেকে এটি ক্ববূল করুন।) 

এই দিন থেকে তাশরীকের শেষ দিন, ১৩ই যুল-হিজ্জাহ পর্যন্ত কুরবানী করার সুযোগ আছে। কুরবানীর গোশত খান, তা বণ্টন করুন এবং কিছু গরিবদের মাঝে বিতরণ করুন। 

৪৫. তারপর সে তার মাথা মুণ্ডন করবে অথবা চুল ছোট করবে, যদিও পুরুষদের জন্য মাথা মুণ্ডন করাই উত্তম। মহিলারা তাদের চুল একত্রিত করবে অতঃপর আঙ্গুলের অগ্রভাগ পরিমাণ চুল কেটে নিবে। 

১০ই যুল-হিজ্জার দিন এই কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে করা উত্তম, তবে কারো কারো জন্য এটি কঠিন হতে পারে—সেক্ষেত্রে, ধারাবাহিকতা পরিবর্তন করলে হজের কোনো ক্ষতি হবে না। 

তাওয়াফে ইফাদ্বা এবং সাঈ

৪৬. তারপর কাবার উদ্দেশ্যে রওনা হবে এবং পূর্বের ন্যায় সাত চক্কর দিয়ে তাওয়াফ করবে, তবে (এবার) সে ডান কাঁধের নিচে ইহরামের (কাপড়) বাঁধবে না এবং প্রথম তিনটি চক্করে দ্রুততার সহিত হাঁটবে না। তারপর সে মাক্বামে ইবরাহীমের পিছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং পূর্বের ন্যায় সাফা ও মারওয়ার সাঈ করবে (পয়েন্ট ১১-২৯ দেখুন)। এরপর থেকে, তার জন্য সবকিছু এমনকি স্ত্রী সহবাসও হালাল হয়ে যাবে, কারণ তখন সে আর ইহরাম অবস্থায় নেই। সে চাইলে মক্কা অথবা মিনায় যুহরের সালাত আদায় করতে পারে এবং প্রচুর পরিমাণে জমজমের পানি পান করতে পারে। 

৪৭. হজের পূর্ববর্তী কাজগুলো এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী করা সুন্নাহ: পাথর নিক্ষেপ করা, তারপর কুরবানী করা, তারপর মাথা মুণ্ডন করা, তারপর তাওয়াফে ইফাদ্বা করা, তারপর সাঈ করা। তবে, কেউ যদি এই ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম করে এবং এত্থেকে কোনোটি আগে-পরে করে, তবে তা জায়েয। উদাহরণস্বরূপ: তাওয়াফের আগে সাঈ করা, অথবা কুরবানীর আগে মুণ্ডন করা ইত্যাদি। 

৪৮. ঋতুমতী [এবং প্রসবোত্তর নিফাসরত] নারী তাওয়াফ ব্যতীত এই সমস্ত কাজই করবে। পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত এমনকি কয়েকদিন পর হলেও তাওয়াফ বিলম্বিত করবে। পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং তারপর গোসল করতে হবে। যদি তাওয়াফে ইফাদ্বার পরে তার ঋতুস্রাব শুরু হয়, তাহলে সে সাঈ করবে এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে, এতে কোনো ক্ষতি নেই। যদি এটি মাসিক বা নিফাসের (প্রসবোত্তর রক্তপাত) ​​ব্যতীত অন্য কোনো স্রাব হয়, তাহলে সে স্বাভাবিকভাবেই তাওয়াফ সহকারে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে।

১০ই-১৩ই যুল-হিজ্জাহ: মিনার রাতসমূহ

৪৯. তারপর মিনায় ফিরে যাবে এবং তাশরীকের দিন এবং রাতগুলোতে সেখানেই অবস্থান করবে। 

৫০. এই দিনগুলোতে সে দুপুর থেকে শুরু করে তিনটি জামরায় পাথর নিক্ষেপ করবে। সে প্রতিটি জামরায় সাতটি ছোট ছোট (ছোলা সাইজের) পাথর নিক্ষেপ করবে। খুব দুর্বল বা অসুস্থ ব্যক্তিরা (তাদের পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ করার জন্য) কাউকে নিযুক্ত করতে পারে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার নিজের পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপ করার পরে (প্রতিনিধি হিসেবে) প্রতিটি জামরায় পাথর নিক্ষেপ করবে। 

৫১. প্রথম জামরা (পিলার) দিয়ে শুরু করবে, যা মিনায় মসজিদ আল-খায়ফের সবচেয়ে নিকটবর্তী। এটিতে পাথর নিক্ষেপ করার পরে সামনে ডানদিকে এগিয়ে দীর্ঘসময় কিবলার দিকে মুখ করে হাত তুলে দুআ করবে। 

৫২. তারপর দ্বিতীয় জামরায় (পিলার) এসে একইভাবে পাথর নিক্ষেপ করবে, তারপর সে বাম দিকে সরে যাবে এবং কিবলার দিকে মুখ করে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে হাত তুলে দুআ করবে। 

৫৩. তারপর তৃতীয় জামরার নিকট যাবে, এবং এটি হলো জামরাতুল আক্বাবা, এবং একইভাবে পাথর নিক্ষেপ করবে। কাবা তার বাম দিকে এবং মিনা তার ডানদিকে রেখে দাঁড়াবে, কিন্তু এরপরে সে আর দুআ করবে না। 

৫৪. তারপর দ্বিতীয় দিনেও সে একইভাবে পাথর নিক্ষেপ করবে এবং সে যদি তৃতীয় দিনও মিনায় রাত্রিযাপন করে তাহলে একইভাবে পাথর নিক্ষেপ করবে। 

৫৫. তাশরীকের দুই দিন ও দুই রাত মিনায় অবস্থান করা ওয়াজিব। তৃতীয় দিনটি নফল এবং এতে সাওয়াব রয়েছে। সুতরাং, সে যদি দ্বিতীয় দিন (যা যুল-হিজ্জার ১২ তারিখ) পাথর নিক্ষেপ করার পর তৃতীয় দিন পাথর নিক্ষেপ করার জন্য সেখানে অবস্থান না করে স্থানটি (অর্থাৎ মিনা) ত্যাগ করে, তাহলে তা জায়েয। এছাড়াও, মিনায় থাকাকালীন মসজিদ আল-খায়ফে সালাত আদায় করার চেষ্টা করতে হবে কারণ সত্তরজন নবী (আলাইহিমুস সালাম) সেখানে সালাত আদায় করেছেন। 

৫৬. মিনায় থাকাকালীন প্রতি রাতে কাবার যিয়ারত করা এবং [সাত চক্কর দিয়ে] তাওয়াফ করা জায়েয এবং সাওয়াবের কাজ, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেছেন। 

৫৭. তাশরীকের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনে পাথর নিক্ষেপের কাজটি সম্পন্ন করার পর, সে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলো অতঃপর সে মক্কায় ফিরে যাবে। 

বিদায়ী তাওয়াফ: আল-ওয়াদা

৫৮. যখন হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর সে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিবে, তখন তার জন্য মাক্বামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাকাত সালাত সহকারে কাবার বিদায় তাওয়াফ করা ওয়াজিব।

৫৯. যে মহিলা হজের জন্য তাওয়াফে ইফাদ্বা করেছেন এবং এরপর থেকে তার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে, সে বিদায়ী তাওয়াফ না করেই মক্কা ত্যাগ করতে পারবে। 

৬০. যখন তাওয়াফ শেষ করবে তখন মসজিদ থেকে তার বাম পা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বের হবে (পেছন দিকে হেঁটে নয়) এবং বলবে: 

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَسَلِّمْ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া সাল্লিম, আল্লাহুম্মা ইন্নী আস’আলুকা মিন ফাদ্বলিকা। 

[হে আল্লাহ, আপনি সর্বোচ্চ মজলিসে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রশংসা করুন এবং তার উপর শান্তি বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ চাচ্ছি।]

 

৬১. সে তার সাথে যতটুকু সম্ভব জমজমের পানি নিয়ে যেতে পারে, কারণ এতে বরকত রয়েছে। আর এর মাধ্যমেই তার হজ এবং উমরা সফর শেষ হবে। 

 

আল্লাহ যেন তাঁর ঐসকল মুখলিস বান্দাদের থেকে এটি কবুল করেন যারা সুন্নাহ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের পথকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে।

উমরার সারসংক্ষেপ

স্তম্ভসমূহ:

ওয়াজিবসমূহ: 

হজের সারসংক্ষেপ

স্তম্ভসমূহ:

ওয়াজিবসমূহ:

এগুলো ছাড়া বাকি সব মুস্তাহাব। 

কোনো রুকন ছুটে গিয়েছে?

তাহলে এই রুকনগুলো পূর্ণ না করা পর্যন্ত হজ বা উমরা কবূল হবে না। 

কোনো ওয়াজিব ছুটে গিয়েছে?

একটি ভেড়া কুরবানী করুন এবং মক্কার দরিদ্র মুসলিমদের মাঝে বিতরণ করুন। এরপরও হজ বা উমরা সঠিক হিসেবে গণ্য হবে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শহর (আল-মদীনা)—এবং তাঁর কবর যিয়ারত করা

আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় বসবাস করেছেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমনটি করেছেন তাঁর অনেক স্ত্রী ও সাহাবীগণ। আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে তাঁর (কবরের) পাশেই তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সাহাবী, দুই খলীফা, আবূ বকর এবং উমরকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) শায়িত করা হয়েছে। 

কিন্তু, নবী (আলাইহিমুস সালাম) এবং আউলিয়াদের কবর যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে সফর করা কারো জন্য বৈধ নয়। এটি (নিম্নোক্ত) হাদীস দ্বারা প্রমাণিত: 

“তিনটি (মসজিদ) ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদের উদ্দেশ্য সফর করা জায়েয নয়: মক্কার মসজিদ আল-হারাম, আমার মসজিদ এবং মসজিদ আল-আক্বসা।” 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদ যিয়ারত করা হজ বা উমরার সাথে সম্পৃক্ত কোনো ওয়াজিব আমল নয়। তবে, কেউ যদি মদীনায় অবস্থান করে, তাহলে জানাযায় অংশগ্রহণ করা এবং কবর যিয়ারত করা তার জন্য বৈধ। কেননা তা ব্যক্তিকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করতে পারে। 

এই প্রেক্ষিতে, কেউ চাইলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম) ও তাঁর দুই সাহাবীর কবর যিয়ারত করতে পারে এবং তাদেরকে সালাম দিতে পারে, ঠিক যেমন ইবন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) করতেন। 

তিনি বলতেন: 

“আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ। আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা বকর। আসসালামু আলাইকা ইয়া আবাতী (আমার পিতা)” এই বলে তিনি চলে যেতেন। 

সুতরাং, বর্তমান সময়ে একজন যিয়ারতকারী বলবে: 

আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ। আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা বকর। আসসালামু আলাইকা ইয়া উমর। 

তারপর বিলম্ব না করে চলে যাবে। 

আল-আল্লামাহ ইবন উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর দুই সাহাবী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কবরের সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দুআ করা জায়েয নয়। এই কাজটিকে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) ঘৃণা করতেন এবং বলতেন, ‘এটি একটি বিদআত যা সালাফদের যুগে প্রচলিত ছিল না এবং এই উম্মাহর পরবর্তী অংশ কখনই সংশোধিত হবে না ঐ বিষয়কে বাদ দিয়ে যে বিষয়টি দ্বারা এর প্রথম অংশ সংশোধিত হয়েছিল।’” 

ইবন তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “প্রত্যেকবার মসজিদে নববীতে প্রবেশ করার সময়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর যিয়ারত করার বিষয়টি ইমাম মালিক মদীনার লোকদের জন্য অপছন্দ করতেন কারণ এই উম্মতের সালাফরা তা করতেন না। 

বরং তারা মসজিদে যেতেন এবং আবূ বকর, উমর, উসমান এবং আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পিছনে সালাত আদায় করতেন – এবং প্রত্যেক মুসলিম তার সালাতে (তাশাহহুদে) বলতেন, ‘আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবি ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু।’ 

(হে নবী, আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক)। 

তারা সালাত শেষ হলে দাঁড়াতেন এবং চলে যেতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরে গিয়ে সালাম দিতেন না কারণ তারা জানতেন যে প্রতিদিন সালাতের [তাশাহহুদে] নবীর প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ করা, তাঁর স্মরণ করা এবং তাঁর জন্য দুআ করা আরো উত্তম এবং উৎকৃষ্ট কাজ। [৩]

আর যখন সালাত ও সালাম প্রেরণের বিষয়টি এমন, তাহলে যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের সামনে দাঁড়ায় এবং তাঁর সাথে কথা বলে, তাঁর নিকট সাহায্য, শাফায়েত (শাফাআহ), রহমত – অথবা উদ্ধার, রোগ নিরাময় ইত্যাদি চায় তাহলে সে কতটা পথভ্রষ্ট? এগুলো এমন শিরক যা একজন ব্যক্তির ইসলামকে বাতিল করে দেয়। 

কবরের সামনে গিয়ে প্রয়োজন পূরণের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করা জায়েয নয় যদিও সে কবরের সামনে দাঁড়ানোকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের কাজ এবং দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিশ্বাস করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ যাদের জীবদ্দশায় কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং যারা কবরকে ইবাদতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করে।” [৪]

বহুল প্রচলিত জাল এবং যঈফ হাদীস

১. “যে ব্যক্তি হজ করল অথচ আমার যিয়ারত করল না, তবে সে অবশ্যই আমাকে পরিত্যাগ করল।” এই হাদীসটি নিম্নে হলেও দুর্বল, যদিও বাস্তবে এটি জাল এবং মিথ্যা। এতে কিছু মাজহূল (অজ্ঞাত) ও দুর্বল বর্ণনাকারী আছে যাদের সম্পর্কে আদ-দারুকুত্বনী, আল-বাজ্জার এবং আল-বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন। 

২. “যে ব্যক্তি আমার মৃত্যুর পর আমার কবর যিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করল।” আদ-দারুকুত্বনী, আবূ ইয়ালা তার মুসনাদে এবং ইবন আদী তার আল-কামিল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনার সনদে দুর্বল এবং মাজহূল (অজ্ঞাত) বর্ণনাকারী রয়েছে। সুতরাং, বর্ণনাটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি সম্বোধন করা যাবে না। 

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই একটি সহীহ হাদীসে তার কবরকে উৎসব বা ইবাদতের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করতে নিষেধ করেছেন: ‘‘তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না, আর আমার কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করো না। তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করো। কারণ তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে যায়।” (আবূ দাঊদ) [৫]

৩। আলী ইবনুল হুসাইন (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, একদা তিনি দেখলেন যে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় প্রবেশ করে সেখানে দুআ করছিল। তিনি লোকটিকে এধরনের কাজ করতে নিষেধ করলেন। তিনি তাকে আরো বললেন, ‘‘আমি কি তোমার নিকট সেই হাদীসটি বর্ণনা করবো না, যা আমি আমার পিতার নিকট হতে শুনেছি এবং তিনি আমার দাদার নিকট হতে থেকে শুনেছেন, আর আমার দাদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: ‘‘আমার কবরকে তোমরা উৎসবের স্থান বানিও না এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না। তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করো। কারণ তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে যায়।’’ [৬]

আর যে হাদীসে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি [মসজিদ আন-নববীতে] চল্লিশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে, তার জন্য জাহান্নাম এবং মুনাফিকী থেকে মুক্তির ফয়সালা লেখা হবে।” শাইখ ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “মুহাদ্দিসগণ বলেছেন যে এই বর্ণনাটি দুর্বল, তাই এটিকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বা এর উপর নির্ভর করা যাবে না।” [৭]

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদে সালাত আদায় করার সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমার এই মসজিদে একটি সালাত আদায় করা মসজিদ আল-হারাম ব্যতীত অন্যান্য মসজিদে এক হাজার সালাত আদায় করার চেয়েও উত্তম।” [৮]

মসজিদ আল-ক্বুবা

মসজিদ আল-ক্বুবা মদীনায় অবস্থিত এবং সেখানে সালাত আদায় করলে একটি উমরার সমপরিমাণ সাওয়াব পাওয়া যায়। সাহল ইবন হুনাইফ বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “কেউ যদি এই মসজিদ, অর্থাৎ মসজিদ আল-ক্বুবার উদ্দেশ্যে বের হয়, অতঃপর সেখানে পৌঁছে সালাত আদায় করে তাকে একটি উমরার সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হয়।”  [৯]এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে, তারপর মসজিদ আল-ক্বুবায় পৌঁছে সালাত আদায় করে তাকে একটি উমরার সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হয়।” [১০]

মদীনার আজওয়া খেজুর  

আমরা মদীনা থেকে আজওয়া খেজুর পাই। সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন বিষ এবং জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।” [১১]

আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সকল সাহাবীদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। 

সুন্দর এবং সহজ দুআসমূহ কুরআনে বর্ণিত দুআসমূহ

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

“হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” 

[আল-বাক্বারা ২:২০১] 

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَآ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

“হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই অথবা ভুল করি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের উপর এমন কঠিন দায়িত্ব অর্পন করবেন না যেমনটি আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর করেছিলেন। হে আমাদের রব! আমাদের উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের উপর দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক ও আশ্রয়দাতা। সুতরাং আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায়ের উপর বিজয়ী করুন।” [আল-বাক্বারা ২:২৮৬] 

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

“হে আমাদের রব! সরল পথ প্রদর্শনের পর আমাদের অন্তরগুলোকে (সরল পথ থেকে) বক্র করে দিয়েন না, এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের উপর রহমত নাযিল করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহান দাতা।” [আলে ইমরান ৩:৮] 

رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

“হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি সুতরাং আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” [আলে ইমরান ৩:১৬] 

رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ

“হে আমার রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে উত্তম সন্তানাদি দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।” [আলে ইমরান ৩:৩৮] 

رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ

“হে আমাদের রব, আপনি যা নাযিল করেছেন তার উপর আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। অতএব, আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন।” [আলে ইমরান ৩:৫৩] 

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

“হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নিজেদের উপর যুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের উপর দয়া না করেন তাহলে নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।” [আল-আ’রাফ ৭:২৩] 

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

“হে আমাদের রব! আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।” [আল-আ’রাফ ৭:৪৭] 

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

“হে আমাদের রব! আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায়ের ফিতনার পাত্র বানিয়েন না। আর আপনার রহমতের দ্বারা আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায় হতে রক্ষা করুন।” [ইউনূস ১০: ৮৫-৮৬] 

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

“আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি। এবং তিনি মহান আরশের রব।” [আত-তাওবাহ ৯:১২৯] 

رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ

“হে আমাদের রব! আমাদেরকে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দান করুন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন।” [আল-আ’রাফ ৭:১২৬] 

رَبِّ اجْعَلْنِيْ مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِيْ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ

“হে আমার রব! আমাকে এবং আমার বংশধরদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা সালাত কায়েম করে। হে আমাদের রব! আমার দুআ কবূল করুন।” [ইবরাহীম ১৪:৪০] 

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

“হে আমাদের রব! সেদিন আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন যেদিন হিসাব কায়েম করা হবে।” [ইবরাহীম ১৪:৪১] 

رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِيْ بِهِ عِلْمٌ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِيْ وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ

“হে আমার রব! আমি আপনার নিকট এমন কিছু চাওয়া থেকে আশ্রয় চাই যে বিষয়ে আমি জানি না। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তাহলে নিশ্চয়ই আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।” [হূদ ১১:৪৭] 

رَّبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ

“হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে ঈমানদার হিসেবে প্রবেশ করে তাকে এবং সকল মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন।” [আন-নূর ৭১:২৮] 

رَبِّ اشْرَحْ لِيْ صَدْرِيْ . وَيَسِّرْ لِيْ أَمْرِيْ . وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِيْ . يَفْقَهُوا قَوْلِيْ

“হে আমার রব! আমার বক্ষকে প্রশস্ত করুন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।” [ত্বহা ২০:২৫-২৮] 

رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا

“হে আমার রব! আমার ইলম বৃদ্ধি করে দিন।” [ত্বহা ২০:১১৪] 

সুন্নাহ থেকে মাসনূন দুআসমূহ

اللَّهُمَّ إِنِي أَسْأَلُكَ الهُدَى، وَالتُّقَى، وَالعَفَافَ، والغِنَى

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হিদায়াত, তাক্বওয়া, পবিত্রতা এবং পরিতৃপ্তির (সন্তুষ্টি ও অভাবমুক্তি) জন্য প্রার্থনা করছি।” [মুসলিম] 

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ، وَارْحَمْنِيْ، وَاهْدِنِيْ، وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ

“হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে হিদায়াত দিন, আমাকে নিরাপত্তা দিন এবং আমাকে রিযিক দিন।” [মুসলিম] 

اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوبِ صَرِّفْ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ

“হে আল্লাহ! অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমাদের অন্তরগুলোকে আপনার আনুগত্যের উপর স্থির রাখুন।” [মুসলিম] 

اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِيْ دِينِيْ الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِيْ وَأَصْلِحْ لِيْ دُنْيَايَ الَّتِي فِيْهَا مَعَاشِيْ وَأَصْلِحْ لِيْ آخِرَتِيْ الَّتِي فِيْهَا مَعَادِيْ وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِيْ فِيْ كُلِّ خَيْرٍ وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِيْ مِنْ كُلِّ شَرٍّ

“হে আল্লাহ! আমার দীনকে সুধরে দিন যা আমার সকল কর্মের সুরক্ষাকারী। আমার দুনিয়ার জীবনকে সুধরে দিন, যেখানে আমার জীবিকা রয়েছে। আমার আখিরাতকে সুধরে দিন, যেখানে আমি প্রত্যাবর্তিত হবো। এই জীবনকে প্রতিটি কল্যাণে বৃদ্ধি করে দিন এবং মৃত্যুকে সকল অকল্যাণ থেকে আরামদায়ক করে দিন।” [মুসলিম] 

اَللهم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ العَجْزِ، وَالكَسَلِ،وَالجُبْنِ،وَالهَرَمِ،وَالبُخْلِ،وَأَعُوذُبِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُبِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, বার্ধক্য এবং কৃপণতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার নিকট কবরের আযাব, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের দ্বারা পরাজিত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [মুসলিম]

اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِنْ عِندِكَ، وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

“হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অত্যধিক যুলুম করেছি। আপনি ব্যতীত পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু।” [আল-বুখারী এবং মুসলিম] 

رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي، وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي كُلِّهِ ،وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَئِي كُلَّهُ، وَعَمْدِي وَجَهْلِي وَهَزْلِي، وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي .اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ ،وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

“হে আমার রব! আমার ভুলত্রুটি, অজ্ঞতা, সীমালঙ্ঘন এবং যে (পাপগুলো) সম্পর্কে আপনি আমার চেয়েও অধিক জ্ঞাত সেগুলো ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আমার সেসকল ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করুন যা আমি জেনে-বুঝে, হাস্যচ্ছ্বলে, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে করেছি। হে আল্লাহ! আমার সে পাপগুলো ক্ষমা করুন যা আমি অতীতে করেছি এবং যা আমি ভবিষ্যতে করব, যা আমি গোপনে করেছি ও প্রকাশ্যে করেছি এবং যেগুলো সম্পর্কে আপনি আমার চেয়েও অধিক জ্ঞাত। আপনি যাকে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করান এবং যাকে ইচ্ছা জাহান্নামে প্রবেশ করান এবং আপনি সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।” [আল-বুখারী এবং মুসলিম] 

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ، وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ

“হে আল্লাহ! আমি সেসব কর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা আমি করেছি এবং যা আমি করিনি।” [মুসলিম] 

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহের অপসারণ, নিরাপত্তার প্রত্যাবর্তন, আকস্মিক পাকড়াও এবং যাবতীয় অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [মুসলিম]

اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالسَّدَادَ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হিদায়াত এবং সরল পথ প্রার্থনা করছি।” [মুসলিম] 

اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার উপর ইমান এনেছি, আপনার উপর ভরসা করেছি, আপনার নিকট তাওবা করেছি, এবং আপনার সাহায্যে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি এবং আপনার নিকট ফয়সালা চেয়েছি। হে আল্লাহ! আপনি আমার আগের ও পরের, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল পাপ ক্ষমা করে দিন। একমাত্র আপনি যাকে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করান এবং যাকে ইচ্ছা জাহান্নামে প্রবেশ করান। আপনি ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ভালো কাজের প্রতি অগ্রসর হওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই।” [আল-বুখারী ও মুসলিম] 

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ، وَعَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ شَرِّ الْغِنَى وَالْفَقْرِ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের ফিতনা, জাহান্নামের আযাব, প্রাচুর্য ও দরিদ্রতার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [আবূ দাঊদ, আত-তিরমিযী, আলবানী সহীহ বলেছেন] 

اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ، وَالْأَعْمَالِ، وَالْأَهْوَاءِ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট মন্দ আখলাক্ব, মন্দ কাজ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [আত-তিরমিযী এবং আলবানী সহীহ বলেছেন] 

اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِيْ وَمِنْ شَرِّ بَصَرِيْ وَمِنْ شَرِّ لِسَانِيْ وَمِنْ شَرِّ قَلْبِيْ وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّى

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার শ্রবণের অনিষ্ট, আমার দৃষ্টির অনিষ্ট, আমার জিহ্বার অনিষ্ট; আমার অন্তরের অনিষ্ট এবং যৌনাঙ্গের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [আবূ দাঊদ, আত-তিরমিযী, আলবানী সহীহ বলেছেন] 

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَسَيِّءِ الْأَسْقَامِ

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট শ্বেতীরোগ, পাগলামি, কুষ্ঠরোগ এবং সকল অনিষ্টকারী রোগ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [আবূ দাঊদ, আলবানী সহীহ বলেছেন] 

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ، ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ

ইয়া মুক্বাল্লিবাল-ক্বুলূব, সাব্বিত ক্বালবী আলা দীনিক 

“হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দীনের উপর অবিচল রাখুন।” [আত-তিরমিযী, আলবানী সহীহ বলেছেন] 

اللَّهُمَّ ‬أَنْتَ ‬رَبِّيْ، ‬لاَ ‬إِلَهَ ‬إِلاَّ ‬أَنْتَ، ‬خَلَقْتَنِيْ ‬وَأَنَا ‬عَبْدُكَ، ‬وَأَنَا ‬عَلَى عَهْدِكَ ‬وَوَعْدِكَ ‬مَا ‬اسْتَطَعْتُ، ‬أَعُوذُ ‬بِكَ ‬مِنْ ‬شَرِّ ‬مَا ‬صَنَعْتُ، ‬أَبُوءُ ‬لَكَ ‬بِنِعْمَتِكَ ‬عَلَىَّ ‬وَأَبُوءُ ‬لَكَ ‬بِذَنْبِيْ، ‬فَاغْفِرْ ‬لِيْ، ‬فَإِنَّهُ ‬لاَ ‬يَغْفِرُ ‬الذُّنُوبَ ‬إِلاَّ ‬أَنْتَ

আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খলাক্কতানী ওয়া আনা আব্দুকা ওয়া আনা আলা আহ্‌দিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা’তু আউযুবিকা মিন শার্‌রি মা সনা’তু আবূউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবূউ লাকা বি-যানবী ফাগফিরলী ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয-যুনূবা ইল্লা আনতা 

“হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো মা‘বূদ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি আমার উপর যেসব অনুগ্রহ করেছেন তা আমি স্বীকার করছি এবং আমি আমার সমস্ত পাপও স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি ব্যতীত আর কেউ পাপসমূহ ক্ষমা করতে পারে না।” [আল-বুখারী] 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার বলবে:

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল-মুলকু ওয়া লাহুল-হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাই-ইন ক্বাদীর। 

“আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত সত্য কোনো মা‘বূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর, এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, এবং তিনি সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।”

সে একশ দাস মুক্ত করার সাওয়াব পাবে, তার জন্য একশটি নেকী লেখা হবে এবং তার একশটি পাপ মুছে ফেলা হবে এবং সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে রক্ষা পাবে। তার চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে কেউ আসতে পারবে না, তবে সে ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে এর চেয়েও বেশি করবে।” 

 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশ বার বলে:

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি 

“আমি আল্লাহর পবিত্রতাসহ তাঁর প্রশংসা ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করছি।” 

তার সমস্ত পাপ মুছে ফেলা হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির সমপরিমাণ হয়।” [আল-বুখারী] 

 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “দুটি বাক্য রয়েছে, যা জিহ্বার উপর হালকা, মীযানের পাল্লায় ভারী এবং আর-রহমানের নিকট অধিক পছন্দনীয়:

سُبْحَانَ اللَّٰهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّٰهِ الْعَظِيمِ

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযীম। 

আমি আল্লাহর পবিত্রতাসহ তাঁর প্রশংসা ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করছি। আল্লাহ পূতপবিত্র, মহান। 

 

আবূ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ‘কোনো মুসলিম যখন তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করে, একজন ফেরেশতা বলেন: ‘আমীন এবং তোমার জন্যে অনুরূপ হোক।’” [মুসলিম]

ইসলাম সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলিমের যা জানা বাধ্যতামূলক

ইসলাম হলো আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি যে এই দীন কবুল করে এবং এর উপর আমল করে। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা’বূদ আল্লাহকে (আরবিতে আল-ইলাহ) বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করে না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করে এবং মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করে। এটিই সালাফী দাওয়াহর ভিত্তি।

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীদের পথ। যে ব্যক্তি এই পথের অনুসরণ করে তাকে সুন্নী বলা হয় এবং সে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে না।

আস-সালাফ আস-সালেহ বলতে নেককার পূর্বসুরীদেরকে বুঝানো হয়: তারা হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ),তাঁর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম যারা তাদের প্রদর্শিত শিক্ষাগুলোর একনিষ্ঠ অনুসরণ করেছেন। তাদেরকে বিভিন্ন প্রশংসনীয় উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়েছিল যেমন আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আস-সালাফ, আসহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস। যে ব্যক্তি তাঁদের আক্বীদাহ ও মানহাজ গ্রহণ করে এবং সেগুলো বিকৃত না করে তাদের পথ অনুসরণ করে, সে প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে এবং তাকে সুন্নী, সালাফী, আসারী ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। সুতরাং, একজন সালাফী (অথবা সুন্নী) হলো সেই ব্যক্তি যে সালাফে সালিহীনের পথকে বিকৃত না করে তা অনুসরণ করে।

তবে, যারা এসব উপাধির সাথে সংযুক্ত হওয়ার দাবি করে তাদের প্রত্যেকেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবীদের পথ ও মানহাজের প্রকৃত অনুসারী নয় কেননা অবিচল ও একনিষ্ঠ অনুসরণ ব্যতীত কেবল নিছক দাবি করলে তা যথেষ্ট হয় না।

সালাফিয়্যাহ কিসের প্রতি আহ্বান করে?

 ১. সর্বপ্রথমে, আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্বান করি আর তাঁর সকল শরীককে বর্জন করতে বলি। এটিই ছিল নবীগণের (আলাইহিমুস-সালাম) দাওয়াতের প্রারম্ভিক বিষয়বস্তু, যেমনটি আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “আমি প্রত্যেক জাতির প্রতি রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে: আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগূত (মিথ্যা ইলাহদেরকে) বর্জন করো।” অতএব “একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো”-এই আহ্বানের পাশাপাশি বাকি সমস্ত কিছুর ইবাদতকে অস্বীকার করার প্রতি আহ্বান করাও ওয়াজিব।

২. আমরা জানি যে দীন বিভিন্ন আবশ্যকীয়তার প্রতি আহ্বান করে, তাই আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করি, এরপর কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী যেটি (তুলনামূলক) কম গুরুত্বপূর্ণ, ক্রমান্বয়ে সেই বিষয়ের প্রতি আহ্বান করি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুআয বিন জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে) আদেশ করেছিলেন: “সর্বপ্রথম তাদেরকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্বান করবে। যদি তারা তা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে অবহিত করবে যে আল্লাহ তাদের উপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যদি তারা তা মেনে নেয়, তাদেরকে অবহিত করবে যে আল্লাহ তাদের উপর যাকাত দেওয়া ফর‍য করেছেন…”

৩. আমরা বিশ্বাস করি, সুন্নাহ হলো ওয়াহী যেমনিভাবে কুরআন হলো ওয়াহী। আল্লাহ, সুবহানাহু ওয়া-তাআলা, বলেন: “আর তিনি (মুহাম্মাদ ) মনগড়া কথা বলেন না, তিনি শুধু তাই বলেন যা তাঁর নিকট প্রত্যাদেশ করা হয়।”

৪. আমরা বিশ্বাস করি, সুন্নাহ হলো কুরআন ব্যতীত ঐ সমস্ত কিছু যা রাসূল (ﷺ) এর প্রতি নাযিল করা হয়েছিল। রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং সাথে এর অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে।”

৫. আমরা বিশ্বাস করি, সুন্নাহ হলো ঐ সমস্ত কিছু যা রাসূল (ﷺ) বলেছেন, করেছেন আর ঐ সমস্ত কিছু যা তাঁর উপস্থিতিতে করা হয়েছিল কিন্তু তিনি তাতে আপত্তি করেননি। তাঁর বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ আখলাক্বও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।

৬. আমরা বিশ্বাস করি, নবী-রাসূলগণের পর মানবজাতির মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন নবী (ﷺ)-এর সাহাবীগণ কেননা তিনি নিজেই বলেছেন: “মানবজাতির মাঝে শ্রেষ্ঠ হলো আমার প্রজন্ম, এরপর তাঁদের পরবর্তীরা, এরপর তাঁদের পরবর্তীরা।”

৭. আমরা বিশ্বাস করি, সাহাবীদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম হলেন আবূ-বাকর আস-সিদ্দীক্ব, এরপর উমার ইবনুল খাত্তাব, এরপর উসমান ইবনু আফফান, এরপর ‘আলী বিন আবী ত্বালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুম), এরপর বাকি দশজন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবা। এরপর হলেন বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা, এরপর হলেন তারা যারা হুদাইবিয়ায় গাছের নীচে “আর-রিদ্বওয়ানে” বায়াত গ্রহণ করেছিলেন, এরপর সমস্ত মুহাজিরগণ, এরপর আনসারগণ, এরপর হলেন তাঁরা যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, আর এরপর হলেন তাঁরা যারা বিজয়ের পরবর্তীকালীন সময়ে (ইসলাম) গ্রহণ করেছিলেন।

৮. আমরা রাফিদ্বী শিয়াদের সাথে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর স্ত্রী ও তাঁর সাহাবীদেরকে ঘৃণা, তিরস্কার ও লানত করার মতো তাদের [শিয়াদের] অগণিত ইসলাম বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক করি। রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “আমার সাহাবীদেরকে তিরস্কার করো না, কেননা তাঁর কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের মাঝে কেউ যদি [আল্লাহর পথে] উহুদ সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, এরপরও সেটি তাদের একজনের এক মুঠ (দানের) সমান হবে না, বরং তার অর্ধেকের সমানও হবে না।” এবং তিনি (ﷺ) আরও বলেছেন: “তার উপর আল্লাহর লানত যে আমার সাহাবীদেরকে লানত দেয়।”

৯. আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (ﷺ)-এর সহীহ সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে এবং তা সাহাবাদের ফাহম (বুঝ) অনুযায়ী অনুসরণের মাধ্যমে এই উম্মাহকে সংশোধন করা সম্ভব। নবী (ﷺ) বলেছেন: “আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা অবলম্বন করলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।” তিনি আরও বলেছেন: “আমার সুন্নাহ ও আমার পরবর্তীতে হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো।”

১০. আমরা বিশ্বাস করি যে মুসলিমদের ঐক্য নিশ্চিতকরণ ও বিভক্তি পরিহার করা একটি মূলনীতি যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) আদেশ করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন: “আর তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে একযোগে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো ও পরস্পর বিভক্ত হয়ো না।” এবং তিনি বলেছেন: “আর তাদের মতো হয়ো না যারা সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও বিভক্ত হয়েছে ও মতবিরোধ করেছে।”

১১. আমরা বিশ্বাস করি, একটি শরীয়াহ ভিত্তিক ঐকমত্য গঠন করা কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন মুসলিমরা তাদের বিরোধ ও বিবাদপূর্ণ বিষয়াদি সাহাবীদের ফাহমের (বুঝের) আলোকে ব্যাখ্যাকৃত কুরআন ও সুন্নাহর নিকট সমর্পণ করবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: “অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হয় তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস করো; এটিই কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠতর পরিসমাপ্তি।” রাসূল (ﷺ) এর বাণী: “তোমাদের মাঝে যে দীর্ঘকাল জীবিত থাকবে সে অচিরেই অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের উপর ওয়াজিব হলো আমার সুন্নাহ ও আমার পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা। তোমাদের মাঁড়ির দাঁত দিয়ে তা আঁকড়ে ধরবে।”

১২. আমরা বিশ্বাস করি, আক্বীদাহ সংশোধনের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আহ্বানের কাজকে শুরু করতে হয়। এটিই ছিল রাসূলগণ (عليهم السلام)-এর দাওয়াতের প্রারম্ভিক বিষয়। রাসূল (ﷺ) মুআয বিন জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে আদেশ করেছিলেন, তিনি যেন ইয়ামানবাসীকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার সময় তাওহীদের বাণী দিয়েই তা শুরু করেন। [১২]

১৩. দীনের ভিতর সকল নব-উদ্ভাবিত আক্বীদাহ, কথা বা কাজকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি ও হারাম ঘোষণা করি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” এবং আল্লাহ তা’আলার বাণী: “তাদের কি এমন কতকগুলো শরীক আছে যারা তাদের জন্য বিধান দিয়েছে এমন দীনের যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?”

১৪. দীনের ভিতর সংযোজনকৃত সকল নব-উদ্ভাবিত বিষয় হলো নিষিদ্ধ, বিপথগামী আর জাহান্নামের দিকে পরিচালনাকারী। সুতরাং, দীন ইসলামে বিদআতে হাসানাহ (উত্তম বিদআত) বলতে কিছু নেই। রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “নিশ্চয়ই (দীন ইসলামে) সবচেয়ে নিকৃষ্ট জিনিস হলো নব-উদ্ভাবিত বিষয়াদি। প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয় হলো বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতা জাহান্নামে (যাওয়ার কারণ)।” তিনি আরও বলেছেন: “কেউ যদি আমাদের এই বিষয়ে (দীনের ভিতর) এমন কিছু উদ্ভাবন করে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।”

১৫. আমরা আল্লাহর ঐসকল নাম ও গুণাবলি সত্য বলে স্বীকার করি যা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি সেগুলো রূপক অর্থে নয় বরং বাহ্যিক অর্থেই গ্রহণ করতে হয়। তবে, তাঁর গুণাবলি “কেমন” (অর্থাৎ সেগুলোর ধরন/প্রকৃতি বা কাইফিয়্যাহ) সম্পর্কে আমরা প্রশ্ন করি না। আমরা বিশ্বাস করি, গুণাবলি “কেমন” তা জিজ্ঞেস করা বিদআত, কেননা তা আল্লাহর সাথে সৃষ্টির সাদৃশ্য করার পথকে খুলে দেয়। তাই প্রাথমিক যুগের সালাফরা, যেমন মালিক ইবনু আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) তা কঠোরভাবে নিষেধ করতেন।

১৬. আমরা আমাদের মহান রবকে, সৃষ্টির সাথে সকল প্রকার সদৃশতা (তামসীল) থেকে মুক্ত বলে ঘোষণা দেই এবং সেই সাথে তাঁর গুণাবলি সত্য ও অকাট্য বলে স্বীকার করি, যেমনটি তিনি বলেছেন: “তাঁর সদৃশ আর কিছুই নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” সুতরাং, তিনি, সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা, (তাঁর সাথে সৃষ্টির সমস্ত কিছুর) সদৃশতাকে নাকচ করেছেন আর শ্রবণ ও দৃষ্টির গুণকে নিজ সত্তার জন্য সাব্যস্ত করেছেন। মানুষও শোনে এবং দেখে, কিন্তু মানুষের শুনা ও দেখার ক্ষমতা সৃষ্ট এবং সীমিত। আল্লাহর শ্রবণ ও দেখার গুণ অসৃষ্ট, ত্রুটিমুক্ত নিখুঁত এবং সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যহীন – এই মূলনীতি আল্লাহর প্রতিটি গুণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমন তাঁর আরশের উপরে উঠা, তাঁর অবতরণ করা, তাঁর সন্তুষ্টি ইত্যাদি।

১৭. আল্লাহ আমাদেরকে শুধু তাঁরই ইবাদত করার আদেশ দিয়েছেন, এবং মৃত ব্যক্তির কবরে সাহায্য চাওয়া ও তাদের নিকট সুপারিশ (শাফায়েত) চাওয়ার মতো সকল শিরক ও কুসংস্কারমূলক কাজ পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদেরকে গণক, জ্যোতিষী এবং যাদুকরদের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন – এবং তাদেরকে তাবিজ, অশুভ লক্ষণ ও দুর্ভাগ্যের উপর বিশ্বাস করতে নিষেধ করেছেন। এর পরিবর্তে, প্রত্যেক মুসলিম শুধু আল্লাহকে ডাকবে, তাঁর নিকট সাহায্য চাইবে, তাঁর উপর আস্থা রাখবে এবং তাদের সমস্ত প্রয়োজনে তাঁরই নিকট দুআ করবে – কেবল তিনিই অদৃশ্য এবং ভবিষ্যতের ঘটনাবলি সম্পর্কে জানেন।[১৩]

পরিশেষে, আমি বলি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক, এবং আল্লাহ যেন ফেরেশতাদের সর্বোচ্চ মজলিসে তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্মরণকে সমুন্নত করেন। আমাদের রবের সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবা এবং তাদের উপর যারা কিয়ামত পর্যন্ত একনিষ্ঠভাবে তাঁর অনুসরণ করবে।

পাদটীকা:


১. ইবন মাজাহ নং (২৮৮৩)।
২. বুখারী নং (১৫২১) মুসলিম নং (১৩৫০)।
৩. দেখুন: ইবন উসাইমীন কর্তৃক মানাসিক আল-হাজ ওয়াল-উমরা, (পৃ. ১৪৪)।
৪. আহমাদ ১/৪০৫ নং (৩৮৮৪৪), আল-আলবানী কর্তৃক তাহযীর আস-সাজিদ, পৃ. ২৩ (সহীহ)।
৫. আবূ দাঊদ নং (২০৪২), হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এর সমস্ত বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
৬. আবূ ইয়া‘লা আল-মুসনাদ, ১/৩৬১ নং (৪৬৯), আদ্ব-দ্বিয়া আল-মাক্বদিসী আল-মুখতারাহ, নং (৪৬৮)—এবং আল-আলবানী কর্তৃক তাহযীর আস-সাজিদ, পৃ. ৮৫।
৭. ইমাম ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ফাতাওয়া তাতা‘আল্লাক বি আহকামিল-হাজ ওয়াল-উমরা ওয়ায-যিয়ারাহ মিন ইজাবাহ, পৃ. ১৪৭-১৪৯।
৮. বুখারী নং (১১৯০) ও মুসলিম নং (১৩৯৪)।
৯. ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) তার মুসনাদে নং (১৫৯৮১) বর্ণনা করেছেন।
১০. ইবন মাজাহ, নং (১৪১২)।
১১. বুখারী নং (৫৪৪৫) এবং মুসলিম নং (২০৪৭)।
১২. যদি বলা হয়, “আপনি মুসলিমদেরকে তাদের আক্বীদাহ সংশোধনের প্রতি কেন আহ্ববান করছেন? তারা কি মুসলিম না?” আমরা বলি হ্যাঁ, তারা মুসলিম, কিন্তু আক্বীদার ক্ষেত্রে তাদের অধিকাংশই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এই বিষয়টি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া বিদআত ও বিভিন্ন কুসংস্কারমূলক আক্বীদাহ-বিশ্বাস ও কাজের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
১৩. এই আর্টিক্যাল থেকে: আমাদের দাওয়াহ। সম্পূর্ণ ৮৯টি পয়েন্ট পড়তে দেখুন: https://tinyurl.com/4j498b96

দ্রষ্টব্য: এই পুস্তিকাটির সকল ছবি গুগল ইমেজ থেকে নেওয়া হয়েছে। এগুলো লেখক কর্তৃক ধারণকৃত নয়। (পৃষ্ঠা ১৮ ছবি: courtesy of AsceticRose, https://commons.wikimedia.org/w/in- dex.php?curid=39715975)

উৎস: https://abukhadeejah.com/hajj-and-umrah-madinah-guide-book-complete/

© কপিরাইট Salafi Publications এবং AbuKhadeejah.Com

Support The Da'wah In Bangladesh

Recent Posts

Recommended Readings

ইসলাম

ইসলাম হলো আদম (‘আলাইহিস সালাম) থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর দীন। একজন মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই দীনকে কবুল করেন এবং এর উপর আমল করেন। মুসলিমরা একমাত্র সত্য মা'বূদ (আরবিতে আল-ইলাহ) আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করেন না। মুসলিমরা সকল প্রকার শিরক পরিত্যাগ করেন এবং তারা মানবজাতির প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শিক্ষার অনুসরণ করেন। এটিই হলো সালাফিয়্যাহর ভিত্তি।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবাদের পথ। যিনি এই পথের অনুসরণ করেন তাকে সুন্নী বলা হয় এবং তিনি আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তর্ভুক্ত। মাঝেমধ্যে, শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কাউকে বুঝানোর জন্যও সুন্নী শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, শুধু শিয়া না হওয়াটা কোনো ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

আমাদের দাওয়াহ
আস-সালাফ আস-সালেহ

আস-সালাফ আস-সালেহ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী তিন প্রজন্ম। তাদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামা’আহ, আস-সালাফ,আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীসও বলা হয়। যে ব্যক্তি তাঁদের পথকে কবুল করেন এবং তাঁদের আক্বীদাহ, মানহাজ ও দীনকে অবিকল অনুসরণ করেন, তিনি প্রকৃত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আমাদের দাওয়াহ
সালাফিয়্যাহ

সালাফিয়্যাহ হলো ইসলাম ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রকৃত পথ। একজন সালাফী হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সালাফে-সালেহীনের পথকে অনুসরণ করেন।

আমাদের দাওয়াহ
সুন্নী

সুন্নী, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআহ, আছহাবুল-হাদীস এবং আহলুল-হাদীস এই সবই সমার্থক উপাধি । এই উপাধিগুলো একই পথের অনুসারী একটি দলকে বুঝায়। যাইহোক, যারা এই উপাধিগুলোকে ব্যবহার করে, তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে নিজ দাবির অনুগামী নন। প্রকৃত অর্থে, বেশিরভাগ মানুষ, যারা এই উপাধিগুলোর সাথে নিজেকে যুক্ত করে তারা সালাফে-সালেহীনের আক্বীদাহ ও মানহাজের বিরোধিতা করে। একজন নিছক দাবিদার ও একজন প্রকৃত অনুসারীর মাঝে পার্থক্য স্থাপন করাই এই অনুচ্ছেদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আমাদের দাওয়াহ

Discover more from Markaz At-Tahawee

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading